| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সমস্ত অমুসলিম এবং নাস্তিকদের প্রধান শত্রু ইসলাম এবং শত শত মুসলিম দলের একমাত্র শত্রু সত্য সুফিবাদ ইসলাম। অর্থাৎ পৃথিবীর সবার শত্রু সত্য সুফিগণ। সত্য সুফিদের প্রধান হলেন হজরত আঃ কাদের জিলানী রঃ। বড়োই পরিতাপের বিষয় হলো - সত্য সুফিদের সামান্য দুই একটি কথা মুখস্থ করে এবং তার সাথে বিভিন্ন রং লাগিয়ে ভন্ড সুফিরা, অসংখ্য লোকের মেলা সাজিয়েছে। ছেলে মেয়ে একসাথে এমনকি সত্য মাজারে গান গাচ্ছে, গাঁজা খাচ্ছে, নামাজ রোজা করছে না, আর বলছে নামাজ মাত্র দুই রাকাত ইত্যাদি। ইমাম গাজ্জালী রঃ এদেরকে হত্যা করা ওয়াজিব বলেছেন। তবে এটা সরকারকে করতে হবে বা সরকারের অনুমতি নিয়ে করতে হবে।
লা মাজহাবিরা বলছে পীর মুরিদী শিরক। অথচ এখনকার ছেলে পেলেরা লা মাজহাবিদের অনুসরণ করছে। যদিও বাংলাদেশে হজরত আঃ কাদের জিলানী রঃ এর মৃত্যু দিবস উপলক্ষে সরকারী ছুটি থাকে। এই ছুটি থেকে বুঝা যায় বাংলাদেশের মানুষ সত্য সুফিদের কতটা শ্রদ্ধা ভক্তি করতেন এবং মান্য করতেন। আসলে ৯০ ভাগ সাধারণ মানুষ জানেনা, বর্তমানে কোন মুসলিম দলের অনুসরণ করবে। অত্যন্ত বিপদজনক এবং ফেতনা পূর্ণ সময়।
অমুসলিমরা চিন্তা করলো মুসলমানদেরকে পৃথিবী শাসন থেকে দূরে রাখতে চাইলে সত্য সুফিদের ইসলাম আগে ধ্বংস করতে হবে এবং সুফিহীন ইসলামের প্রচার করতে হবে। এজন্য তারা লা মাজহবি ইসলাম প্রচারে সময় ও অর্থ বিনিয়োগ করলো। শেষমেশ তারা ইসলামে যেনো সর্বদা সন্ত্রাস থাকে, তার জন্য আফগানিস্তানকে ছেড়ে দিলো। ব্যাস আর কোনো কাজ নেই। মুসলমানরা হাজার বছর চেষ্টা করেও বিশ্ব শাসন করতে পারবে না।
লা মাজহাবিরা যতক্ষণ ওয়াজ করে, তার প্রায় পুরো সময়ই মাজহাব ও তরিকত পন্থিদের গীবত করে। বেশি প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই, তারা যে চিবিয়ে চিবিয়ে এবং মুখ বাঁকা তেরা করে মাজহাব ও তরকিত পন্থিদের গীবত করে, এতেই বুঝা যায়, তারা বিশ্বাস করে মাজহাব ও তরিকত পন্থিরা সত্য।
সারাদিন বললেও মিথ্যা দলের কথা শেষ হবে না। আরেক দল মাথাচাড়া দিয়েছে, নাম হলো হেজবুত তাওহীদ। এরা সম্পূর্ণ লোকদেখানো ধার্মিক। অথচ ইখলাসহীন ইবাদত আল্লাহ কবুল করেন না। যদি ইখলাস শিখতে চাও তাহলে আকাশ জমিন এক করে হলেও একজন হক সুফির খোঁজ করো, নচেৎ ধ্বংসই তোমার পরিণাম।
যাইহোক এখন মানুষ বুঝে না, সে কার অনুসরণ করবে, এরকম হয়েছিল ইমাম গাজ্জালী রঃ এর সময়। অতঃপর ইমাম গাজ্জালী রঃ সব মিথ্যা ধ্বংস করে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। আলহামদুলিল্লাহ এখন আরেকজন গাজ্জালী পৃথিবীতে অবতরণ করেছেন, আশা করি মহান আল্লাহ তার অছিলায় সমস্ত মিথ্যা ধ্বংস করে সত্য সুফিদের ইসলাম পৃথিবীতে পূণরায় প্রতিষ্ঠিত করবেন। মহান আল্লাহ সবাইকে সঠিক জ্ঞান দান করুন। আমীন।
( মোঃ জাহাঙ্গীর আলম আকন্দ ) ।
২|
১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:০৪
সুলাইমান হোসেন বলেছেন: ইসলাম অসুস্থ নাকি ইসলামের অনুসারীরা অসুস্থ।যদি অনুসারীরা ঠিকমতো ইসলাম পালন করে তাহলে তারা এমন সুস্থতা লাভ করবে যা খুবই বিরল।শিরোনাম পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছি
৩|
১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:০৭
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: মুসলমানরা হাজার বছর চেষ্টা করেও বিশ্ব শাসন করতে পারবে না।
................................................................................................
