| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে সহমত পোষণ করে কিছু কথা।
১। ভ্যাট আইন ১৯৯১ অনুযায়ী ভ্যাট পন্যের উপর সংযোজিত কর যা উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে মুল্যের সাথে যোগ হয়। ভ্যাট এর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সর্বশেষ পর্যায়ের ক্রেতা মানে যিনি ভোক্তা তিনি সম্পূর্ণ ভ্যাট বহন করেন এবং বিক্রেতা তা শুধু স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের নিকট পৌঁছে দেয়। তাহলে দাঁড়ালো এই শিক্ষা একটি ভোগ্য পন্য যা শিক্ষার্থী নামক ভোক্তা ভোগ করে যার দরুন তাকে ভ্যাট দিতে হবে যা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান “বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়” সরকারকে পৌঁছে দেবে। এদিকে “বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০” অনুযায়ী এগুলি লাভজনক প্রতিষ্ঠান নয় যার কারনে এদের উপর “আয়কর কিংবা ইনকাম ট্যাক্স” বসানো যাবেনা। আবার বেশীরভাগ প্রাইভেটের মালিকরা রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব আদতে নিজেদের লোক। তাই প্রকারান্তরে শিক্ষাকে পন্য রুপে আর ছাত্রদের ভোক্তারুপে সরকার আয়ের পায়তারা করেছে। ইনকাম ঠিকই হল নিজেদের মানুষদের লস ও হল না। সাপ ও মরলো লাঠি ও ভাঙলো না। এহেন অন্যায় আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আন্দোলনের সাথে আমি সম্পূর্ণরুপে একাত্বতা পোষণ করছি।
শিক্ষাকে বানিজ্যিকরন করে আয়ের এই ধান্ধার পেছনে মূল হোতা বিশ্বব্যাংক। ২০ বছর মেয়াদি শিক্ষা সংক্রান্ত কৌশলপত্রের একটি অংশ এটা। এই কৌশলে শিক্ষাখাতে সরকারী বরাদ্দ কমিয়ে একে লাভজনক ব্যাবসায়ে রুপান্তর করার টার্গেট করা হয়েছে। প্রাইভেট দিয়ে শুরু। এটা কিন্তু পাবলিকেও আসবে। এ ধরনের ইঙ্গিত আগেও দেয়া হয়েছে। “ইউজিসি” এই কৌশলপত্রের মাধ্যমে অলরেডি বিশ্বব্যাংকের সাথে ৫৬৭ কোটি টাকার ঋণচুক্তি সম্পন্ন ও করে ফেলেছে। এতে করে অনুন্নত দেশগুলোকে সিস্টেমে ধ্বজভঙ্গ করার একটা প্রয়াস চলছে। এর আরেকটি দিক হল ট্রেন্ডি বিষয়গুলোতে জোর দেয়া যেমন বিবিএ, ইংলিশ ইত্যাদি। সাথে ধামাচাপা পড়ে যাবে সাহিত্য, অর্থনীতি, বিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো যেগুলো শিক্ষিত প্রোডাক্ট নয় বরং চিন্তাবিদ গড়ে তোলে ও একটি দেশের উন্নয়নে মূল অবদান রাখে। খালি না চিল্লায়ে এগুলোও সামনে আনতে হবে।
২। মালিক সমিতির কার্যক্রম এবং বক্তব্য প্রসঙ্গে-
বাস্তবতা অনুধাবন করতে খারাপ লাগলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিক সমিতির লোকজনেরা এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ব্যবসায় কেন্দ্রই ভাবেন। খতিয়ে দেখেনতো কয়টা বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছনের মানুষরা রাজনৈতিক পরিচয়হীন? এরা এসেছেই ছাত্রদের মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গে উপার্জনের জন্য। এখনো প্রায় ৩০টির ও বেশী নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন জমে পড়ে আছে প্রায় ৯০ টি থাকার পর ও। যত্র-তত্র (হোটেলের নিচে, মার্কেটের মাঝে, বাজারের উপরে) শিক্ষার সঠিক পরিবেশ ছাড়াই খালি গুটিকয়েক বিষয় দিয়ে খুলে বসছে বিশ্ববিদ্যালয়। ভ্যাট তো দেবে ছাত্ররাই তাদের কি? কিংবা দু-এক বছরের মধ্যেই অযৌক্তিকভাবে টিউশনফি বাড়িয়ে এডজাস্ট করে নেবে যদি তাদেরই দিতে হয় ভ্যাট। তাই তারাও এখন সরকারের সাথে সুর মেলাচ্ছে। এই আন্দোলনে তাদেরও কিছু লাভ আছে। যেমন
--- ভ্যাট বিরোধী আন্দোলনে ব্যাস্ত ছাত্ররা সফলতা পেলে ভুলে যাবে বেশ কিছু অযৌক্তিক ফি এর কথা। যেমন আমার জানামতে “এন-এস-ইউ” তে প্রতি সেমিস্টার উন্নয়ন ফি বাবদ প্রায় ৩-৫ হাজার টাকা নেয়া হয়। প্রশ্ন হল কোথায় উন্নয়ন যেখানে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বসে থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে রাস্তার ফুটপাথে? এই টাকা কই যায়?
