| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আরিফুর রহমান হাছনাইন
PhD Research Fellow I Columnist I Mind Boost Trainer I Sociologist I Real Estate & Media Specialist I Entrepreneur I
আমার এক বন্ধু, হ্যাঁ, কাজ করতে যেয়ে বন্ধুত্ব আর কি। রায়হান। জীবনের শুরুতে, মানে কর্ম জীবনের শুরুতে এক সাথে কাজ করেছি। অনেক বছর কোন যোগাযোগ নেই, হঠাৎ এক অনুষ্ঠানে দেখা হয়ে গেল। কুশল বিনিময়ের পর্যায়ক্রমে আলাপচারীতা চলছে, তাও আবার দেশপ্রেম আর আমাদের ভবিষ্যৎ শীর্ষক ই হবে, যদি কোন টিভির টকশো’র হেডলাইন ধরি।
সংজ্ঞা আর আলোচনায় যোগ হলো আরো কিছু অতিথি, যারা আমার চাইতে দেশটাকে অনেক বেশী ভালোবাসে। আলোচনায় কখন যে হিন্দি সিরিয়ালের কুপ্রভাব আর সিনেমার নায়িকাদের শরীরী হাওয়া এল, টের ও পেলাম না। টের পেলাম তখন, যখন শুনলাম, All they are prostitute ! শব্দটা শুনে আচমকা হোঁচট খেলাম, দুই পূরানো বন্ধুর আলোচনার মধ্যে বাইরের মানুষগুলোর অনুপ্রবেশ অতপরঃ মা......... নিয়ে আলোচনা। এখানটায় দেশপ্রেম আর দেশাত্ববোধ কিংবা ভবিষ্যৎ দর্শন ই বা কোথায় ?
বোধকরি, আজ দেশপ্রেম আর মূল্যবোধ সব এইরকমই,।
পরে জানতে পারলাম, এদের একজন বাংলাদেশ .................. এর একজন বিশিষ্ট নেতা আর অন্য ২ জনের একজন, সহকারী পরিচালক, আর অন্যজন আমাদের টকশো বিশেষজ্ঞ, আর আমার বন্ধুটা এখন অনেক বড় আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী, এরা সবাই আজকের হোস্ট এর আমন্ত্রিত অতিথি, আমার মতই। আমি নিজেকে বড় বেমানান ভাবতে লাগলাম এমন এক মহারথীদের মিলন মেলায়।
রায়হান পরের দিন আমায় ফোন করেছিলো, বলল, আমি এত নিরব ছিলাম কেন সেই আলোচনায়, ও আরো বলল, “তোর দেশপ্রেমের নজীর শুনলে এরা হয়তো কথাই বলতো না, আর তুই, এত সব স্কলারশিপ আর ভালো ভালো সুযোগ ছেড়ে আজকে দেশে এসে ছিটানো জালে পা দিয়ে নিজেকে আর পরিবারকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছিস কেন ? ” আমার কাছে এর কোন উত্তর জানা নেই অথবা, দিতে ইচ্ছা করছিল না।
রায়হান আমার মাধ্যমিক স্কুলটার কথা জিজ্ঞেস করছিলো, যেটার পিছনে পরিবারকে ভোগ করতে না দিয়ে এলাকার ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় খরচ করেছি, আমার পরিবারের একর একর জমি দান করেছি, স্থাপন করেছি সবার ঈর্ষা করার মত এক অনবধ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যার নামকরণ কিনা আমার বাবা কিংবা দাদার নামে না করে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালীর একজন, মোস্তফা কামালের নামে করেছি, “ বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ”, যেখানে আমি সম্মানী ছাড়াই সার্ভিস দিয়েছি! কি করে যে বলি ওকে, আমার কণ্ঠরুদ্ধ হয়ে এল!! কিছুই বলতে পারলাম না। কি বলবো, বলবো কি আমায় অন্যায়ভাবে আমার অনুপস্থিতি তৈরী করে, বিধি বিধান না মেনেই সরিয়ে দিয়েছে? সেটা কি আমার বলতে ভালো লাগবে, নাকি অর শুনতে ভালো লাগবে? একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে কি ওর শুনতে ভালো লাগবে মন গড়া এই দেশের যখন যেভাবে নিজের ভালো, তেমনিভাবে তৈরী করা স্থানীয় আইনের কথা ?!
বাবা মায়ের কথা জিজ্ঞেস করলো, তখনো আমি কণ্ঠরুদ্ধ, শুধু বললাম, বাবা এখন হুইল চেয়ারে আর মা আমায় পেটে ধরেছে বলে ছয় মাস পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে, সরকারী স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার পদ থেকে সাসপেন্ড হয়ে আজ দুই বছর, প্রতি মাসে ৬/৭ বার করে আমার সাথেই কাঠগড়ায় দাড়িয়ে আদালতের আইন মেনে হাতজোড় করে দাড়িয়ে থাকে, কেবল অবিচারের হাত থেকে বিচারের ন্যায় দণ্ড পাবার আশায়।
আমি রায়হানকে জরুরী কাজের বাহানায় ফোন ছাড়তে অনুরোধ করলাম, লাইন কেটে গেলো, কিন্তু মনের ল্যাবরেটরিতে বাস্তবতার ব্যবচ্ছেদতো চলছেই সেই তখন থেকে এখন অব্দি! এটাই হয়ত দেশপ্রেম !!!

©somewhere in net ltd.