নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আরিফ আটলান্টা

আরিফ আটলান্টা › বিস্তারিত পোস্টঃ

খেদমতে খোদা মিলে

১৯ শে মে, ২০২৬ রাত ২:৪১

আমাদের কাছে তেমন পরিচিত না। কিন্তু ডা. হুসাম মুআফি মিশর ও আরব বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের একজন।
তিনি যখনই কোনো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হতেন এই ঘটনাটি প্রায়ই শেয়ার করতেন।


তিনি বলেন, একবার বিখ্যাত স্কলার শায়খ আশ-শারাওয়ি তাকে ফোন করে বলেন- তিনি শারীরিক চেকআপের জন্য একবার তার ক্লিনিকে আসতে চান ।

ডা. হুসাম লজ্জা পেয়ে বলেন- না স্যার। আপনার বয়স হয়েছে। আপনি কেন কষ্ট করে আসবেন। আমি নিজেই আপনার বাড়িতে গিয়ে আপনাকে দেখে আসবো। এর কয়েকদিন পর তিনি তাঁর শিক্ষা গুরুর কাছে যান।


ডা. হুসাম তাঁকে পরীক্ষা করে তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন।

পরীক্ষা শেষে তিনি তাঁর শিক্ষাগুরুর কাছে জানতে চান। আচ্ছা বলুনতো - এমন কোন ইবাদত সবচেয়ে উত্তম যা আমাকে আল্লাহর নিকটবর্তী করবে।

শায়খ বলেন- তুমি আমার বিখ্যাত ছাত্রদের মধ্যে অন্যতম। খুবই মেধাবী এবং বিচক্ষণ। কাজে তুমি নিজেই বলো- কোন ইবাদত সবচেয়ে উত্তম?
আমি বললাম- নামাজ?
শায়খ বললেন:না।
আমি বললাম- রোজা?
শায়খ বললেন : না।
আমি বললাম- হজ্ব ।
শায়খ এবারও বললেন: না।

তারপর শায়খ বললেন: সবচেয়ে উত্তম ইবাদত হলো—মানুষের মন ভাঙা থেকে বাঁচানো আর তাদের মন জোড়া লাগানো।


ডা. হুসাম বললেন: কিভাবে স্যার। এর প্রমাণ কী? দয়া করে আপনি ব্যাখ্যা করুন।

শায়খ বললেন: আল্লাহ কুরআনে বলেছেন- তুমি কি দেখেছ তাকে, যে দ্বীনকে অস্বীকার করে?
সে কী করে?
সে এতিমকে ধাক্কা দেয়। মানে তার মন ভেঙে দেয় এবং মিসকিনকে খাওয়াতে উৎসাহ দেয় না। অর্থাৎ দরিদ্রদের দূরে সরিয়ে দেয়। ফলে তাদের মন জুড়ায় না।
এরপরেই বলা হয়েছে-
অতএব ধ্বংস সেই নামাজীদের জন্য।
অর্থাৎ প্রথমে দুইটি বিষয়। মানুষের মন ভাঙা ও তাদের প্রতি নিষ্ঠুরতা। এরপর নামাজের কথা এসেছে।


ডা. হুসাম বলেন, আমি আমার এই শিক্ষা গুরুর উপদেশটি সারা জীবনের জন্য মনের মাঝে গেঁথে রাখলাম।

পরদিন ছিল আমার ছুটির দিন। আমি অভ্যাস অনুযায়ী বাজার করতে বের হলাম। স্ত্রীর জন্য সবজি, রুটি, মাংস ইত্যাদি কিনতে।

ফিরে আসার সময় হঠাৎ এক প্রতিবেশীর ফোনের কথা মনে পড়ল।

তিনি বলেছিলেন: ডাক্তার সাহেব, আমার মা জননী আপনার হাসপাতালে ভর্তি। দয়া করে একবার দেখে আসবেন। আপনি একটু উনার খোঁজ নেবেন।

আর তখনই আমার শিক্ষা গুরুর কথা মনে পড়লো। সুযোগ পেলেই "কারও মন জুড়াও।”
আমি ভাবলাম, এটি যেন আমার রবের পক্ষ থেকে একটি সরাসরি বার্তা।
তাই আমি ঘরে বাজার সদাই রেখে হাসপাতালে গেলাম আমার প্রতিবেশীর মন রাখার জন্য।

হঠাৎ হাসপাতালে থাকাকালীন আমার বুকে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। আমি বুঝলাম আমার হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে । সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারকে ডেকে প্রয়োজনীয় জরুরি ব্যবস্থা নিলাম।

