নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আইমান জাছিম

প্রলম্বিত প্রতীক্ষায় গহীনের হিংস্রতা উপেক্ষিত, অতঃপর ক্ষীণ আশা নিয়ে খণ্ডিত অস্তিত্বের অদেখা অংশ খুঁজে বেড়াই। সান্নিধ্য চাই পরম সত্ত্বার, সুরভিত করতে চাই ঝরে পড়ার আগে। ভালোবাসি কোলাহল,ভ্রমণ, আড্ডা, সমুদ্র, সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শন।

আইমান জাছিম › বিস্তারিত পোস্টঃ

"ধর্ষণ" দর্শন

২৭ শে জানুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১২:৩৭



ধর্ষণের সংজ্ঞা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থার মধ্যে মতভেদ থাকলেও এর প্রকটতা বা হিংস্রতা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। সভ্যতার অতি উৎকর্ষন সাধন সত্ত্বেও ধর্ষণ বা ধর্ষণের ভরবেগ আজও ঠিক অপরিবর্তিত। ঠিক যেমনটি ছিলো প্রাচীন গ্রীক বা রোমান সম্রাজ্যে। সমাজ বিজ্ঞানীরা ধর্ষণের সঠিক প্রভাবক আবিস্কার করতে না পারলেও, সেইডো-ম্যাসগিজমের (Sadomasochism) কথা সবাই কমবেশি স্বীকার করেছেন। অর্থাৎ ভিকটিম কে শারীরিক ও মানসিক ভাবে লাঞ্ছিত করে ইন্দ্রিয় সুখ লাভ। সব মানুষের মধ্যে কিছু পশুত্ব সুপ্ত থাকে এবং মানবিক গুণাবলীর অনুপস্থিতিতে ক্রোদ, হতাশা বা প্রতিশোধ পরায়ণতার কারনে সেই পশুত্বের প্রকাশ ঘটে। তবে আমার মতে ভিকটিমের ধর্ষনোত্তর জটিলতা অর্থাৎ পোষ্ট কন্ডিশান, বিচারে লঘু দণ্ড বা কোনো মতে রক্ষা পাবার আশা ধর্ষণের মুল প্রণোদনা। অন্তত আমাদের দেশের জন্য।



সমরে, বিদ্রোহে মানবজাতি বেশ সুস্থ মস্তিষ্কে প্রতিপক্ষের উপর এজমালি ভাবে “ধর্ষণ”কে শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে ব্যাবহার করেছে। সেই সুদূর চীন থেকে বসনিয়া, কলাম্বিয়া থেকে আফ্রিকান সাব সাহারা, রুয়ান্ডা এবং নিকট অতীতে আমাদেরকেও এই বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা লাভ করতে হয়েছে। আক্রমণকারীরা বেশভালো ভাবে প্রতিপক্ষের “অ্যাকিলিস’ হিল” সম্পর্কে অবগত সুতরাং তাদের মনোবলকে “নিপ ইন দ্যা বাড” করার একমাত্র উপায় হলো ধর্ষণ এবং ধর্ষণ।



সভ্যতার শীর্ষ আরোহণকারীরাও এই বলয় থেকে মুক্ত নয়। তাই ওয়াল স্ট্রীটে কর্মরত শ্বেতাঙ্গ নারীটির আজ বাংলাদেশের সাভারে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কর্মরত শ্রমিকদের তুলনায় ধর্ষণের শঙ্কা থেকে খুব বেশী নিরাপদ নয়। এতেই বোধ করি বিশ্বায়নের স্বার্থকতা! তবে উন্নত বিশ্বে এই ক্ষেত্রে কিছুটা বৈচিত্রের সাক্ষর রেখেছে। অর্থাৎ এখানে পুরুষ কর্তৃক নারী ধর্ষিত হবার পাশাপাশি নারী কর্তৃক পুরুষ ধর্ষিত হবার নজির ও আছে। থানা হাজতে সমকামী ধর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে বেশ কয়েকবার।





