| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শাহবাগের আন্দোলনের পর দেশ থেকে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে;--দেশ থেকে মৌলবাদিতা দৌঁড়ে পালাবে, দেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় হাবুডুবু খেতে থাকবে—এমন উচ্চাশা অনেকেই করেছিলেন। আদতে এমন হচ্ছে না দেখে তারা বেশ হতাশ। তাদের জ্ঞাতার্থে বলছি, বাংলাদেশ ক্যান্সারে ভুগছে না যে তার আয়ুষ্কাল আর মাত্র ছয় মাস, সব সমস্যা সমাধান করে তার শেষ মনোবাঞ্ছা পূরণ করতে হবে শীঘ্রই-এমন নয়। আরও শত শত বছর এই দেশ টিকে থাকবে। শাহবাগ আন্দোলনের মাধ্যমে একাত্তরের পর জাতি আবার ঐক্যবদ্ধ হলো তার আত্মপরিচয়ের সন্ধানে। এই আন্দোলন ধর্ম-ব্যবসায়ীদের মুখোশ উন্মোচিত করলো, এবং ধর্মের নামে যে দানবদল একাত্তরে নৃশংসতা চালিয়েছিল তাদের বিচারের ব্যাপারে রাষ্ট্রযন্ত্রকে উপযুক্ত চাপ প্রয়োগ করলো। আমরা দেখেছি, এর ফল হিসাবে রাষ্ট্র যুদ্ধাপরাধী আইন সংস্কার করেছে, এবং যারা এতদিন পর্দার আড়ালে ছিলো তাদের মুখোশও উন্মোচিত হয়েছে। আদতে এতে বেশ ভালোই হয়েছে; অচিহ্নিত শত্রুর সাথে যুদ্ধ করার চেয়ে চিহ্নিত শত্রুর সাথে যুদ্ধ করা বেশ সুবিধাজনক। আমরা চিনে নিয়েছি এই অভাগা দেশের শত্রু-মিত্র কারা, কাদের কাছে ক্ষমতার মোহ সব কিছুর উর্ধে। মুক্তচিন্তা প্রকাশের মাধ্যম হিসাবে অনলাইন ক্রিয়াকলাপ যে একটি শক্তিশালী মাধ্যম তাও প্রতিষ্ঠিত হলো। এই শক্তি দিয়ে দেশ থেকে একদিন অপ-রাজনীতি, দুর্নীতি, সংখ্যালঘু-গুরুর রাজনীতিও দূরীভূত হবে। মিথ্যা বিকশিত হয় অন্ধকারে, সত্য বিকশিত হয় মুক্ত যোগাযোগে। তাই সত্যের জয় একদিন হয়ই। মুক্ত চিন্তার ক্রিয়া-বিক্রিয়ার মাধ্যমে লব্ধি ভালো চিন্তাটি বের হয়ে আসে। মুক্ত অনলাইন মিডিয়া এই সম্ভাবনাটিকে প্রতিষ্ঠিত করলো। মানবতাবিরোধী বিচার আদালতে পিরোজপুর নিবাসী দেলু রাজাকারের ফাঁসির পাশাপাশি মুক্তচিন্তার আদালতে অন্ধকার-কুঠুরি নিবাসী রাজাকার-মনস্কতাকেও যুগ যুগ ধরে আমাদের ফাঁসি দিয়ে যেতে হবে। এটি কেবল এক মাস কিংবা এক বছরের কাজ নয়। মনে রাখতে হবে অতি-উচ্চাশাবাদীরা অতি শীঘ্রই অতি-হতাশাবাদীতে পরিণত হয়। তাই এক শাহবাগেই সব অর্জন নয়; শাহবাগ হলো অগ্রগতির পথে একাত্তরের পর বাঙালির আত্মপরিচয়ের মৃদু যানটির রিফিল স্টেশন!
জয় বাঙলা!!
©somewhere in net ltd.