নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মিরাজুল ইসলাম অপূর্ব

জন্ম থেকেই জীবনের গল্পের শুরু, আর প্রতিটা গল্পই থাকে অসমাপ্ত। আমি সকলের মাঝে নগন্য, কারো কারো কাছে জঘন্য, কারো কাছে বা অতি বন্য, আর তোমার কাছে হয়তো অগণ্য, এভাবেই আমার আমি হচ্ছি শুধু বিপন্ন।

মিরাজুল ইসলাম অপূর্ব › বিস্তারিত পোস্টঃ

অন্যরকম গল্প

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ২:৩০

[ গল্পটা কাল্পনিক । তারপরেও যদি কারোও
ব্যক্তিগত জীবনের সাথে মিলে যায় , তার জন্য
আমি বা আমার গল্পকে দয়া করে দায়ী করবেন না ]

শহরের এক নামকরা নাইটক্লাবের এক পতিতাকে
দেখার জন্য একটা রুমে ওয়েট করছে রিক্ত।
...কি আজব!
জীবনে এইদিনটিও দেখতে হবে ... স্বপ্নেও ভাবেনি
ও । অন্তত এরকম একটা জায়গায় আসতে হবে তা তো
কল্পনাতীতই বটে...

..কিছুক্ষন পর একটা কালো বোরকা পড়া মেয়ে রুমে
ঢুকল । তারপর বলল , “আপনিই কি রিক্ত?”
-“হ্যা”
তারপর মুখ থেকে কাপড় সরিয়ে রিক্তের সামনে বসল
মেয়েটা...
হ্যা ! এই সেই মেয়ে ।
যে মেয়ের জন্য সে এতো কিছু করল , যার জন্য
জীবনকে এতো বড় চ্যালেঞ্জের মুখে নিয়ে এল ,
একনজর দেখার জন্য সবকিছুকে তুচ্ছ করে ছুটে এল ...
এই সেই মেয়ে...

...কিছু না বলে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল রিক্ত ...
কি বলবে ! বলতে তো আসে নি সে ! একনজর দেখতে
এসেছে শুধু ...
একসময় মেয়েটাই নিরবতা ভাঙল ...
-“এখানকার সবকিছুই কিন্তু সময়ের উপর নির্ভর
করে”
-“জ্বী? বুঝলাম না ।”
-“বললাম , আপনি শুধুমাত্র আর কয়েকঘন্টা এই রুমে
থাকতে পারবেন ।”
-“কয়েক ঘন্টা?”
-“হ্যা । খুবই কম , তাই না?”
-“নাহ । কথা বলার জন্য কয়েক ঘন্টা তো অনেক
সময়...”
-“আপনি কি এখানে কথা বলার জন্য এসেছেন?”
-“হ্যা । সত্যি বলতে কি ... আমি আসলে কিছু প্রশ্ন
করতে এসেছি ...”
-“আজব তো ! মানুষ এখানে কেন আসে জানেন?”
-“হ্যা অবশ্যই । কিন্তু আমি সেকারণে আসি নি ।”
-“তাহলে কিজন্য এসেছেন ?”
-“ওইযে বললাম , কিছু কথা বলার জন্য ...”
-“কি এমন কথা যে আপনি এতো টাকা খরচ করে
এসেছেন বলার জন্য ?”
-“কোথা থেকে কিভাবে শুরু করব ঠিক বুঝতে পারছি
না । ”
-“যেখান থেকে আপনার খুশি ।”
-“আচ্ছা শুনুন তাহলে ...”
... বলতে শুরু করল রিক্ত ...
গল্পের শুরুটা হল রিক্ত যখন ভার্সিটি লাইফে
পদার্পণ করল তখনকার সময় নিয়ে । কলেজ লাইফ
পর্যন্ত রিক্ত বলতে গেলে একেবারে বাবা-মায়ের
কোলেই ছিল । বাইরের জীবন সম্পর্কে তার কোন
ধারণাই ছিল না ...

...কিন্তু কলেজ লাইফে রিক্ত নতুন নতুন অনেককিছুই
শিখতে শুরু করল। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হল ফেসবুক।
যথারীতি আর দশটা ছেলের রিক্তও একটা এফবি
একাউন্ট খুলল।
তারপর?
তারপর আর কি! নতুন নতুন যা হয় আর কি!
টানা মেয়েদেরকে রিকোয়েস্ট পাঠাতে শুরু করল ।
তারপর সেই মেয়ে যদি আবার রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট
করে তাহলে তাকে নিয়মিত ইনবক্সে পটানোর
চেষ্টা তো আছেই...
এভাবে চলল কয়েক মাস...

