| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নজরুলের অসুখের বিষয়টা সবসময়ই আমার কাছে ছিল বেশ ধোঁয়াশা। তবে, যত আর্টিকেল পরেছি, দেখেছি; এই বিষয়টা সবখানেই এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। কিংবা দায়সারা বাভে এক লাইনেই শেষ করে দেওয়া হয়েছে। গতকাল মোস্তফা জামান আব্বাসীর একটা সাক্ষাৎকারে বলতে গেলে নতুন তথ্য পেলাম।
__________________________
সঙ্গীতব্যক্তিত্ব মোস্তফা জামান আব্বাসী আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসুস্খতা সম্পর্কে বলেছেন, কোনো অসুস্খতা নয়, তার ঘাড়ে একদল দুর্বৃত্তের আঘাতের পরই তিনি বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন। এ বিষয়ে দেশ-বিদেশের ১৫ জন ডাক্তারের রিপোর্টও তার (আব্বাসী) কাছে আছে। আসন্ন নজরুলজয়ন্তী উপলক্ষে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন জি এ এম আশেক উল্লাহ
নজরুলের বিদ্রোহী কবিতা ও আজকের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বলুন যে শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে নজরুল কলম ধরেছিলেন সেই শোষণ-নির্যাতন এখনো থামেনি। এখনো চলছে ভয় দেখিয়ে শাসন, জয় দেখিয়ে নয়। উৎপীড়িতের ক্রন্দনরোল এখনো থামেনি। এখনো বঞ্চিতরা বঞ্চিতই থেকে গেছেন। একটি স্বাধীন দেশে হাজার হাজার মানুষ জেলে বন্দী। বিচার হচ্ছে না। জেলের মধ্যে তারা কী খায়, কিভাবে থাকে, তা কি আমরা একবার ভেবে দেখেছি? পৃথিবীর ৭০টি দেশে আমি ঘুরেছি। আমার কাছে পরিসংখ্যান আছে, কোনো দেশে এত মানুষ জেলে নেই। তাহলে কিসের আমাদের অর্জন? চোর- ডাকাত সত্যিকারের অপরাধীদের জেলে রাখতে হবে। কিন্তু এত মানুষ কি চোর-ডাকাত? তাই আমরা যদি এখনো বলি লাথি মার ভাঙরে তালা... তখন ওদের বুকে কম্পন ধরে, যারা তাদের অন্যায়ভাবে জেলে পুরে রেখেছে। সুতরাং আমাদের এখনো নজরুলের কাছে ফিরে যেতে হবে।
নজরুল বাংলাদেশের জাতীয় কবি কিভাবে হলেন ও কেউ কেউ এখন নজরুলকে জাতীয় কবি হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি জানাচ্ছে...
এর কোনো সাংবিধানিক স্বীকৃতি আছে বলে আমার জানা নেই। কিন্তু বড় বড় নেতার মুখেই আমরা শুনেছি তিনি আমাদের জাতীয় কবি। তা শেখ মুজিব থেকেই শুরু হয়েছিল। তিনিও বলেছিলেন আমাদের জাতীয় কবি নজরুল। তবে আসল স্বীকৃতি হচ্ছে আমাদের জনগণ তথা ১৫ কোটি মানুষই স্বীকৃতি দেয়, আমাদের জাতীয় কবি নজরুল। সুতরাং তিনি জনগণ কর্তৃক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত আমাদের জাতীয় কবি।
নজরুল বাংলাদেশে কিভাবে এলেন...
