| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
অতনু কুমার সেন
সংক্ষেপে নিজের সম্পর্কে মূল্যায়নঃ ভালো মানুষ হিসাবে নিজেকে দাবি করি না কখনোই, চেষ্টা করছি ভালো মানুষ হতে। জানিনা কবে ভালো হতে পারব! আর আমি এমনিতে বেশ ঠাণ্ডা, কিন্তু রেগে গেলে ভয়াবহ! একটু introvert টাইপের। স্বপ্ন দেখতে ভালবাসি, তার যদিও অধিকাংশই ভেঙ্গে যায়! আশার পিঠে আশা বেঁধে তবুও নির্লজ্জের মত স্বপ্ন দেখে যাই। স্বপ্ন দেখি আকাশ ছুবো, মেঘের ভেলায় উড়ে যাব, নিজের রঙে রাঙ্গিয়ে দিব, সত্য ও সুন্দরের আলো ফোটাবো। জানিনা পারব কি ব্যর্থ হবো। চেষ্টা তবু করেই যাবো।
সনাতন ধর্ম: কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাস নয়, বরং জীবনের এক শাশ্বত পথ
আমরা যখন "মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্রম" পাঠ করি বা এর গভীর ভাবার্থ উপলব্ধি করি, তখন একটা বিষয় খুব স্পষ্ট হয়ে যায়—একজন নারীকে কীভাবে সম্মান দিতে হয়, তা পৃথিবীর সবচাইতে প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ ও এই আদি সনাতন দর্শনে যেভাবে বলা হয়েছে, তা সত্যিই অতুলনীয়।
এখানে নারী শুধু ভোগের বস্তু বা সাধারণ কোনো চরিত্র নন; তিনি একাধারে জ্ঞানদাত্রী, শক্তিদাত্রী, জগৎজননী, আবার অন্যায় ও আসুরিক শক্তির বিরুদ্ধে বজ্রসম সংহাররূপী। দেবী সূক্ত থেকে শুরু করে আমাদের পুরাণ ও প্রাচীন স্তোত্রগুলোতে নারীর ভেতরের এই অসীম শক্তি ও মর্যাদাকে সর্বোচ্চ স্থান দেওয়া হয়েছে।
আসলে, হিন্দু ধর্ম বা সনাতন দর্শন কেবল কিছু আচার-অনুষ্ঠানের সমষ্টি বা নিছক কোনো ধর্ম নয়; এটি হলো জীবন পরিচালনার এক পরম পথ প্রদর্শক (A Way of Life)।
এই সত্যটি বর্তমান সময়ের অন্যতম আধ্যাত্মিক গুরু ও চিন্তাবিদ সদগুরু (Sadhguru) অত্যন্ত সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেছেন:
"We don't have religion, it's an eternal law."
(আমাদের কোনো [প্রাতিষ্ঠানিক] ধর্ম নেই, এটি একটি চিরন্তন নিয়ম বা আইন।)
সদগুরু এখানে সাধারণ সুসংগঠিত বিশ্বাস ব্যবস্থা (Organized Religion) এবং জীবনের মৌলিক নিয়মগুলোর মধ্যে পার্থক্য বুঝিয়েছেন। সনাতন ধর্ম আসলে কোনো নির্দিষ্ট ছকে বাঁধা মতবাদ নয়, বরং এটি হলো "সনাতন ধর্ম" বা আধ্যাত্মিক বিজ্ঞান (Spiritual Science)—যা প্রকৃতির এবং জীবনের চিরন্তন সত্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
যে দর্শন হাজার হাজার বছর আগে থেকেই নারীকে শক্তির রূপ হিসেবে পুজো করতে শিখিয়েছে, তা কোনো সংকীর্ণ গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। এটি একটি জীবনবোধ, যা আমাদের প্রতি মুহূর্তে আরও উন্নত মানুষ হতে শেখায়।
জয় মা মহিষাসুরমর্দিনী!
