নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অজানা বিষয় জানার নামই হল জ্ঞান

Akasher tara

আমি আবেগ এবং বিবেকের সংমিশ্রণে লেখালেখি করি

Akasher tara › বিস্তারিত পোস্টঃ

কায়রো ট্রেন ট্রাজেডি ২০০২

০৩ রা আগস্ট, ২০২৫ বিকাল ৪:৪০





আগুনের সাতটি বগি: মিশরের ইতিহাসের ভয়াবহতম ট্রেন দুর্ঘটনা

২০০২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি। কায়রো থেকে লাকসরগামী একটি ট্রেন গভীর রাতে এগিয়ে চলেছিল মিশরের নীলনদের উপত্যকার মধ্য দিয়ে। ছুটির মৌসুমে গাদাগাদি করে ভরা তৃতীয় শ্রেণির বগিগুলোয় ছিল শত শত যাত্রী—কেউ পরিবারের কাছে ফিরছিল, কেউ ঈদের ছুটি কাটাতে যাচ্ছিল, কেউ বা জীবনের ক্লান্তি ভুলে একটু শান্তির খোঁজে রওনা হয়েছিল।

কিন্তু সে রাত আর সকালের মুখ দেখেনি অনেকের জন্য।

প্রায় রাত ২টার দিকে ট্রেনটির সপ্তম বগিতে হঠাৎ এক বিস্ফোরণ ঘটে। তদন্তে পরে জানা যায়, সেই বগিতে এক যাত্রী অবৈধভাবে রান্নার জন্য প্রোপেন গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে উঠেছিল। গ্যাসের লিক থেকে সৃষ্ট আগুন মুহূর্তেই ভয়ংকর রূপ নেয়। কাঠের পুরনো বগি, জানালার পেছনে পর্দা, যাত্রীদের মালামাল—সব একে একে আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে একের পর এক বগিতে।

সবচেয়ে বিভীষিকাময় ব্যাপার হলো, এই আগুন লাগার বিষয়টি চালক অনেকক্ষণ জানতেই পারেননি। ট্রেনটি প্রায় সাত কিলোমিটার দূর পর্যন্ত চলতে থাকে, তখনও আগুন পেছনের বগিগুলোকে গ্রাস করে চলেছে। অনেক যাত্রী জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়ে বাঁচার চেষ্টা করেন। কেউ রেললাইনে ছিটকে পড়ে নিহত হন, কেউ গুরুতর আহত হন। যারা ভেতরে আটকা পড়ে যান, তারা দগ্ধ হন মুহূর্তের মধ্যেই।

মোট ৭টি বগি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। সরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা ৩৭৩ হলেও বহু মরদেহ এতটাই পুড়ে গিয়েছিল যে চেনার উপায় ছিল না। তাই প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা এবং গণমাধ্যম।

প্রশ্ন উঠেছিল, কেন আগুন ছড়িয়ে পড়া রোধ করা গেল না? কেন ট্রেন থামানো গেল না? কেন চালক জানতেই পারলেন না এই বিপর্যয়ের কথা?

উত্তর ছিল নির্মম। তৃতীয় শ্রেণির বগিগুলোর সঙ্গে চালকের কোনো সরাসরি যোগাযোগব্যবস্থা ছিল না। কোনো অ্যালার্ম বা সতর্ক সংকেত ছিল না। আগুন নেভানোর জন্য কোনো ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি ট্রেনের দরজাগুলো অনেক সময় তালাবদ্ধ থাকত, যা পালানোর পথকেও রুদ্ধ করেছিল।

এই দুর্ঘটনার পরে দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, একটি দেশের রেলব্যবস্থা যদি এতটাই অনিরাপদ হয়, তবে তার নাগরিকদের জীবনের মূল্য কোথায়? সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, কয়েকজন কর্মকর্তাকে বরখাস্তও করা হয়। কিন্তু পুরো ব্যবস্থার অব্যবস্থা, গাফিলতি, এবং অবহেলা একদিনে গড়া হয়নি—আর একদিনে বদলাও আসেনি।

মিশরের এই ট্রেন দুর্ঘটনা আজও একটি জ্বলন্ত স্মৃতি। এটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং একটি শিক্ষা—যেখানে আমরা দেখতে পাই কিভাবে একটি ছোট অবহেলা, একটি নিষিদ্ধ গ্যাস সিলিন্ডার, আর একটি অনুপস্থিত অ্যালার্ম সিস্টেম শত শত নিরীহ প্রাণের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এই ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেয়: উন্নয়ন মানেই শুধু নতুন রেললাইন নয়, উন্নয়ন মানে নিরাপদ যাত্রা, প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বশীলতা, এবং প্রতিটি মানুষের জীবনের প্রতি সম্মান।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.