| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শামিম ,শোন, একটা নতুন গল্প লেখার আইডিয়া পাইছি । - সুমন বলল
- বল , শুনি । আমি আগ্রহ দেখালাম ।
- শোন, একটা ছেলে , নাম ধরে নেয়া যাক রাকিব ।
-ওকে , তারপর ?
-ছেলেটা এইচ এস সি তে ফেইল করবে ।
- কি দরকার ফেইল করানোর ?
- আরে শোন না ।
-আচ্ছা বল ।
-তারপর , বাসায় বকা খেয়ে আত্মহত্যা করবে । গল্পের নাম হবে , ওপারের যাত্রী !
- ধুর এইটা কোনও গল্প হইল ? এইসব নরমাল ট্রাজেডি মানুষ খায় না ।
- আরে শোন না , ছেলেটার মরার পদ্ধতিতে একটা চমক থাকবে ।
- সে যতই চমক দিস না কেন, মানুষ সস্তা গল্পই বলবে।
সুমন আর আমি দুজনেই ছোটখাটো গল্প লেখার চেষ্টায় আছি । থাকি । আর কোনও প্লট পেলে কামালের চায়ের দোকানে বসে এই বিষয়ে একটু গবেষণা করি, কোনটা ঠিক হবে আর কোনটা ভুল হবে এইটা নিয়ে । গল্প লেখা শেষে দুজন দুজনকে দেখাই , "দ্যাখ তো দোস্ত, কেমন লিখলাম ?" আমাদের এইচ এস সির রেজাল্ট দিবে কিছুদিন পরে । রেজাল্টকে সামনে রেখে সুমনের মাথায় এই ধরনের প্লট আসাটা স্বাভাবিক । ও বরাবরই সমসাময়িক ব্যাপার নিয়ে লেখে ।
যাইহোক সুমনের প্লট আমার পছন্দ হয়নি । এই যুগে ছেলেমেয়েরা আত্মহত্যা করে কম । বিশেষ করে লেখাপড়ার জন্য তো অবশ্যই না । আমি নিজেই তার প্রমান । আমার রেজাল্ট বরাবরই খারাপ । তাতে কি ? আমি তো সুইসাইড করি নাই ! আপাতত লেখা কমিয়ে দিচ্ছি । মাথায় টেনশন । নিজের রেজাল্ট কি হবে তা-ই ভাবছি ।রেজাল্টের দিন আমি মাথায় তেলপানি দিয়ে বসে ছিলাম । দুপুর ১২.৩০ এ রেজাল্ট দিল । এ প্লাস পাইনি । দুঃখ পেয়ে সুমনকে ফোন করলাম । রেজাল্ট জিজ্ঞেস করলাম ।
- আরে আর কইস না । এ প্লাস হয় নাই ।আব্বা যেইহারে গালি দিতেছে , মইরা যাইতে মন চায় ।
-দোস্ত, কি আর করার , বল । টুকিটাকি কথা বলে ফোন রাখলাম । খারাপ ঘটনাটা ঘটলো পরদিন । সকালবেলা সুমনের আম্মা কল করে কান্না শুরু করলেন । সুমনকে নাকি পাওয়া যাচ্ছে না । আমাদের বাসায় আছে কি না জানতে চাইলেন । আমি বললাম , নেই । সাইকেল বের করে ওদের বাসায় রওনা দিলাম । হারামজাদাটা পালাইছে কোথায় ??- ভেবে বের করতে পারলাম না । আমাকে একবার জানাতে পারতো ।দুইজনে একসাথে পালাতাম ।
ওদের বাসায় গিয়ে দেখি , ওরা একটা চিরকুট নিয়ে বসে আছে । আমি যেতেই সুমনের বড় ভাই আমার জামার কলার ধরে , এই শালাই আসল শয়তান । আমি তো পুরো থ ! চিরকুট পড়তে দেয়া হল আমাকে । পড়ে আমার গায়ের রক্ত ঠাণ্ডা হয়ে গেলো । তাতে লেখাঃ "তোমাদের বকাবকির চোটে বাঁচিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে ! হাহাহাহা । এবার আমি মরে যাব । ঠেকাও পারলে । আর হ্যাঁ, আমার লাশটা খুঁজে পেতে হলে শামিম কে ডেকো । দেখি ও ক্যামন গোয়েন্দাগিরি শিখেছে । আমি জানি ও পারবে । না পারলে পরকালে একটা উসঠা মারবো শালারে ।"
আমি প্যাঁচে পড়ে গেছি ।প্রথমত, সুমন নেই ভাবতেই বুকের মধ্যে কেমন খালি খালি লাগছে । কান্না পাচ্ছে । দ্বিতীয়ত, সুমনের পরিবার ভাবছে , আমি ওকে সুইসাইডে হেল্প করেছি !
আমি সময় নষ্ট না করে সোজা সুমনের ল্যাপটপ নিয়ে বসলাম । দেখি "আমার লেখা " নামের ফোল্ডারে সর্বশেষ গল্পের নাম "ওপারের যাত্রী !"
এক নিমিষে গল্পটা পড়ে আমার চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে এল । কান্না জড়ানো গলায় ওদেরকে বললাম, সুমন ট্রেনের নিচে কাঁটা পড়েছে । ঈশ্বরদী থেকে একটু দূরে মাঠের মধ্যে রেল লাইনে ওর লাশ পাবেন । লাশটা … আমি আর বলতে পারলাম না …
©somewhere in net ltd.