এমন কোন এজেন্ডা আছে কি ?
মুসলমানদের বিশ্ব শাসন করতেই হবে ?
সারা বিশ্বে বিভিন্ন ধর্মর লোক আছে, কেন তাদের উপর আপনাকে
শাসন করতে হবে ? যেখানে মুসলিমরা এক নয়, তাদের মাঝে
অনেক তরিকা কাজ করে ।
আর ইসলাম সুস্হ না অসুস্হ আপনি কিভাবে জানেন ?
সারা বিশ্বে কতভাগ মুসলিম আপনি দেখেছেন ?
আমি তো দেখছি আমাদের দেশে সবচেয়ে মোনাফেকী হচ্ছে
বিদেশে ইসলাম শান্তি পূর্ণ ভাবে পালন করছে ।
৪|
১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৪৪
কামাল১৮ বলেছেন: সুস্থ ছিল কখন।
৫|
১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৯
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন:
লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়লাম। ইসলামের বর্তমান অবস্থা, মুসলিম সমাজের বিভক্তি, সুফিবাদের ভূমিকা, পীর-মুরিদি, মাজহাব ও তরিকত নিয়ে আপনার উদ্বেগের বিষয়টি উপলব্ধি করা যায়। ধর্মীয় জ্ঞান, আধ্যাত্মিকতা, আত্মশুদ্ধি এবং মুসলমানদের পারস্পরিক ঐক্যের প্রশ্নগুলো নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। তবে আপনার লেখার কয়েকটি বক্তব্যের সঙ্গে একমত হওয়ার পাশাপাশি কিছু বিষয়ে ভিন্নভাবে চিন্তা করারও অবকাশ রয়েছে বলে মনে করি।
প্রথমেই বলতে চাই, ইসলামকে কেবল বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখার সুযোগ নেই। নামাজ, রোজা, জাকাতসহ ইসলামের মৌলিক বিধান পালনের পাশাপাশি মানুষের চরিত্র, সততা, ন্যায়বিচার, দয়া, বিনয়, আত্মসংযম এবং অন্যের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন মানুষ নিয়মিত ইবাদত করেও যদি অন্যের প্রতি জুলুম করেন, মিথ্যা বলেন, মানুষের অধিকার নষ্ট করেন কিংবা অহংকারে নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করেন, তাহলে তাঁর ধর্মীয় অনুশীলনের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। একইভাবে কেউ আধ্যাত্মিকতার কথা বললেই তাঁর মধ্যে প্রকৃত আত্মশুদ্ধি অর্জিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়াও ঠিক নয়। ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে ধর্মীয় শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আপনি সুফিবাদকে ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক ধারা হিসেবে তুলে ধরেছেন। ইসলামের ইতিহাসে আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া, ইখলাস, আল্লাহর স্মরণ, নৈতিক উৎকর্ষ এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসার চর্চায় বহু সুফি সাধকের অবদান রয়েছে। তাঁদের জীবন ও শিক্ষা থেকে মানুষ আত্মসংযম, বিনয়, ধৈর্য এবং স্রষ্টার প্রতি গভীর অনুরাগের শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। বিশেষ করে হজরত আবদুল কাদের জিলানি (রহ.)-এর মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব মুসলিম আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছেন।
তবে সুফিবাদের গুরুত্ব স্বীকার করার পাশাপাশি একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন—কোনো একটি আধ্যাত্মিক ধারার অনুসারী হওয়া এবং সেই ধারার সব অনুসারীর বক্তব্য বা কাজকে নির্ভুল মনে করা এক বিষয় নয়। একজন প্রকৃত সাধকের শিক্ষা যেমন সম্মানের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত, তেমনি তাঁর নাম ব্যবহার করে কেউ ভুল শিক্ষা প্রচার করলে সেটিও যাচাই করা দরকার। একইভাবে কোনো ব্যক্তি নিজেকে হক সুফি দাবি করলেই তাঁর প্রতিটি বক্তব্য সত্য বলে মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই। তাঁর কথা ও কাজ কোরআন, সুন্নাহ, নির্ভরযোগ্য জ্ঞান এবং নৈতিকতার আলোকে বিচার করা উচিত।