======o=======
মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্রম্ (অয়ি গিরিনন্দিনি)-এর ২১টি শ্লোকের সহজ ও প্রাঞ্জল বাংলা ভাবার্থ নিচে দেওয়া হলো:
শ্লোক ১ থেকে ৫: দেবীর রূপ ও অসুরবধের মহিমা
• ১. গিরিরাজ হিমালয়ের কন্যা ও মহাবিশ্বের আনন্দদায়িনী: হে হিমালয়কন্যা! আপনি পুরো বিশ্বকে আনন্দিত করেন এবং বিষ্ণুকে হর্ষ প্রদান করেন। শিবের অর্ধাঙ্গিনী ও সমস্ত সৃষ্টির পুষ্টিদাত্রী হে দেবী, আপনার জয় হোক।
• ২. দেবতাদের রক্ষাকর্ত্রী ও দুর্মতি নাশিনী: আপনি দেবতাদের ওপর কৃপাবর্ষণ করেন, দুর্ধর্ষ অসুরদের দমন করেন এবং সংসারের সব পাপ ও শোক হরণ করেন। সমুদ্রকন্যা লক্ষ্মীও আপনারই রূপ।
• ৩. কদম্ববনে বাসকারী জগন্মাতা: হে জগৎজননী, আপনি কদম্ববনে বিহার করতে ভালোবাসেন এবং আপনার মুখে সবসময় মধুর হাসি লেগে থাকে। আপনি হিমালয়ের সুউচ্চ শৃঙ্গে বাস করেন এবং মধুকৈটভ নামক অসুরদের দর্প চূর্ণ করেছেন।
• ৪. শত্রুর ওপর বজ্রসম আক্রমণকারী: যুদ্ধের ময়দানে আপনি শত্রুসেনাদের মদমত্ত হাতিদের অবলীলায় পরাস্ত করেন। আপনার বাহন সিংহ শত্রুদের বিদারণ করে। আপনার নিজের বাহুবল সমস্ত বীর যোদ্ধাদের অহংকার চূর্ণ করে দেয়।
• ৫. শিবের দূত প্রেরণ ও দানব দর্প চূর্ণকারী: আপনি যুদ্ধক্ষেত্রে মহাশিবকে দূত হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। আপনি দানবদের কুৎসিত মতলব ও দুরভিসন্ধি পুরোপুরি ধ্বংস করে দেন।
শ্লোক ৬ থেকে ১০: যুদ্ধক্ষেত্রের ভয়ংকর রূপ ও দেবীর নৃত্য
• ৬. শরণাগতকে অভয়প্রদানকারী: যারা আপনার শরণাপন্ন হয় (এমনকি শত্রুপক্ষের স্ত্রীরাও), আপনি তাদের অভয় দান করেন। আপনার হাতের তীক্ষ্ণ ত্রিশূল ত্রিলোকের শত্রুদের মস্তক ছেদ করে এবং যুদ্ধের দামামা ও দুন্দুভি ধ্বনিতে চারদিক মুখরিত হয়।
• ৭. ধূম্রলোচন ও রক্তবীজ বধ: হে দেবী, আপনি মাত্র একটি "হুঙ্কার" শব্দে ধূম্রলোচন ও তার বিশাল সেনাবাহিনীকে ভস্ম করেছিলেন। যুদ্ধক্ষেত্রে রক্তবীজের প্রতি ফোঁটা রক্ত থেকে জন্ম নেওয়া হাজারো অসুরকে আপনি গ্রাস করেছেন। আপনার এই সংহার রূপ দেখে ভূত-পিশাচেরা তৃপ্ত হয়েছিল।
• ৮. ধনুকের টঙ্কার ও চতুরঙ্গ সেনা ধ্বংস: আপনার ধনুকের ধনুর্বাণ ও হাতের কাঁকন যুদ্ধক্ষেত্রে এক অদ্ভুত সৌন্দর্যের সৃষ্টি করে। আপনি শত্রুর চতুরঙ্গ সেনাকে (হাতি, ঘোড়া, রথ ও পদাতিক) নিমিষেই ধুলোয় মিশিয়ে দেন।