...একদিন হঠাৎই একটা রিকোয়েস্ট আসল । রিকোয়েস্ট
তো অনেকই আসে , কিন্তু এই রিকোয়েস্ট অন্যরকম
,,, কেন? কারণ এই প্রথম রিক্তকে কোন মেয়ে
রিকোয়েস্ট পাঠাল । ব্যাস ... হয়ে গেল !
তাড়াতাড়ি এক্সেপ্ট করে সঙ্গে সঙ্গে ইনবক্স...

...প্রায় সাথে সাথে মেয়েরও রিপ্লাই ... ব্যস শুরু হয়ে
গেল চ্যাট ... এর মাঝে আবার রিক্ত মেয়েটার
প্রোফাইল পিকটাও দেখে নিয়েছে । এককথায়
অসাধারণ ... এই সুযোগ সে মিস করতে চায় না ...

...সেই মেসেজিং চলল প্রায় আরোও দু-তিন মাস ।
এখন রীতিমত নিয়ম করেই চ্যাট করে দুজন । তো এখন
তো কিছু বলার পালা । কিন্তু কিভাবে বলা যায় !
চট করে রিক্ত সেই মেয়েকে দেখা করতে আমন্ত্রণ
জানায় । তারপর ... তারপর কি হল ?
তারপর একটা মজার ঘটনা ঘটল ,,, কারণ এবার
মেয়েটার বদলে তাকে ফেসবুক মেসেজ পাঠাতে
আরম্ভ করল । যেটা অনেকটা এরকম , “You can’t
reply this conversation… ব্লা ... ব্লা ... ব্লা...
...

...তারপরের দু-তিন মাস বিরহ সময় ... কিন্তু বিরহ
সময় আর বেশীদিন টিকল না । কারণ দেখা গেল
কয়েকদিনের মধ্যে সে আরোও কয়েকটা মেয়ের
রিকোয়েস্ট পেয়ে গেছে । কিন্তু একটা বিরাট
রহস্যের ব্যাপার হল এই যে , সেই যে অসাধারণ
সুন্দরীকে পেয়েছিল কয়েকমাস আগে , তার
প্রোফাইল পিকে যে মেয়ের ছবি ছিল , এখনকার
রিকোয়েস্ট গুলোর দুটো আইডিতে সেই একই মেয়ের
ছবি । ব্যস... ঘটনায় বিশাল প্যাঁচ লেগে গেল ।
ঠিক তখনই ওর মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল । সঙ্গে
সঙ্গে গুগলে ওই ছবি দিয়ে সার্চ দিয়ে দিল । দেখা
গেল সেখানে বিশাল এক অবস্থা । ওই মেয়ের ছবির
কোন কমতি নেই । কিন্তু সমস্যাটা হল এক হাজারটা
ছবির নিচে একহাজার মেয়ের নাম । এখন রীতিমত
মাথা ঘুরে পরে যাবার অবস্থা রিক্তের ...
দু-তিনটে মেয়ের চেহারা একই হওয়া ব্যাপার না ,
কিন্তু এতোগুলো ?

...পরবর্তীতে সে তার এক “এক্সপেরিয়ান্সড” বন্ধুর
শরণাপন্ন হল । তার কাছ থেকেই বুঝতে পারল
ফেসবুকে ছেলের আইডি , মেয়ের আইডি ছাড়াও
আরোও এক ধরনের আইডি আছে যেগুলো হল ফেইক
আইডি...
খুব কষ্ট পেল রিক্ত । রাগে দুঃখে সে আইডিটাই
ডিএক্টিভ করে দিল । ব্যস ... চাপ্টার ক্লোজড ...

...কিন্তু আসল ঘটনা শুরু হল তার পর ...

...ভার্সিটিতে লাস্ট ইয়ারের স্টুডেন্ট রিক্ত এখন
প্রায় বলতে গেলে ভার্সিটি লাইফ থেকে পরবর্তী
লাইফে এক পা দিয়েই ফেলেছে ... ফাইনাল
এক্সামটা হলেই ষোলকলা পূর্ণ হয়ে যাবে ।
একদিন কোন একটা ওয়েবসাইডে গান সার্চ দিতে
গিয়ে হঠাৎ এক জায়গায় গিয়ে রিক্তের চোখ আঁটকে
যায় । ব্যাপারটা একটু অন্যরকম তবে নিয়মিতই দেখা
যায় । কিন্তু আজ রিক্ত যেন নিজের চোখকে
বিশ্বাসই করতে পারছে না । ব্যাপারটা হল একটা
কল গার্ল এর ছবি ... কিন্তু ছবিটা খুব চেনা একটা
মানুষের । হ্যা ! রিক্ত ভূল করে নি , এটা সেই
মেয়েটার ছবি যার ছবি গুগলে সার্চ দিয়ে সে তার
ফেসবুক জীবনের অবসান ঘটিয়েছিল...

