নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমাদের পারতেই হবে

আতমা মতিন

আতমা মতিন › বিস্তারিত পোস্টঃ

অনুভুতি

৩১ শে আগস্ট, ২০১৪ রাত ১০:৩৫

গত বেশ কিছু দিন থেকে ঢাকা শহরে ট্রাফিক জ্যামটা বেশ বেড়েই চলেছে। সকালে অফিস আসতে অফিসমুখি মানুষগুলোকে বেশ ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে।এক দিকে পাবলিক সার্ভিসের স্বল্পতা আর এর সাথে যোগ হয়েছে অবিরাম বৃষ্টি। উত্তরা থেকে কুড়িল বিশ্বরোড হয়ে গুলশানে আসার জন্য FALGUN গাড়িটিই সবচেয়ে আরামদায়ক/সুবিধাজনক ও Unique Service বলে অনেকে মনে করে। গাড়িগুলোর বাহ্যিক রুপ তটটা দৃষ্টিনন্দন বলা যাবেনা তবে অন্যান্য দশটি গাড়ির মতই ফিটনেস সনদ নিয়েই চলাচল করে বলেই মনে হয়।চালকের বেশভূষা, ভাষা আর চাহুনি দেখলে গাড়িতে উঠতে একটু ইতস্ততঃ বোধ হতে পারে। গাড়িগুলো সময়সূচী মেনে চলার চেষ্টা করে এবং পারতপক্ষে যত্রতত্র যাত্রী উঠানামা করেনা। ইঞ্জিন বন্ধ না হলে গাড়িটি যথাসময়েই গন্তব্যে পৌছার নিশ্চয়তা দিয়ে যাচ্ছে। তবে ইদানিং মুশকিল হয়ে গেছে বৃষ্টি এলে এটির ছিটে বসে থাকা একটু কঠিন হয়ে যায়।

অন্যান্য দিনের মতো আজকেও সকালে অফিস আসছিলাম। আজকের ভিড়টা বেশ তীব্র মনে হচ্ছিলো। গাড়ি যেন সামনে যেতেই চাচ্ছে না। মনে হচ্ছে সামনে যেন রণক্ষেত্র, এগুলেই মৃত্যু অনিবার্য।এত জ্যামের মাঝে যুক্ত হয়েছে বিশেষ ধরনের গাড়ির হুটারের বিকট আওয়াজ। জনস্বার্থে এধরনের আওয়াজ হয়ত সহ্য করতে হয়। হুটার বাজানো একটি Double Cabin পিকাপের দিকে দৃষ্টি যেতেই দেখলাম ইউনিফরম পরিহিত এক পুলিশের পাশে বসা স্কুলগামী আদুরে সন্তান। Sorry আমার ধারনা সঠিক নাও হতে পারে।এমনও হতে পারে গত ২/৩ দিন আগে হারিয়ে যাওয়া কারও সন্তানকে সারা রাত অব্দি অপারেশন শেষে উদ্ধারের পর ফিরিয়ে দিতে যাচ্ছে মায়ের কাছে। কাজেই গাড়িটি কেনইবা priority চাইতে পারবে না।

অনেকেই বলাবলি করছিল ভি আই পি মুভের জন্য ট্রাফিক জ্যাম হচ্ছে। তৎক্ষণাৎ ভি আই পি’র মনের অনুভুতি যাচাই করার চেষ্টা করলাম। আমি নিশ্চিত জনগনের এ নাকাল অবস্থা সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ অবগত। হয়ত মুচকি হেসে চিন্তা করছেন “ অনেক হয়েছে, আর না” কিংবা “ আপনে বাচলে বাপের নাম”। আর এটা হওয়াও উচিত, তানা হলে ভি আই পি আর সাধারন মানুষের ব্যবধান কিংবা তার ক্ষমতা কতটুকু কিভাবে তা বোঝা যাবে।

মাঝে মাঝে চোখ পরছিল বিভিন্ন আমেজের বিলবোর্ড, পোস্টারের দিকে। অনেক পোস্টার বেশ উপভোগ্যও বটে। এমাসে একটি পোস্টার বেশ চোখে পড়ে “কাঁদো বাঙ্গালী কাঁদো”।দেখে মনে হয় আজকাল আমরা কাঁদতেও ভুলে গেছি, কেউ বলে না দিলে যেন কাদাও সম্ভব না। বাণিজ্যিক বিলবোর্ডগুলো বেশ দৃষ্টি নন্দন, মনে করিয়ে দেয় আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

বাস চলছে থেমে থেমে, স্টপেজে এলেই মানুষের বাধ ভাঙ্গা স্রোত, গাড়িতে উঠার প্রতিযোগীতা। বিভিন্ন বয়েসের নারীপুরুষ ছুটছে কাজে কিন্ত নিজের অনেক চেষ্টার পরেও মনে হচ্ছে তারা পেরে উঠছেনা, একটু সহযোগিতা দরকার। তবুও দমে যাওয়ার পাত্র এরা নয়, এদেরযে এগিয়ে যেতেই হবে। এ দৃশ্য মনে শক্তি যোগায় এ ভেবে যে এ জাতির বিজয় অবশ্যম্ভাবী, শুধু সময় আর সুযোগের অপেক্ষা মাত্র। এদের যাত্রাকে দাবিয়ে রাখা সম্ভব নয়, অপেক্ষা শুধু সুযোগ্য কাণ্ডারি একজন।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.