• ৯. স্বর্গীয় নৃত্য ও বাদ্যযন্ত্রের ছন্দ: স্বর্গের অপ্সরারা যখন "তত্থেই ত্থেই" ছন্দে আপনার সামনে নৃত্য করে, তখন আপনিও সেই নৃত্যে আনন্দ পান। মৃদঙ্গের "ধুধুকুটি ধুকুটি ধিমি ধিমি" গম্ভীর আওয়াজ ও তালের ছন্দে আপনি মগ্ন থাকেন।
• ১০. বিশ্ববন্দিত ও মহাদেবকে মোহিতকারী: পুরো বিশ্ব "জয় জয়" ধ্বনিতে আপনার স্তুতি করছে। আপনার পায়ের নূপুরের "ঝণঝণ ঝিঞ্জিমি" শব্দে স্বয়ং দেবদেব মহাদেব (ভূতপতি) মোহিত হয়ে যান।
শ্লোক ১১ থেকে ১৫: দেবীর অলৌকিক সৌন্দর্য ও বন্য রূপ
• ১১. পরম সুন্দরী ও চন্দ্রমুখী: আপনার সৌন্দর্য এতই মনোরম যে তা সুন্দর মনের মানুষদের আকর্ষিত করে। শরৎকালের পূর্ণিমার চাঁদের মতো আপনার মুখমণ্ডল এবং আপনার চোখ দুটি ভ্রমরের মতো চঞ্চল।
• ১২. লড়াকু যোদ্ধা ও প্রকৃতির রূপ: আপনি মহাশক্তিশালী মল্লযোদ্ধাদের সাথে যুদ্ধরতে ভালোবাসেন। আবার অন্যদিকে জুঁই, মল্লিকা ও বুনো লতাপাতায় ঘেরা বনের শবরী ও ভিল উপজাতির নারীদের দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে থাকেন।
• ১৩. মদমত্ত গজেন্দুগামিনী ও রূপের সাগর: আপনি মদমত্ত রাজহস্তীর মতো মন্থর ও রাজকীয় চালে চলেন। আপনি ত্রিলোকের ভূষণ এবং সমস্ত শিল্পের আধার। আপনার সুন্দর দাঁত ও রূপের ছটা কামদেবকেও লজ্জিত করে।
• ১৪. পদ্মের মতো কোমল ও হংসগতি: আপনার কপালটি পদ্মফুলের পাপড়ির মতো নির্মল ও কোমল। আপনার চলন রাজহাঁসের মতো লীলাপূর্ণ। আপনার মাথার চুলগুলো নীল পদ্মে ঘেরা কালো ভ্রমরের মতো দেখায়।
• ১৫. কোকিলকণ্ঠী ও পাহাড়ি নিকুঞ্জের দেবী: আপনার হাতের বাঁশির সুর শুনে কোকিলও লজ্জায় চুপ হয়ে যায়। পাহাড়ি অঞ্চলের উপজাতিদের (পুলিন্দ ও শবর) সাথে আপনি পাহাড়ের লতাবীথিকায় মনের আনন্দে ক্রীড়া করেন।
শ্লোক ১৬ থেকে ২০: দেবীর ঐশ্বর্য, আরাধনা ও কৃপা
• ১৬. পীতবস্ত্রধারিণী ও দেব-অসুর পূজিতা: আপনার কোমরে জড়ানো হলুদ রেশমি কাপড়ের উজ্জ্বলতার কাছে চাঁদের আলোও ম্লান হয়ে যায়। দেবতা ও অসুরদের মাথার মুকুটের মণি আপনার চরণে নত হয়ে আরও উজ্জ্বল দেখায়।
• ১৭. সহস্র বাহুর বন্দনা ও সুরথের সমাধি: কার্তিক ও গণেশের জননী হে দেবী, আপনি সহস্র সূর্যের মতো তেজস্বী এবং সহস্র হাত তুলে ভক্তকে আশীর্বাদ করেন। অতীতে রাজা সুরথ ও সমাধি নামক বৈশ্য আপনার আরাধনা করেই পরম শান্তি ও সিদ্ধি লাভ করেছিলেন।
