| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নিজকে এখন পুরো মানুষ মনে হয় না,কিছুটা রোবট ও মনে হয়। তাই আমি মনোবট... অর্ধেক মানুষ আর অর্ধেক রোবট
মা.....আমার মা।
আমার কাছে আমার এই ভুবন সবার কাছেও সবার মা তাই।
যার নেই সেই বুঝে কি হারালাম আর থেকেও দূরে সেও বুঝে মা কি জিনিস...
যারা মায়ের কাছে আছেন,তারা হয়তো বুঝতেই পারছেন না কোন স্বর্গে আছেন।
আজ খুব ইচ্ছে হলো আমার আর মায়ের কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করার।
মায়ের সাথে এতো স্মৃতি হয়তো সব পারবো না শেয়ার করতে তবে চেষ্টা করছি যা যা মনে আসছে এই মুহুর্তে..........................
ছোট বেলায় ভীষন চঞ্চল থাকায় মাকে খুব জ্বালাতন করতাম। এজন্য মা প্রায়ই বলতো -তোকে ফেলে একদিন চলে যাবো,যাতে আর না জ্বালাতে পারিস। আমার কথা তো শুনিস না।
আমি তো চিন্তায় পড়ে গেলাম,মা চলে গেলে কি হবে। আমি বললাম সব সময় তোমার সাথে থাকবো,দেখি কেমন করে যাও। মা বললো - যখন তুই ঘুমাবি তখন চলে যাবো। এখন কি করি ভেবে তো পাই না,কারন ঘুমালে যদি সত্যি ই চলে যায়...![]()
সে জন্য যখন ই মা'র পাশে ঘুমাতে ছোট্ট হাতটা মায়ের চুড়ির ভিতরে ঢুকিয়ে চুড়িটা শক্ত করে ধরে ঘুমাতাম,যাতে আমায় ফেলে যেতে না পারে। ![]()
যাতে হাত সরানোর সময় আমার হাতে টান পড়ে,আমি জেগে যাই। কি বুদ্ধি......![]()
![]()
খাওয়া-দাওয়া নিয়ে তো কত বাহানা,কত অজুহাত দিতাম তার কোন ইয়াত্তা নেই। মা আমায় দুধ খেতে বলতো। আমার ভালো লাগতো না। মা তখন বলতো- সারাদিন এত দুষ্টামী করিস তার জন্য তোর শক্তি দরকার। দুধটা খেয়ে নে। মা'কে তখন বিজ্ঞের মতো বলে দিলাম- মা তুমি তো সারাদিন কতো কাজ করো,তোমার না আমার চেয়ে বেশী শক্তি দরকার। আর তুমি যে আমাকে সারাদিন অনেক বকাঝকা করো,তার জন্যও শক্তি দরকার। তুমি দুধটা খাও।
ছোট মুথে এ যুক্তি শুনে মা ফ্যালফ্যাল করে আমার দিকে তাকিয়ে থকতো........![]()
আমার মা আমার নানার বড় মেয়ে। বড় নাতি হওয়ার সুবাধে সবার অনেক আদর পাইছি। নানার তো কলিজার টুকরো ছিলাম। নানা বাড়ীতে যখন থাকতাম তখন ভয় অনেক কম থাকতো,কারন মা কিছুই করতে পারবে না। একদিন কি কারনে যেনো (এখন ঠিক মনে পড়ছে না
) মা নানার সামনে একটা থাপ্পড় মারলো। নানা পাশে ই ছিল এবং নানা মা'কেও একটা থাপ্পড় মেরে বললো- তুই আমার সামনে,আমার নাতিকে মারিস। আমি তখন থাপ্পড়ের ব্যাথা ভুলে মা'কে বললাম- আর মারবা..??? দেখ থাপ্পাড় খেলে ক্যামন লাগে?? মা আর কি করবে তখন না পারে কিছু কইতে না পারে সইতে![]()
![]()
রান্না সম্পর্কে খুব ই স্বল্প জ্ঞান ছিল আমার। একদিন মা চুলায় দুধ বসিয়ে অন্য রুমে কি যেনো করছিলো। আমায় বললো- দেখিস তো দুধটা উৎরায় কিনা.? আমি তখন চুলার পাশে দাঁড়িয়ে আছি কখন দুধ উৎরাবে। আসলে এ সম্পর্কে আমার কোন ধারনা-ই ছিল না। হঠাৎ দেখি দুধটা পাতিলা থেকে ফুলে,ফেঁপে পড়ে যাচ্ছে। চুলা কমাতে গিয়ে নিভিয়ে ফেললাম। তারপর পাতিলটা কাপড় দিয়ে ধরে মা'র কাছে নিয়ে গিয়ে বললাম- দেখ তো দুধ উৎরাইছে কিনা?? মা তখন চোখ বড় বড় করে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল![]()
। আমি অবাক হয়ে ভাবছিলাম আমার দিকে এ্যমন করে তাকানোর কি আছে...!!!
