নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

apacer

অসতী মাতার পুত্র সে যদি জারজ-পুত্র হয়, অসৎ পিতার সন্তানও তবে জারজ সুনিশ্চয়!

মোঃ শাহাদত হোসেন

আমি আছি বলে আমি সত্য। আমি আমাকে ভালোবাসি, তাই ভালোবাসি অন্যকেও। মানুষ হয়ে জন্ম আমার, হতেই হবে মানুষ আবার।

মোঃ শাহাদত হোসেন › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পশ্চাদপদতাঃ একটি কারণ

২৫ শে জুন, ২০১০ সকাল ১১:৫৫

জ্ঞানই শক্তি। উন্নয়নের জন্য জ্ঞানের কোন বিকল্প নেই। উন্নত জতি গঠন এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। একটি দেশের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন দক্ষ মানব সম্পদ। যে মানব সম্পদ জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী হয়ে, আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানে পারদর্শী হয়ে, দেশের অব্যবহত সম্পদকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে পারে, তা শুধুমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগ্য শিক্ষকের দ্বারাই পাওয়া সম্ভব। পৃথিবীর উন্নত দেশ বা এশীয় এমার্জিন টাইগাররা তাদের বর্তমান অবস্থান তৈরি করতে পেরেছে শিক্ষাখাতকে একটি উচ্চ উৎপাদনশীল সম্ভাবনাময় সেক্টর বিবেচনা করে সেখানে প্রচুর বিনিয়োগ করে। তার ফলাফল আজ তারা পাচ্ছে। আমাদের পশ্চাৎপদতার মূলে রয়েছে একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হওয়া, দক্ষ মানব সম্পদ তৈরীর জন্য শিক্ষাখাতকে বিশেষ গুরুত্ব না দেওয়া। আমাদের নৈতিকতার অধ:পতন, মূল্যবোধের অবক্ষয়, ক্ষুধা-দারিদ্র্য, বেকারত্ব, জীবনযাত্রার নিম্নমান, স্বল্প মাথাপিছু আয়-এর জন্য একটি শক্তিশালী শিক্ষাখাত গড়ে তোলার ব্যর্থতাই দায়ী।



“Education is the simultaneous development of the body, mind and soul”. এ যুক্তির আলোকে বলা যায়, শিক্ষা একটি পরশ পাথর। এর মাধ্যমে মানুষের বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীন এক বিশাল পরিবর্তন সাধিত হয়। প্রত্যেক সমাজব্যবস্থা শিক্ষাকে তাদের প্রয়োজনের সাথে মিল রেখে ঢেলে সাজিয়েছে। যেমন, কৃষিভিত্তিক সমাজে কিভাবে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো যায় তার প্রয়োজনীয় শিক্ষা সেখানে দেওয়া হয়েছে। শিল্পবিপ্লব পরবর্তী শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার, শিল্পের জন্য দক্ষ উদ্যোক্তা ও লেবার উৎপাদনই শিক্ষার মূল লক্ষ হয়ে দাড়ায়।তবে দেশের উচ্চশিক্ষার ধারণা সর্বদায় অনেকটা লিবারেল। সেখানে মুক্ত বুদ্ধির চর্চা করা হয়। আমি উচ্চশিক্ষিত হওয়ার পর যদি ভালোকে ভালো এবং মন্দকে মন্দ বলতে না পারি, তাহলে আমার শিক্ষার মধ্যে যথেষ্ট ঘাটতি আছে বলতে হবে।মুক্ত চিন্তার চর্চায় প্রত্যেকের স্বাধীনভাবে চিন্তা করার অধিকার আছে এবং যুক্তিই হবে বোঝাপড়ার একমাত্র মাধ্যম। এভাবে শিক্ষার মাধ্যমে এক উন্নত, দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তোলাযায় তাহলে দেশ পিছিয়ে থাকতে পারে না।



বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা নানামূখী সমস্যায় আক্রান্ত। ঔপনিবেশিক শাসনামলে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনে এদেশে একটি বিদেশীদের একান্ত অনুগত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উদ্ভব ঘটানো হয়। এখান থেকে কখনই অর্থনৈতিক দিক দিয়ে এমনকি চিন্তা-চেতনায়ও আত্মনির্ভরশীল জাতি গঠন সম্ভব নায় তা আমরা এই ক্রান্তিকালে হাড়ে হাড়ে অনুভব করছি। বৃটিশদের তৈরি শিক্ষাব্যবস্থায় এগুতে গিয়ে আজ মানুষের মধ্য থেকে দেশপ্রেম উঠে গেছে, মানুষ ব্যক্তিস্বার্থে অন্ধ হয়ে গেছে, নিজের দেশের সম্পদকে শুধুমাত্র ব্যক্তি স্বার্থের জন্য অন্যের হাতে তুলে দিচ্ছে, নামমাত্র সহায়তা দিয়ে আমাদের পরিকল্পনায় বিদেশী তথাকথিত দাতাগোষ্ঠী হস্তক্ষেপ করছে আর আমরা তা মেনে নিচ্ছি। আমাদের এমন একটা ধারনা তৈরি হয়েছে যে, শিক্ষাখাতে অধিক পরিমান বিনিয়োগ মানে টাকাটা পানিতে ফেলা। শিক্ষকরা অধিক সম্মাণিত ব্যক্তি তাই এদের বেতন ভাতার দরকার নেই। এধরণের হিতাহিতজ্ঞানশূন্য বক্তব্য এবং মানসিকতা আমাদের শিক্ষার প্রধান অন্তরায়। আমাদের দেশে আজ বড় সঙ্কট ভালো শিক্ষকের, যুগোপযোগী শিক্ষানীতির, শিক্ষা নিয়ে একটি শ্রেণীর নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী। শিক্ষকতা যেহেতু একটি মহান পেশা, এই মহান পেশায় নিযুক্ত শিক্ষকেরা যদি সংসার চালানোর জন্য লাঞ্চিত হতে হয়, সামাজিক অবস্থান তৈরি করতে পারে না তাহলে এর কাছ থেকে গুনগত শিক্ষা কিভাবে আশা করতে পারি? একটা সময় ছিল যখন শিক্ষকরা বিনা বেতনে বা সমান্য বেতনেই শিক্ষদানের কাজ চালাত। তখন বর্তমানের মত সরকারী আর বেসরকারী চাকরীর লোভনীয় অফার ছিল না এবং যেসকল মানুষ শিক্ষকতা করতেন তাদের সংসার চালানোর জন্য এর উপর নির্ভর করতে হতো না। বিসিএস পরীক্ষায় প্রায় সকল শিক্ষার্থীই হয় পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেট হতে চায়। শিক্ষা ক্যাডারের তুলনায় অন্যান্য ক্যাডারের চাকুরী আকর্ষনীয় বলে মনে করেন কারন সেখানে সুযোগ সুবিধা বেশি।কারন এখানে আসলে প্রভাব-প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পাবে, প্রচুর সুযোগ সুবিধা পাওয়া যাবে। কিন্তু শিক্ষকতা পেশায় সেই সুযোগ-সুবিধা নেই। তাই মেধাবী ছাত্ররা ইচ্ছে করে এ পেশায় আসতে চান না। যারা চলে আসেন, তাঁরা আবার চেষ্টা করেন অন্য ক্যাডারে চলে যাওয়ার জন্য। যদি একেবারেই না পারেন তাহলে শিক্ষকতাকে মহান পেশা হিসেবে না নিয়ে অধিক অর্থ উপার্জনের দিকে মনোযোগী হন।



শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনীতির চর্চা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার একটি বড় সমস্যা। বর্তমান রাজনীতি দেশসেবা নয় বরং ব্যক্তি তথা দল সেবায় ব্যস্ত। ছাত্ররা যদি তাদের বিবিধ সমস্যা ও ছাত্রদের উন্নয়নের জন্য দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করত, তাহলে‌ ছাত্র রাজনীতিই আমাদের সম্পদ হত। ছাত্রদের ভূমিকা আমরা দেখেছি ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে। রাজনীতিবিদরা নিজেদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য, দলীয় প্রভাব ক্যাম্পাসে বজায় রাখার জন্য ছাত্রদের ব্যবহার করে। এতে করে অর্থের লেনদেন হয়, ছাত্র নেতা হওয়া একটি লাভজনক পেশায় পরিণত হয়, যার ফলশ্রুতিতে আমরা পাচ্ছি মেধাবী ছাত্রের লাশ, অনির্দিষ্টকালের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, সেশন জটের কবলে পড়ে জীবনের মূল্যবান সময়ের অপচয়। ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়ে দেশের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করবে সমৃদ্ধ জ্ঞানটুকু কাজে লাগাবে। কিন্তু পারছে কোথায়? অতিমূল্যবান ক্যাপিটাল নোংড়া রাজনীতির কারনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।



