নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আরিফ আটলান্টা

আরিফ আটলান্টা › বিস্তারিত পোস্টঃ

জান্নাতি না জাহান্মাী

১৬ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৪


একবার একজন মানুষ মদ পান করে মারা যায়। আর একই সময়ে এক নারী আত্মহত্যা করে। তাদের দু’জনের জানাজা একই মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়।


তখন কিছু লোক ইমাম আবু হানিফা রহঃ -কে জিজ্ঞেস করলেন: তারা কি জান্নাতে যাবে নাকি তাদের শেষ পরিণতি হবে জাহান্নাম?

তিনি চাইলে- তখন মানুষকে উত্তেজিত করে নানা শাস্তির আয়াত বর্ণনা করে উত্তর দিতে পারতেন। মানুষকে নানা ফ্যাসাদে জড়িয়ে রাখতে পারতেন। কারণ মদ পান করা গুনাহ। আর আত্মহত্যা করা বড় পাপ।


কিন্তু আবু হানিফা বুঝেছিলেন, মানুষের পরিণতি নির্ধারণ করা তাঁর কাজ নয়। তাঁর কাছে জান্নাত খোলার চাবি কিংবা জাহান্নাম বন্ধ করার তালা একটাও নেই। আর তিনি নিজে মানুষের নিয়ত বা শেষ পরিণতির বিচারকও নন।

তখন তিনি প্রজ্ঞাপূর্ণভাবে বললেন। আমি তাদের ব্যাপারে সেই কথাই বলি যা ইবরাহিম আঃ বলেছেন:
যে আমার অনুসরণ করে, সে আমার অন্তর্ভুক্ত। আর যে আমার অবাধ্য হয়, নিশ্চয়ই তার রব পরম ক্ষমাশীল এবং দয়ালু।

আর আমি তাদের ব্যাপারে সেই কথাই বলি যা ঈসা আঃ বলেছেন:
তুমি যদি তাদের শাস্তি দাও, তারা তো তোমারই বান্দা। আর যদি তুমি তাদের ক্ষমা কর, তবে নিশ্চয়ই তুমি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।

আর আমি তাদের ব্যাপারে সেই কথাই বলি যা নূহ আঃ বলেছেন:
তাদের সব হিসাব তো আমার রবের কাছেই আছে। যদি তোমরা বুঝতে পারো।

এভাবে তিনি অত্যন্ত প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার সাথে বিষয়টি আল্লাহর উপর ছেড়ে দিলেন এবং নিজের অবস্থানকে শুধু একজন বান্দার সীমার মধ্যে রাখলেন।

তিনি কারও পরিণতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি। আল্লাহর রহমতের দরজাও বন্ধ করেননি এবং নিজেকে স্রষ্টার আসনেও বসাননি।

আজকের দিনে মানুষের বড় একটি পরীক্ষা হলো- অনেকে সুযোগ পেলেই খুব দ্রুত অন্যদের বিচার করতে এগিয়ে আসে। নিজেদের ইচ্ছামতো জান্নাত-জাহান্নাম বণ্টন করে এবং নিজেদের আল্লাহর রহমতের অভিভাবক মনে করে।

মানুষ কারো কাজ বা চিন্তার সমালোচনা করতে পারে। কিন্তু কারও সম্পর্কে এই ফয়সালা কখনো দিতে নেই - সে জান্নাতে যাবে নাকি জাহান্নামে। কারণ এটা একমাত্র আল্লাহরই সিদ্ধান্ত।

কারণ তিনিই জান্নাত ও জাহান্নামের মালিক।

তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি সবার চেয়ে অধিক দয়ালু। তিনি প্রজ্ঞা ও ন্যায়ের সাথে যা ইচ্ছা তাই করেন। আর আমরা তাঁর বান্দা, আমরা তাঁর গোলাম। আমাদের সীমা জানা উচিত এবং তা অতিক্রম করা কক্ষণোই উচিত নয়।

কিন্তু আমরা কি করি ?

অন্যের মৃত্যু নিয়ে তামাশা করি-যেন নিজে কখনো মারা যাবোনা। অন্যের পাপ অন্বেষণ করি , যেন নিজে পাপী না। আর অন্যকে এতো সহজেই দোযখে পাঠাই যেন নিজে জান্নাতি ছাড়া আর কিছুই না।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ২১ শে মে, ২০২৬ রাত ২:৪১

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: তাঁর কাছে জান্নাত খোলার চাবি কিংবা জাহান্নাম বন্ধ করার তালা একটাও নেই।
...............................................................................................................
এটাই বাস্তবতা,
আমরা কেহই জানিনা, কার আমল কি ছিল
কে জান্নাতি বা জাহান্নামী?
অথচ আমরা দেখলাম,
কেউ কেউ জান্নাতের টিকিট বিক্রি হচ্ছে ।
আরও দু:খজনক এই যে, এই কাজে বেশ কিছু মহিলারা
প্রচারে লিপ্ত ছিলো ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.