আপনি ভণ্ড সুফিদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন। এ ধরনের সমালোচনার যৌক্তিকতা থাকতে পারে, যদি কেউ ধর্মের নাম ব্যবহার করে মানুষের সরল বিশ্বাসের সুযোগ নেন, অনৈতিক কাজ করেন কিংবা ধর্মীয় বিধানকে নিজের স্বার্থে বিকৃত করেন। কিন্তু এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, প্রকৃত সুফি ও ভণ্ড সুফিকে চেনার নির্ভরযোগ্য মানদণ্ড কী? শুধু পোশাক, উপাধি, পীরের পরিচয় কিংবা অনুসারীর সংখ্যা দিয়ে কি তা নির্ধারণ করা সম্ভব? আমার মনে হয়, মানুষের চরিত্র, তার বক্তব্যের দলিল, তার কাজের নৈতিকতা এবং ধর্মীয় জ্ঞানের যথার্থতা বিবেচনা করেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এতে প্রকৃত সাধকদের মর্যাদা রক্ষা পাবে, আবার ধর্মের নামে প্রতারণার পথও সংকুচিত হবে।
আপনার লেখায় লা-মাজহাবি বা আহলে হাদিস অনুসারীদের বিরুদ্ধে বেশ কঠোর বক্তব্য এসেছে। কিন্তু মুসলিম সমাজে ফিকহি মতপার্থক্য ও ধর্মীয় ব্যাখ্যার ভিন্নতা বহু পুরোনো বিষয়। বিভিন্ন মাজহাবের অনুসারীরা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসে একমত থেকেও কিছু বিধান ব্যাখ্যা ও পালনের ক্ষেত্রে ভিন্ন মত পোষণ করতে পারেন। কোনো ব্যক্তি মাজহাব অনুসরণ করেন, কেউ সরাসরি কোরআন ও হাদিসের দলিলকে বিশেষ গুরুত্ব দেন—তাঁদের প্রত্যেকের বক্তব্য ও পদ্ধতি আলাদাভাবে বিচার করা দরকার। শুধু ভিন্ন মতের কারণে কাউকে সত্যবিরোধী বা ইসলামের শত্রু আখ্যা দিলে পারস্পরিক অবিশ্বাস আরও বাড়বে।
অবশ্য মতপার্থক্য থাকলেই সব বক্তব্য সমানভাবে সঠিক হয়ে যায় না। ধর্মীয় কোনো বিষয়ে ভুল ব্যাখ্যা থাকলে তা দলিল ও যুক্তির মাধ্যমে সংশোধন করা যেতে পারে। কিন্তু সেই সংশোধনের ভাষা হওয়া উচিত জ্ঞানসম্মত, সংযত ও সম্মানজনক। অন্যের বক্তব্যের দুর্বলতা তুলে ধরতে গিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপমান কিংবা সামগ্রিকভাবে একটি সম্প্রদায়কে দোষারোপ করলে সত্য প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে বিরোধই বাড়তে পারে। যে ব্যক্তি সত্যের পক্ষে কথা বলবেন, তাঁর নিজের আচরণেও সত্যনিষ্ঠা, ন্যায়পরায়ণতা ও শালীনতার পরিচয় থাকা প্রয়োজন।
আপনি বলেছেন, কিছু ধর্মীয় বক্তা তাঁদের বক্তব্যের বড় অংশ মাজহাব ও তরিকতপন্থীদের সমালোচনায় ব্যয় করেন। যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে সেটি অবশ্যই পর্যালোচনার বিষয়। কিন্তু একই মানদণ্ড সব পক্ষের ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করা দরকার। সুফিবাদের নামে কেউ যদি অন্য মুসলমানদের অবজ্ঞা করেন, অন্য কোনো ধারার অনুসারীদের সামগ্রিকভাবে ভ্রান্ত বলে ঘোষণা করেন কিংবা নিজের দলকেই একমাত্র সত্যের অধিকারী মনে করেন, তাহলে তাঁর ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন উত্থাপিত হওয়া উচিত। ধর্মীয় আলোচনার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সত্যের অনুসন্ধান, আত্মশুদ্ধি ও মানুষের কল্যাণ; প্রতিপক্ষকে পরাজিত করা কিংবা নিজের গোষ্ঠীর শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করা নয়।
আপনার লেখার সবচেয়ে উদ্বেগজনক অংশ হলো, কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গে আপনি ইমাম গাজ্জালী (রহ.)-এর নামে তাঁদের হত্যা করার কথা উল্লেখ করেছেন। এ ধরনের বক্তব্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এর জন্য নির্ভরযোগ্য মূল উৎস, প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট যাচাই করা জরুরি। কোনো উদ্ধৃতিকে বিচ্ছিন্নভাবে ব্যবহার করে বর্তমান সময়ের কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সহিংসতার সমর্থন তৈরি করা উচিত নয়। ধর্মীয় মতভেদ, ভুল বিশ্বাস কিংবা অনৈতিক আচরণের অভিযোগের নিষ্পত্তি ব্যক্তিগত প্রতিশোধ বা জনতার সহিংসতার মাধ্যমে হতে পারে না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। ধর্মীয় আলোচনায় কঠোর সমালোচনা করা যেতে পারে, কিন্তু কোনো জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সহিংসতাকে স্বাভাবিক বা গ্রহণযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করা বিপজ্জনক।