• ১৮. চরণে আশ্রয় ও মুক্তির প্রার্থনা: হে কল্যাণী দেবী, যে ব্যক্তি প্রতিদিন আপনার পদ্মচরণ সেবা করে, সে স্বয়ং লক্ষ্মীদেবীর মতো ঐশ্বর্যশালী কেন হবে না? আপনার চরণে আশ্রয় নেওয়াই জীবনের পরম গতি।
• ১৯. দেবীর অভিষেক ও স্বর্গসুখ: সোনার কলসীতে ভরা গঙ্গার পবিত্র জল দিয়ে যারা আপনার অভিষেক করায়, স্বর্গের রাজা ইন্দ্রের ইন্দ্রাণী (শচী)-র সুখও তাদের কাছে তুচ্ছ মনে হয়। হে বাণী রূপী দেবী, আমি আপনার চরণে শরণ নিলাম।
• ২০. কলঙ্কহীন চন্দ্রমুখের দর্শন: আপনার নির্মল মুখমণ্ডল সমস্ত পাপ ও অমঙ্গল দূর করে দেয়। যে আপনার কৃপা পেয়েছে, স্বর্গের অপ্সরারাও তাকে বিমুখ করতে পারে না। আমার কাছে শিব এবং আপনার নামই জীবনের শ্রেষ্ঠ ধন।
শ্লোক ২১: শরণাগতির আকুল প্রার্থনা
• ২১. দীনের প্রতি দয়া ও দুঃখ হরণ: হে উমা! আমি অত্যন্ত দীন ও অসহায়। আমার প্রতি করুণাপরায়ণ হোন। আপনি পুরো জগতের মাতা, তাই আপনার সন্তান হিসেবে আমার সমস্ত দুঃখ, কষ্ট ও মানসিক তাপ দূর করে দিন। আপনার যা উচিত মনে হয়, আপনি আমার জন্য তা-ই করুন।
হে মহিষাসুরমর্দিনী, হে জটাবদ্ধ চুলের সুন্দরী গিরিকন্যা, আপনার জয় হোক! জয় হোক!
======o=======
Aigiri Nandini Lyrics in Bengali
।।১।।
অয়ি গিরিনন্দিনি নন্দিতমেদিনি বিশ্ব-বিনোদিনি নন্দনুতে
গিরিবরবিন্ধ শিরোধিনিবাসিনি বিষ্ণু-বিলাসিনি জিষ্ণুনুতে,
ভগবতি হে শিতিকণ্ঠ-কুটুম্বিণি ভূরিকুটুম্বিণি ভূরিকৃতে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে।
।।২।।
সুরবরবর্ষিণি দুর্ধর ধর্ষিণি দুর্মুখমর্ষিণি হর্ষরতে
ত্রিভুবন পোষিণি শংকরতোষিণি কিল্বিষমোষিণি ঘোষরতে,
দনুজনিরোষিণি দিতিসুতরোষিণি দুর্মদ শোষিণি সিন্ধুসুতে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে।
।।৩।।
অযি জগদম্ব মদম্ব কদম্ব বনপ্রিয়বাসিনি হাসরতে
শিখরিশিরোমণি তুঙ্গহিমালয় শৃংগনিজালয় মধ্যগতে,
মধু মধু রে মধুকৈটভ গঞ্জিনি কৈটভ ভঞ্জিনি রাসরতে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে।
।।৪।।
অয়ি শতখণ্ড বিখণ্ডিতরুণ্ড বিতুণ্ডিতশুণ্ড গজাধিপতে
রিপুগজগণ্ড বিদারণচণ্ড পরাক্রমশুণ্ড মৃগাধিপতে,
নিজভুজ-দণ্ড নিপাতিত-খণ্ড বিপাতিত-মুণ্ড ভটাধিপতে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে।
।।৫।।
অয়ি রণদুর্মদ শত্রুবধোদিত দুর্ধরনির্জর শক্তিভৃতে
