| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ক্যান্সার আক্রান্ত আব্বাকে নিয়ে বাড়ি গেলাম গত মাসের ১৩ তারিখ। ঢাকায় আসলাম ৩১ তারিখ। বাড়িতে থাকার ফলে দেশের খবর রাখতাম না। সম্ভবও ছিল না। এসে দেখি এক হেফাজতকে নিয়ে সরকারের মধ্যে ত্রাহি অবস্থা। হেফাজতে ইসলাম সরকারের ভয়ের কারণ। যার প্রমাণ ঠিক আগ মূহুর্তে কিছু দালাল কর্তৃক হরতাল ও অবরোধ ঘোষণা। বারেবারে পরিবর্তিত ঘটনা প্রবাহ হেফাজতের লংমার্চ সম্পর্কে গণ-মানুষের কৌতুহল বৃদ্ধি করে। আমারও তর সইছে না লংমার্চ দেখার।
সকাল ৭ টায় বের হওয়ার কথা থাকলেও বের হলাম সকাল ৯ টায় বাসা থেকে। রাস্তায় বের হবার পরে যা দেখলাম, তা অবিশ্বাস্য। মনে করেছিলাম শুধু দাড়ি-টুপিওয়ালা সফেদ কিছু মানুষ হতে পারে। কিন্তু আমার ধারণা ভুল। সার্ট-প্যান্ট পরা, মাথায় টুপি হাজারো মানুষ হাঁটছে তো হাঁটছে। লক্ষ্য মতিঝিল। ঢাকার বাইরে থেকে আপত মানুষকে অনেক পুলিশ সহযোগিতাও করছে। অনেক দিন পর গলা ছেড়ে স্লোগান দেওয়ার লোভ সামলাতে পারলাম না। নাঈটিংগেল মোড়ে যাওয়ার পর লক্ষ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত আগমন দেখলাম। মিছিল কালেমা পাঠ করতে করতে এগিয়ে চলছে।
১০টার দিকে ভিড় ঠেলে জাতীয় পাঠ্যপুস্তকবোর্ডের কাছে অবস্থান নিলাম। একটু পর থেকে শুরু হলো স্বপ্রণোদিত পানি ও খাবার বিতরণ। একজনেরটা নিলে অন্যজন বলছে, ভাই আমারটাও নিতে হবে। সিলেট থেকে আগত একটি কাফেলাকে ৩০ বছরের এক যুবক একটি জারে পানি ও প্যাকেট করে রুটি ও কলা দিয়ে বলছে, অনেক কষ্ট করে এসেছেন। খান! আমি নিজেই আপনাদের জন্য এগুলো কিনে এনেছি। এরকম শত শত ব্যক্তি, কোম্পানী, রাজণেতিক ও সাংস্কুতিক ব্যক্তিরা পানি, বিস্কুট,কলা, রুটি, সরবত, শশা, গাজর, তরমুজ, স্যালাইন,খেজুর,আইসক্রিম, বোয়ামের বিস্কুটসহ হরেক রকম ফল-ফলাদী। নিজ চোখে না দেখলা বোঝা মুসকিল কত আবেগী ছিল এই মানুষগুলো। একজন বলল সে বি-বাড়িয়া থেকে নসিমনের মাধ্যমে এসেছে। কেউ কেউ হরতালের আশংকায় দুই দিন আগে ঢাকাতে আসে।
আরামবাগ, যাত্রাবাড়ী, নয়া পল্টন ওদিকে প্রেসক্লাব থেকে সব স্রোত মিশেছে মতিঝিলে। প্রচন্ড রোদে লক্ষ লক্ষ মানুষ অধির আগ্রহে রাসুল (সঃ) প্রেমে কষ্ট স্বীকার করে রাস্তায় অবস্থান করে। তবে মাঝে মাঝে হিমেল হাওয়া সবার মধ্যে স্বস্তি এনে দিয়েছে।
টিভিতে প্রোগ্রাম দেখার জন্য বাসায় আসার সিদ্ধান্ত নিলাম। হাঁটা শুরু করলাম মতিঝিল থেকে। পথে দেখলাম ভ্যানের পর ভ্যানে করে খাবার নিয়ে যাচ্ছে মানুষ। মানুষের অকৃত্রিম এই ভালবাসা দেখে চোখের পানি ধরে রাখা কষ্টের। এর কারণ হলো আল্লাহ, রাসুল এবং কুরআন প্রেমের কারণে। এক ভাই দোকান থেকে এক বোয়াম বিস্কুট কিনে দিচ্ছে। নিজেও নিলাম। তার চোথে-মুখে যে তৃপ্তি দেখলাম তার প্রকাশ করা অসাধ্য। ফিরে আসার পথেও অনেকে বাধ্য করল খাবার নিতে। সবার কথা যে কয়দিন থাকে আমরা সবাইকে খেদমত করে যাব।