...নিজেকে পরখ করার জন্য রিক্ত আবার ওর এফবি
আইডিটা ওপেন করল । তারপর খুঁজতে থাকল ওই
মেয়ের ছবি । কিন্তু এখন কোথাও সেই ছবি নেই ।
সেদিন প্রায় সারা রাতই সে তন্ন তন্ন করে খুঁজল ...
কিন্তু কোনভাবেই সে ওই মেয়ের ছবি পেল না ।
তারপর একটা আজব কান্ড করে বসল রিক্ত ...
ওই কল গার্ল এর নাম্বারে কল করে বসল সে...
কিছুক্ষণ রিং হবার পর একটা ভারী গলা শোনা
গেল , কি এক সেন্টার এ স্বাগত জানাল ওকে ।
কিছুই বুঝল না ও ...
তারপর কিছু না ভেবে চিন্তেই ঠিকানা চেয়ে বসল
রিক্ত । পেয়েও গেল একটা । পরবর্তীতে গুগলে সার্চ
দিয়ে দেখা গেল ওটা একটা নাইট ক্লাবের
ঠিকানা...
রিক্তের মাথায় জেদ চেপে বসল ... যে করেই হোক
ওই মেয়েকে খুঁজে বের করবেই সে ...
তাই সিদ্ধান্ত নিল ওই ঠিকানায় সে যাবে...

...সেই রাত একরকম না ঘুমিয়েই কাটিয়ে দিল রিক্ত ।
মনের মধ্যে যে কি হচ্ছে সে নিজেও জানে না ।
একধরনের ভয় আবার একধরনের উৎসাহও কাজ করছে
একসাথে...
অবশেষে সব ভয় কাটিয়ে সেই নাইট ক্লাবটাতে এসে
পড়ল রিক্ত । জীবনে এই প্রথম কোন নাইট ক্লাবে
এসেছে ও । একটা অচেনা ভয় কাজ করছে ওর মধ্যে ...
তারপরেও মনের মধ্যে একটা সাহস সঞ্চয় করে একটা
ডেস্কের সামনে গেল । একটা কোট-টাই পড়া লোক
দাঁড়িয়ে আছে সেখানে । একটা বিরাট শ্বাস নিয়ে
লোকটার কাছে গেল ও । তারপর খোঁজ করল কল গার্ল
বলে । লোকটা হয়ত একটু চালাকই বলা চলে । ওর কথা
শুনেই যেন সব কিছু বুঝে নিল । একটা বড়সড় টাইপের
এলবাম বের করে ওর সামনে দিল , তারপর বলল চয়েস
করতে ...
এদিকে এলবামটা দেখে রিক্তের চক্ষু চরক গাছ ,
চোখের সামনে অনেকগুলো মেয়ের ছবি যারা সবাই
নাকি কল গার্ল , শুদ্ধ বাংলায় যাদের আমরা
পতিতা বলে থাকি ।
যাই হোক নিজেকে কোনরকমে সামলে নিয়ে খুঁজতে
শুরু করল ও ...
কিন্তু না ! পাওয়া গেল না । পুরো এলবামই শেষ
করে ফেলল ও কিন্তু ওই মেয়েটার ছবি পেল না ।
তারপর লোকটাকে এলবামটা ফেরত দিতে গেলে
লোকটা জানাল এটা শুধু সবচেয়ে নিচের লেভেলের
এলবাম । যত বেশী লেভেল তত বেশি টাকার
পরিমাণ ...
মাথার উপর চেপে বসা সেই ভূতটা এবার নড়েচড়ে
বসল । কারণ রিক্ত এবার সবচেয়ে উঁচু লেভেলের
এলবামটাই অর্ডার করে বসল...