এবারে আমাদের দেশে সাম্প্রতিক কালে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার দিকে নজর দেয়া যাক। গৃহকর্তা কর্তৃক কাজের মেয়ে ধর্ষিত, শিক্ষক কর্তৃক বাসার কাজের মেয়ে, শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রী, সহপাঠী কর্তৃক সহপাঠী, ড্রাইভার ও হেলপার কর্তৃক যাত্রী, সহকর্মী কর্তৃক সহকর্মী, নেতা কর্তৃক আমজনতা, ইত্যাদি।



কথায় আছে আমাদের সাংস্কৃতিক রুট ভায়া মুম্বাই (বলিউড), তাই নিয়ম মাফিক কিছুদিন আগে ভারতে মেডিক্যাল ছাত্রীর ধর্ষণ ও প্রাণহানির ঘটনার ঠিক পরপরই আমাদের দেশে ধর্ষণের খবর জ্যামিতিক আকারে বাড়তে থাকে। এখানে ঘটনা না বলে খবর বলছি এই জন্যই যে, বাংলার মাটিতে ধর্ষণ কখনো স্থিমিত হয়নি, ঘটনাগুলো কেবল লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিলো! আমরা দেখেছি সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে ধর্ষণের শতক উৎযাপনের উদ্যম নৃত্য। দেখেছি হতাশা গ্রস্থ অন্তঃসার শুন্য একদল তথাকথিত প্রগতিশীল সোনার ছেলেদের “ধর্ষণ দক্ষতা” নিয়ে প্রশংশা কুড়াতে। আমার মতে ধর্ষকদের পৃথিবীতে আগমনটাই ওভাবে ছিলো। তাই তারা কেবল ইহার এসেন্স বহন করছেন। মূল সমস্যা তাদের ডিঅ্যানএ তে।



এক কথায় দুর্বল, পরাজিত ও মানসিক বিকারগ্রস্থদের আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যম হলো ধর্ষণ। বাস ড্রাইভার বা হেলপার যেমন এর মাধ্যমে প্রাপ্তি খুঁজে পায় ঠিক একই ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতারা জানান দেয় তারা কতটা প্রভাবশালী!



হয়তো দু চারটি ঘটনা মিডিয়ায় দৃশ্যমান হয় বলে আমরা জানার সুযোগ পাই। বস্তুত এর ভয়াবহতা বা সংখ্যা উভয় কল্পনাতীত। তবে বোধ করি ধর্ষণ পরবর্তী কালে ধর্ষকের সাথে ধর্ষিতার বিবাহ প্রদান/বিবাহের প্রয়াস মানব সভ্যতার সবচাইতে বড় উপহাস!





উল্লেখ্য ধর্ষণের জন্য সব অ্যাপাটাইজার আজকাল আমাদের সমাজে অনেক সহজলভ্য। পরিসংখ্যান মতে ১৯৯০ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ভারতে ধর্ষণের হার দ্বিগুণ বেড়েছে। আফটার অল আইটেম সং বলে কথা। আমাদের দেশেও হালের ছেলেমেদের রুচি বদলেছে বেশ! পুঁজিপতিরা বেশ আরামেই গিলু ধোলাই করছেন। ললনাদের তালিম দিচ্ছেন কিভাবে আরও বেশি এক্সপ্লিসিট হওয়া যায়। বিল বোর্ডের গায়ে শোভা পায় হটনেস কামস ইন এভরি সেইপ এন্ড সাইজ! বাকিটা বলাই বাহুল্য।



তবে এইসব উদাহরণ দিয়ে ধর্ষণকে জায়েজ করা হচ্ছে না বরং সামাজিক অস্থিরতা ও অবক্ষয়ের চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে। আর ইসলাম যখন ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যার নির্দেশ দেয় তখন তা আমাদের দেশের মানবতাবাদীদের কাছে ব্যাপারটি অমানবিক মনে। তাহলে কি ধর্ষণের মতো ঘৃণিত কাজ তাদের কাছে অধিক মানবিক???



প্রকৃতপক্ষে আমরা একেক জন নিষ্ক্রিয় ও আত্নকেন্দ্রিক জীবে পরিনিত হচ্ছি। আজ হয়তো আমার বা আপনার বোন, কন্যা বা স্ত্রী নিরাপদ কিন্তু আগামীকাল??????????

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.