| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
দুটি মাজা-ভাঙ্গা গল্প ( ডাক্তার ও রোগিদের অবশ্য পাঠ্য)
------------------------------------
ক)
কাঁচুমাচু হয়ে সামনে বসলেন। সরল ও অসহায় দুটি চোখ। পেশায়
ভ্যানচালক। সমস্যা, মাজার ব্যাথা।
আমি তাঁকে টিপে টিপে দেখলাম। তাঁর পা ধরে ক্লিনিক্যাল
পরীক্ষা করলাম। তিনি বিব্রত হলেন। আমার মতো এত্তো বড়(!)
ডাক্তার তাঁর ময়লা পা ধরাতে তিনি বারবার ক্ষমা চাইলেন।
আমি তাঁকে ওষুধ লিখে দিলাম। ফি হিসাবে চারশ টাকা দিলেন।
ঘামে ভেজা টাকাগুলো থেকে একশ টাকা তাঁকে ফেরত দিলাম।
তিনি খুশি মনে চলে গেলেন।
দু দিন পরে উনাকে সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে আবার ভ্যান
চালাতে দেখলাম।
খ)
উনি বিশিষ্ট ভদ্রলোক, দাপুটে আমলা। আমার সন্মানিত
অধ্যাপকগণ সবাই উনার ভাই লাগেন; কিন্তু তাঁরা এখন ফোন ধরছেন
না দেখে আপাতত আমার কাছে আসা। সমস্যা, মাজার ব্যাথা।
আমি তাঁর মূল্যবান মাজাটি ইতস্তত ভাব
নিয়ে পরীক্ষা করে দেখলাম। ফাকে ফাকে উনি উনার
ক্ষমতা তথা মাজার জোরের কথা বলছিলেন;
আমি মনে মনে বিরক্ত হচ্ছিলাম। আপাতত কিছু পরীক্ষা ও ওষুধ
লিখে দিতে বললেন। আমি দিলাম। উনি এক্সরে না করে ডাইরেক্ট
এমআরআই করাতে চাইলেন। আমি লিখে দিলাম। উনি উনার
দাপুটেপনা দিয়ে এমআরআই করিয়ে আনলেন। আমি বললাম,
সমস্যা সামান্য। উনি পাত্তা দিলেন না। বিরাট হাসপাতালে চেম্বার
নিয়ে বসা ডিপ্লোমা পাশ ফিজিওথেরাপিস্টের কাছে গেলেন।
যথারীতি ভুল-ভাল বুঝিয়ে তাঁকে অ্যাডমিশন দিয়ে লক্ষ টাকা বিল
হাতিয়ে নিলেন অই দক্ষ থেরাপিস্ট। কিছুদিন পর আবার ব্যাথা।
গেলেন সার্জনের কাছে, কিছুটা তাচ্ছিল্য ভাব সাথে নিয়ে। এবার
বিদেশ যেতেই হবে। অপারেশন করালেন সিংগাপুরে। বিশ লক্ষ
টাকা খরচ হলো। কিন্তু ছয় মাস পরে আবার ব্যাথা। উনি হাঁটতেই
পারছেন না। উনি আবার আমার কাছে এলেন।
তখন তাঁর দু’চোখে ছিলো ভ্যানচালকের চোখের মতো সরলতা।
২|
০২ রা জুন, ২০১৩ বিকাল ৫:১৭
এম আমির হোসেন বলেছেন: ধন্যবাদ
৩|
১৫ ই নভেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:০৬
রাজীব বলেছেন: ডিস্ক প্রোল্যাপ্স নিয়ে সমস্যায় আছি। সাহায্য করতে পারেন কি?
©somewhere in net ltd.
১|
০১ লা জুন, ২০১৩ রাত ১১:০৭
হাসান বৈদ্য বলেছেন: একটি সরলরৈখিক গল্প