| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বাংলাদেশে এখন বিএনপির যুগ চলছে। তাদের নেতা কর্মীদের মনে অনেক ক্ষোভ অনেক অত্যাচার , গুম খুন এর শিকার হয়েছেন তারা। রাজনৈতিকভাবে মানসিক অত্যাচার শিকার আমি নিজে আজো, দিল্লী থেকে, দুবাই থেকে, জার্মান থেকে মানসিকভাবে একটা রাজনৈতিক অত্যাচার, রাষ্ট্রীয়ভাবে বা প্রশাসনের তরফ থেকে দিনের পর দিন জঙ্গী বানানোর সুপরিকল্পিত কৌশল কাজে লাগানো হচ্ছে। কখনো হ্যাকিং এর নামে, কখনো আওয়ামী লীগ/ বিএনপির চোরকারবারি অপরাধীদের শাস্তি দেয়ার নামে, প্রতিশোধ নেয়ার নামে, পুলিশ/ আর্মি সরাসরি অভিযানে নামে না, সন্ত্রাসীদের টাকা দিয়ে তাদের কাজ করিয়ে নেয়, এভাবে দিনের পর দিন ঢাকা এবং এর আশেপাশে বস্তিগুলোর সন্ত্রাসীদেরকে টাকা দিয়ে দিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা তাদের প্রতিশোধস্পৃহা কার্যকরী করছেন। তাদের ক্ষুব্ধ মন শান্ত করছেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো বা সেকুলারিজম রক্ষা করার নামে ধার্মিক জনগণের উপর মানসিক অত্যাচার করা হচ্ছে। স্বাধীনতাপন্থী হিসেবে কেবলমাত্র আওয়ামী লীগের লোকজন এদেশের সকল ক্ষমতা, সকল সম্পত্তি, সকল ব্যবসাবাণিজ্য, বাড়ির মালিকানা, বাড়ি ভাড়া, দোকান ভাড়া ইত্যাদি ইত্যাদি ভোগ দখল করা, এ দেশের সেকুলার মানসিকতার বা ধনিক শ্রেণীর একটা অভ্যাস বা বদভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
এ দেশের অপেক্ষাকৃত ধনিক শ্রেণী নগদ অর্থকড়ি দিয়ে সন্ত্রাস করাবে, গুন্ডা ভাড়া করবে। কিন্তু তাদের সামর্থ্য দিয়ে একটি বস্তির উন্নয়নের দায়িত্ব নিবে না। গ্রামে কোন ইনভেস্ট করবে না, কম মুনাফা হয় বলে, শহরাঞ্চলের গরীবদের বা পথশিশুদের সাহায্য করবে না। সে দায়িত্ব তারা মনের মাঝে অনুভবই করে না। এরকম বহু রাজনীতিবিদ দেখা যাবে, যারা প্রতিহিংসাপরায়ণতা চরিতার্থ করার জন্য, লাখ লাখ টাকা, কোটি কোটি টাকার অস্ত্র কিনবে এবং সাপ্লাই দিবে গরীবদের মাঝে কিছু টাকা দিয়ে, যেন গরীবের কিছু উপকার করছে! আদতে তারা ধনিক শ্রেণিরা নিজেদের অর্থ অপচয় করে সমাজে বিভিন্ন দাস শ্রেণী তৈরী করছে। যারা বংশ পরম্পরায় বুঝতেই পারছে না যে তারা দাস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তারা একেকটা খুন বা চুরি, ডাকাতি বা ছিনতাই করতে পারলে নিজেকে বিজয়ী ভাবে। কিন্তু সারাজীবন সেই দাসত্বের শৃঙ্খলে পড়ে থাকে। