| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
গতকাল কাদের মোল্লা ওরফে কসাই কাদের নামে সমধিক পরিচিত মিরপুর এ, তার যখন ফাঁসির আদেশ না হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ হল আমি খুব বেশি একটা অবাক হইনাই। কারন যেই অপরাধগুলো তার বিরুদ্ধে প্রমানিত, তাকে যে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দন্দিত করা হয়েছে, প্রায় একই (ক্ষেত্র বিশেষে তার চেয়ে কম) অপরাধে মাত্র কয়েকদিন আগেই আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ হয়, যদিও কসাই কাদেরের বিরুদ্ধে সেটা হয়নাই। আইন অনুযায়ী প্রত্যেকটা অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান আছে যদি অপরাধ প্রমানিত হয়। এক্ষেত্রে দেখা যায় কসাই কাদের এর অপরাধের ক্ষেত্রে লঘু শাস্তিগুলাই প্রদান করা হয়েছে, যদিও শাস্তি এক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধান পর্যন্ত রয়েছে।
আমি আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে কিছু বলছিনা, কারন বিজ্ঞ আদালত আইন অনুযায়ী রায় দিয়েছেন। কিন্তু এখানে কিছু প্রশ্নের অবকাশ থাকে। প্রথমত সন্মানিত বিচারকদ্বয় রায় প্রদানের সময় উল্লেখ করেছেন সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমানিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হল। অবশ্যই তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা যেত, কারন মাত্র কয়েকদিন আগেই একই আদালত বাচ্চু রাজাকারকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছিলেন। সেখানে বাচ্চু রাজাকারের অপরাধ এর চেয়ে বেশি কিছু ছিলনা।
বিজ্ঞ আদালত ভাল জানেন কেন তারা এই রায় দিয়েছেন। আইনের ভিতর থেকেই তারা রায় দিয়েছেন। এটা নিয়ে বলার কিছু নেই। কিন্তু ইতিবাচক দিক হচ্ছে এটাই, এই রায়ের পরপরই সাধারন মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েছে। তারা আশা করেছিল এই রায়ে বাচ্চু রাজাকারের মতন কসাই কাদেরেরও ফাঁসি হবে। যখন বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির আদেশ হল সাধারন মানুষ খুশী হয়েছিল, কিন্তু কসাই কাদেরের রায়ে যাবজ্জীবন হওয়াতে মানুষ হতাশ এবং জামাত ও কসাই কাদের খুব খুশি। এটার প্রমান পাওয়া যায় যখন দেখা যায় রায়ের পর বের হয়ে আসার সময় কাদের মোল্লাকে ভি (বিজয়ের চিহ্ন) গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশের।
রায়ের পরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে সাধারণ মানুষ। শাহবাগ চত্বরে সাধারন ব্লগাররা মিলে যেই মানববন্ধন শুরু করেছিল, তা আজ সারাদেশ এ ছড়িয়ে পড়েছে। আমি এই আন্দোলন দেখে আশান্বিত এই যে, বাংলাদেশকে আফগানিস্তান/পাকিস্তান করার যে ষড়যন্ত্র চলছিল তা প্রতিহত করার মতন মানুষ এই প্রজন্মেও আছে। যে জাতি নিজেদের ইতিহাস ভুলে সেই জাতি কোনোদিন মাথা উঁচু করে দাড়াতে পারেনা। আর যারা ধর্মের নামে মানুষের জীবন এবং জানমাল নিয়ে খেলে, তারা কোনদিন এই দেশের আপামর জনসাধারণের কাছে সন্মান পাবেনা।
আমার অনেক বন্ধু আছে যারা আওয়ামীলীগ করেনা, বিএনপি এর সমর্থক তারা পর্যন্ত আজকে শাহবাগের সমাবেশে অংশগ্রহণ করছে। এটাই প্রমান করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আজ জনদাবি। দল-মত নির্বিশেষে, শুধুমাত্র তাদের অনুসারীরা ছাড়া। ছড়িয়ে পড়ুক এই আন্দোলন সারা বাংলাদেশ জুড়ে, এই প্রত্যাশা এখন সবার।
আমি ধর্মের বিরুদ্ধে বলবনা, বলছিনা। কিন্তু আমি বলছি তাদের বিরুদ্ধে যারা ধর্মের নামে জুলুম করছে, জনগনের জান-মালের উপর আঘাত হানছে। আমি তাদের বিরুদ্ধেই বলছি। রাব্বুল আলামিন এর নিকট আমার প্রার্থনা, তুমি এই ভণ্ড ইসলামিক লেবাসধারিদের ইসলামের সঠিক পথ দেখাও।
রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ, গর্জে উঠো আরেকবার, দেশকে শত্রুমুক্ত করার এটাই শেষ সুযোগ। বাংলাদেশ হয়ে উঠুক অন্যায়ের প্রতিবাদের আর একটা মডেল। আমরা দেশকে দেখতে চাইনা পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মতন পরাজিত একটা দেশের মতন। সবাই আসুন যোগ দেই আমরা দল-মত নির্বিশেষে এই আন্দোলনের কাতারে।
২|
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ২:৩৩
আশিকুর রহমান ১৯৮৭ বলেছেন: ভাই ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে। সুতরাং এখন যে আন্দোলন দানা বেঁধেছে তা যেন অচিরেই বিনষ্ট না হয় সে দিকে আমাদের সকলকে সজাগ দৃষ্টি রাখতেই হবে।
©somewhere in net ltd.
১|
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ২:২৫
রামিজের ডিপফ্রিজ বলেছেন: ১৯৭১ সালে রাজাকার আল বদর আল শামসের হাতে নিহত মানুষদের নিয়ে ভারতীয় সেনা বাহিনী অনেকগুলো ডকুমেন্টারী তুলেছিল; সেগুলো এখনও ভারতের জাতীয় আর্কাইভে আছে। শোনা যায় যে ভারতের কিছু বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকারকে এগুলোর বাছা বাছা অংশ দেখতে দেওয়া হয়েছিল। কেউই পুরোটা দেখতে পারেননি, একজন পাগল হয়ে গিয়েছিলেন।
এই ডকুগুলি বাংলাদেশ সরকার যদি নিয়ে গিয়ে বিচার চলাকালীন আদালতে ও গণমাধ্যমে প্রচার করত তাহলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস যেটুকু সমর্থন এসব যুদ্ধাপরাধীরা এখনও পাচ্ছে সেটুকুও পেত না।