আরোপিত ভ্যাট শুধু টিউশন ফি এর উপর কিন্তু “পরিচয়পত্র” হারানোর পর তা নতুন করে বানানোর সময় ও ৭.৫% ভ্যাট আদায় করা হয়েছে যা “ফাও লাভ” (ইস্টওয়েস্ট এই ঘটেছে) । অর্থাৎ এই ভ্যাটের নামে সব খাত থেকেই অনৈতিকভাবে আয় করছে প্রশাসন তথা মালিক সমিতি।
--- ইউজিসি অনেকদিন ধরেই ঘ্যান ঘ্যান করছে অবৈধ ক্যাম্পাস ছেড়ে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে যা ব্যয়বহুল এবং ব্যবসার জন্য ক্ষতিকর ও বটে। শহর ছেড়ে দূরে গিয়ে ক্যাম্পাস বানালে ছাত্র পেতে অসুবিধে হবে যে। সুতরাং এই যন্ত্রণা ও খরচ থেকে ও বাচা গেল আবার ব্যবসা ও ভালোভাবেই চলতে থাকলো। ইউজিসি আসলে নখ-দন্তহীন একটা “বিলাই”( মানে বিড়াল) যার কোনই কাজ নেই। নইলে এতদিনে স্থায়ী ক্যাম্পাস ঠিকই পেতেন আপনারা যদি তারা চাপ দিত।
--- আন্দোলনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি ধামাচাপ পড়ে যাবে অনেকদিনের জন্যই। ব্যাঙের ছাতার মতো হচ্ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। গুটিকয়েক ছাড়া আমেরিকা-বাংলাদেশ, ইবাইস, দারুল-ইহসান, অতিশ দীপঙ্কর, ভিক্টোরিয়া, ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ টাইপের গুলোয় পড়ালেখার মান নির্ধারনের ভার বাকিদের উপর-ই থাকলো। যেহেতু মান সংক্রান্ত কোন নির্দেশিকা নেই সেহেতু ইচ্ছা মতো টিউশন ফি বাড়াও, সার্টিফিকেট ব্যাবসা কর।
৩। আন্দোলন প্রসঙ্গে—
যে কোন আন্দোলনের একটি সঠিক রুপরেখা থাকতে হয় আর তা পরিচালনার জন্য যোগ্য নেতৃত্বের প্রয়োজন হয়। না হয় তা কোন ফল বয়ে আনেনা। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিভিন্নস্থানে ছড়িয়ে থাকায় আমি এই আন্দোলনে অগোছালো ভাবটা বেশ ভালো ভাবে লক্ষ্য করছি। যেমন
--- বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনেই রাস্তা আটকে রাখা। ভালো কাজ, জনদুর্ভোগ না হলে বাঙ্গালির কানে কোন বার্তা যায়না। এখন তারা জানবে কেন হচ্ছে এই আন্দোলন। তবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে এই রোড-ব্লক কোন সুফল দেবেনা। যে কারনে সরকার রা-টিও কাড়ছেনা প্রথম দুদিনের পর। দুদিন পর মানুষ কিন্তু উল্টো বিরুদ্ধে চলে যাবে। প্রায় ৮০টি ভার্সিটি। ৫০০ করে স্টুডেন্ট হলে হয় ৪০০০০ ছাত্র। ২০ হাজার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ব্লক করেন। ১০ হাজার করে যান প্রধানমন্ত্রী আর রাষ্ট্রপতির বাড়ির সামনে ব্লক করতে । গায়ে হাত তুলবে? গ্যাঁট ধরে বসে থাকেন। ইনাদের বাড়ির সামনে হামলা হলে আন্দোলনের ইস্যু আর হামলা মিলিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ হবে। সরকার চাপে পড়বে।
--- জনদুর্ভোগের চিন্তা করে রাস্তা ছেড়ে নিজের ক্যাম্পাস এ বসে থাকবেন? সিরিয়াসলি? কারো চুলটাও (পড়েন “বাল-টাও”) এসে যাবেনা এতে। বরং ঈদের ছুটিতে আন্দোলন ঘুমিয়ে যাবে। কখন, কোন পরিস্থিতে কোন সিদ্ধান্ত নিতে হবে সেটা বুঝতে হবে। না হয় আন্দোলন শাহবাগের আন্দোলনের মতো একসময় মূল্যহীন হয়ে যাবে।
