নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ইঞ্জি। আতাউর রহমান

ইঞ্জি। আতাউর রহমান › বিস্তারিত পোস্টঃ

ঈদ‬

১২ ই জুলাই, ২০১৬ বিকাল ৫:৫৩

আনন্দের বার্তা নিয়ে প্রতি বছরই আমাদের মাঝে ঈদ আসে। আবার সপ্তাহ পার না হতে হারিয়ে যায় সেই ঈদের আনন্দ। ছোট কাল থেকেই ঈদের এই আসা যাওয়া খেলা দেখছি। ঈদের কোন পরিবর্তন নেই, সব ঈদের রঙ এক।
কিন্তু ঈদ উদযাপনকারী মানুষগুলোর প্রতি বছরই পরিবর্তন দেখতেছি। সবার আনন্দ উদযাপন পরিবর্তন হচ্ছে।

ছোট থাকতে যেভাবে ঈদ উদযাপন করতাম এখন আর সেইভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারি না। যাদেরকে ঘিরে আগে আমার ঈদ আনন্দ ভরে উঠতো তাদের অনেকেই এখন আগের মত নেই। অনেকে প্রিয় মুখ হারিয়ে গেছে দূর আকাশে। যারা ছিল আমার সব আনন্দের কেন্দ্রবিন্দু। এখন ঈদ দেখামেলে অনেক নতুন মুখ। যেই ঘরগুলোতে দশ বছরেও একটি শিশুর কান্না শুনি নাই সেই ঘরগুলোতে এখন অনেক পুতুল। যাদের না দেখলেই এখন মন ভালো থাকে না। ছোট ছোট চাচাত-মামাত-খালাত-ফুফাত ভাই-বোনদের কাছে পেলে অনেক ভালো লাগে। তাদের মজার মজার আবদার আর দুষ্টামীই এখন সব আনন্দের কেন্দ্রবিন্দু।

ছোট থাকতে যখন ঈদের সময় কাকা-মামারা ভার্সিটি- চাকুরী থেকে ছুটি পেয়ে বাড়ি আসতে। তাদের দেখে অনেক আনন্দ পেতাম। কিন্তু দিন পাঁচেক পার না হতেই যখন চলে যেতেন, তখন ভাবতাম মামা-কাকা ঈদের আনন্দ বুঝে না, তাই আনন্দ উপভোগ না করে বাড়ি থেকে চলে যায়। এখন যখন নিজেই বাড়ি ছেড়ে চলে আসতে হয়, তখন বুঝি মামা-কাকারাও বাড়িতে থাকতে চাইত, কিন্তু বাস্তব জীবন তাদের বাড়ির থাকতে দিত না।

আগে যে ছেলেদের নিয়ে পুরো গ্রাম ঘুরে বেড়াতাম। যে ছেলেগুলোর একমাত্র কাজই ছিল গ্রামে গ্রামে ঘুরাঘুরি, আর দুষ্টামী। সেই ছেলেগুলো এখন অনেক দায়িত্বশীল। ফুফু-বোন-আত্মীয়-স্বজন রাগ করবে তাই তারা তাদের মন রক্ষা করার জন্য আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে চলে যায়। এখন তারা অনেক দায়িত্বশীল। তাদেরকে নিয়ে এখন আর গ্রামে গ্রামে ঘুরা যায় না।

ঈদের দিন লাল টিপ পরা যে মেয়েগুলোকে ঈদগাহ দেখতাম এখন আর তাদের কাউকে দেখতে পাই না। অনেকের বিয়ে হয়ে গেছে। অনেকে আবার বড় হয়ে গেছে, তাই গ্রাম্য লজ্জায় আর ঈদগাহ আসে না। বাড়িতেই তারা সাঁজে, দেয়ালকেই তাদের রূপ দেখায়।

এখনকার ঈদগাহ অনেক নতুন মুখ দেখি। কিন্তু লাঠি নিয়ে, কুঁজো হয়ে ঈদগাহ আসা পুরানো আর কাউকে দেখি না। ঈদগাহ আসা প্রত্যেকের চেহারায় প্রতি বছরই পরিবর্তন হচ্ছে। অনেকর মুখে আবার দাঁড়ি রাখছে, কারো চুল আস্তে আস্তে সাদা হচ্ছে। প্রতি বছরই তাদের মাঝে দেখি পরিবর্তন আসছে।

ঈদে অনেক কিছুর পরিবর্তন হয়ে গেলেও অভিন্নতা শুধু দেখি সকলে মিলে গান গাওয়াটাকেই। আগেরমতই ঈদের সময় দল বেঁধে সকলে লোকশূন্য এলাকায় গিয়ে এক গলায় মিলে গান গাওয়া ঠিক আগের মতই রয়ে গেছে।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.