| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ভিক্টিম ব্লেমিঙ আসে The Just-World Fallacy থেকে। যেটাকে বাংলায় “ন্যায্য জগতের ভ্রান্তি” বলা যায়।
.
সাইকোলজিস্ট মেলভিন জে. লার্নারের এই তত্ত্ব অনুযায়ী, মানুষ বিশ্বাস করতে চায় পৃথিবীটা মূলত ন্যায়সঙ্গত, যেখানে প্রত্যেকে তার কর্ম অনুযায়ী ঠিক ততটুকুই পায় যা সে প্রাপ্য।
.
আর এই ভ্রান্তির ওপর ভর করেই কল্পজগতে আমরা সবাই একেকজন এলিট বা সুপারহিউম্যান। বাইরে চুরি, ছিনতাই, খুন বা ধর্ষণ—যাহাই ঘটুক না কেন, নিজেকে একটা এলিটনেসের মধ্যে ডুবিয়ে রাখতে হয়। ভাবতে হয়-আমি নামাজি মানুষ, আমি ধনী মানুষ, এসব ঘটে শুধু মোনাফেক আর গরিবদের সাথে। ওহ্, ভিক্টিম রিকশা চালায়? যাক বাবা, আমাদের ক্লাসের না! রেপড হয়েছে? নিশ্চয়ই ওড়না পরত না। আমি যেহেতু আজানের সময় মাথায় কাপড় দিই, আমাকে পেলে রেপিস্ট নিশ্চয়ই পা ছুঁয়ে সালাম করবে!
.
সমস্যা হয় তখন, যখন আপাত নিজেদের ক্লাসেরই, একই মধ্যবিত্ত কেউ ভিক্টিম হয়। তখন এক ভয়াবহ অনিরাপত্তা ভেতরটা কাঁপিয়ে দিয়ে যায়। এই ভয় আর বুকের ধুকপুকানি নিয়ে 'The Gentlemen'-এর নতুন সিজন আরাম করে দেখা যায় না। এই ভয় থেকেই জন্ম নেয় ভিক্টিম ব্লেমিং। তখন দ্রুত নিজেকে ভিক্টিম থেকে আলাদা প্রমাণ করতে তার চৌদ্দগোষ্ঠীর আমলনামা ঘেঁটে সমস্ত পাপ বের করতে হয়। ব্যস, আমি নিজে বিরাট সাদা মনের মানুষ, আমার সাথে এসব ক্রাইম হবে না, এই সান্ত্বনা মাথায় নিলেই রাতে আরামে ঘুমটা আসে।
.
অথচ এই 'ন্যায্য জগতের' ধারণাটি সম্পূর্ণ অবাস্তব। সুজন মিয়া নামের ড্রাগ অ্যাডিক্টেড সাইকোপ্যাথ সিএনজি চালকটি কুমিল্লার ওই মেয়েটার আমলনামা জানত না। তার সামনে অন্য যে কেউ থাকত, সে তার ওপরই চড়াও হতো। তার ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে এই সাইকোপ্যাথের হাতে ছেলে-মেয়ে, দিন কিংবা রাত - সবই সমানভাবে আক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু আমজনতা যেহেতু মেয়েটার জীবনের রসালো অধ্যায়ের সন্ধান পেয়ে গেছে, তাই তারা মূল বিপদ সুজন মিয়াকে ভুলে ভিক্টিমকে নিয়েই ব্যস্ত। অথচ এই মেয়েটার আগে, কুমিল্লায় বুলেট বৈরাগী নামের এক আইনজীবী ছেলেও রাতের বাস থেকে নেমে একইভাবে মারা গেছেন।
.
ঠিক যেমন, ছিনতাইকারী হালাল-হারাম টাকা দেখে চুরি করে না। সামনে যা পাবে, সে তা-ই ডাকাতি করবে। ভিক্টিমের আমলনামা একটা বিষয়, আর দেশে এমন সাইকোপ্যাথ ও ছিনতাইকারী অবাধে ঘুরে বেড়ানো পুরোপুরি আলাদা এক ভয়ঙ্কর বিষয়।
.
দুনিয়ার এই নির্মম নিয়মটা মানতে না পেরে মানুষ মনে মনে একটা সুরক্ষামূলক দেয়াল (Defense Mechanism) বানায়। তাদের এই কাল্পনিক 'ন্যায়পরায়ণ পৃথিবী' আদতে সুবিচারের বদলে অন্যায়কেই বৈধতা দেয়, মানুষকে অন্ধ করে দেয়। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বললে, ইসলামে মানুষকে ইনসাফ কায়েম করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; যার সহজ অর্থ-প্রকৃতিতে ইনসাফ নিজে থেকে 'বিল্ট-ইন' করা থাকে না, তা মানুষকেই নিশ্চিত করতে হয়।
©somewhere in net ltd.
১|
১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪১
আলামিন১০৪ বলেছেন: কী হলো আবার, কিছুই তো জানলাম না..