সুস্খ থাকাকালে তিনি বাংলাদেশে বহুবার এসেছেন। বাংলাদেশে বসে তিনি বহু কবিতা-গান লিখেছেন। তিনি চট্টগ্রামেও গেছেন অনেকবার। সেখানে একবার ইয়ং মুসলিম সোসাইটি নামে একটি সংগঠনের সংবর্ধনার জবাবে নজরুল বলেন, রবীন্দ্রনাথ যে রকম বিশ্বভারতী গড়ে তুলেছেন, সে রকম আপনারাও ইসলামের ধ্যান-ধারণা ও সভ্যতা নিয়ে চিটাগাংয়ে একটা অরগানাইজেশন গড়ে তোলেন, যেখানে আমরা আমাদের মতো করে ছেলেমেয়েদের মানুষ করতে পারব।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে বঙ্গবìধু শেখ মুজিবুর রহমান পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুমতি নিয়ে তাকে ফ্যামিলিসহ ঢাকায় নিয়ে আসেন ও ঢাকায় আসার পর তিনি আর ফিরে যাননি। কারণ ঢাকায় এসে কবি যেভাবে প্রতিদিন মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন, প্রতিদিন হাজার হাজার লোক তাকে দেখতে যাচ্ছে, সুন্দরভাবে তিনি ট্রিটমেন্টও পাচ্ছেন, তাই কলকাতার সেই দুই কক্ষের বাসায় ফিরে যাওয়া তার স্বজনরা সমীচীন মনে করেননি। পরে পশ্চিমবঙ্গ সরকারও রাজি হয়ে গেল। এভাবে তার বাংলাদেশে আসা ও থেকে যাওয়া। এই কৃতিত্বটা নিশ্চয়ই বঙ্গবìধুকে দিতে হবে।
জনগণের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কবি এখন অবহেলার শিকার : এখন নয়, তিনি বরাবরই অবহেলার শিকার। তার গান, কবিতা প্রভৃতি নিয়ে যে রকম গবেষণা দরকার তা হয়নি। নতুন প্রজন্মের কাছে তাকে যেভাবে তুলে ধরা দরকার তার কোনো উদ্যোগ নেই। নজরুল যে বঞ্চিতের কবি, সর্বহারার কবি, মানবতার কবি, তিনি যে একটা নতুন জীবন নিয়ে এসেছিলেন, সব লাঞ্ছিত মানুষকে ওপরে নিয়ে আসার জন্য তার যে আলাদা বক্তব্য ছিল তা আমরা মানুষের সামনে প্রকাশ করি না। কারণ প্রকাশ করলে তো অন্যের জারিজুরি ফাঁস হয়ে যাবে।
আমি মনে করি নজরুলকে যেভাবে প্রজেক্ট করলে জাতি উপকৃত হতো সেভাবে আমরা এখনো করতে পারিনি। যদি পারতাম তা হলে আমরাই উপকৃত হতাম।
কিন্তু নজরুল একাডেমী অথবা নজরুল ইনস্টিটিউট কী করছে : নজরুল একাডেমী বহুদিন ধরে কাজ করে আসছে। এটা একটা স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান। এটাতেই পাকিস্তান গভর্নমেন্ট মোটামুটি সাহায্য-সহযোগিতা করত। কবি তালিম হোসেন ছিলেন সেটার সম্পাদক। তিনি যখন চলে গেলেন তখন সহযোগিতা ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয়া হলো। বঙ্গবìধুকে যখন রিকোয়েস্ট করা হলো নজরুল একাডেমীতে একটা বড় অনুষ্ঠান হচ্ছে আপনি যাবেন কি না। তখন ইউসুফ আলী ছিলেন এডুকেশন মিনিস্টার। তিনি বঙ্গবìধুকে বললেন, ওখানে যাবেন না ওটা প্রতিক্রিয়াশীলদের প্রতিষ্ঠান। রবীন্দ্রনাথবিরোধী প্রতিষ্ঠান। প্রেসিডেন্ট হাউজের প্রায় সবাই বললেন, নজরুল একাডেমী হচ্ছে রবীন্দ্রনাথবিরোধীদের আড্ডা। ওখানে যাওয়া ঠিক হবে না।
ভাবে প্রথম থেকেই তারা নজরুলকে রবীন্দ্রনাথের বিরোধী পক্ষ হিসেবে দাঁড় করাতে চেষ্টা করল। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল, তারা যে মানবতার বìধু ছিলেন তারা তা জানে না।
