| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
দৈনিক আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান আজ কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়াই তাকে কেন্দ্রীয় কারাগার ও কাশিমপুর কারাগারে আনা-নেয়া হচ্ছে। আদালতে হাজির করানোর সময়ও মানা হচ্ছে না কোনো নিয়মনীতি। কেন তিনি আজ কারাগারে? সহজ উত্তর—মিথ্যার বিরুদ্ধে তার অবস্থান ছিল বলে। মাননীয় আদালতকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রভাবিত করার চমত্কার, সত্য ও নির্ভেজাল একটি প্রতিবেদন তিনি দৈনিক আমার দেশ-এ প্রকাশ করেছেন। ‘চেম্বার জজ মানেই সরকারপক্ষে স্টে’ প্রতিবেদনটির কারণে আদালত মাহমুদুর রহমানকে ৬ মাসের কারাদণ্ড, সঙ্গে এক লাখ টাকা জরিমানা এবং প্রতিবেদক অলিউল্লাহ নোমানকে ১ মাসের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। সত্য প্রকাশের জন্য কোনো সম্পাদক ও সাংবাদিককে কারাগারে প্রেরণের ঘটনা বাংলাদেশেই প্রথম। মিথ্যা বানোয়াট রিপোর্টের কারণে সরকারের অথবা অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের রোষানলে যে কোনো সাংবাদিক পড়তেই পারেন; কিন্তু সত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টার কারণে কারাবাস, তাও মাননীয় আদালতের আদেশে! কী ছিল সেই প্রতিবেদনে, যার কারণে জনমনে এত প্রশ্ন? ‘চেম্বার জজ মানেই সরকারপক্ষে স্টে’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে কয়েকটি মামলার বিবরণ দিয়ে লেখা হয়েছে, অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস মাননীয় আদালতকে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে আদালতের রায়কে স্টে করিয়ে নিয়েছে, যার কারণে ওইসব মামলার ভিকটিমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনটি যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণসংবলিত ও বস্তুনিষ্ঠ। আলোচিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে মাহমুদুর রহমান অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের মিথ্যা তথ্যকে জনসাধারণের কাছে ফাঁস করে দিয়েছেন; অন্যদিকে মিথ্যা তথ্যের কারণে আদালতের সম্মানের যে ক্ষতি হয়েছে তা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেছেন। অথচ আলোচিত এ মামলার শুনানিতে মাননীয় আদালত মাহমুদুর রহমানের দেয়া বক্তব্যের কোনো গুরুত্বই দেননি অথবা আমলে নেয়ার ইচ্ছায় অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস কী মিথ্যা তথ্য দিয়েছে তা যদি যাচাই করা হতো, তাহলে আলোচ্য মামলার রায়ে মাহমুদুর রহমান হয়তো পুরস্কৃত হতেন। অবশ্য যদি আদালতের ওপর সরকারের হস্তক্ষেপ না থাকত, সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের ওপর তো আপিল চলে না, থাকলে আপিলে হয়তো আসল তথ্য বের হয়ে আসত। আছে রিভিউ পিটিশনের সুযোগ; কিন্তু পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষণা না হওয়ায় তাও হচ্ছে না। কবে পূর্ণাঙ্গ রায় হবে তা আল্লাহ মালুম। এরই মধ্যে একজন বিচারপতি অবসরে, অন্যজন দীর্ঘমেয়াদি ছুটিতে আছেন। এত দীর্ঘদিনে পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষণা না হওয়ার ইতিহাসও বোধহয় আমাদের এ স্বাধীন সোনার বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোথাও নেই। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষণার আগে হয়তো মাহমুদুর রহমানের সাজার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।
