নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অশোকবিজয়- বাংলা ব্লগ

অশোক বিজয়

মস্তিষ্ক শূণ্য নয়, তরতাজা লোহিতের নিস্পন্দ বিচরণ টের পেলে কে বলে রক্তহীন চণ্ডাল, কোষে কোষে ডাল- বেড়ে ওঠা বৃক্ষের যার সাথে মাটির বন্ধন ঠিক মায়ের মতন সূর্যকে ছুঁতে চায় মাতালের মন, ব্যবহারে কার প্রয়োজন? সে তাকে নির্গুন করো কৃষ্ণ যতন।

অশোক বিজয় › বিস্তারিত পোস্টঃ

ফেক্ট

০৯ ই মার্চ, ২০১৩ দুপুর ১২:০০

ধর্ম-মূলে আঘাত কোনো ব্যক্তির বা গোষ্ঠীভুক্ত জনশক্তির জাতীয়তাবাদী অবস্থানের ভিত্তি-মূলকে ধোঁয়াটে করে যা দেশ কাল ও জাতীয় ঐক্যের বিষয়ভিত্তিক সমস্যা নিরূপনে ও সমাধানে রেস্টরেইন্ট হিসেবে কাজ করে ৷

মওদুদী চেতনালালিত মৌলবাদী গোষ্ঠী নির্লজ্জ হাতিয়ার স্পর্শকাতর ধর্মগ্রন্থের মিথ্যানুবাদী প্রচার ও প্রসারে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থের প্লাটফর্ম তৈরী করতে অতিউৎসুক ও হাইসেন্টিমেন্ট মর্ডারেট মৌলবাদী শ্রেণীকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রে সহিংসতা ছড়িয়ে দেয়; সঙ্গত কারণেই যার প্রথম এবং মুখ্য টার্গেট হয় সমাজের মোট জনশক্তির একটি ক্ষুদ্র অংশ যাদের আইডোলজি ও রিলিজিয়াস বিলিফ ভিন্ন হয়ে থাকে ৷ মৌলবাদের চরিত্র ফ্যাসিস্ট এবং প্রোগ্রেসিভ ইকোনমিতে এদের ভূমিকা হয়ে থাকে দূর্বল বা ক্ষীন শক্তিসম্পন্ন অন্যদিকে মর্ডারেট বা কনজার্ভেটিভ ইকোনমিতে এরা অধিক শক্তিশালী এবং সক্রিয় ৷



বাংলাদেশে উগ্র মৌলবাদী শক্তি সুবিধাবাদী জামায়াতে ইসলামী ও তার ট্যারোরিস্ট অঙ্গ সংগঠন ছাত্র শিবির স্বাধীনতা পরবর্তী যে কোনো সময়ের চেয়ে '১৩ র গণ অভ্যুত্থানে প্রথমবারের মতো নিজেদের প্রশ্নবিদ্ধ অস্তিত্বকে কোনঠাসা হতে দেখছে ৷ এই মুহুর্তে নিজেদের নড়বড়ে বিপন্ন অস্তিত্ব রক্ষায় উগ্র দক্ষিনপন্থীদের স্বভাবসিদ্ধ সর্বশেষ হাতিয়ার সাম্প্রদায়িক সহিংসতাকে উস্কে দেওয়ার নিমিত্তে সারাদেশে জঙ্গিবাদী আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে ৷ প্রেক্ষাপট দৃষ্টে, এইমুহুর্তে বাংলাদেশে কোনমাত্রাতেই সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের সম্ভাবনা নেই ৷



যদিও বিষয়টি সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের রূপ নিবে না কিন্তু উদ্ভুত অস্থিতিশীলতা প্রভাব ফেলবে গণআন্দোলনে ৷ ধর্মানুভূতিতে আঘাত ব্যক্তির সাইকোলজিক্যাল স্ট্যান্ডিং পয়েন্টকে দূর্বল করে দেয় তখন রাষ্ট্রের আগে ধর্ম তার অবস্থান নিয়ে নেয়, এ অবস্থায় দ্বিধাগত বিভাজন সৃষ্টি হয় যার রিভার্স প্রভাব সতঃস্ফূর্ত এই গণআন্দোলনকে দূর্বল করে দিতে পারে ৷



যে আন্দোলন অপশক্তির ভিত্কে কাঁপিয়ে দিয়েছে, নিশ্চিহ্ন করবার প্রতিজ্ঞা নিয়েছে, যে আন্দোলন বাংলার অলিতে গলিতে, যে আন্দোলন মায়ের কোলে হাসিমুখে শুয়ে থাকা শিশুকেও উদ্বেলিত করেছে, যে আন্দোলন বাংলায় বিপ্লবের ধারাবাহিকতাকে স্মরণ করিয়ে দেয়, যে আন্দোলন আমাদের চিনতে শিখিয়েছে শুভ ও অশুভ শক্তির প্রিয়জনকে; এমন অগ্নিঝরা গণজোয়ারের আন্দোলনকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করে তার সমস্ত শক্তি ধ্বংস করাই যে উগ্র জঙ্গিবাদী সংগঠনটির বর্তমান উদ্দেশ্য, তা দুর্বোধ্য নয় ৷