ইসলামের নামে সন্ত্রাস, উগ্রবাদ কিংবা নিরপরাধ মানুষের ওপর হামলার বিষয়টিও অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন। আপনি মুসলমানদের দুরবস্থার পেছনে ইসলামবিরোধী শক্তির ভূমিকার কথা বলেছেন। ইতিহাসে বিভিন্ন শক্তির রাজনৈতিক স্বার্থ, সামরিক হস্তক্ষেপ, উপনিবেশবাদ, বৈশ্বিক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং মুসলিম দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ সংকট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে—এগুলো অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু মুসলমানদের সব সমস্যা কেবল বাইরের শত্রুর ষড়যন্ত্র দিয়ে ব্যাখ্যা করলে নিজেদের সমাজের দুর্বলতাগুলো আড়াল হয়ে যেতে পারে।
আমাদের নিজেদেরও প্রশ্ন করা দরকার—কেন বহু মুসলিম সমাজে শিক্ষা, গবেষণা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার, সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির ঘাটতি রয়েছে? কেন ধর্মীয় পরিচয় থাকা সত্ত্বেও দুর্নীতি, বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার দেখা যায়? কেন ধর্মের মৌলিক নৈতিক শিক্ষা প্রচারের পাশাপাশি মানুষের অধিকার রক্ষা, জ্ঞানচর্চা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আমরা অনেক সময় পিছিয়ে থাকি? বাইরের ষড়যন্ত্র থাকলে তার মোকাবিলা করতে হবে, কিন্তু সেই সঙ্গে নিজেদের ভুল ও সীমাবদ্ধতাও সংশোধন করতে হবে। আত্মসমালোচনা দুর্বলতার লক্ষণ নয়; বরং উন্নতির অন্যতম শর্ত।
হেজবুত তাওহীদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের ব্যাপারেও একই নীতি প্রযোজ্য। কোনো সংগঠনের বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড নিয়ে আপত্তি থাকলে সুনির্দিষ্ট উদাহরণ, যাচাইযোগ্য তথ্য ও নির্ভরযোগ্য দলিলের ভিত্তিতে সমালোচনা করা উচিত। কাউকে শুধু লোকদেখানো ধার্মিক বললেই তাঁর প্রকৃত উদ্দেশ্য প্রমাণিত হয় না। মানুষের অন্তরের ইখলাস সম্পর্কে চূড়ান্ত জ্ঞান আল্লাহরই। আমরা মানুষের প্রকাশ্য কাজ, বক্তব্য ও আচরণ বিচার করতে পারি, কিন্তু প্রমাণ ছাড়া কারও অন্তরের অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া উচিত নয়।
ইখলাসের প্রসঙ্গটি আপনার লেখায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। আমার মতে, এটিই ধর্মীয় জীবনের অন্যতম মৌলিক শিক্ষা। ইবাদত শুধু মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য হওয়া উচিত। তবে ইখলাসের দাবিদার হওয়া এবং বাস্তবে ইখলাসের পরিচয় দেওয়া এক নয়। কেউ পীরের অনুসারী হলেই তিনি আন্তরিক, আবার কেউ পীরের অনুসারী নন বলেই তাঁর মধ্যে ইখলাস নেই—এমন সিদ্ধান্তও গ্রহণযোগ্য নয়। মানুষের আন্তরিকতা যাচাই করার ক্ষেত্রে বিনয়, সততা, ন্যায়পরায়ণতা এবং মানুষের সঙ্গে তার আচরণ গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হতে পারে। নিজের আধ্যাত্মিক অবস্থান সম্পর্কে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের পরিবর্তে আত্মসমালোচনা ও বিনয়ই একজন মানুষের জন্য অধিক কল্যাণকর।