পাকিস্তান আমলেও বলা হতো রবীন্দ্রনাথ কিছু নয়, নজরুলই সব। কিন্তু তাও তো সত্যি নয়। নজরুল-রবীন্দ্রনাথ দু’জনই বাঙালির জন্য অপরিহার্য। কেউ কারো প্রতিপক্ষ নন। আমি মনে করি, বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতির মূল হচ্ছেন দুই ব্যক্তি, একজন রবীন্দ্রনাথ অন্যজন নজরুল। রবীন্দ্রনাথ যে রকম বড় তেমনি নজরুলও বড়। আলাদা শুধু এখানেই নজরুল আমাদের জাতিসত্তার সাথে সম্পর্কিত। তিনি যেহেতু আমাদের নবীকে চেনেন, নজরুল যেহেতু আমাদের কুরআনকে চেনেন, কুরআন ও রাসূল সা:, এ হচ্ছে মুসলমানদের প্রধান উপজীব্য। যদি এ দুটোকে বাদ দেয়া হয় তাহলে বাঙালি মুসলমানদের চেনা যাবে না। আমরা হলাম মুসলমান। বাংলাদেশে ৯০ ভাগ মানুষ যেহেতু মুসলমান সেহেতু তাদের জন্য এমন একজন কবি প্রয়োজন, যে কবি আল্লাহকে চেনেন রাসূলকে চেনেন। অবশ্য নজরুল অন্য ধর্মকেও সম্মান দেখিয়েছেন এবং নজরুলের গান-কাব্য হিন্দু-মুসলমানের যৌথ সংস্কৃতির ফসল এটাকেও অস্বীকার করা যাবে না। নজরুল সব মিলিয়ে একটা যৌথ সুন্দর মনোরম পরিবেশ সৃষ্টিকারী, ভালোবাসার উপাদান সৃষ্টিকারী সংস্কৃতির উপাদানে প্রস্তুত একটা জাতি চেয়েছিলেন। সে জন্য আমি মনে করি নজরুলকে জাতীয় কবি বললেই শেষ হয়ে গেল না। রাসূল সা: সম্পর্কে নজরুলের যে জ্ঞান, তিনি কাব্যে আমপারা লিখেছেন। আর কোনো কবি কি কাব্যে আমপারা লিখতে পেরেছেন? তিনি মরুভাস্বর নামে আল্লাহর রাসূল সা:-এর জীবনী লেখা শুরু করেছিলেন। কিন্তু শেষ করতে পারেননি।
তিনি কি অসুস্খতার কারণে নির্বাক হয়েছিলেন না অন্য কিছু ? : না। অসুস্খতার কারণে তিনি নির্বাক হয়ে যাননি। আঘাতের কারণে তিনি নির্বাক হন। ৯ জুলাই ১৯৪২ সালে কতগুলো লোক পেছন দিক থেকে তাকে (ঘাড়ে) আঘাত করলো কলকাতা রেডিও অফিসের সামনে । কতগুলো হিংসুটে উন্মত্ত লোক তাকে আঘাত করেছিল। সেই আঘাতের পর তিনি আস্তে আস্তে নির্বাক হয়ে যান। আরো এক বছর তিনি মোটামুটি কথা বলতে পারতেন কিন্তু ১৯৪২ সালের পর থেকে তিনি পুরোপুরি নির্বাক হয়ে যান। আর লেখা হয়নি মরুভাস্বর। এই যে ব্যাপারটা, এটা তো কেউ জানে না। তিনি কিভাবে নির্বাক হয়ে গেলেন, তাকে কিভাবে আঘাত করা হলো, কিভাবে তার ওপর শত্রুতা করা হলো ও কী কারণে তার ওপর হিংসামূলক আচরণ করা হলো এই কথাটি পর্যন্ত আমাদের ভালোভাবে জানানো হয়নি।
কারা নজরুলকে আঘাত করে? : নজরুলকে আঘাত করা হয়েছে এটা নিয়ে গবেষণা হয়নি। তবে আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, সুফি জুলফিকার হায়দার ছিলেন নজরুলের একজন শেষ বিকেলের বìধু। অবশ্য তিনি ও নজরুল একই সালে অর্থাৎ ১৮৯৯ সালে জন্মগ্রহণ করেছেন, দু’জনই যুদ্ধে গিয়েছিলেন। তিনি ছাড়াও নজরুলের শেষ তিন-চার বছরে যারা তার দেখভাল করেছিলেন কাশেম মল্লিক, মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন এবং আমার পিতা আব্বাস উদ্দীন। এই চারজন ছিলেন মুসলমানদের মধ্যে নজরুলের একেবারে কাছের মানুষ। খুব কাছ থেকে তারা নজরুলকে প্রত্যক্ষ করেছেন। তাদের জবানিতে ও তাদের লেখা থেকে আমরা জানতে পেরেছি ১৯৪২ সালের ৯ জুলাই তারা কলকাতার রেডিও অফিস থেকে যখন বের হন, তখন তাকে ঘাড়ে, যা কণ্ঠনালী