চতুরবিচার ধুরীণ মহাশিবদূতকৃত প্রমথাধিপতে,
দুরিত দুরীহ দুরাশয় দুর্মতি দানবদূত কৃতান্তমতে
জয় জয় হে মহিষাসুর মর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে।
।।৬।।
অয়ি শরণাগত বৈরিবধূবর বীরবরাভয দায়করে
ত্রিভুবন মস্তক শূলবিরোধি শিরোধি কৃতামল শূলকরে,
দুমিদুমি তামর দুন্দুভিনাদ মহো মুখরীকৃত তিগ্মকরে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে।
।।৭।।
অয়ি নিজ হুংকৃতি মাত্র নিরাকৃত ধূম্র বিলোচন ধূম্রশতে
সমর বিশোষিত শোণিত বীজ সমুদ্ভব শোণিত বীজলতে,
শিব শিব শুম্ভ নিশুম্ভ মহাহব তর্পিত ভূত পিশাচরতে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে।
।।৮।।
ধনুরনুষঙ্গ রণক্ষণসঙ্গ পরিস্ফুরদঙ্গ নটৎকটকে
কনক পিশঙ্গ পৃষৎকনিষঙ্গ রসদ্ভট শৃংগ হতাবটুকে,
কৃত চতুরঙ্গ বলক্ষিতি রঙ্গ ঘটদ্বহুরঙ্গ রটদ্বটুকে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে।
।।৯।।
সুরললনা ততথেয়ি তথেয়ি তথাভিনয়োদর নৃত্য় রতে
কৃত কুকুথ কুকুথো গডদাদিক তাল কুতূহল দানরতে,
ধুধুকুট ধুককুট দিহিং ধিমিত ধ্বনি ধীর মৃদঙ্গ নিনাদরতে
জয় জয় হে মহিষাসুর-মর্দিনি রম্য়কপর্দিনি শৈলসুতে।
।।১০।।
জয় জয় জপ্যজয়ে জয় শব্দপরস্তুতি তৎপর বিশ্বনুতে
ঝণঝণ ঝিঞ্জিমি ঝিঙ্কৃতনূপুর সিঞ্জিত মোহিত ভূতপতে,
নটিত নটার্ধ নটীনটনায়ক নাটিতনাট্য সুগানরতে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে।
।।১১।।
অয়ি সুমনঃ সুমনঃ সুমনঃ সুমনঃ সুমনোহর কান্তিয়ুতে
শ্রিত রজনী রজনী রজনী রজনী রজনীকর বক্ত্রবৃতে,
সুনয়ন বিভ্রমর ভ্রমর ভ্রমর ভ্রমর ভ্রমরাধিপতে
জয় জয় হে মহিষাসুরমর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে।
।।১২।।
সহিত মহাহব মল্লম তল্লিক মল্লিত রল্লক মল্লরতে
বিরচিত বল্লিক পল্লিক মল্লিক ঝিল্লিক ভিল্লিক বর্গবৃতে,
সিতকৃত ফুল্লি সমুল্ল সিতারুণ তল্লজ পল্লব সল্ললিতে
জয় জয় হে মহিষাসুর মর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে।
।।১৩।।
অবিরল গণ্ডগলন মদ মেদুর মত্ত মতঙ্গজ রাজপতে
ত্রিভুবন ভূষণভূত কলানিধি রূপ পয়োনিধি রাজসুতে,
অয়ি সুদতী জন লালস মানস মোহন মন্মধ রাজসুতে
জয় জয় হে মহিষাসুর মর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে।
।।১৪।।
কমল দলামল কোমল কান্তি কলা কলিতামল ভালতলে