--- “দেহ পাবি, মন পাবি কিন্তু ভ্যাট পাবিনা” যতই যুক্তি দেখান আর আরিফ জেবতিক এর মত বলদেরা যতই সাপোর্ট দিক এই টাইপ স্লোগান দিয়ে ভাই আন্দোলন হয়না। একটা আন্দোলনের কিংবা মিছিলের মূল ভয়েস তার স্লোগান। স্লোগান যদি রক্তে ঝড় না তোলে তো তাতে আন্দোলনকারীরা গর্জে উঠবে না। দমনকারীর টার্গেটই থাকে এই স্লোগান-দাতা।
ভাবেন বাংলার অন্য আন্দোলনের স্লোগানগুলো কতটা শক্তিশালী ছিল (তোমার আমার “ঠিকানা”, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা; রাষ্ট্রভাষা বাংলা “চাই” ; পাকিস্তানের “প্রেতাত্মা”, পাকিস্তানে ফিরে “যা”) এই ঠিকানা, চাই, যাহ শব্দগুলো ভয়ঙ্কর চাপ দেয়, আন্দোলনের গতি আনে। স্লোগান সাজান, নইলে মানুষ হাসবে।
--- ছাত্র ইউনিয়ন, ফেডারেশনের মতো কিছু দল আপনাদের আন্দোলনে ক্রিম খেতে গেছে। খুশি হওয়ার কিছু নাই। পারলে এদের কাজে লাগান নয়তো তাড়ান। যারা আজ পর্যন্ত দেশে একটা ভালো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি এরা কি হেল্প করবে আপনাদের?
--- বন্দুক নিয়ে তাড়া করে? কয়জন তারা? ১০? ২০? ৩০? ৫০? ১০০? আপনারা ৫০০ জন হাতে একটা করে কঞ্চি নিয়ে এগিয়ে যান। ভয় পেতে বাধ্য। দরকার খালি ওই এগিয়ে যাওয়ার সাহস।
--- সম্মেলন করেন, সাংবাদিক ডাকেন, তথ্য উপাত্ত, যুক্তিতর্ক দিয়ে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিন, পেছনের ষড়যন্ত্র ও এই দেশের শিক্ষার ভবিষ্যতে যে কালো ছায়া আসছে তার বর্ণনা দিন। খুব যত্ন-সহকারে বিবৃতি সাজান। এটা গুরুত্বপূর্ণ।
--- বাসা থেকে রক্ত আনবেন? কিসের? গরুর, ছাগলের না মুরগির? রাস্তায় হাতে ব্লেড, ছুরি ধরে বসেন, ভয়ে কাঁপবে সরকার। না কাপ্লে আড়াআড়ি চামড়া কেটে দেন। তাতে শিরা কাটবে না কিন্তু রক্ত ঠিকই বের হবে। কাটতে পারবে এমন ১০০ জন নাই?
--- বাসায় বসে ফেসবুকে না কাপিয়ে রাস্তায় কাপান, কাজে দেবে।
--- অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নিন। কোন আপোষ করবেন না। আমাদের নৈতিক সমর্থন আছে আপনাদের সাথে।
৪। সরকারের নীতিনির্ধারক ভায়ারা -
আজাইরা কাম কম করো একটু। ঋণ নিতে নিতে তো গড়ে ঋণের বোঝা দিছ প্রায় ১৩০০০ টাকা করে। এবার এডুকেশন ও পন্য বানাবা? ইনকাম বাড়ায়ে ঋণ পরিশোধ করবা? দ্রব্যমূল্য বাড়ায়ে ঋণ পরিশোধ করবা? মানুষ খ্যাপলে কই যাবা? শুধু শুধু সরকারের ভালো কামগুলাও নষ্ট করতেছ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
--- শিক্ষামন্ত্রণালয়ের “অদ্ভুত” সরিয়ে ভালো কাউরে নিয়োগ দেন।
--- বাঁদরের হাতে ছুরি না দিয়ে অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ, শরদিন্দু ভট্টাচার্য, দেবব্রত মুখোপধ্যায় দের মতো লোকজন দিয়ে “অর্থ”টা সামলান। দেশের সুফল আসবে।
--- আশে পাশে উপদেষ্টা নামক বিদেশী চরগুলোকে সরান। এরা উপদেশ দিয়ে দিয়ে জেরবার করে ফেলতেছে। এরাই বিশ্বব্যাংক, আই-এম-এফ,আমেরিকার দালাল। আপনি বিচক্ষণ ব্যাক্তি। আপনার কেন উপদেষ্টা লাগবে উপদেশের জন্য?