বরাবর পেছন দিকে, লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয় এবং আঘাতের সাথে সাথে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এই ঘটনা আমি আমার প্রকাশিতব্য বইয়ে লিখেছি। তবে দুর্বৃত্তদের নাম পরিচয় জানা যায়নি। এটাকে আমি বলব না যে হিন্দু-মুসলমান হিংসাত্মক ঘটনা। তবে একটি শক্তিশালী হিংসুটে গোষ্ঠী যারা চেয়েছিল নজরুল আর না লিখুক, অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার কলম থেমে যাক, তারাই পরিকল্পিতভাবে ওই হামলা করে। ওই সময় নজরুল ছিলেন সঙ্গীত প্রযোজক। তিনি তিন-চার বছর ধরে যাদের সুযোগ দিতেন তার হচ্ছে আঙ্গুরবালা, কমলা জইয়া, হরিমতি, আশ্চর্যময়ী তারা ছিলেন মিউজিক ক্লাসের লোক অর্থাৎ যারা গান গায়, প্রফেশনাল সিঙ্গার। যারা সুযোগ পায়নি তাদের আক্রোশের শিকার হন নজরুল। শুধু তাই নয়, তিনি যখন হুগলি কারাগারে বন্দী ছিলেন তখন তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে দুটো বিষধর সাপ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে যান।
৭ আগস্ট ১৯৪১, ২২ শ্রাবণ তখন রবীন্দ্রনাথের তিরোধান হলো, এরপরই নজরুল যেন একেবারে দিশেহারা হয়ে পড়েন। কারণ রবীন্দ্রনাথই একমাত্র ব্যক্তি যিনি নজরুলকে সব সময় প্রটেকশন দিতেন। কারণ মুসলমান সমাজ নজরুলকে কাফের ফতোয়া দিয়েছিল ও হিন্দু সমাজ বলত যে সে মুসলমান, তার কাছে যাওয়া যাবে না। প্রকৃতপক্ষে তিনটি সোর্স ছিল যারা নজরুলকে কাছেও টেনেছে, দূরেও ঠেলেছে। একটা হলো হিন্দু সমাজ, তারা তাকে ভালোবাসত। কল্লোল গোষ্ঠী তাকে আশ্রয় দিয়েছিল। আর মুসলমান সমাজ তাকে কাফের ফতোয়া দিয়েছিল, আবার তাকে ভালোও বেসেছিল।
নজরুলকে হিন্দুরাও ভালোবাসতো মুসলমানরাও ভালোবাসতো। কিন্তু একটা কুচক্রী মহল যারা তাকে হিংসা করত তারাই তাকে আঘাত করেছিল। ওই মহল চায়নি নজরুল আরো লিখুক, আরো বড় হোক।
দেশ-বিদেশের ১৫ জন ডাক্তারের রিপোর্ট আমার কাছে আছে, যারা বলেছেন, আঘাতের কারণে নজরুল বাকরুদ্ধ হয়ে যান।
এটা নিয়ে কেন এখন আপনারা বলেন না বা প্রতিবাদ করেন না : আমি এখন এত দিন পর এটাকে হাইলাইট করতে চাচ্ছি না। এতে কী লাভ হবে। এটা তো হয়েই গেছে। আর কিছু করা যাবে না। দুর্বৃত্তদের বের করা যাবে না যে কারা তাকে আঘাত করেছিল। কিন্তু কাশেম মল্লিক তো মিথ্যা কথা বলবেন না, সুফী জুলফিকার হায়দার তো মিথ্যে বলবেন না ও খান মোহাম্মদ মঈন উদ্দিনের বই বেরিয়ে গেছে এবং এই বইতে লেখা আছে সেই আঘাতের কথা।
বীন্দ্রনাথ এবং নজরুলের মধ্যে কেমন সম্পর্ক ছিল : নজরুলকে রবীন্দ্রনাথ অত্যন্ত ভালোবাসতেন এবং নজরুলও রবীন্দ্রনাথকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন। ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট যখন রবীন্দ্রনাথ মারা গেলেন তখন সবচেয়ে কেঁদেছিলেন কে, তার নাম নজরুল ইসলাম।
ঘুমাইতে দাও শান্ত রবিরে/ জাগাইও না, জাগাইও না ... এই গান নজরুলই লিখেছেন। বাংলাদেশের লোক রবীন্দ্রনাথকে ভালোবাসবে। এটা সত্যি। উনিও আল্লাহ বিশ্বাস করতেন। উনি ব্রাহ্ম ছিলেন। তবে তার কাব্যের মধ্যে ভারতীয় জাতীয়তাবাদ, হিন্দু জাতীয়তাবাদের প্রশ্রয় দেখতে পাই। এটা তো স্বাভাবিক। উনি তো একজন ইনডিয়ান ছিলেন। আমরা জানি রবীন্দ্রনাথ শুধু শিবাজী উৎসবের কবি নন, তিনি তাজমহলেরও কবি। তিনি শাহজাহান কবিতাও লিখেছেন।
