নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মিরাজুল ইসলাম অপূর্ব

জন্ম থেকেই জীবনের গল্পের শুরু, আর প্রতিটা গল্পই থাকে অসমাপ্ত। আমি সকলের মাঝে নগন্য, কারো কারো কাছে জঘন্য, কারো কাছে বা অতি বন্য, আর তোমার কাছে হয়তো অগণ্য, এভাবেই আমার আমি হচ্ছি শুধু বিপন্ন।

মিরাজুল ইসলাম অপূর্ব › বিস্তারিত পোস্টঃ

গল্পের গল্প

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:১৩

শামিম ,শোন, একটা নতুন গল্প লেখার আইডিয়া পাইছি । - সুমন বলল
- বল , শুনি । আমি আগ্রহ দেখালাম ।
- শোন, একটা ছেলে , নাম ধরে নেয়া যাক রাকিব ।
-ওকে , তারপর ?
-ছেলেটা এইচ এস সি তে ফেইল করবে ।
- কি দরকার ফেইল করানোর ?
- আরে শোন না ।
-আচ্ছা বল ।
-তারপর , বাসায় বকা খেয়ে আত্মহত্যা করবে । গল্পের নাম হবে , ওপারের যাত্রী !
- ধুর এইটা কোনও গল্প হইল ? এইসব নরমাল ট্রাজেডি মানুষ খায় না ।
- আরে শোন না , ছেলেটার মরার পদ্ধতিতে একটা চমক থাকবে ।
- সে যতই চমক দিস না কেন, মানুষ সস্তা গল্পই বলবে।
সুমন আর আমি দুজনেই ছোটখাটো গল্প লেখার চেষ্টায় আছি । থাকি । আর কোনও প্লট পেলে কামালের চায়ের দোকানে বসে এই বিষয়ে একটু গবেষণা করি, কোনটা ঠিক হবে আর কোনটা ভুল হবে এইটা নিয়ে । গল্প লেখা শেষে দুজন দুজনকে দেখাই , "দ্যাখ তো দোস্ত, কেমন লিখলাম ?" আমাদের এইচ এস সির রেজাল্ট দিবে কিছুদিন পরে । রেজাল্টকে সামনে রেখে সুমনের মাথায় এই ধরনের প্লট আসাটা স্বাভাবিক । ও বরাবরই সমসাময়িক ব্যাপার নিয়ে লেখে ।
যাইহোক সুমনের প্লট আমার পছন্দ হয়নি । এই যুগে ছেলেমেয়েরা আত্মহত্যা করে কম । বিশেষ করে লেখাপড়ার জন্য তো অবশ্যই না । আমি নিজেই তার প্রমান । আমার রেজাল্ট বরাবরই খারাপ । তাতে কি ? আমি তো সুইসাইড করি নাই ! আপাতত লেখা কমিয়ে দিচ্ছি । মাথায় টেনশন । নিজের রেজাল্ট কি হবে তা-ই ভাবছি ।রেজাল্টের দিন আমি মাথায় তেলপানি দিয়ে বসে ছিলাম । দুপুর ১২.৩০ এ রেজাল্ট দিল । এ প্লাস পাইনি । দুঃখ পেয়ে সুমনকে ফোন করলাম । রেজাল্ট জিজ্ঞেস করলাম ।
- আরে আর কইস না । এ প্লাস হয় নাই ।আব্বা যেইহারে গালি দিতেছে , মইরা যাইতে মন চায় ।
-দোস্ত, কি আর করার , বল । টুকিটাকি কথা বলে ফোন রাখলাম । খারাপ ঘটনাটা ঘটলো পরদিন । সকালবেলা সুমনের আম্মা কল করে কান্না শুরু করলেন । সুমনকে নাকি পাওয়া যাচ্ছে না । আমাদের বাসায় আছে কি না জানতে চাইলেন । আমি বললাম , নেই । সাইকেল বের করে ওদের বাসায় রওনা দিলাম । হারামজাদাটা পালাইছে কোথায় ??- ভেবে বের করতে পারলাম না । আমাকে একবার জানাতে পারতো ।দুইজনে একসাথে পালাতাম ।
ওদের বাসায় গিয়ে দেখি , ওরা একটা চিরকুট নিয়ে বসে আছে । আমি যেতেই সুমনের বড় ভাই আমার জামার কলার ধরে , এই শালাই আসল শয়তান । আমি তো পুরো থ ! চিরকুট পড়তে দেয়া হল আমাকে । পড়ে আমার গায়ের রক্ত ঠাণ্ডা হয়ে গেলো । তাতে লেখাঃ "তোমাদের বকাবকির চোটে বাঁচিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে ! হাহাহাহা । এবার আমি মরে যাব । ঠেকাও পারলে । আর হ্যাঁ, আমার লাশটা খুঁজে পেতে হলে শামিম কে ডেকো । দেখি ও ক্যামন গোয়েন্দাগিরি শিখেছে । আমি জানি ও পারবে । না পারলে পরকালে একটা উসঠা মারবো শালারে ।"
আমি প্যাঁচে পড়ে গেছি ।প্রথমত, সুমন নেই ভাবতেই বুকের মধ্যে কেমন খালি খালি লাগছে । কান্না পাচ্ছে । দ্বিতীয়ত, সুমনের পরিবার ভাবছে , আমি ওকে সুইসাইডে হেল্প করেছি !
আমি সময় নষ্ট না করে সোজা সুমনের ল্যাপটপ নিয়ে বসলাম । দেখি "আমার লেখা " নামের ফোল্ডারে সর্বশেষ গল্পের নাম "ওপারের যাত্রী !"
এক নিমিষে গল্পটা পড়ে আমার চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে এল । কান্না জড়ানো গলায় ওদেরকে বললাম, সুমন ট্রেনের নিচে কাঁটা পড়েছে । ঈশ্বরদী থেকে একটু দূরে মাঠের মধ্যে রেল লাইনে ওর লাশ পাবেন । লাশটা … আমি আর বলতে পারলাম না …

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.