আদালত অবমাননা কী? সাধারণত কী কারণে আদালত অবমাননা হয়? আইন সম্পর্কিত বিজ্ঞজনরা বলেন, আদালত সম্পর্কে, মাননীয় বিচারপতিদের সম্পর্কে অযাচিত কোনো মন্তব্য করা, যার কারণে চলমান কোনো মামলার কোনো ক্ষতি হতে পারে বা মামলার বিচারকাজে প্রভাব পড়তে পারে, সেটই হলো আদালত অবমাননা। অথবা আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হলো আদালত অবমাননা, ‘চেম্বার জজ মানেই সরকারপক্ষে স্টে’ প্রতিবেদনের কোন বাক্যে আদালত অবমাননা হলো, তা আমাদের সামান্য জ্ঞানে আসে না। কোন আইনের কোন ধারামতে মাহমুদুর রহমান দণ্ডিত হলেন তাও জানি না। মাহমুদুর রহমানের মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, সেমিনার, টকশোতে এ প্রশ্নটি অহরহ উচ্চারিত হলেও আজ পর্যন্ত সরকারের কোনো কর্তাব্যক্তি কিংবা বিচার বিভাগের কোনো কর্মকর্তার কাছ থেকে কোনো ব্যাখ্যা এখনও আসেনি, ভবিষ্যতেও হয়তো আসবে না।
অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস চেম্বার জজ আদালতকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভিন্ন মামলায় স্টে অর্ডার নিয়ে নিল—এ বিষয়ে সঠিক কথা পত্রিকায় প্রকাশ করা কি আদালত অবমাননা? একদল লোক মিথ্যা তথ্য দিয়ে আদালতের সম্মানের ক্ষতি করল তার কোনো অপরাধ হলো না; কিন্তু অন্য একজন এ কথাটি আদালতকে জানিয়ে আদালতের সম্মান রক্ষার চেষ্টা করল, তাতেই আদালত অবমাননা হলো। আদালতকে যথাযথ সম্মান জানিয়েই বলতে চাই, তাহলে কেন সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার এত সংগ্রাম? মিথ্যা বলা আর চুরি করার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, মিথ্যা যদি জায়েজ হয় তাহলে চুরি করাও জায়েজ? মিথ্যার পক্ষে যদি আমাদের অবস্থান হয়, তাহলে কেন এ স্বাধীনতা সংগ্রাম? যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য কেন এত প্রচেষ্টা? এত অপরাধী কেন জেলখানায়? এভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস যদি আদালতকে বিভ্রান্ত করতেই থাকে আর কেউ যদি সত্য প্রকাশ না করে নীরব থাকেন, তাহলে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে আদালতের সম্মান আর কোথায় যাবে দেশ? দেশের জনগণ বর্তমানে জুজুর ভয়ে আছে। একদল লোক আদালতকে মিথ্যা আজগুবি তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করবে, কেউ কিছু বলতে পারবে না, বললে আদালত অবমাননা, ছয় মাসের জেল-জরিমানা। আমরা অতীতে দেখেছি, আদালতের দরজায় এক লোক লাথি-ঘুষি মারছে, অন্যখানে মাননীয় আদালতের রায় মনঃপূত না হওয়ায় বিচারকের বিরুদ্ধে লাঠিমিছিল করছে সরকারের কোনো মন্ত্রী, কোনো বিচারক বিচার করতে বিব্রতবোধ করল আর তাকে অকথ্য ভাষায় গালি দেয়া হলো। সদ্য অবসরে যাওয়া বিচারপতিকে মাননীয় প্রধান বিচারপতির সামনে হুমকি দেয়া হলো, কোনো কথিত অপরাধীকে গ্রেফতার করা হলো মাত্র, সাক্ষ্য-প্রমাণ নেই, আদালতে চার্জশিট পর্যন্ত দেয়া হলো না, কবে মামলা শুরু হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই, অথচ সরকারের প্রভাবশালীরা বলতে শুরু করলেন—তার ফাঁসি হবে।... এগুলো কি আদালত অবমাননা, নাকি আদালতকে সম্মানের আসনে বসিয়ে অধিকতর সম্মানিত করা? উল্লিখিত বিষয়ে তো কারও কোনো চিন্তাচেতনা দেখা যাচ্ছে না। সব দোষ নন্দঘোষের। অন্যরা পূত-পবিত্র? আদালতের নির্দেশ অমান্য করে থানার ওসি, এসপি, ডিসি, সচিবরা যখন যা ইচ্ছা করেন তখন কাঠগড়ায় ঘণ্টাখানেক দাঁড়িয়ে রাখলে কি ল্যাঠা চুকে যায়? আর মাহমুদুর রহমান যখন সত্য প্রকাশ করেন, তখন ৬ মাসের জেল-জরিমানা। আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যখন আদালত সম্পর্কে একের পর এক কটূক্তি করে গেলেন, তখন আদালত তাকে রংহেডেড বলে ভর্ত্সনা করলেন। মাননীয় আদালতকে করজোড় মিনতি জানিয়ে বলছি, দয়া করে কোন কোন কাজে আদালত অবমাননা হয় তা আমাদের মতো চাষাভুষাদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জানান। অন্যথায় অজ্ঞতার কারণে কখন কাকে কারাগারে যেতে হয় তার কোনো হিসাব নেই।
মাহমুদুর রহমানের মুক্তির দাবি আজ পুরো দেশবাসীর। আমি তার মুক্তির দাবি জানাব না, কারণ ক্ষমতাসীনদের কাছে তা করা মানেই হচ্ছে উলুবনে মুক্তা ছড়ানোর মতো। মাহমুদুর রহমান একদিন আমাদের মাঝে মুক্তভাবে ফিরে আসবেন তা নিশ্চিত। তবে এ দণ্ডাদেশের মাধ্যমে দেশের মাননীয় আদালত সম্পর্কে জনমনে যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্ম হয়েছে তা হয়তো কখনও মুছবে না। আদালতের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপিটি পাওয়া মাহমুদুর রহমানের জন্মগত অধিকার। আশা করি তিনি সেই অধিকারটি সহসা ফিরে পাবেন—এই প্রত্যাশা।