পড়াশুনার জন্য চট্টগ্রাম চলে আসলাম মা'কে ছেড়ে। প্রথম প্রথম খুব খারাপ লাগতো।যদিও অনেক চঞ্চল ছিলাম কিন্তু সব ই ছিল আমার বাবা-মা'কে ঘিরে। আমি যে তাদের একমাত্র সন্তান। চট্টগ্রাম খাকতে একবার পতেঙ্গা সী-বিচের ব্লকের মাঝখানে পড়ে বেশ ভালো ব্যাথা পেয়েছিলাম। কয়েক জায়গায় ব্যান্ডেজ লাগলো। মা'কে তো জানানোর প্রশ্ন ই আসে না। যে দিন সন্ধ্যায় এ্যাকসিডেন্ট করলাম তার পরদিন খুব ভোরে মা আমায় ফোন দিয়ে কোন কথা বলার আগে ই জিজ্ঞাস করলো- বাবা, তুই ভালো আছিস তো? তুই সুস্থ আছিস তো? আমি ভাবলাম হয়তো কেউ মা'কে কিছু বলেছে। আমি খুব স্বাভাবিক ভাবেই বললাম- হ্যাঁ ভালো আছি তো। কেন কেউ কিছু বলছে নাকি? তখন মা আমায় বললো- না কাল তোকে নিয়ে খুব বাজে একটা স্বপ্ন দেখছি। তাই জিজ্ঞাসা করলাম। ভালো থাকিস,সাবধানে থাকিস বাবা। ফোনের লাইনটা কেটে খুব অবাক হয়ে ভাবলাম এর ই নাম মা, এর নাম বুঝি নাড়ীর টান,অকৃত্রিম ভালোবাসা।
খেলাধূলার প্রতি বিশেষ করে ক্রিকেটের প্রতি ভীষন দূর্বল ছিলাম। বেশ ভালোই খেলতাম। মা'র মোটেও ভালো লাগতো না আমার এই ক্রিকেট প্রীতি। কত মাইর যে খাইছি এই খেলার সুবাধে,তার ইয়াত্তা নাই। নানা বিচার আসতো আমার নামে। কত বার যে মা'কে লিখিতো দিসি "আমি আর কখনো মাঠে যাবো না"। কিন্তু যখন ই কোন খেলার ডাক পড়তো কিসের কি.... আমায় আর কে পায়। নিজের রুমে বসে বসে মা'কে পাহারা দিতাম মা কখন একটু সরবে আর আমি চম্পট দিবো। সেজন্য ব্যাট টা রাখতাম আমার জানালার পাশে যাতে বাসা থেকে খালি হাতে বের হলেও বাহির থেকে নেয়া যায়। চোর যদি পুলিশ কে পাহারা দেয়,পুলিশ কি আর পারে.......!!!
আজ মায়ের কাছে খেকে দূরে জীবন-জীবিকার তাগিদে। সেই শাসন আজও আছে,যখন ই বাড়ী যাই,তখনই চলে সে শাসন কারন সন্তান যে কখনো বড় হয় না মায়ের কাছে। আমি যেনো তার সেই ছেট্টটি এখনও। আজও দিনে দু'বার কথা বলতে না পারলে শান্তি পায় না। ফোন রিসিভ না করলে চিন্তায় অস্থির হয়ে যায় নানা বাজে ভাবনায়। এমন করে হয়তো কেউ ভাবেনা এবং ভাববেও না আমায় নিয়ে কারন "মা'র" সাথে কি কারও তুলনা চলে এই ভূবনে..........???