বাংলাদেশ-ভারত সাংস্কৃতিক চুক্তি সম্পর্কে কিছু বলুন : সাংস্কৃতিক চুক্তি হয়েছে বলে আমরা কাগজে পড়েছি। কিন্তু ওটার কোনো ডকুমেন্টস আমাদের হাতে নেই। আমরা তো অভাজন ব্যক্তি। ওখানে কী লেখা আছে জানি না। তবে এক বছর ধরে জন্মদিন হয়? ৩৬৫ দিন ধরে জন্মদিনের উৎসব হয় এটা আমি জীবনে প্রথম জানলাম। অবশ্য হলেও ক্ষতি নেই।
____________________________
লিঙ্কঃ
২|
২৫ শে মে, ২০১১ রাত ৩:২১
কামরুল হাসান শািহ বলেছেন: শেয়ারের জন্য ধন্যবাদ
৩|
২৫ শে মে, ২০১১ রাত ৩:৪৬
যে আছো অন্তরে বলেছেন: নতুন ইনফো জানানোর জন্য ধইন্যা
৪|
২৫ শে মে, ২০১১ ভোর ৪:২২
েশখসাদী বলেছেন:
..........নজরুলের কবিতা যদি মাঝে মাঝে ব্লগে পোষ্ট করতেন , তাহলে ভালো লাগত ।
৫|
২৬ শে মে, ২০১১ রাত ১১:৫২
অ্যামাটার বলেছেন: কি ব্যাপার? আমি গত পরশু দিন দেখলাম ৭-৮টা মন্তব্য ছিল। এখন ৪টা! বাকি ২-৩জনের মন্তব্য কোথায় গেল? আমি তো মুছিনি!!
৬|
২৭ শে মে, ২০১১ রাত ১২:৩৩
শেষ চিঠি বলেছেন: ভাইজান..কমেন্ট চুরি হয়ে গেছে..![]()
২৭ শে মে, ২০১১ ভোর ৪:৩৮
অ্যামাটার বলেছেন: কে চুরি করল? যা হোক।
৭|
২৭ শে মে, ২০১১ রাত ১২:৪৩
শেষ চিঠি বলেছেন: ভাইজান..কমেন্ট চুরি হয়ে গেছে..![]()
৮|
২৭ শে মে, ২০১১ রাত ১২:৫০
শেষ চিঠি বলেছেন: ভাইজান..কমেন্ট চুরি হয়ে গেছে..![]()
৯|
১৯ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ৮:৫০
আইরিন সুলতানা বলেছেন: কোনো অসুস্খতা নয়, তার ঘাড়ে একদল দুর্বৃত্তের আঘাতের পরই তিনি বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
--------------------------------------------
আমি বেশ ছোটবেলা থেকেই একটা কথা শুনে এসেছি নজরুলের বাকরুদ্ধতা নিয়ে , তা হলে কেউ কৌশলে নজরুলের ক্ষতিসাধনে কিছু খাইয়েছিল। ফলে নজরুল বাকশক্তি হারান। কারণ হিসেবে শুনেছিলাম, নজরুলের কড়া অসাম্প্রদায়িক মনোভাবের কথা, যা একই সাথে হিন্দু ও মুসলিমকে বিরাগভাজন করেছিল।
মাথায় আঘাত পাওয়ার বিষয়টি কিংবা আমার শোনা কিছু খাইয়ে দেয়ার ধারনাটি অবশ্য অন্য কোথাও পড়িনি ইতিপূর্বে।
পোস্টে উল্লেখিত খান মোহাম্মদ মঈন উদ্দিনের বইটি এখনো পড়া হয়নি।
ইউকিপিডিয়াতে আছে,
নবযুগে সাংবাদিকতার পাশাপাশি নজরুল বেতারে কাজ করছিলেন। এমন সময়ই অর্থাৎ ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েস। এতে তিনি বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন। তার অসুস্থতা সম্বন্ধে সুষ্পষ্টরুপে জানা যায় ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে। এরপর তাকে মূলত হোমিওপ্যাথি এবং আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা করানো হয়। কিন্তু এতে তার অবস্থার তেমন কোন উন্নতি হয়নি। সেই সময় তাকে ইউরোপে পাঠানো সম্ভব হলে নিউরো সার্জারি করা হত। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে তা সম্ভব হয়ে উঠেনি। ১৯৪২ সালের শেষের দিকে তিনি মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলেন।