অবকাঠামোগত সমস্যা একটি বিরাট সমস্যা। একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য নূন্যতম যে সকল ফ্যাসিলিটিস দরকার তা বিবেচনায় না এনেই বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধুমাত্র সার্টিফিকেট তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে। অধিকাংশ বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের এরকম বেহাল দশা। দেশের অধিকাংশ কলেজেই মানসম্মত লাইব্রেরী নেই। গ্রামের অনেক বেসরকারী কলেজে নেই বসার ভাল জায়গা। বেড়া দিয়ে তৈরি করা হয়েছে আদর্শ মহাবিদ্যালয়। যেকোন কলেজ অনুমোদনের জন্য কিছু শর্ত আছে। যেমন, ৮ মাইল ব্যাসার্ধের মধ্যে কোন অনুমতি/স্বীকৃতি প্রাপ্ত কলেজ থাকলে কোন নতুন কলেজ খোলা যাবে না। মফস্বল এলাকায় ৩.০০ একর জমি, কমপক্ষে পাকা বা আধাপাকা ভবন, একাদশ শ্রেণীতে ছাত্র/ছাত্রীর সংখ্যা অনূন্য ১৫০ জন থাকা, ব্যবহারিক ক্লাসের জন্য পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক যন্তপাতি ও আসবাবপত্র, একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার যেখানে পাঠ্যপুস্তকসহ কমপক্ষে ৩০০০(তিন হাজার) পুস্তক থাকবে, কলেজে পানীয় জল এবং শৌচাগারের সুব্যবস্থা থাকা, ছাত্র/ছাত্রীদের শরীরচর্চা, খেলাধুলা এবং চিত্তবিনোদনের সুব্যবস্থা থাকা আবশ্যক। কিন্তু অধিকাংশ বেসরকারী কলেজ পরিদর্শন করলে এর অনেক শর্তই পূরণ হবে না। নামে মাত্র কয়েকজন ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতিতে শিক্ষকের সংখ্যা তার চেয়েও বেশি। যেখানে প্রাইমারীতে একজন শিক্ষকের ধারণক্ষমতার চাইতেও বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। কিন্তু কলেজে একজন শিক্ষকের একজনই মাত্র ছাত্র। নিয়মনীতিকে থোড়াই কেয়ার করে যত্র যত্র কলেজ এমপিও করার হিড়িক পড়ে যায়। ভোট ব্যাংক লাভ করাই যেখানে মূল বিষয়, সেখানে কোয়ালিটি প্রশ্নটি নামেমাত্র আসে। একটি থানায় ২৭ টিরও মত কলেজ এমপিও করা হয়।



ছাত্রছাত্রীদের মানসিকতার একটি পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তারা ক্লাস করা আর গুরুত্বপূর্ণ মনে করে না। ৬০% উপস্থিত থাকার নিয়ম থাকলেও তারা তা থাকে না, টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করে, কিন্তু কলেজ প্রশাসন এদেরকেই আবার ফাইনাল পরীক্ষা দেবার অনুমতি দেয় একপ্রকার বাধ্য হয়েই। পরিণতি, কলেজে ফেলের হার বৃদ্ধি পায়। কেউ কেউ আবার পাশ করেও যায়। তাদের রাস্তা অবশ্য সব জায়গায় খোলা। কোনরকম পাশ করে বেরুলেই চাকরি।



অনেক অনার্স কলেজে শিক্ষক সঙ্কট। মাত্র ৩/৪ জন শিক্ষক দিয়েই একটি ডিপার্টমেন্ট চালাতে হয়। আবার অন্য এক জায়গায় আবার ভিন্ন চিত্র। যেখানে একজন টিচার হলেই হবে, সেখানে ৪ জন টিচার। এ সমন্বয়হীনতা কিসের জন্য? এভাবে কি শিক্ষার মান নষ্ট হচ্ছে না?