সকল বিলাস কলা নিলয়ক্রম কেলি চলতকল হংসকুলে,
অলিকুল সংকুল কুবলয় মন্ডল মৌলিমিলদভ কুলালিকুলে
জয় জয় হে মহিষাসুর-মর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে।
।।১৫।।
কর মুরলী রব বীজিত কূজিত লজ্জিত কোকিল মঞ্জু মতে
মিলিত পুলিন্দ মনোহর গুঞ্জিত রঞ্জিত শৈল নিকুঞ্জগতে,
নিজগণভূত মহাশবরীগণ সদগুণ-সংভৃত কেলিতলে
জয় জয় হে মহিষাসুর-মর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে।
।।১৬।।
কটিতট পীত দুকূল বিচিত্র ময়ূখ তিরস্কৃত চন্দ্ররুচে
প্রণত সুরাসুর মৌলিমণিস্ফুর দংশুল সন্নথ চন্দ্ররুচে,
জিত কনকাচল মৌলি পদোর্জিত নির্ভর কুঞ্জর কুম্ভকুচে
জয় জয় হে মহিষাসুর-মর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে।
।।১৭।।
বিজিত সহস্র করৈক সহস্র করৈক সহস্র করৈকনুতে
কৃত সুরতারক সঙ্গর তারক সঙ্গর তারকসূনু সুতে।
সুরথ সমাধি সমান সমাধি সমাধি সমাধি সুজাত রতে
জয় জয় হে মহিষাসুর-মর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে।
।।১৮।।
পদকমলং করুণানিলয়ে বরিবস্য়তি য়োনুদিনং ন শিবে
অয়ি কমলে কমলানিলয়ে কমলানিলয়ঃ স কথং ন ভবেত,
তব পদমেব পরম্পদ-মিত্য়নুশীলয়তো মম কিং ন শিবে
জয় জয় হে মহিষাসুর-মর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে।
।।১৯।।
কনকলসত্কল-সিন্ধুজলৈরনু সিঞ্জিনুতে গুণ রঙ্গভুবম
ভজতি স কিং নু শচীকুচকুম্ভত তটী পরিরম্ভ সুখানুভবম,
তব চরণং শরণং করবাণি নতামরবাণি নিবাশি শিবম
জয় জয় হে মহিষাসুর-মর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে।
।।২০।।
তব বিমলেন্দু কলং বদনেন্দু মলং সকলং ননু কূলয়তে
কিমু পুরুহূত-পুরীংদুমুখী-সুমুখীভিরসৌ-বিমুখী-ক্রিয়তে,
মম তু মতং শিবনাম-ধনে ভবতী-কৃপয়া কিমুত ক্রিয়তে
জয় জয় হে মহিষাসুর-মর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে।
।।২১।।
অয়ি ময়ি দীনদয়ালুতয়া করুণাপরয়া ভবিতব্য়মুমে
অয়ি জগতো জননী কৃপয়াসি য়থাসি তথানু মিতাসি রতে,
য়দুচিতমত্র ভবত্য়ুররী কুরুতা-দুরুতাপম পাকুরুতে
জয় জয় হে মহিষাসুর-মর্দিনি রম্যকপর্দিনি শৈলসুতে,
জয় জয় হে মহিষাসুর-মর্দিনি রম্য়কপর্দিনি শৈলসুতে।
#SanatanDharma #Sadhguru #WayOfLife #SpiritualScience #MahishasuraMardini #RespectWomen #EternalLaw #Hinduism #IndianPhilosophy
©somewhere in net ltd.