এই স্নায়ুবিক রোগটিকে পিকস বলা হয়েছে।
রোগের কারণটা পোস্টের সাক্ষাৎকারে বর্ণিত দুর্ঘটনাটি হতে পারে।
১৯৪২ সন দেখে মনে হচ্ছে কেবল সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে নজরুলের অসাম্প্রদায়িকতাই কারণ নয়, ওই সময় তো ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে নজরুলের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। জেল খেটেছেন, তাই বিভিন্ন গ্রন্থ একের পর এক নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। ব্রিটিশ ফেউদের নজরও নিশ্চয়ই ছিল তাঁর উপর...।
১০|
১৯ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ৮:৫৯
আইরিন সুলতানা বলেছেন: বীন্দ্রনাথ এবং নজরুলের মধ্যে কেমন সম্পর্ক ছিল : নজরুলকে রবীন্দ্রনাথ অত্যন্ত ভালোবাসতেন এবং নজরুলও রবীন্দ্রনাথকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন। ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট যখন রবীন্দ্রনাথ মারা গেলেন তখন সবচেয়ে কেঁদেছিলেন কে, তার নাম নজরুল ইসলাম।
ঘুমাইতে দাও শান্ত রবিরে/ জাগাইও না, জাগাইও না ... এই গান নজরুলই লিখেছেন।
-------------------------
এঁদের দু;জনের মধ্যে সম্পর্ক গভীর ছিল বলেই মনে হয়। রবীন্দ্রনাথের নোবেল জয়ের পর কাজী নজরুল ইসলাম শান্তি নিকেতনে দেখা করতে চান রবি ঠাকুরের সাথে।
নজরুল যখন কারাবন্দী ছিলেন, রবি ঠাকুর সেসময় উৎকণ্ঠিত হয়ে নজরুলের খোঁজ করতেন। কারাবাসে নজরুলের অনশনে চিন্তিত রবীন্দ্রনাথ চিঠিপত্রও লিখেছিলেন।
রবিঠাকুরের মৃত্যুর সময় নজরুল উদভ্রান্তই হয়েছিলেন, মানসিক দিক থেকে। এই সময় তার লেখা ’রবি হারা কবি’ কবিতাটি।
নজরুলের স্বকণ্ঠে আবৃত্তি এখানে -
(লিংক: ইউটিউব )
১১|
১৯ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ৯:০৫
আইরিন সুলতানা বলেছেন: জনগণের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কবি এখন অবহেলার শিকার : এখন নয়, তিনি বরাবরই অবহেলার শিকার। তার গান, কবিতা প্রভৃতি নিয়ে যে রকম গবেষণা দরকার তা হয়নি। নতুন প্রজন্মের কাছে তাকে যেভাবে তুলে ধরা দরকার তার কোনো উদ্যোগ নেই।
-----------------------------------
একমত ।
ক’দিন আগে নজরুলকে নিয়ে কিছু লেখার ধৃষ্টতা করেছিলাম -
সেই এক স্ফুলিঙ্গের নাম নজরুল
ওখানে বলেছিলাম,
শব্দ ব্যবহারের ভিন্নতা, ক্ষুরধার তীক্ষ্ণতা নজরুলের অনেক রচনাকে বহুবারই উপেক্ষিত করেছে, আবার একই কারণে প্রত্যাশিতও করেছে। বিদ্রোহী কবির ‘বিদ্রোহী’ কবিতা আমরা হয়ত কণ্ঠস্থ করে নেই, কিন্তু তাঁর প্রতিটা দ্রোহের ইতিহাসকে কতটুকু আত্মস্থ করতে পেরেছি আমরা? নজরুল কী কেবল বিশেষ দিনে আমাদের কাছে স্মরণীয় হয়ে উঠছে না? প্রাত্যহিক জীবনে নজরুলকে কতটা আর কিভাবে ধারণ করি আমরা? কণ্ঠে সুরের কারুকাজ ঢেলে দিতে পারি হয়ত, কিন্তু কতটুকু লালন করতে পারি নজরুলের বাণীকে? আজকের যুগের সাথে নজরুলের সৃষ্টির কোথায় একটা দূরত্ব আছে।....
...ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা জেনে আশা করছিলাম, এ বিদ্যাপিঠ নিশ্চয়ই নজরুলের সাহিত্য চর্চায় একটি বিশাল ভূমিকা রাখতে পারবে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইট ঘেঁটে এর বিভিন্ন অনুষদ সম্পর্কে প্রাথমিক ভাবে জেনে হতাশ হলাম। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৪টি প্রধান অনুষদে রয়েছে- বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, ব্যবসা-প্রশাসন, সামাজিক বিজ্ঞান ও কলা। কলা বিভাগে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য, সঙ্গীত, নাট্যকলা রয়েছে। কবির নামে গড়ে ওঠা এই বিশ্ববিদ্যালয় কেবলই সাহিত্য-সংস্কৃতি-কলা-দর্শন নিয়ে পাঠ-চর্চা ও গবেষণার নিবেদিত কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারতো। একটি বৃহত্তর ও দূর্লভ সংগ্রহের সাহিত্য পাঠাগার গড়ে উঠতে পারতো এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাতে ক্রমাগত গড়ে উঠবে নজরুলের ৪০০০ সৃষ্টিকে ধারণ করার মত একটি সাহিত্যানুরাগী প্রজন্ম। আমাদের দেশে শান্তি নিকেতন না থাক একটি সাহিত্য নিকেতন তো হতে পারে।
১২|
২৬ শে জুলাই, ২০১১ বিকাল ৫:৪৬
রোডায়া বলেছেন: প্রিয়তে৷
১৩|
২৫ শে আগস্ট, ২০১১ সকাল ১০:০৯
শ. ম. দীদার বলেছেন: ভাই খুব ভালো কিছু তথ্য পেলাম। উপকৃত হলাম। ভালো লাগলো। সকালটা একটা ভালো লেখা পড়ে শুরু হল। ধন্যবাদ।
১৪|
০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১১ সকাল ১০:৪০
কানা বাবা বলেছেন:
নিউরোসিফিলিসের ব্যাপার্টা মাইনা নিতে অনেকেরি আপত্তি থাকোনের কতা, আমারো আচে; হাজার হৈলেও এ্যাক্টা মোচল্মান দ্যাশের জাতীয় কবি বৈলা কথা!
১৫|
২৯ শে ডিসেম্বর, ২০১১ দুপুর ১:০৪
নাজনীন১ বলেছেন: নজরুলের বাকশক্তি হারানোর পিছনে ষড়যন্ত্র ছিল এটা আমিও শুনেছি ছোটবেলায়। ভাল তথ্যপূর্ণ একটা পোস্ট!
১৬|
৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৩:৫৪
সীমানা পেরিয়ে বলেছেন: এখান থেকে] নজরুলের এটা একটি চিঠির রেফারেন্স পেলাম। অসুস্থ অবস্থায় নজরুল তার এক বন্ধুকে লিখেছিলেন জুলাই ১৭, ১৯৪২ তে....
"...আমি উচ্চ রক্তচাপে অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছি। অনেক কষ্ট করে লিখছি। আমার বাসা এখন পরিপূর্ণ হয়ে আছে দুঃচিন্তা, দায় আর পাওনাদারদের আনাগোনায়। দিন-রাত ২৪ ঘন্টাই আমি যুদ্ধ করে চলেছি।
....আমার স্নায়ূ মনে হচ্ছে ভেঙ্গেচুরে যাচ্ছে। গত ৬ মাসই প্রায় প্রতিদিনই আমি হক সাহেবের (শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, তখন কার অভিবক্ত বাংলার মুখ্য মন্ত্রী) কাছে ৫/৬ ঘন্টা করে সময় কাটিয়েছি প্রায় ভিক্ষুকের মতো, একটু সাহায্যের আশায়......কিন্তু আমার রোগের উন্নত চিকিৎসার কোন নিশ্চয়তা পাই নি।
হয়তো এটাই আমার শেষ চিঠি। অনেক কষ্টে আমি সামান্য কিছু শব্দ উচ্চারন করতে পারি। আমার সারা শরীরেই প্রচন্ড ব্যাথা। .....হয়তো আমি কবি ফেরদৌসীর মতো আমার জানাজার দিনে সাহায্য পাবো।
আমি আমার আত্মীয়দের বলে দিয়েছি তখন সে সাহায্য ফিরিয়ে দিতে।
তোমার,
নজরুল।
************************************
Nazrul write these to his friend Zulfikar Haider on July 17, 1942 :
"...I am bed-ridden due to blood pressure. I am writing with great difficulty. My home is filled with worries: illness, debt, creditors; day and night I am struggling.