গবেষণা একটি রাষ্ট্রের প্রাণ। যেখানে গবেষণা নেই, সেখানে নতুনত্ব নেই, নেই গতি। সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে জাতি মুখ থুবড়ে পড়বে। দেশের শিক্ষাখাতে হাজার হাজার অভিজ্ঞ শিক্ষক রয়েছেন, তাদেঁরকে একটু উদ্বুদ্ধ করলেই অনেক মানসম্মত গবেষণা জাতি পেতে পারে, পেতে পারে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা। শিক্ষকরা এগুলো অফিশিয়াল কাজের পাশাপাশি করতে পারে যদি তাদের উপযুক্ত সম্মানী দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে শিক্ষকের গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে।



শিক্ষার্থীরা কোনমতে পাশকরে বের হওয়ার জন্য অপেক্ষাকৃত কঠিন বিষয়ের দিকে না গিয়ে সহজ বিষয় পছন্দ করে। পছন্দ করার মধ্যে যেমন অল্প পড়ার মানসিকতা লুকিয়ে আছে, তাই কোনমতে পাশ করেই ক্ষান্ত। চাকরির বাজারে প্রবেশ করে এরা তেমন বিশেষ সুবিধা আদায় কর পারে না, যা শিক্ষিত বেকার তৈরিতে অবদান রাখছে।



প্রতিবছর এইচএসসি পাশ করার পর অনেক শিক্ষার্থী অনার্স পড়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন বিন্তু সবাই ভালো যায়গায় পড়ার সুযোগ পায় না। এ সুযোগ করে দিতে আবার অনার্স খোলার পরিবেশবিহীন বিভিন্ন কলেজে নানা তদবির করে অনার্স খোলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এভাবে অনার্স খোলে অনার্সের সঠিক মান রক্ষা তো সম্ভব নয়ই, এসব ছাত্ররা রাষ্ট্রের বোঝা হিসেবে এক সময় দাড়াবে। একজন ছাত্রের অনার্স পাশ করার পরও যদি তার যোগ্যতা এইচএসসি পাশের সমানই থেকে যায়, তাহলে সরকারের এ বিনিয়োগ কতটুকো কাজে আসল। প্রকল্প যাছাইয়ের মধ্যে সমস্যা থাকলে সে প্রকল্প থেকে কোন কল্যান আসে না। রাষ্ট্র যদিও কোন মুনাফার জন্য বিনিয়োগ করে না, কিন্তু রাষ্টের লাভ অবশ্যই বিবেচ্য। রাষ্ট্র জনগণের কল্যাণের কথা ভাবে। দেশের সাধারণ জনগণের অর্থ হেলায় ফেলায় নষ্ট করে দেওয়ার কোন অধিকার কারও নেই।



দেশের কোন শিক্ষার্থীই প্রথমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চায় না। এর কারন হিসেবে অনেকেই উল্লেখ করেন, এখানে রেজাল্ট ভালো হয় না। পড়াশোনার খরচ অধিক, পাশ করে বের হতে অনেক সময় লাগে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্য প্রায় সবকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশন জট একটি স্বাভাবিক ঘটনা। ৪ বছরের অনার্স শেষ করতে সময় লাগছে ৭ বছর। বিভিন্ন প্রকার রাজনৈতিক দ্বন্দ্বসহ প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকর্তাদের দুর্নীতি এর প্রধান কারন। এগুলো বাস্তবতা। তাহলে রেজাল্ট ভালো না হওয়ার জন্য কেউ শিক্ষকের গুণগত মান নিয়ে কথা বলে না, বলে এখানকার সিস্টেম নিয়ে। এখানকার সিলেবাসগুলো মানসম্মত নয়। আবশ্যিক বিষয় হিসেবে ইংরেজি পড়ানো হয় ১০০ মার্কস-এর। যদি কোন শিক্ষার্থী ইংরেজিতে ৩৩ নম্বর পায় তাহলে সে পাশ বলে বিবেচিত হবে, তবে তার মোট স্কোরের সাথে কোন মার্কস যোগ হবে না। আবার কেউ যদি ৩৩ অপেক্ষা বেশি আবার ৭৫ অপেক্ষা কম পায় তাহলে ১০ মার্কস যোগ হবে মাত্র। এটা রীতিমত অন্যায়। একজন শিক্ষার্থীকে নিরুৎসাহিত করার জন্য এটাই যথেষ্ট।