দোয়া করবেন আমার অবুঝ বুড়ো মেয়েটার জন্য
২৫ শে জুন, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০৫
সত্যবাদী মনোবট বলেছেন: ধন্যবাদ.....
২|
২৪ শে জুন, ২০১০ রাত ১১:০১
নিমা বলেছেন: ভালোলেগেছে+++
২৫ শে জুন, ২০১০ বিকাল ৩:৩৭
সত্যবাদী মনোবট বলেছেন: ধন্যবাদ আমার ঘরে আসার জন্য এবং লেখা পড়ার জন্য
৩|
২৫ শে জুন, ২০১০ সকাল ১১:২১
আরিয়ানা বলেছেন: ভাল থাকুন। আপনার মা' এর জন্য ভালবাসা রইলো।
২৫ শে জুন, ২০১০ বিকাল ৩:৩৮
সত্যবাদী মনোবট বলেছেন: আপনিও ভালো্ থাকবেন,অ--অনেক্ক ভালো। ধন্যবাদ
৪|
২৬ শে জুন, ২০১০ দুপুর ১২:৩৫
হতাশার স্বপ্ন বলেছেন: সেইরম লাগল
২৮ শে জুন, ২০১০ রাত ৯:১৬
সত্যবাদী মনোবট বলেছেন:
ধন্যবাদ আপুনি........
৫|
২৮ শে জুন, ২০১০ বিকাল ৩:২০
নীল মুদ্রা বলেছেন: মায়ের কাছে সন্তান সারাজীবন ছোটই থাকে....ভালো লাগলো
২৮ শে জুন, ২০১০ রাত ৯:১৫
সত্যবাদী মনোবট বলেছেন: কেমন আছো আপ্পি...? বাবু সোনার খবর কি? তা ঠিক আমি এখনও পিচকিই বটে.....
৬|
২৮ শে জুন, ২০১০ বিকাল ৪:৫৬
শায়মা বলেছেন: সে জন্য যখন ই মা'র পাশে ঘুমাতে ছোট্ট হাতটা মায়ের চুড়ির ভিতরে ঢুকিয়ে চুড়িটা শক্ত করে ধরে ঘুমাতাম,যাতে আমায় ফেলে যেতে না পারে। যাতে হাত সরানোর সময় আমার হাতে টান পড়ে,আমি জেগে যাই। কি বুদ্ধি
আহারে। তাইতো ভীষন বুদ্ধি ছিলো পিচকিটার। ![]()
২৮ শে জুন, ২০১০ রাত ৯:০৯
সত্যবাদী মনোবট বলেছেন:
সত্যিই আপু মা'রে অনেক জ্বালাইছি। আমার ব্লগালয়ে আসছো সেই জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। ভালো থেকো, দোয়া করো পিচকিটার জন্য
৭|
০৫ ই জুলাই, ২০১০ দুপুর ১২:৫০
গোয়েবলস বলেছেন: ভাল লাগল। ভাল থাকবেন
০৬ ই জুলাই, ২০১০ সকাল ৮:২১
সত্যবাদী মনোবট বলেছেন: আপু তুমি আসছো...অনেককককককককক খুশী হইছি। দোয়া করো,নিজেও ভালো থেকো
৮|
২৩ শে জুলাই, ২০১০ রাত ২:১২
শোশমিতা বলেছেন: মা !!!!!মা ডাক অনেক মধুর
১৩ ই মার্চ, ২০১১ দুপুর ১২:১৫
সত্যবাদী মনোবট বলেছেন: পৃথিবীর
সবচেয়ে
মধুর
শব্দ
মা.........................................
অনেক অনেক ভালোবাসি তাঁদের। ভালো থেকো আপু ![]()
৯|
৩০ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১২:২৬
ইষ্টিকুটুম বলেছেন: চোখ ভিজিয়ে দিলি...রে একদম!