এই অ্যাটাক যদি হাসপাতালের বাইরে হতো বা আমি যদি সেখানে না যেতাম তাহলে আমি সঙ্গে সঙ্গেই হয়তো মারা যেতাম। কারণ, করোনারি আর্টারির ব্লক হলে কয়েক মিনিটের মধ্যে মানুষ মারা যেতে পারে।

সুবহানাল্লাহ! আল্লাহর অসীম দয়ায় মনে হলো আমি নতুন জীবনই ফিরে পেলাম। আমি বিছানায় শুয়ে বুকের উপর বালিশ রেখে সিজদা অবনত হলাম। আমার চোখ দিয়ে অশ্রু বইতে লাগলো।


আল্লাহ যেন সরাসরি আমাকে বলছেন—
তুমি একজন অসহায় , অসুস্থ রোগীর মন রেখেছো, তাই আমিও তোমার জীবন রক্ষা করেছি।

ইবাদতগুলো যেন একেকটি গোপন দরজার মতো।
নামাজ একটি দরজা, রোজা একটি দরজা, মানুষের মন জুড়ানো আরেকটি দরজা।
আল্লাহর সাথে অন্তত একটি দরজা খোলা রাখো। কারণ তুমি জানোনা- তুমি কোন দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে।


এক টুকরো মাছ যদি তুমি একটি বিড়ালকে দাও। তাও তোমার জান্নাতে যাওয়ার কারণ হতে পারে।

সুফি সাধকরা বলেন- যে গরীব, দুঃখি, অনাথ, মিসকিন, ফকিরের মন জুড়ায়, আল্লাহ তাকে বিপদের মাঝেও রক্ষা করেন।

আল্লাহ লজ্জা পান তার সেই বান্দার কাছে, যে মানুষের মন জুড়ায় অথচ আল্লাহ তার মন জুড়ান না।
তাই, মানুষের মন জুড়ানোর চেয়ে উত্তম ইবাদত আর নেই।

কিন্তু এর মানে এটা না যে নামাজ, রোজা, হজ্ব ,যাকাত এসব ফরজ জিনিসগুলো আদৌ বাদ দেয়া যাবে। কিংবা ক্ষণিকের জন্য হলেও বাদ দেয়ার চিন্তাও মাথায় আনা যাবে।

একবার এক বৃদ্ধা মহিলা নবীর পিছনে নামাজ পড়তে চেয়েছিলেন কিন্তু হাঁটতে পারছিলেন না। নবী সাঃ নিজে তার বাড়িতে গিয়ে তার সাথে নামাজ পড়িয়েছেন। যদি না তার মন ভেঙ্গে যায়। চিন্তা করেন নবীর হৃদয়ের কোমলতা কত গভীর আর কত প্রশস্ত ছিলো। মানুষের দিলে তিল পরিমাণ দুঃখ নিয়ে তিনি চিন্তিত ছিলেন।


নবী সাঃ বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ কিছু মানুষকে বিশেষ নিয়ামত দেন, যাতে তারা অন্যদের উপকারের কারণ হতে পারে ।
আর মানুষের মন জুড়িয়ে দেওয়ার মতো উপকারতো অন্য কিছুতে নেই।

যে মানুষের মন জুড়ায়, যদি সে ভাঙা অবস্থায় আল্লাহর কাছে যায়—আল্লাহ তাকে উড়ন্ত অবস্থায় ফিরিয়ে দেন।


মানুষকে বানানো হয়েছে নরম কাদা মাটি দিয়ে।

তাই আমরা যেন জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবার প্রতি নরম এবং কোমল হই। কারো সুখের কারণ হতে না পারি। কিন্তু কোনো মানুষের অভিশাপ কিংবা অশ্রুর কারণ যেন না হই।

রুমি বলেছেন-
ও মানুষ- দিল নরম রাখো, অহঙকার যাও ভুলে
সৃষ্টির কর সেবা। কারণ খেদমতেই খোদা মিলে।



মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ২১ শে মে, ২০২৬ রাত ২:৩২

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: মানুষের মন ভাঙা ও তাদের প্রতি নিষ্ঠুরতা
................................................................
আপনি বলুন, আমরা প্রতিদিনই অমানুষ হচ্ছি,
এমন ঘটনাও দেখেছি, পাশের বাড়ীতে মৃত্যুর শোক চলছে
পাশের বাড়ীতে তখন জোরালো ভলিউমে উদ্দাম নৃত্য হচ্ছে ।
আরও দু:খজনক ঘটনা দেখেছি, একটা গরু কোরবানী দিয়েছে
অথচ পাশের বাড়ীতে গরিব পড়শী মাংশ পেলনা ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.