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, সুচিকিৎসার ব্যবস্থা এগুলো রাষ্ট্রের মৌলিক অধিকার। রাষ্ট্রীয় কোষাগার সীমিত, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় সরকারী কর্মকর্তাদের আবাসন, বেতন ভাতা, ফোন বিল দিতে দিতেই শেষ হয়ে যায়। আরো আছে রাষ্ট্রের ঋণ। পাহাড়সমান শহুরে উন্নয়নের ঋণ পরিশোধের চাপে রাষ্ট্র জর্জরিত। তাই, শাসকশ্রেণীর ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এই গরীব অঞ্চলগুলোতে উন্নয়ন পৌঁছাতে বারে বারে ব্যর্থ হচ্ছে। ডঃ মুহম্মদ ইউনুসের আমলে ব্র্যাক, গ্রামীণ ব্যাংক, এই অঞ্চলগুলোতে অন্ততঃ নারীদের এবং উঠতি যুবকদের কিছুটা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেছিলেন। তুরষ্ক নানাভাবে বেকার যুবকদের যারা ইয়াবা ব্যবসা ছাড়া আর কিছুই করতে পারতো না, তাদের ঈদ উপলক্ষে কিছু পোশাক বানানো ও বিক্রির ব্যবস্থা করেছিলেন, ই-কমার্সের ভিতর দিয়ে সেগুলো বিপণনের ব্যবস্থা করা হচ্ছিল। বেকার যুবকেরা কিছুটা হলেও আলোকিত জীবনের ছোঁয়া পেয়েছিলেন। কিছু কিছু সমাজের নিম্নবিত্ত আলেমরা যারা মাদ্রাসা শিক্ষিত তারা মধু উৎপাদন করার সাপোর্ট পেয়েছিল। কেউ কেউ টর্চ, বালিশ, বিছানার চাদর, লেপের কভার ইত্যাদি ছোট খাট ব্যবসা করা শুরু করেছিলেন। কেউ কেউ বাড়িতে বসে মিষ্টি, ঘি, হালুয়া এসব বানিয়ে ঘরেব বসে রোজগারের একটা ব্যবস্থা করেছিলেন। কেউ কেউ মেয়েদের জামা কাপড় বেচাবিক্রি করে আত্মনির্ভরশীল হবার চেষ্টায় ছিলেন। কেউ কেউ ঘিয়ে ভাজা লাচ্ছা সেমাই, দুধ থেকে তৈরী করা গাওয়া ঘি, বাটার , পনির ,আইসক্রিম এসব তৈরী করে ক্ষুদ্র ও মাঝারী ব্যবসায়ীর আকারে চলার চেষ্টা করছিলেন। কেউ কেউ ফরমালিন মুক্ত আম, মাছ, শাকসব্জির খুচরা বিক্রেতা হিসেব সিজনাল আয় করতেন। যারা মোটামুটি শিক্ষিত ছিল, বিভিন্ন আইটি ট্রেনিং নিয়ে আইটি উদ্যোক্তাও হয়েছিলেন। এছাড়াও ঘরে বসে অনলাইনের আয়-এর নানান ব্যবস্থা চালু হয়েছে বিগত কয়েক বছরে, দশকে।
অথচ এখন আবার এই যুবসমাজ নেগেটিভ গোয়িং, পিছনের দিকে হাঁটছে, আবার অন্ধকার গলির ঘুপছিতে ঢুকে পড়ছে। কারণ, প্রথমত লোভ, অল্পতেই ধনী হবার ইচ্ছে। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মনোভাব, প্রতিপক্ষের প্রতি প্রতিশোধ নিতে হবে। তাই, জঙ্গী অর্থায়ন। অনেক অনেক টাকার চাহিদা, কারো কারো হয়তো ঋণ আছে, কারো কারো রাজনৈতিক চাহিদা, রাজনৈতিক খরচ অনেক বেশি। ঐসব অল্প টাকা কামিয়ে কিছু হয় না, হয়তো তার মাস শেষে ৫০ হাজার থেকে লাখ টাকাও কামাই ছিল। ট্যাক্স দিতে হতো না, সরকারের নারীবান্ধব করনীতির কারণে। আবার সরকারী কর্মকর্তাদের ঘুষ বা উপরি বা বাড়তি কামাই এর চাহিদা