শিক্ষা একটি মহৎ পেশা যে পেশায় থাকবেনা কোন অসৎ চরিত্রের মানুষ, থাকবেনা কোন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ । আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে রাজনৈতিক কারনে শিক্ষা ব্যবস্থা মারাক্তক ভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে । একশ্রেণীর শিক্ষক যার কোন না কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য তারা বিশ্ববিদ্যায় প্রশাসন কে হাত করে হউক, বা ভয়ভীতি দেখিয়ে হউক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হয়ে বসেন । যারা পরবর্তিতে শিক্ষাকতা পেশায় আন্ত নিয়োগ না করে রাজনীতিতে আত্ননিয়োগ করেন । এই রাজনীতির করাল গ্রাস শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে নয় এখন দেশেরে উচ্চমাধ্যমিক কলেজ, ডিগ্রী কলেজ কে ইতোমধ্যে গ্রাস করেছে এবং গ্রাস করছে হাইস্কুল গুলিকে ।

জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য শিক্ষাখাতে ব্যপক বিনিয়োগ অপরিহার্য। শিক্ষাখাতের এ বিনিয়োগের সুফল আসে ধীরে ধীরে। আমরা চায় দ্রুত লাভ। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বড় অভাব আমাদের দেশে। অর্থনীতিবিদদের মতে, Education is the only sector which belongs to increasing rate of return. শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ সবচেয়ে লাভজনক এবং নিরাপদ রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ। শিক্ষাখাত দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার মাধ্যমে পুজিঁর সঞ্চালন ঘটায়। অর্থনীতিবিদ আর্থার শুলজ্ দেখিয়েছেন যে, প্রাথমিক শিক্ষায় বিনিয়োগ করা সম্পদের সুফল ফেরত আসে ৩৫ শতাংশ, মাধ্যমিক শিক্ষায় ২০ শতাংশ এবং উচ্চ শিক্ষায় ১১ শতাংশ।



আমাদের সরকার প্রতিবছরই বাজেটে শিক্ষাখাতে সর্বাধিক বরাদ্দের কথা বলে। ২০০৯-২০১০ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট হলো ১ লক্ষ ১৩ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা। এ প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তির সাথে স্বাস্থ্য খাতকে মিলিয়ে মোট ২১ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এটা মোট জাতীয় বাজেটের ১৯ শতাংশ এবং গত অর্থ বছরের সংশোধিত বরাদ্দের চেয়ে ১৪ শতাংশ বেশী। গত ২০০৮-২০০৯ অর্থ বছরে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে মোট ১২ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছিল যা মোট বাজেটের ১২ শতাংশের বেশী ছিল। অপর দিকে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল ৫ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা। শিক্ষা ও প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্য খাত মিলিয়ে মোট বরাদ্দ ছিল ১৮ হাজার ১৩১ কোটি টাকা। এ তিন খাতে গত অর্থ বছরের চেয়ে এ অর্থ বছরে ৩ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে।



২০০৯-২০১০ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে ৭ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয় যার মধ্যে উন্নয়ন খাতে ১ হাজার ২১০ কোটি টাকা এবং অনুন্নয়ন খাতে ৬ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা । আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে এটা গত বছরের বাজেটের বরাদ্দের চেয়ে ৭০০ কোটি টাকা বেশী। অপর দিকে ২০০৭-২০০৮ অর্থ বছরে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ ছিল মোট বাজেটের ১৪.৫ শতাংশ। আলোচনা-পর্যালোচনার পর বর্তমান সরকার ২০০৯-২০১০ অর্থ বছরের পরিশোধিত জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৪ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা। ২০১০-১১ অর্থবছরে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দের পরিমাণ মোট বাজেটের প্রায় ১৪%। এটার কোন বৃদ্ধি লক্ষ করা যাচ্ছে না। যেটুকু বৃদ্ধি তা শুধু মাত্র মুদ্রাস্ফীতি এবং জিডিপির বৃদ্ধির কারনেই হয়।