একটি নির্দিষ্ট ধর্ম বিশ্বাসী গোষ্ঠীর ওপর মৌলবাদী অপশক্তির স্বভাবসুলভ শোষণ নির্যাতনকে সময়ের বিচারে এইমুহুর্তে সাম্প্রদায়িক আগ্রাসন হিসেবে না দেখার অনুরোধ করছি, সামগ্রিক চিত্র থেকে এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন করবার অবকাশও নেই ৷ তারা যেমন দূর্বল মানুষের বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দিচ্ছে, তেমনি জ্বালিয়ে দিচ্ছে জাতীয় পতাকা, শহীদ মিনার গুড়িয়ে দিচ্ছে যেমন, তেমনি মূর্তি ভেঙ্গে লুটে নিচ্ছে দেবালয় ৷

এরা রাষ্ট্রদ্রোহী অপশক্তি, নির্দিষ্ট কোনো ধর্মকে রিপ্রেজেন্ট করে না, এরা ধর্মের পরিচয়কে শুধু ব্যবহার করে, মূলত এদের ধর্ম সুবিধাবাদ ৷ এরা হিন্দুকে মারে, বৌদ্ধকে মারে, মুসলিমকেও মারে যখন স্বীয় স্বার্থে প্রয়োজন পড়ে ৷



উদ্ভুত বর্তমান পরিস্থিতি এক ও অভিন্ন একটি রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক ইস্যু ৷ এখানে সংখ্যালঘু অথবা সংখ্যাগুরু প্রাসঙ্গিক কোনো বিষয় নয় ৷ রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করা হচ্ছে, দুখী মানুষ বাস্তুহারা হচ্ছে, ঘন ঘন হরতাল ডেকে দেশকে অচল করে দেওয়া হচ্ছে, দূর্বল অর্থনীতির মেরুদন্ড ভেঙ্গে যাচ্ছে, রাষ্ট্রযন্ত্র তার চালিকা শক্তি হারিয়ে ফেলবে, সরকার নির্ধনী হবে একদল ধনিক শ্রেণী হঠাৎ চলে আসবে সামনের কাতারে, তারা আমাদের চালিকা শক্তিতে হাত বুলাবে, তখন আমরা তাদের দেখতে পাবো এবং আমরা দেখবো সেই শক্তিমান শ্রেণীটিকে যার রাজনৈতিক অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন করতে কোনো এক ২০১৩ সনে গণজাগরণ হয়েছিল তারপর সময় ফেরে আমাদের ঘরবাড়ি যাবে, বাস্তুহারা মানুষগুলো দেখবে তার উপার্জন ক্ষমতা নাই, উৎপাদনের শক্তি নাই, আমরা তখন সব হারা সর্বহারা ৷ বিশাল জনগোষ্ঠীর আমরা সবাই সর্বহারা, কেউ পরিচয়ে বলতে যাবে না আমি হিন্দু মুসলিম বা বৌদ্ধ, একটাই পরিচয় হবে সর্বহারা ৷



অনেকদূর গেছি কিন্তু এইমুহুর্তে এমন একটা কিছুরই প্রয়োজন সব পরিচয়কে আড়াল করে একটাই পরিচয় স্বাধীন বাংলাদেশের চেতনা লালিত বাঙালি ৷ আমাদের রাষ্ট্রকে জঙ্গিবাদের আস্তানা হতে দেওয়া যাবে না ৷ রাষ্ট্র ভিন্ন ধর্ম নাই ৷ একটি আদর্শ রাষ্ট্রই ধর্মগ্রন্থ এবং ধর্মালয়কে সুরক্ষিত রাখতে পারে, মানুষকে নিরাপদ ও সুষ্টুভাবে ধর্ম পালনে সহায়তা দিতে পারে ৷



আমরা এমন একটি রাষ্ট্র বিনির্মাণের অঙ্গীকার নিয়েছি যেখানে আমার আপনার ভবিষ্যত প্রজন্মকে নির্মম সহিংসতা দেখে আতঙ্কিত হতে হবে না আর ৷



আসুন রাষ্ট্রকে রক্ষা করি, তার অর্থনীতিকে রক্ষা করি, ঐক্যবদ্ধভাবে রাষ্ট্রদ্রোহী অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করি ৷ আমরা পরীক্ষিত সৈনিক, জয় আমাদের হবেই ৷



জয় বাংলা..

জয় সর্বহারা..

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.