বিভিন্ন জেলা থেকে আগত মানুষের সাথে কথা বলে জানলাম তাদের ইচ্ছা ঢাকায় থেকে যাওয়া, রাস্তা অবরোধ করা। তবে নেতৃবৃন্দের ধন্যবাদ যে তারা সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়ায়। কেননা এখন এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষা চলছে। তাছাড়া সরকারেরও সময় দেওয়া দরকার সিদ্ধান্ত নেওয়ার। তবে সরকার যদি ধানাই-পানাইয়ের আশ্রয় নেয় তবে তার ফল হয়তোবা ভাল হবে না। যার প্রমাণ শত বাঁধা উপেক্ষা করে লক্ষ লক্ষ মানষের জনসমুদ্র। চার হালি লোক (পীর হাবিবুর রহমানের ভাষায়)নিয়ে আন্দোলন করে যদি শাহবাগীরা সরকারকে তাদের দাবি মানতে বাধ্য করে, তবে বাংলার এই মাটিতে কোটি কোটি ইসলাম প্রিয় মানুষের দাবি অবশ্যই মানতে হবে। তাদের সব দাবির সাথে আমি একমত না হলেও প্রধান দাবিগুলো মানতেই হবে।
আর একটি কথা না বললেই নয়। শাহবাগিদের নিয়ে অতি উৎসাহী কিছু গণমাধ্যম গুটি কয়েক লোকদের সমাগমকে যেভাবে দেখিয়াছে তার ছিটে ফোঁটাও দেখায়নি আজকের লংমার্চ প্রোগ্রাম (তবে দিগন্ত, বাংলা ভিশন ও এনটিভিকে ধন্যবাদ সরাসরি প্রচার করার জন্য)। সারা দেশে যেভাবে গণবিস্ফোরণ হলো তাতে তাদের লজ্জা করা উচিত। যে সমস্ত দলের বাটি চালান দিলে হেফাজতের একটি থানার লোকের সমান হবে না, তাদের নিয়ে এত মাতামাতি করে লাভ নেই। ইনু-মেননরা এত লম্প-ঝম্প করে অথচ একাকি ভোট করলে ১০০০ ভোটও পায়না। এজন্য তাদের সাবধানে কথা বলা উচিত। অনেকে সেলুনে আশ্রয় নিচ্ছে। অতএব সাধু সাবধান! বাংলার মানুষ ধর্মপ্রাণ। বাম-রাম, পরগাছা কিছু সংগঠনের প্রতি ভর নয়, আসুন নিরপেক্ষভাবে সংবাদ পরিবেশন করি। কেননা সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী।
০৯ ই এপ্রিল, ২০১৩ রাত ১১:৫৫
আল মাসুদ বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে
২|
০৮ ই এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ৮:১৯
0গাংচিল বলেছেন: ++++++++++++++++++++++++++++++++++++
০৯ ই এপ্রিল, ২০১৩ রাত ১১:৫৫
আল মাসুদ বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে
৩|
০৮ ই এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ৮:৩৩
নাওেয়দ বলেছেন: পিওর লেখা। মুসলমান হিসেবে পছন্দ হইচে। কিন্তু পীর কালচারটা তো ভাই আমি সাপোর্ট করতে পারি না। তবে এইটা ঠিক, গনজাগরন কারে বলে হেফাযত তা হাড়ে হাড়ে বুঝায় দিসে। কিন্তু কথা হইল, উনারা কি ইসলামের রাজনীতির ধারক-বাহক?