একটি দেশের শিক্ষাখাতে সরকারের ব্যয় মোট আভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (জিডিপি) শতকরা কত ভাগ তার উপর সেদেশের কর্মপরিকল্পনায় শিক্ষাকে কতটুকু অগ্রাধিকার প্রদান করা হচ্ছে সেটার নির্দেশক হিসেবে কাজ করে। তাই রিও ডি জেনেরিওতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শিক্ষা ফোরাম ২০০৬ বিশ্বের সব দেশগুলোকে তাদের জিডিপি-র কমপক্ষে ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে ব্যয়ের জন্য আহ্বান জানিয়েছে। অথচ বাংলাদেশে সরকারী ও ব্যক্তিগত খাত মিলিয়ে জাতীয় আয়ের কেবল ২.২ শতাংশই শিক্ষা খাতে ব্যয় হয়ে থাকে। আমাদের প্রতিবেশী ভারত জাতীয় আয়ের ৩.৩ শতাংশ এবং নেপাল ৩.৪ শতাংশ শিক্ষা খাতে ব্যয় করে থাকে। শিক্ষাখাতে বেশি বরাদ্দের ঢাকঢোল পেটানো হলেও এখানে বাজেটের একটি অংশ হিসেবে বরাদ্দ কমেই আসছে। ১৯৭২ সালের জাতীয় বাজেটের ২১ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ করা হয়েছিল। তারপর রাজস্ব ও উন্নয়ন খাত মিলিয়ে ১৯৯৫ সালে শিক্ষা খাতে সবচেয়ে বেশী বরাদ্দ ছিল ১৬.৪৪ শতাংশ। পর্যায়ক্রমে তা কমে ২০০৮-২০০৯ অর্থ বছরে দাঁড়িয়েছে ১২.৩ শতাংশে। সরকারের দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্রে ২০১০ সালের মধ্যে জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ২৫ শতাংশে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে। অপরদিকে ইউনেস্কোর প্রস্তাব অনুযায়ী শিক্ষাখাতে জাতীয় আয়ের ৮ শতাংশ বরারদ্দ থাকা উচিত।





এর পরেও সরকার যে বিনিয়োগ করছে তার ফলশ্রুতিতে যে দক্ষ জনশক্তি আমরা আশা করছি তা আজ সুদূর পরাহত। একজন ছাত্র এইচ এসসি পাশ করে অনার্স এ ৪ বছর পড়ার পর তার দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু এখানে যে পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছে তার চেয়ে ৪ বছর পরে অনার্স পাশের দক্ষতার মূল্য কম। আজকে অনার্স পাশ করা হাজার হাজার ছেলেমেয়ে একটি ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর চাকরির জন্য হন্নে হয়ে ঘুরছে। দাদারা বলেন, তোদের সময়কার এম এ পাশ আর আমাদের সময়কার এসএসসি পাশ। তাহলে শিক্ষার গুণগত মান গেল কোথায়? শিক্ষায় বিনিয়োগের এই কি রেজাল্ট? এর জন্য কি ছেলেমেয়েরা দায়ী, নাকি দায়ী আমাদের সমাজ, রাষ্ট্র, আমাদের চিন্তাবিদরা? আজকে শিক্ষার যে ইমেজ সংকট সৃষ্টি হয়েছে তার অবসান হওয়া দরকার। এজন্য সরকারকে বিশেষ দায়িত্ব নিতে হবে।

1. যুগোপযোগি শিক্ষানীতি তৈরি করতে হবে যেখানে শিক্ষার মাধ্যমে দেশপ্রেম জাগ্রত হবে, বিজ্ঞান মনস্ক দক্ষ একটি জনশক্তি তৈরি হবে, নৈতিকতার শিক্ষায় শিক্ষিত হবে।

2. শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রধিকার দিয়ে এখানকার বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করতে হবে যাতে করে মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দ হয় এ খাত। তাহলে একটা পজিটিভ পরিবর্তন আবশ্যম্ভবী।