৫। প্রাইভেটের ভাই আপুরা—
আপনাদের প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। এ দেশে বহুদিন যাবত প্রাইভেট-পাবলিক দন্ধ বিদ্যমান। এর কোন মানে নেই। সবারই গ্রহণযোগ্যতা আছে। এখন প্রাইভেটেও মেধাবিরা ভর্তি হচ্ছে। প্রাইভেটের ছাত্ররা অনেক দিকেই এগিয়ে। পাবলিকের জ্ঞান- মেধা ও প্রাইভেটের সুযোগ-সুবিধা কম্বাইন্ড করতে হবে। দরকার পারস্পরিক সহযোগিতা। কিন্তু কিছু মানুষের সৌজন্যতাবোধ একেবারেই নেই।এটা দুই জায়গাতেই বিদ্যমান। বেশ কিছু ভাই-আপুদের পোস্ট কমেন্ট দেখলাম (সাথে ছবিও দিলাম)
--- ১০ লাখ টাকা দেবার “হ্যাডম” আছে বলে আপু প্রাইভেটে পড়েন। আর আমরা “ফকিন্নির পুত”, গরীব বলে পাবলিকে পড়ি। ভুল বলছেন ফ্রিতে পড়তে দিলেও অনেক প্রাইভেটে পড়বোইনা। আর আপুর যোগ্যতা নেই দেখেই বলছেন একটার বেশী কোথাও ট্রাই-ই করেন নি। যেই ৩০-৩৫ জনের সাথে প্রতিযোগিতার কথা বলেছেন তাদের মাঝে আমরা প্রত্যেকে নিজেদের প্রমান করতে পেরেছি বলেই জনগন ট্যাক্সের টাকায় আমাদের পড়ায়। আর আপু পড়েন বাপের টাকায় যার উপর ট্যাক্স (ভ্যাট ইন্ডিরেক্ট ট্যাক্স) দিতে হচ্ছে। জব সিনারিওতে আপনারা প্রাইভেট সেক্টর দাপাচ্ছেন তেমনি আমরা পাবলিক সেক্টরে দাপাচ্ছি। কিন্তু আপনারা কয়টা থেকে দাপাচ্ছেন? হাতে গোনা ১০-১২ টি থেকে (EWU, NSU, IUB, AIUB, AUST etc.) থাক বিতর্ক বাড়ালাম না। টাকার খোঁটা দিয়েন না। প্রাইভেটে পড়ার জন্য আর্থিক ক্ষমতা পাবলিকের অন্তত ৬০% ছাত্রদের আছে। বাকি ৪০% ও দারুল ইহসান টাইপেরগুলায় পারবে। পাবলিকে পড়তে গেছি সম্মানের জন্য।
--- ভাইয়া বললেন পাবলিকের সন্ত্রাসীরা.........। মানে আমি ও আমরা সন্ত্রাসী। আমরা আন্দোলনে নেমে গাড়ি ভাংচুর করি। ঠিক আছে। তাহলে ৫২ তে শহীদ হওয়া পাবলিকের ছাত্ররা সন্ত্রাসী। তাদের রক্তে কেনা ভাষায়-ই তো আজ স্লোগান দিচ্ছেন !!! ৬৯ এর গন-অভ্যুত্থানের নায়করা তবে সন্ত্রাসী তাইনা? ৭০ এর নির্বাচন আর পরবর্তীতে ৭১ এ স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রথম দিককার শহিদরা সহ সংগঠক, মুক্তিযোদ্ধাদের একটা বিরাট অংশ তবে সন্ত্রাসী। কি বলেন? ৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মুখপাত্ররা তবে সন্ত্রাসী? জাতির পিতা “ঢাবি”র ছাত্র ছিলেন (পাবলিক ভার্সিটি) । তবে কি আপনার মতে তিনিও......... আর ভাবা সম্ভব হচ্ছেনা ভাই। আপনারা আসলেই সুশীল। আমরা সন্ত্রাসী। এই কারনে আমাদের আন্দোলনগুলো সংগঠিত এবং সফল হয়। আর আপনারা প্যাঁদানি খান। ঘরে বসে মুরগির রক্ত প্যাকেট করে নিয়ে রাস্তায় ঢালেন। হাস্যকর। রাস্তায় দাঁড়িয়ে বুকের রক্ত দিন। না হয় যান ঘরে বসে এসির বাতাস খান আর ভ্যাটের অঙ্ক করেন। নইলে পরীক্ষায় ফেল করবেন। না পারলে আমার কাছে আইসেন। আমি ভ্যাটের অঙ্ক খুব ভালো পারি।