দ্রষ্টব্য: ইসলামের রাজনীতিতে অমুসলিম ভাই-বোনদের জন্য অনেক সুবিধার বিধান আছে যা একজন মুসলমানও পাবে না। কিন্তু উনারা ইসলামের ভালো দিকের কথা কম বলে, কঠোর দিকের কথা বেশী বলে মানুষের মাঝে শুধু ভীতি সৃষ্টি করছেন। এই রাজনৈতিক বিধানে ভোট থেকে শুরু করে ট্যাক্স পর্যন্ত রাষ্ট্রপরিচালনার সব আইন ইসলাম দিয়ে দিয়েছে - উনারা কি তা জানেন বা প্রচার করেন?
যা-ই হোক, একজন বাংলাদেশী মুসলমান হিসেবে তাদের ১৩ দফার প্রতি এই আমার মত।
০৯ ই এপ্রিল, ২০১৩ রাত ১১:৫১
আল মাসুদ বলেছেন: আপনার সাথে একমত যে ওনারা অমুসলিমদের অধিকারের কথাটা বলতে পারতেন। তবে পরে অনেক টকশোতে বলেছেনতো। আর ওনারাতো রাজনীতির এত মারপ্যাচ বোঝে না। আস্তে আস্তে বুঝলে ঠিক হয়ে যাবে।
৪|
০৮ ই এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ৮:৪৮
প্যারাসিটামল বলেছেন: খুবই সুন্দর লিখা। আর এই বাম রামরাই মুসলমানদের মধ্যে ক্যাচাল লাগিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে তারা কোনদিন সফল হবেনা ইনশাআল্লাহ।
০৯ ই এপ্রিল, ২০১৩ রাত ১১:৫২
আল মাসুদ বলেছেন: ধন্যবাদ। আমীন....................
৫|
০৮ ই এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ৮:৫৮
করোনী বলেছেন: যে যুদ্ধ এই জালিম শাসক শ্রেণী শুরু করেছে তার সম্ভাব্য পরিণতি কী হতে পারে এর খানিক আভাস মাত্র তারা দিয়ে গেল।
০৯ ই এপ্রিল, ২০১৩ রাত ১১:৫৪
আল মাসুদ বলেছেন: ঠিক.......
৬|
০৮ ই এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ৯:৪৫
সুইট টর্চার বলেছেন: ভাল লেখা পড়ে ভাল লাগল।
০৯ ই এপ্রিল, ২০১৩ রাত ১১:৫৪
আল মাসুদ বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে
৭|
০৮ ই এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ১০:৪৯
যুক্তিপ্রাজ্ঞ বলেছেন: জনতার অংশগ্রহণ অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্ত ছিল. শাহবাগী ও তাদের রক্ষকদের বাধা দানের মধ্য দিয়ে আপামর জনসাধারণের কাছে বিরূপ বার্তা গিয়েছে. এতকিছুর পর মানুষের ঢল দেখে শাহবাগীদের কলিজার পানি শুকিয়ে গিয়েছে, তারা প্রলাপ বকতে শুরু করেছে ...অবশ্য এই প্রলাপে রয়েছে বিনোদনের বিশুদ্ধ উপকরণ.
০৯ ই এপ্রিল, ২০১৩ রাত ১১:৫৬
আল মাসুদ বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে
©somewhere in net ltd.
১|
০৮ ই এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ৭:৫৬
নয়ামুখ বলেছেন: ++++++++++++++++++++্