...My nerves are shattered. For the last six months, I used to visit Mr. Haque (A. K. Fazlul Haque, the then Chief Minister of undivided Bengal) daily and spend 5-6 hours like a beggar…I am unable to have quality medical help…
This might be my last letter to you. With only great difficulty, I can utter a few words. I am in pain almost all over my body. I might get money like the poet Firdausi on the day of the funeral prayer (janajar namaz).
However, I have asked my relatives to refuse that money.
Yours,
Nazrul
**********************************
Source: Dr. Sushilkumar Gupta, Nazrul Choritmanosh (Calcutta: De's Publishing, 1960), p. 106
১৭|
৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৩:৫৬
সীমানা পেরিয়ে বলেছেন:
নজরুলের এটা একটি চিঠির রেফারেন্স পেলাম। অসুস্থ অবস্থায় নজরুল তার এক বন্ধুকে লিখেছিলেন জুলাই ১৭, ১৯৪২ তে....
"...আমি উচ্চ রক্তচাপে অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছি। অনেক কষ্ট করে লিখছি। আমার বাসা এখন পরিপূর্ণ হয়ে আছে দুঃচিন্তা, দায় আর পাওনাদারদের আনাগোনায়। দিন-রাত ২৪ ঘন্টাই আমি যুদ্ধ করে চলেছি।
....আমার স্নায়ূ মনে হচ্ছে ভেঙ্গেচুরে যাচ্ছে। গত ৬ মাসই প্রায় প্রতিদিনই আমি হক সাহেবের (শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, তখন কার অভিবক্ত বাংলার মুখ্য মন্ত্রী) কাছে ৫/৬ ঘন্টা করে সময় কাটিয়েছি প্রায় ভিক্ষুকের মতো, একটু সাহায্যের আশায়......কিন্তু আমার রোগের উন্নত চিকিৎসার কোন নিশ্চয়তা পাই নি।
হয়তো এটাই আমার শেষ চিঠি। অনেক কষ্টে আমি সামান্য কিছু শব্দ উচ্চারন করতে পারি। আমার সারা শরীরেই প্রচন্ড ব্যাথা। .....হয়তো আমি কবি ফেরদৌসীর মতো আমার জানাজার দিনে সাহায্য পাবো।
আমি আমার আত্মীয়দের বলে দিয়েছি তখন সে সাহায্য ফিরিয়ে দিতে।
তোমার,
নজরুল।
************************************
Nazrul write these to his friend Zulfikar Haider on July 17, 1942 :
"...I am bed-ridden due to blood pressure. I am writing with great difficulty. My home is filled with worries: illness, debt, creditors; day and night I am struggling.
...My nerves are shattered. For the last six months, I used to visit Mr. Haque (A. K. Fazlul Haque, the then Chief Minister of undivided Bengal) daily and spend 5-6 hours like a beggar…I am unable to have quality medical help…
This might be my last letter to you. With only great difficulty, I can utter a few words. I am in pain almost all over my body. I might get money like the poet Firdausi on the day of the funeral prayer (janajar namaz).
However, I have asked my relatives to refuse that money.
Yours,
Nazrul
**********************************
Source: Dr. Sushilkumar Gupta, Nazrul Choritmanosh (Calcutta: De's Publishing, 1960), p. 106]
From: http://aparnaonline.com/nazrul.html
©somewhere in net ltd.
১|
২৫ শে মে, ২০১১ রাত ২:৫৪
লালু কসাই বলেছেন: আমাদের কবি। বলতেই ভাল লাগে।
ধন্যবাদ শেয়ারের জন্য।