থেকে। এই মধ্যবিত্ত শিক্ষিত শ্রেণী আবার এটা দাবী করবে, বাজারে দ্রব্যবূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ছেলে মেয়ে বড় হয়েছে, পরিবারের পরিধি বেড়েছে, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ বেড়েছে, সময়ের সাথে নিজের একটা বাড়ি বা ফ্ল্যাট কিনতে হবে, সর্বোপরি স্বাছন্দ্যে থাকা চাই, একটা গাড়ি না কিনলে তো চলছে না, বৌ এর চাহিদা ইত্যাদি ইত্যাদি।
সমাজের একটা প্রান্তিক গোষ্টি এতোটাই শিক্ষার আলো থেকে দূরে যে, তার হয়তো অপরাধ জগতের কামাই থেকে মাসে দশ হাজার কামাই হয়, কিন্তু তাকে এসএসসি পাশ করানোর আয়োজনে আনা যায় না, তাকে হয়তো একটা ভাল চাকুরী দিতে গেলে শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যুনতম এসএসসি পাশ লাগে, সেটা অর্জন করতে তার লেখাপড়া করা লাগবে, তার মা-পরিবার হয়তো তার উপার্জনের উপরে নির্ভরশীল। তাকে লেখাপড়া করাতে গেলে তাকে সেই দশহাজার টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। তাই তার অবস্থা উন্নয়ন করা যায় না।
এরই মাঝে সেই ধনিক শ্রেণী আবারো তাদের জঙ্গিবাদ বা প্রতিহংসাপরায়ণতা শুরু করেছে। সমাজের নিম্নবিত্ত অংশে পয়সা ছড়াচ্ছে, কোন পরিশ্রম না করে, কোন সৎ কায়িক পরিশ্রম না করে, নিজেদেরকে ভাল কাজে না লাগিয়ে অপরাধ করে, অল্পতেই বেশি বেশি টাকা রোজগারের মানসিকতা যাদের, তাদেরকে কাজে লাগিয়ে, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা। এর মাঝে আওয়ামী ক্যাটাগরী স্বাধীণতাপন্থীরা তাদের দেশের মালিকানা নিশ্চিত করতে, সেকুরালিজম নিশ্চিত করতে, প্রতিপক্ষের কেউ যেন তার ক্যারিয়ারে সফল হতে না পারে, উপরে উঠতে না পারে, এমনকি নিজের পক্ষশক্তি হলেও কেউ যেন প্রধান নেতৃবৃন্দের উপরে ক্ষমতাবান হতে না পারে, তাই বিভিন্ন স্তরে চলছে দমন, নিপীড়ন, চাকুরিচ্যুতি, প্রমোশন আটকে রাখা, মুক্তিযুদ্ধপন্থিদেরকে উচ্চপদে রাখা, আর্থিকভাবে অনৈতিক হবার ব্যাপারে চাপ দিতে থাকা, কালোবাজারি বানানো, জোরপূর্বক ইয়াবাব্যবসা ধরিয়ে দেয়া, বেনাপোলএর বর্ডারে ভারতের সাথে চোকারবারি বা ব্যবসা করতে বাধ্য করা। এসব নিপীড়ন চলছে। এতে করে এ সমাজে যারা ধার্মিক, পাকিস্তানপন্থী তারা পড়ছে বিপাকে,অর্থনৈতিকভাবে সমাজের এ অংশ দুর্বল হয়ে পড়ছে, দায়িত্ব পালনে অযোগ্য হয়ে পড়ছে দিনের পর দিন। জুয়া ধরিয়ে দেয়া, ইয়াব ধরিয়ে দেয়া, ফেনিসিডিল ধরিয়ে দেয়া ( নিজের দলের হলে) সমাজের এই যুব অংশ, কি নেতা কি কর্মী , কি সমর্থক সবার শারীরিক পরিশ্রম করার ক্ষমতা, গভীর চিন্তা করার ক্ষমতা, সৃজনশীলতা ধ্বংস করা হচ্ছে। আরেকদিকে , ধনিক শ্রেণির যুবকেরা অনেকটা শখের বসেই হেরোইন সেবন করছে। কোন সামজিক বা রাজনৈতিক বাধ্যবাধ্যকতা নেই, অনেকটা স্বাধীনভাবে নিজেদের সক্ষমতা ধ্বংস করছে, তাদের কথা না হয় আরেকদিন বলা যাবে।
