নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আশিকুর রহমান ১৯৮৭

Open minded

আশিকুর রহমান ১৯৮৭ › বিস্তারিত পোস্টঃ

কিছু প্রশ্ন!!!

০৫ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ৯:২৬

গতকালকের প্রায় সব কয়টা পত্রিকায় একটা সংবাদ এসেছিল খুব ছোট করে, যদিও সংবাদটার গুরুত্ব কোন অংশেও কম নয়। “ডাক্তারের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু”, এটা খুব পরিচিত হলেও “হাসপাতালে অবহেলায় চিকিৎসকের মৃত্যু” এই সংবাদটা আমাকে বিস্মিত করলো।

বিশিষ্ট হৃদরোগ চিকিৎসক ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক এম মাজহারুল ইসলাম (৪৪), গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। মাজহারুল ইসলাম পাইলসের (অর্শ) অস্ত্রোপচার করাতে গত ২৩ ডিসেম্বর ঢাকার পান্থপথের গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানেই তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, ওই হাসপাতালের চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুলের কারণেই মাজহারুল মারা গেছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটিও তাদের প্রতিবেদনে একই কথা বলেছে। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

মাজহারুল ইসলামের ছোট ভাই ইউএনডিপির কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ২৪ ডিসেম্বর গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে চিকিৎসক এস কে আবু জাফর ও মাহবুবুল হাসান তাঁর ভাইয়ের অস্ত্রোপচার করেন। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পরপরই তাঁর ভাই হূদেরাগে আক্রান্ত হন। সংকটাপন্ন অবস্থায় ওই দিন রাতেই তাঁকে ল্যাবএইড হাসপাতালে নেওয়া হয়। এক সপ্তাহ চেষ্টা করেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

মাজহারুল ইসলামের বাবা এস এম শওকত আলী, স্ত্রী শামিমা সুলতানা, ছোট বোন শামীমা সুলতানা, ভগ্নিপতি মোহাম্মদ ফারুক প্রত্যেকেই চিকিৎসক। তাঁরা সবাই অভিযোগ করেছেন, হাসপাতালের চিকিৎসকদের অবহেলায় মাজহারের মৃত্যু হয়েছে।

মাজহারুল ইসলামের ভগ্নিপতি ল্যাবএইড হাসপাতালের আইসিইউ পরামর্শক মোহাম্মদ ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, ‘২৩ তারিখ দুপুর দুইটায় মাজহারের ক্লোনোস্কোপির একটি অস্ত্রোপচার হয়। সে সময় তাঁকে পুরোপুরি অজ্ঞান করা হয়েছিল। এরপর ২০ ঘণ্টার ব্যবধানে তাঁর পাইলসের অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে আবারও তাঁকে পুরোপুরি অজ্ঞান করা হয়। অথচ এ ক্ষেত্রে আংশিক অজ্ঞান করলেই চলত। আসলে ভুল চিকিৎসা আর অবহেলার কারণেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাজহারের মৃত্যু হয়েছে।’

গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক মোস্তফা কামাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘মাজহারুল ইসলাম খুবই ভালো এবং জনপ্রিয় চিকিৎসক ছিলেন। তিনি আমাদের হাসপাতালেরও হৃদরোগ বিভাগের পরামর্শক ছিলেন। আমরাও তাঁকে স্পাইনাল অ্যানেসথিয়া (শরীরের নিচের অংশের অবশ) করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি বলেন, “শরীরের নিচের অংশ অবশ করে জামা-কাপড় খুললে আমার খারাপ লাগবে। পুরোপুরি অজ্ঞান করেন।” তাঁর কথায়ই তাঁকে পুরোপুরি অজ্ঞান করা হয়।’

মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আধা ঘণ্টা অস্ত্রোপচার হয়। বিকেল চারটা ৪০ মিনিটের দিকে তাঁকে পোস্ট অপারেটিভে নেওয়া হয়। এ সময় তিনি নার্সদের কথায় সাড়া দিয়েছেন। কিন্তু কয়েক মিনিট পরেই তাঁর রক্তচাপ (ব্লাড প্রেশার) দ্রুত নামতে থাকে। পাঁচটা-সোয়া পাঁচটার দিকে সব চিকিৎসক এসে অক্সিজেন দেওয়া, ইনজেকশন দেওয়াসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেন। দ্রুত আবার সব স্বাভাবিক হয়। ছয়টার দিকে তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়। কিছুক্ষণ পর আবার তাঁর রক্তচাপ কমে যায়। খবর পেয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে আসেন। তাঁরা তাঁকে এখান থেকে ল্যাবএইড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।’

মোস্তফা কামাল বলেন, ‘ল্যাবএইডে নেওয়ার পথে তাঁকে কেবল অক্সিজেন দেওয়া হয়েছিলে। পান্থপথ থেকে ল্যাবএইডে নেওয়ার এই সময়টায় তাঁর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের আরও ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে। পরদিন আমরা জানতে পারি, তিনি আসলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এমন মৃত্যু আসলেই আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যের।’

এবার দেখা যাক প্রতিবেদনের দিকগুলা----

(১) হতভাগা মানুষটা আপনার আমার মতন সাধারন মানুষ না। তিনি নিজেও একজন ডাক্তার। যাদের অবহেলায় তার করুণ পরিণতি, তারা তারই সহকর্মী।

(২) একজন ডাক্তার কিভাবে বলতে পারেন “শরীরের নিচের অংশ অবশ করে জামা-কাপড় খুললে আমার খারাপ লাগবে। পুরোপুরি অজ্ঞান করেন।” এটা কোন সাধারন রোগী বললে মানা জেত, কিন্তু একজন ডাক্তার কিভাবে বলতে পারেন, সেটা আমাদের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করতে বলেন?

(৩) ধরলাম, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সঠিক বলেছেন। আমি একজন সাধারন নাগরিক হিসাবে বলতে চাই, এক্ষেত্রে তাকে ঘুমের ওষুধ দিয়ে আংশিক অবশ করলে হতোনা?

(৪) অভিযোগ এনেছে তার পরিবারের সদস্যরা, যারা নিজেরাও ডাক্তার। তারা ভাংচুর বা সহিংসতায় না গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করলে মন্ত্রনালয়ের তদন্তেও এর সত্যতা মিলে।

(৫) ফেসবুক এ ডাক্তারদের বিভিন্ন ফোরামে অন্যান্য সময় কোন রোগী মারা গেলে রোগীর স্বজন দ্বারা নিগৃহীত হলে প্রতিবাদের ঝড় তুললেও আজ চুপ কেন?

(৬) এটা আমাদের চিকিৎসা ক্ষেত্রে অবহেলার দিকটা কি তুলে ধরেনা।

আমার এই প্রশ্নগুলার জবাব কেউ দিলে আমি বাধিত হব এবং আমি ভবিষ্যতে এই বিষয়গুলা নিয়ে আরও লেখার ইচ্ছা প্রকাশ করছি।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.