ভালো থাকবি, আর তুই এত পরিশ্রম করছিস এখন, পারলে দুধ খাবি রোজ একগ্লাস করে, কেমন? (দিদিভাইয়ের অনুরোধ)
১৩ ই মার্চ, ২০১১ দুপুর ১২:১৪
সত্যবাদী মনোবট বলেছেন: ঠিক আছে রে আপু...............
কি খবর তোর??
১০|
০৭ ই মার্চ, ২০১১ রাত ৯:১৯
দিলশাদ এ্যানী বলেছেন: আপনার তো মা আছেন কথা বলতে পারেন, আমি তো তাও পারিনা শুধু মার আদরমাখা কথা, ভালোবাসা অনুভব করি । জানেন মাঝেমাঝে মার সাথে অনেক কথা বলতে ইচ্ছে করে, আদর পেতে ইচ্ছে করে তখন যে কেমন লাগে বলে বুঝাতে পারবনা । এতো তারাতারি মা আমাকে ছেড়ে চলে যাবেন ভাবিনি । আপনার জন্য দোয়া রইল হাজার বছর মা বাবার আদর পান ।
১৩ ই মার্চ, ২০১১ দুপুর ১২:১৪
সত্যবাদী মনোবট বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ আমার লেখাটা পড়ার জন্য।
আপনার মায়ের জন্য আমার আন্তরিক দোয়া ও ভালোবাসা রইলো।
আমি অনেক ভাগ্যবান তাই মা-বাবার আদর ভালোবাসার মাঝে এখনও আছি।আমি মা-বাবার কাছে খুব কম-ই থাকি। অনেক মিস করি তাদের। ইদানীং মায়ের শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। বাবার একই রকম। দোয়া করবেন তাদের জন্য।
আর আপনার জন্য সব সময় খোলা রইলো এই মানুষটির দরজা। ভালো থাকবেন.............
১১|
২১ শে মার্চ, ২০১১ রাত ৯:২৪
দিলশাদ এ্যানী বলেছেন: আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ । আপনার বিনয় দেখে খুশি হলাম । ভাবিনি সামুতে এসে এমন একজনকে পাবো যার দরজা আমার জন্য সব সময় খোলা থাকবে, কষ্টের মাঝেও সত্যিই এখন ভালো লাগছে । আর অবশ্যই মা বাবার জন্য দোয়া রইল তারা যেন ভালো থাকেন । আর এখনতো আমি সবার মাকে নিজের মা মনে করি , মনে করাটাই যে এখন আমার একমাত্র অবলম্বন । আপনিও ভালো থাকবেন ।
২৬ শে আগস্ট, ২০১১ বিকাল ৫:২৯
সত্যবাদী মনোবট বলেছেন:
আমি অনেক পরে আপনার এই মন্তব্যটা দেখলাম। তাই উত্তর দিতে দেরী হলো। তার জন্য সত্যিই দুঃখিত।
আপনি তো আর আসলেন না আমার ঘরে!! জানি অনেক ব্যস্ততা তারপরেও আপনার পদধূলি পেলে খুশী হবো। ভালো থাকবেন
১২|
৩০ শে আগস্ট, ২০১১ রাত ১০:৫৭
দিলশাদ এ্যানী বলেছেন: ভাইয়া আসলে অনেকদিন সামুতে বসিনা। কেমন আছো ?
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ১২:১৩
সত্যবাদী মনোবট বলেছেন: ![]()
খুব ভালো লাগলো দেখে। কেনো বসো না? মিস করি তো............ ভালো থেকো
১৩|
২৬ শে নভেম্বর, ২০১১ রাত ১১:৫৯
দিলশাদ এ্যানী বলেছেন: তুমি কি ভাইয়া ফেইসবুকে আছ? কেমন আছ?
২৭ শে নভেম্বর, ২০১১ রাত ৮:৪৪
সত্যবাদী মনোবট বলেছেন: হুমমমমমমমম আছি
২৭ শে নভেম্বর, ২০১১ রাত ৮:৪৪
©somewhere in net ltd.
১|
২৪ শে জুন, ২০১০ রাত ১০:২২
কাকঁন বলেছেন: ++