| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মনটা প্রচণ্ড খারাপ।আসার সময় গুলিস্তান এ দেখলাম অনেকগুলো পোড়া বাসের সারি।তার মাঝে সেই বাস টাও আছে যেটা তে আমার যাতায়াত অনেকটা নিয়মিত।অনেক টা নিয়মিত বলছি এ জন্য যে ঐটা একটা লোকাল বাস।আমার অফিসে যাবার সময়ের সাথে ঐটার ছাড়ার সময় অনেকটা মিলে যায়।
ঐ বাস টাতে আমি থাকতে পারতাম বা পুরে মরে যেতেও পারতাম এটা ভেবে খারাপ লাগছে না।আমি ছিলাম না কিন্তু ঐ বাসটাতে আমার মতই কোন এক আজাদ হয়ত ছিল।হতে পারে সে এক পরিবারের স্বপ্ন বা আশার শেষ স্থল,ভবঘুরে একজন যে কিনা তার বাবার বকুনি খেত কিন্তু মায়ের অতি আদরের,কিংবা এক বাবা যে তার মেয়েটার কাছে জীবনের চেয়ে প্রিয়,এক স্বামী যার পথ চেয়ে তার স্ত্রী চোখের কোনে কাজল দিয়ে পথ চেয়ে বসে থাকে,কিংবা কোন পরিবাব্রের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।
উপরের সবগুলোই সত্যি হতে পারে, আবার আমার ধারনা সম্পূর্ণ ভুলও হতে পারে।হয়তো কেও পুড়েনই,শুধু একটা বাস ই পুড়েছে।সাথে পুড়েছে তিনজন মানুষের ভাগ্য।ড্রাইভার,হেল্পার,কন্ডাক্টর।শুধু ভাগ্য বলছি কেন?ওরাও তো পুরে থাকতে পারে যারা আমাদের চোখে মানুষ বলে গণ্য হয়না।কত গালি কত বকা তবুও ওদেরকেই নিয়েই আমাদের যাত্রা।সবার শেষে ওরা আমাদেরই একজন।
ঐ বাস টাতে না গেলেও আরেকটা বাস এ যাতায়াত করব এটাই সত্যি।কারন আমাকে যেতেই হবে।বেচে থাকতে হলে জীবন জীবিকা জরুরি।কালকে থেকেই আবার যাবো।কোন মনির হয়েও যেতে পারি।বাবা মা লাশ খুজে পেতেও পারে নাও পারে।সে জন্যও বলার কিছু নেই।কিন্তু যদি অর্ধমৃত হয়ে বেঁচে থাকি সেটা ভাবতেও গা শিউরে ওঠে।হাসপাতালের বার্ন ইউনিট,অনেক পোড়া রোগী,তার মাঝে আমিও একজন,মানুষ পোড়া গন্ধ।পাশে মা বসে কাঁদছে,বাবা অস্থির হয়ে অসুস্থ শরীর নিয়ে এপাশ ওপাশ ছোঁটাছুটি করছেন,কি করতে হবে ভেবে পাচ্ছেন না।এপর্যন্ত ভাবার পর থামতে হয়।আর ভাবার মত ক্ষমতা আমার নেই।
সবটুকু নিজের কথাই বললাম।এবার তাদের কথায় আসি যারা বলছেন এই আন্দোলন (মানুষ পুরানো) ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিবার আন্দোলন।তাদের কে বলি আপনারা মনিরের বাবা মাকে জিজ্ঞেস করুন যে তারা কি চায়?আগুনে পুরে মারা যাওয়া মানুষ গুলোর পরিবার কে জিজ্ঞেস করুন তারা কি চায়?যদি ভোটাধিকার চায় তবে আমিও আপনাদের সাথে রাস্তায় নেমে বলব 'জ্বালো জ্বালো আগুন জ্বালো' কিন্তু যদি তারা তা না চায় তবে আপনারা কি করবেন?নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি এটা সবাই বলছে।সেটা আমিও মানি।কিন্তু যেদিন সংসদে সংবিধান সংশোধনের বিল আনা হয়েছিল সেদিন আপনারা কোথায় ছিলেন?জনগনের প্রতিনিধি হয়ে কেন সেদিন আপনারা দাঁড়ান নি।আপনারা সাংসদ হয়ে সংসদে গিয়েছিলেন সুধুই বেতন ভাতা নেবার জন্য?আর আজকে আন্দোলন করছেন শুধুই ক্ষমতার লোভে?যদি জনতার জন্য আন্দোলন হয়ে থাকে সেটা জনগন কে মেরে হতে পারেনা।শেম তাদের জন্য যারা এই আন্দোলন কে সমর্থন করছেন।