...দু-তিন পৃষ্ঠা উল্টোতেই থেমে গেল রিক্ত । হ্যা !
অবশেষে ! পাওয়া গেল !
ব্যাপারটা এতো দ্রুততার সাথে ঘটল যে রিক্ত
কিছুক্ষণের জন্য স্থির হয়ে রইল ।
সম্বিৎ ফিরে পাবার পর রিক্ত মেয়েটার নাম খুঁজতে
লাগল । কিন্তু ওই লোকটা জানাল ওরা নাকি
কারোও নাম প্রকাশ করে না ।
তাহলে অন্য উপায় বের করতে হবে । আর একটাই
উপায় আছে ... আর তা হল মেয়েটার সাথে দেখা
করা । কিন্তু সেটা শুধু একটা উপায়েই সম্ভব ...
তারপর রিক্তের চোখ গেল ছবির পাশে লেখা
টাকার পরিমানের দিকে ...
সেখানেও দেখা গেল বিপত্তি ... পরিমাণটা
এতোটাই বেশি যে তা হল প্রায় রিক্তের
তিনমাসের টিউশনির বেতনের সমান...যদিও ওই
পরিমাণ টাকা ওর কাছে আছে ।
জীবনের সবচেয়ে বড় দ্বিধায় পড়ে গেল রিক্ত ।
কিছুক্ষণ চিন্তা-ভাবনার পর সিদ্ধান্ত নিল ...
এতোদূর আসার পর সে ফিরবে না । এর শেষ দেখেই
ছাড়বে...
কিছু এডভান্স দিয়ে পরদিনের জন্য অর্ডার দিয়ে
বের হয়ে গেল রিক্ত...
...

...এতোক্ষণ ধরে সামনে বসা মেয়েটা একটা টু শব্দও
করেনি । রিক্তের কাহিনী বলা শেষ , কিন্তু
মেয়েটা এখনও ওর দিকে এমনভাবে তাকিয়ে আছে
যেন পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য ওর সামনেই বসে আছে ।
সামান্য একটা ছবি দেখে একটা মানুষ এতোকিছু
করতে পারে ধারণাও করতে পারে নি সে ।
আর দশটা মেয়ের মত হলে সে নিজেকে অনেক উপরে
নিয়ে যেত , কিন্তু হয়ত অন্য সবার চেয়ে একটু ভিন্ন
বলেই নিজেকে সবসময়কার মত এখনও ঘৃণার চোখে
দেখে ও ।
-“আচ্ছা আপনার নামটা জানতে পারি ?”
-“অন্বি”
-“খুব সুন্দর”
-“টাইপিক্যাল এডমিরেশন”
-“নাহ । সত্যিই বললাম , বিশ্বাস করুন , আসলেই
আপনার নামটা আপনার মতই সুন্দর ।”
-“তাহলে আমাকেও বলতে হচ্ছে ধন্যবাদ...”
... হালকা একটা হাসির রেখা দেখা গেল অন্বির
মুখে । এর ফলে অন্বিকে আরোও মোহনীয় দেখাল ...
রিক্ত আর কিছু বলল না ... অন্বির দিকে তাকিয়ে
রইল ... হয়ত এখনও ওর ঘোর কাটে নি... মনে হচ্ছে
স্বপ্ন দেখছে ...
কিছুক্ষণ পর বুকে অনেক সাহস নিয়ে রিক্ত অনেকটা
আমতা আমতা করে বলল , “ আচ্ছা যদি কিছু মনে না
করেন , আপনার এফবি আইডির নাম জানতে
পারি ?”
উত্তরে কিছুই বলল না অন্বি । শুধু সেই হালকা
হাসিটা আবার মুখে দেখা গেল । তারপর উঠে গিয়ে
ওর ব্যাগ থেকে মোবাইলটা বের করে আবার আগের
জায়গায় এসে বসল , তারপর মোবাইলের দিকে
তাকিয়েই বলল , “আপনারটা বলুন , আমি রিকোয়েস্ট
দিচ্ছি , যাতে আপনি শিউর হতে পারেন এটা
আমিই... কোন ফেইক আইডি না ।”
বলেই ফিক করে হেসে দিলঅন্বি...
এবার একটু লজ্জা পেল রিক্ত ... তারপর ওর আইডি
অন্বিকে দিল , অন্বি রিকোয়েস্ট দিল , রিক্ত
এক্সেপ্ট করল , আর সাথে সাথেই রিক্ত অন্বির
প্রোফাইলে চলে গেল...
কিন্তু না । যেটা খুঁজছে সেটা পাচ্ছে না ,
আইডিতে কোন ছবিই নেই ।
কপাল কুঁচকে অন্বিকে জিজ্ঞেস করতে যাবে , ঠিক
তখনই অন্বি ওকে থামিয়ে দিয়ে বলল , “এটা আমার
আইডি । আমার আইডিতে আমার ছবি থাকার কথা
কি?”
কিছুক্ষণ নিরবতা ... তারপর রিক্তই একটা লজ্জা
ভরা হালকা হাসি দিল...
এভাবে পুরোটা সময় ধরে ওরা কথা বলল... তারপর
একসময় যাবার সময় হল ।
সেদিনের জন্য রিক্ত চলে এল... কিন্তু মন নামের
বস্তুটা আনতে পারল না , অন্বি নামের সেই
মেয়েটার কাছে রেখে এল...