লেখক : আবুল হাসেম, সভাপতি বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা, চন্দনাইশ উপজেলা, চট্টগ্রাম ও সম্পাদক, প্রকাশিতব্য সাপ্তাহিক সমতা
৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:২০
আহমদ বসির বলেছেন: যোগী যোগব্যাম শুরু করেন, এ বিচার আপনাকেই করতে হবে ।
২|
২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৩:৩২
বাঙ্গাল৭১ বলেছেন: মাহমুদুর রহমান কোন সম্পাদক নন সে একজন "চোর"
৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:২৩
আহমদ বসির বলেছেন: মাহমুদুর রহমান কি চুরি করেছেন ? মিলনের মতো তার বিরুদ্ধেও মোবাইল চুরির অভিযোগ আনবেন ? আর কত হাস্যকর কথা বলবেন আপনারা ।
৩|
২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৩:৩২
মাহমুদডবি বলেছেন: বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবি হত্যা করেছে ভারত ।মুজিব হত্যার পিছনেও হাত ছিল।এখন দেশের রাজনীটি নিয়ন্এন করছে।ওরা বন্ধু নয় শএু।
৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:২৪
আহমদ বসির বলেছেন: ভাই এখানে আবার ভারতকে টেনে আনলেন কেন ?
৪|
২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৩:৩৮
মোসাব্বির বলেছেন:
@যোগী, আপনার ব্যাকগ্রউণ্ডের সাথে আপনার মন্তব্য ঠিক আছে কিন্তু মূল পোষ্টের সাথে কোন মিল পাচ্ছি না। মাহমুদুর রহমানের বিষয়ে সরকার তথা আদালত যে আচরন করল আপনি কি তা সমর্থণ করেন?
৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:২৫
আহমদ বসির বলেছেন: দেখুন যোগীদের অবস্হা !
৫|
২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৩:৪০
আকাশের তারাগুলি বলেছেন: হেঃ হেঃ শালার চোর বাটপার নাকি বিচার বিভাগের সম্মান পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করেছিলো।
৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:২৭
আহমদ বসির বলেছেন: হেঃ হেঃ শালার চোর বাটপার যে কে মূল পোস্টটি পড়লেই বোঝা যাবে !
৬|
২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৩:৪৯
বাঘ মামা বলেছেন: পুরো লেখা পড়ার ধর্য্য নেই, এই সালার চেহারা দেখলেই মাথা বিগড়ে যায়।
মাহমুদ এই বাংলার সর্ব কালের সর্ব শ্রেষ্ঠ খাটাশ,ওরে নিয়ে যে পোস্ট দিবে তারও মানসিক সমস্যা আছে।
৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:২৯
আহমদ বসির বলেছেন: ভাই মাথা ঠান্ডা রাখেন, বেশি বিগড়ালে মানুষ পাগল বলবে ।
৭|
২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:৪৭
সুপান্থ সুরাহী বলেছেন: বছির ভাই কেমন আছেন...?
৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:৩০
আহমদ বসির বলেছেন: আলহামদুলিল্লাহ, আপনি ?
৮|
২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:৪৭
রবিন-৭৭ বলেছেন: বাঘ মামা বলেছেন: পুরো লেখা পড়ার ধর্য্য নেই, এই সালার চেহারা দেখলেই মাথা বিগড়ে যায়।
মাহমুদ এই বাংলার সর্ব কালের সর্ব শ্রেষ্ঠ খাটাশ,ওরে নিয়ে যে পোস্ট দিবে তারও মানসিক সমস্যা আছে।
৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:৩১
আহমদ বসির বলেছেন: বাঘ মামাকে যে পরামর্শ দিলাম আপনাকেও তাই ........
৯|
২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০৫
অগ্নি সারথি বলেছেন: হালার মাইনাসে অপসনডা আহে না কে?
৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:৩৩
আহমদ বসির বলেছেন: বেশি তাড়াহুড়া ভালো না, পাবেন, অপসনটা খুঁজে পাবেন
©somewhere in net ltd.
১|
২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৩:২৬
যোগী বলেছেন: উত্তরা সড়যন্ত্রের দায়ে মাহমুদুর রহমানের বিচার দ্রুত শুরু করা হোক।