আপনি ইমাম গাজ্জালী (রহ.)-এর সঙ্গে বর্তমান সময়ের পরিস্থিতির তুলনা করেছেন এবং একজন নতুন গাজ্জালীর আবির্ভাবের কথা উল্লেখ করেছেন। ইমাম গাজ্জালী (রহ.) ইসলামী চিন্তা, দর্শন, নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিকতার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তাঁর জ্ঞান, চিন্তাশক্তি ও আত্মসমালোচনার ঐতিহ্য থেকে শিক্ষা নেওয়া অবশ্যই মূল্যবান। তবে কোনো সমসাময়িক ব্যক্তিকে তাঁর সমপর্যায়ের মনে করা কিংবা তাঁর মাধ্যমে পৃথিবীর সব মিথ্যা ধ্বংস হয়ে যাবে বলে আশা করা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয়। এ ধরনের দাবির চেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জ্ঞান, যুক্তি, নৈতিকতা, কাজের ফলাফল এবং সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা মূল্যায়ন করা অধিক যুক্তিসংগত।
সত্য প্রতিষ্ঠার কাজ কোনো এক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। সমাজে জ্ঞানী আলেম, গবেষক, চিন্তাবিদ, শিক্ষক এবং সৎ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ধর্মীয় জ্ঞান ও নৈতিকতার বিকাশ ঘটে। কেউ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলে তাঁকে সম্মান জানানো উচিত; কিন্তু সেই সম্মানের কারণে তাঁর বক্তব্যকে প্রশ্নাতীত করে তোলা উচিত নয়। বরং সত্যের প্রতি আন্তরিকতা থাকলে নিজের বক্তব্যও দলিল ও যুক্তির আলোকে যাচাই করার মানসিকতা থাকা দরকার।
আমার মনে হয়, মুসলিম সমাজের বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পারস্পরিক শ্রদ্ধা, নির্ভরযোগ্য জ্ঞানচর্চা, নৈতিক সংস্কার এবং বিভাজনের পরিবর্তে সহযোগিতার মানসিকতা। সুফি, মাজহাবি, লা-মাজহাবি কিংবা অন্য কোনো ধর্মীয় পরিচয়ের মানুষ—যাঁরা সততা, ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও শান্তির পক্ষে কাজ করেন, তাঁদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করা সম্ভব। মতপার্থক্য থাকবে, বিতর্কও থাকবে; কিন্তু সেই বিতর্ক যেন বিদ্বেষ, অপমান কিংবা সহিংসতার দিকে না যায়।
সবশেষে বলব, আপনার লেখায় মুসলিম সমাজের ধর্মীয় বিভক্তি ও আধ্যাত্মিক সংকট নিয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে, তা আলোচনার দাবি রাখে। তবে সত্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অর্থ শুধু অন্যের ভুল চিহ্নিত করা নয়; নিজের বক্তব্যকেও নির্ভরযোগ্য দলিল, যুক্তি ও ন্যায়বোধের আলোকে যাচাই করা। অন্যের প্রতি যে ন্যায়বিচার আমরা প্রত্যাশা করি, সেই একই ন্যায়বিচার অন্যের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করতে হবে। কোনো ধর্মীয় মতের সমালোচনা করা যায়, কিন্তু সেই সমালোচনা যেন মানুষের মর্যাদা ও নিরাপত্তাকে বিপন্ন না করে।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক জ্ঞান, বিশুদ্ধ নিয়ত, আত্মশুদ্ধি, বিনয় এবং সত্যকে গ্রহণ করার মানসিকতা দান করুন। আমরা যেন ধর্মকে ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা কিংবা অন্যকে হেয় করার মাধ্যম না বানিয়ে নিজেদের চরিত্র সংশোধন, মানুষের অধিকার রক্ষা এবং সমাজে ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠার উপায় হিসেবে গ্রহণ করতে পারি।
৬|
১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৩
রাজীব নুর বলেছেন: এযুগের লোকেরা ইসলামের ধারধারে না। তারা নামাজ পড়ে, চুরি করে। মিথ্যা বলে। আবার আল্লাহ আল্লাহ করে।
©somewhere in net ltd.
১|
১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৩৬
আলামিন১০৪ বলেছেন: ভাইজান, পীরানে-পীর- দস্তগীর- এই নামকরনের কথিত কাহিনীটা কি জানেন? এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য?