তবে এটাও সত্যি আমাদের পাবলিকেও ইদানিং কিছু গরু গাধা দেখা যাচ্ছে যারা চোখটা আসমানে রেখেই হাটে। বাস্তবতা বোঝেনা। অনর্থক এরাও পাবলিক-প্রাইভেট করে। এরাও ডিভাইডেশনের পেছনে দায়ী।
মূল কথাটা হচ্ছে, এ দেশের প্রারম্ভ থেকেই ছাত্ররা ছিল সকল শ্রেণীর শাসকদের ভয়ের মূল কেন্দ্র। ছাত্ররা যতক্ষণ সংগঠিত ও একতাবদ্ধ ছিল ততক্ষন শাসকরা তাদের ভয় পেয়েছে। শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতা, গনতন্ত্র আর সব। এখন একটা খেলা চলছে। বিভক্তির খেলা। সেই বিভক্তি নানা ভাগে বিভক্ত। লীগ-দল, প্রাইভেট-পাবলিক, ধনি-গরিব কিংবা আপুর ভাষায় হ্যাডমওয়ালা- হ্যাডম ছাড়া ইত্যাদি ইত্যাদি শ্রেনীবিভক্তি। উদ্দ্যেশ্য পরিষ্কার যদি খোলা চোখে দেখা হয়। ব্রিটিশদের মতো- “ডিভাইড এন্ড রুলস।” মানে গদিটা সুরক্ষিত রাখা আর কি !
থাক বিতর্ক বাদ দিন আজকের মত। অনেক হল। সবাইকে মার্জিতভাবে আপনাদের সাথে যোগ দিতে আহ্বান জানান। আন্দোলন সফলভাবে ও সঠিকভাবে চালান। শুভ কামনা রইল
©somewhere in net ltd.
১|
১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:৫১
বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: শিক্ষাকে বানিজ্যিকরন করে আয়ের এই ধান্ধার পেছনে মূল হোতা বিশ্বব্যাংক। ২০ বছর মেয়াদি শিক্ষা সংক্রান্ত কৌশলপত্রের একটি অংশ এটা। এই কৌশলে শিক্ষাখাতে সরকারী বরাদ্দ কমিয়ে একে লাভজনক ব্যাবসায়ে রুপান্তর করার টার্গেট করা হয়েছে। প্রাইভেট দিয়ে শুরু। এটা কিন্তু পাবলিকেও আসবে। এ ধরনের ইঙ্গিত আগেও দেয়া হয়েছে। “ইউজিসি” এই কৌশলপত্রের মাধ্যমে অলরেডি বিশ্বব্যাংকের সাথে ৫৬৭ কোটি টাকার ঋণচুক্তি সম্পন্ন ও করে ফেলেছে। এতে করে অনুন্নত দেশগুলোকে সিস্টেমে ধ্বজভঙ্গ করার একটা প্রয়াস চলছে। এর আরেকটি দিক হল ট্রেন্ডি বিষয়গুলোতে জোর দেয়া যেমন বিবিএ, ইংলিশ ইত্যাদি। সাথে ধামাচাপা পড়ে যাবে সাহিত্য, অর্থনীতি, বিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো যেগুলো শিক্ষিত প্রোডাক্ট নয় বরং চিন্তাবিদ গড়ে তোলে ও একটি দেশের উন্নয়নে মূল অবদান রাখে ..
আপনার চমৎকার লেখনি আশা করি তাদের কাজে আসবে। মূল পয়েন্ট াব ফোকাসে তারা হাইলাইটস করতে পারলে আন্দোলন আরো বেগবান হবে।
আর তা নষ্ট করতে সরকারতো যুগপৎ সকল মূখি আক্রমন প্র্রপাগান্ডা চালাবেই- তাও বিজ্ঞতায় মোকাবেলা করতে হবে।উত্তেজিত হয়ে নয়।..
+++++