একজনকে কিছু বলা বাকি আছে।সেটা মাননীয় প্রধান মন্ত্রী কে। আপনি তো দেশের প্রধান মন্ত্রী।১৬ কোটি জনতার জানমালের দায়িত্ব তো আপনারই হাতে।আমাদেরকে বাঁচানো তো আপনারই দায়িত্ব।সেটা যেকোনো ভাবেই হতে পারে।যদি সন্ত্রাস থামাতে না পারেন তবে সন্ত্রাস কেই দেশ টা দিয়ে দিন।সন্ত্রাস থামানো কঠিন কোন কাজ না।আপনি শক্ত হন।সন্ত্রাসী কয়জন?ওদেরকে থামান।যাদের কে ধরা হয়েছে তাদের কে সারাদেশ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পুরিয়ে দিন।দরকার হলে স্টেডিয়াম এ নিয়ে পুরিয়ে দিন অথবা সবার সামনে ফাঁশি দিন।সেদিন আর কেউ প্রতিবাদ করবে বলে মনে হয়না। যদি না পারেন তবে যেখান থেকে ধরা হবে সেখানেই সোজাসুজি গুলি করে দিন।মানুষ মারলে মানবতা বিরোধী অপরাধ হয়,জানোয়ার মারলে হয়না কিছুই।
যাদের কথায় কথায় ধর্ম অনুভুতি তে আঘাত লাগে তারা আজ কোথায়?একটা কাগজে লেখা কোরআন শরিফে আগুন লাগলে যাদের ধর্ম অনুভুতি তে লাগে মানুষ পুরলে তাদের একটুও লাগেনা কেন?তাদের কি মানবতার অনুভুতি ভোঁতা হয়ে গেছে?মোমবাতি পুরালে ইসলাম নষ্ট হয় মানুষ পুরলে ইসলাম মজবুত হয় তাইনা?আপনাদের ধর্মীয় অনুভুতি কোথা দিয়ে দিবো ভেবে পাইনা। ধর্ম মানুষের জন্য এসেছে এটা মনে রাখুন।আগে মানুষ পরে ধর্ম এটা বোঝার চেষ্টা করুন।নয়তো আপনাদের ধর্মীয় অনুভুতি একদিন আর সোজা হয়ে দারাবে না।বউ চলে যাবে যার অনুভুতি শক্ত হয়ে দাড়ায় তার কাছে।
যা বললাম বা লিখলাম তার সবটুকুই আবেগের বা ক্ষোভের কথা।এর পরিনতি অনেক কিছুই হতে পারে,সেগুলো লিখে বক্তব্য আর বড় করব না।আমি খুবি নগণ্য একজন মানুষ।আমার দোয়া কবুল হয় কিনা সেটা জানা আমার মত নগণ্য একজনের পক্ষে সম্ভব না।তবুও দোয়া করি ঐসব মানুষের জন্য যারা এই নগ্ন হামলার শিকার।আর ঘৃণা তাদের জন্য যারা এই হামলা করছেন,করাচ্ছেন,সমর্থন দিচ্ছেন,বা থামাতে পারছেন না,বা নিজ নিজ জায়গা থেকে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন না তাদের জন্য।
২|
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১২:০০
জাদ রহমান বলেছেন: তাকে ঘর থেকে চুলের মুঠি ধরে টেনে বের করা হোক।তারপর চুলের মুঠি ধরে আছার মারা উচিত।তারপর সকল মনির এর বাবা মায়ের কাছে দিয়ে দেয়া হোক।বাকিটা তারা বুঝবে।
©somewhere in net ltd.
১|
৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১:১৬
যোগী বলেছেন: খালেদা জিয়া যেমন হরতাল অবরোধ দিয়ে মানুষ মারছে গাড়ি, ট্রেন চলাচল স্কুল কলেজ বন্ধ করে দিছে। এসএসসি পরীক্ষা বন্ধ করে দিতে চাচ্ছে।
ঠিক তেমনি খালেদা জিয়ার বাসার সমস্তু পানি বিদ্যুৎ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তাকেও অবরোধের মধ্যে রাখা হোক।
তাকেও হিটার চালায় অফিসে বসে টিভি দেখার আরাম থেকে বঞ্চিত করা হোক।