3. বিজ্ঞান শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে সিলেবাশ তৈরি করতে হবে।

4. নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হতে হবে। শুধুমাত্র যারা এ পেশায় আসতে আগ্রহী তারাই যেন আসতে পারে এ ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

5. উচ্চ শিক্ষিত মানুষ দেশের মোট শিক্ষিত মানুষের ৫% হলেই চলবে। তাহলে এদের যোগ্য করে গড়ে তোলা যাবে। তাই শুধুমাত্র এম এ পাশ এর সংখ্যা বৃদ্ধি না করে ইন্টারমিডিয়েটএ পাশ করেই যারা কাজ করতে আগ্রহী তাদের কাজের ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য এইচএসসি পাশ করার পর তারা যেন হাতে কলমে কাজ করতে পারে সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

6. এইচএসসি পাশের পর একটি কঠিন পরীক্ষ নিতে হবে যাতে শুধুমাত্র মেধাবীরাই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায় এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

7. চাকরির সার্কুলারে যেখানে একটি কাজ এইচএসসি বা তার কম শিক্ষিত মানুষ দিয়ে করানো সম্ভব সেখানে বিএ বা এম পাশ চাওয়ার ব্যাপারটি রহিত করতে হবে। একাজটি দুভাবে করা যায়, ক) কঠোর আইন প্রয়োগ করে খ)শিক্ষার্থীদের কোয়ালিটি বৃদ্ধি করে। পরবর্তী পন্থায় উপযোগী।

8. নোংরা রাজনীতি পরিহার করে শিক্ষাখাতকে একটি আদর্শ খাত হিসেবে দেখে এটাকে সকল প্রকার নোংড়া রাজনীতির বাইরে রাখতে হবে।



আমরা চাই, আমার সোনার বাংলা আমাদেরকে সোনার চাদরে যেন আঁকড়ে রাখে। সুখী-সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে হলে আর শিক্ষাখাতকে অবহেলা নয়, দিতে হবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব। এর মাধ্যমেই আমরা “সাউথ এশিয়ান টাইগার”-এ রুপান্তরিত হতে পারব।



মোঃ শাহাদত হোসেন

প্রভাষক

অর্থনীতি বিভাগ

আব্দুলপুর সরকারী কলেজ, নাটোর।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ২৫ শে জুন, ২০১০ দুপুর ১২:৪৩

স্বপ্নশহর বলেছেন: খুবই ভালো লেখা। সরকারী কলেজের শিক্ষকদের ভাবা দরকার আপনার মত করে। বেশীর ভাগ শিক্ষক ই সারা দিন প্রাইভেট পরাতেই ব্যাস্ত থাকেন। ++

২| ২৫ শে জুন, ২০১০ দুপুর ১২:৫১

তোমোদাচি বলেছেন: গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় সুন্দর উপস্থাপনায় তুলেধরেছেন।

প্রিয়তে।

৩| ২৫ শে জুন, ২০১০ দুপুর ১:৩৮

""ফয়সল অভি "" বলেছেন: বেশ ভাল বিশ্লেষণ । আপনার ব্যক্তিগত মেইল আইডিটা কি পাওয়া যাবে ।

আপনার সাথে অর্থনীতি বিষয়ক লেখা নিয়ে আলোচনা করার প্রয়াসে এই আগ্রহ ।
এটা চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত লিটল ম্যাগ. সময় পেলে একটু দেখবেন> http://www.chittagongnews.org/droho/

২৬ শে জুন, ২০১০ বিকাল ৩:৩১

মোঃ শাহাদত হোসেন বলেছেন: [email protected]

৪| ২৫ শে জুন, ২০১০ দুপুর ১:৫১

নীলঞ্জন বলেছেন: ভালো লাগলো। আপনার বাড়ী নাটোর জেনে আরো ভালো লাগলো।+

২৬ শে জুন, ২০১০ বিকাল ৩:৩২

মোঃ শাহাদত হোসেন বলেছেন: আমার বাড়ি রাজশাহী জেলার চারঘাট থানায়। নাটোর আমার কর্মস্থল।ধন্যবাদ

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.