...তারপর ফেসবুকে নিয়মিত কথা চলতে থাকল ...
একসময় সম্পর্কটা আপনি থেকে তুমিতে রূপান্তরিত
হল ।
তারপর একসময় ফোন নাম্বার বিনিময় হল । তারপর
চলল ফোনালাপ ... তারপর শেষ পর্যন্ত আসল দেখা
করার পালা ...
... নাহ ! কোন নাইটক্লাব নয় , একটা পরিশুদ্ধ ,
নির্মল পরিবেশে ওরা “প্রথম” দেখা করল ।
...

...পাশাপাশি বসে আছে রিক্ত আর অন্বি ...
অন্বির দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রিক্ত ।
এখনও বিশ্বাস করতে পারছে না তার স্বপ্নের সেই
রাজকন্যার পাশেই বসে আছে সে ।
হঠাৎ কোন কথাবার্তা ছাড়াই রিক্ত অন্বির
হাতদুটো ধরে , “আমায় বিয়ে করবে অন্বি?”
রিক্তের হঠাৎ এরকম প্রস্তাবে অন্বির হয়ত অবাক
হবার কথা ছিল , কিন্তু ওকে সম্পূর্ণ স্থিরই দেখা
গেল ... খুব শান্ত গলায় বল , “নাইটক্লাবের একটা
শস্তা মেয়েকে বিয়ে করবে ?”
-“আমি যে অন্বিকে চিনি সে কোন শস্তা মেয়ে
নয় । আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে দামী ...”
-“হ্যা । শুধু তোমার কাছেই...”
-“আমি কিন্তু উত্তর পেলাম না ।”
-“একটা সত্যি কথা বলব ?”
-“অবশ্যই”
-“সেদিনের পর থেকে আমি আর নাইটক্লাবে যাই
নি”
-“জানি”
-“জান?কিভাবে”
-“মন বলে একটা বস্তু আছে । জান?”
-“বুঝলাম”
-“কি বুঝলে ?”
-“ফেসবুকে ছবি দেখে পাগল হওয়া সেই ছেলেটা
এবার আমাকে বিয়ে না করে ক্ষান্ত হবে না ।”
-“তাহলে ?”
-“তাহলে কি? আরোও কিছু বলতে হবে ?”
-“একদম না । আমি এতো গাধা নাকি?”
-“হুম”
তারপর কিছুক্ষণ নিরবতা...
তারপর দুজনেই একসাথেই ফিক করে হেসে দিল ...
অনেকদিন পর যেন প্রাণ খুলে হাসল ...

...অবশেষে বিয়ের প্রায় সবকিছু ঠিক হয়ে গেল । রিক্ত
ওর বাবা-মাকে অন্বির ওই একটা পরিচয় বাদে আর
বাঁকি সবই জানিয়েছে । উনারা রাজিও হয়েছেন ...
হঠাৎ বিয়ের এক সপ্তাহ আগে রিক্ত একটা মেসেজ
পেল । অন্বির মেসেজ...
এই একটা মেসেজই যেন সবকিছু পাল্টে দিল ... কি
লেখা ছিল তাতে?
বেশি কিছু না... শুধু কয়েকটা লাইন...
“...রিক্ত , অনেক ভেবে দেখলাম, জীবনে এই প্রথম
আমি এমন একজনকে পেয়েছি যে সত্যিকারের ভাল
মানুষ । আর তাই আমি চাই না আমার এই কলঙ্কিত
জীবনের সাথে তার পবিত্র জীবনটাকে জড়িয়ে
তাকে কষ্ট দিতে । তাই নিজ থেকে সড়ে গেলাম ।
ভালবাসি তোমায়... ভাল থেকো...”
সাগরের পাড়ের শুকনো বালুচরে যেমন হঠাৎ ঢেউ
এসে সবকিছু পাল্টে দেয় , তেমনি
কল্পনাতীতভাবেই রিক্তের জীবনটা আবার
রিক্ততায় ভরে গেল...
কেন বারবার এমন হয়?
কিন্তু না ... এবার হারবে না ও ...
রিক্তই তো সেই ছেলে যে এতো কিছু করে অন্বির
মত এক অমাবস্যার চাঁদকে খুঁজে বের করেছে...
এবারও পারবে...
কেন নয়... মানুষের অসাধ্য বলে কিছুই নেই ...

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.