বলতে এসেছি, সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী নিয়ে, যাদের না আছে ভাল বাসস্থান, না আছে শিক্ষা, না আছে সুপেয় পানির ব্যবস্থা, না আছে স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা। এসব বস্তির/ পতিতাপল্লী/ আখড়া অপরাধীরা দয়া করে, জঙ্গিবাদের চক্রে পড়বেন না। কি পুলিশ, কি প্রশাসন, কি রাজনৈতিক নেতা, কি ধর্মীয় গুরু,আপনাদের নিয়ে জঙ্গীবাদ বা সন্ত্রাসের চক্র চালাচ্ছে। আপনাদের হাতে টাকা দিচ্ছে অন্যকে হত্যা করার নামে, প্রতিশোধ নেয়ার নামে, কিন্তু আপনাদের যে মৌলিক চাহিদা তা মেটাচ্ছে না। আপনারা যেই প্রান্তিক, সেই প্রান্তিকই আছেন। কোন পরিবর্তন হচ্ছে না আপনাদের জীবন যাত্রার। তাই আপনাদের প্রতি বিনীত অনুরোধ, নিজের সম্মান, নিজের অধিকারের প্রতি সচেতন হন। আপনাকে সন্ত্রাসী কাজ করার জন্য যে টাকা দিবে, অভিযান চালানোর জন্য যে টাকা দিবে, সে টাকা নিয়ে বা না নিয়ে, নিজেদের জন্য এক টুকরো জমির মালিকানা দাবী করুন, এক তলা বা দোতলা নতুন ঘর তুলে দেয়ার দাবী তুলুন, স্বাস্থ্যকর পায়খানা করে দেবার দাবী তুলুন, আপনাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা যেন ন্যুনতম এসএসসি পাশ করানো হয় সেই দাবী তুলুন , এক কথায় “টেকসই উন্নয়ন” তাদের কাছে যারা আপনাদেরকে ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করে, রাজনৈতিক প্রতিশোধ নেয়ার কাজে আপনাদেরকে দিয়ে খুন করায়, তাদের হুমকি বা ধমককে ভয় পাবেন না, আপনাদের ভাল কর্মসংস্থান তৈরী করে দেবার দাবী তুলুন। নিজের সামাজিক অধিকারের ব্যপারে, রাষ্ট্রীয় অধিকারের ব্যপারে সচেতন হোন। এই আওয়ামী লীগ ও তার প্রশাসন ম্যাকিয়ভেলীর রাজনৈতিক তত্ত্বের নামে, স্বাধীণতা রক্ষা করার নামে সংবিধানের তৃতীয় মূলনীতি ‘অর্থনৈতিকভাবে সমাজতন্ত্র’ -ইচ্ছেকৃতভাবে লংঘন করছে। কিন্তু তারা সার্বভৌমত্বের ধারণার ব্যাপারে একেবারেই অসচেতন!
©somewhere in net ltd.
১|
১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৪
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: আমাদের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্হা ভেঙ্গে চুড়ে গেছে
এর সুস্হ বিনির্মাণ প্রয়োজন ।
বর্তমান সরকার তা পারবে কিনা দেখার বিষয় ।