নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

হৃদয় জুড়ে শতেক ফুটো খড়-কুটোতে ঢাকা-- জীবন যেন গত্তে পড়া গরুর গাড়ির চাকা--- তরল জলে সরল পুঁটি মনমোহিনী আঁশ--- এক ঝিলিকেই কী সুখ দিলো, সুখ যেন সন্ত্রাস!

বন্ধু তুহিন প্রাঙ্গনেমোর

আসুক শুভ্র সকাল, আসুক আবার শুদ্ধ সময়..

বন্ধু তুহিন প্রাঙ্গনেমোর › বিস্তারিত পোস্টঃ

"ট্রেন ড্রিমস" মুভিটি কেন দেখলাম....অভিনয় কি এটাকেই বলে?

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪


"ট্রেন ড্রিমস" কোনো প্রচলিত আখ্যান নয়; বরং এটি একটি আমেরিকার বিস্মৃত এক অধ্যায়ে এক সাধারণ মানুষের অসাধারণ জীবনকে তুলে ধরে একটা অসাধারণ চাক্ষুষ কবিতা। ধৈর্য্য ধরে দেখার পর আপনার অনুভূতি হবে আমি এতক্ষন ধ্যানমগ্ন হয়ে ছিলেন। ছবির সাফল্যের মূল চাবিকাঠি জোয়েল এজগারটনের অসাধারণ অভিনয়। তিনি গ্রেইনিয়ারের চরিত্রে এতটাই মিশে গেছেন যে, তার নীরবতা, এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা এবং ১৬ কলা অভিনয়ের মাধ্যমেই চরিত্রটির সমস্ত আবেদন, বেদনা ও বিস্ময় ফুটে ওঠে।

আমি কেন দেখলাম:

১. ডেনিস জনসনের প্রেমের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত "ট্রেন ড্রিমস" বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে আমেরিকার এক সাধারণ কাঠুরের অসাধারণ জীবনের গল্প বলে।

২. জোয়েল এজগার্টন, রবার্ট গ্রেইনিয়ারের চরিত্রে এতটাই মিশে গেছেন যে তার নীরবতা ও এক দৃষ্টিতে তাকানোই হয়ে ওঠে গল্প বলার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম।

৩. ক্লিন্ট বেন্টলির নির্দেশনা ধীরলয়ে, ধ্যানমগ্ন গতিতে এগিয়ে যায়, যা টেরেন্স মালিকের সিনেমার কথা মনে করিয়ে দেয় এবং দর্শককে চরিত্রের অন্তর্দ্বন্দ্বে নিমগ্ন করে।

৪. অ্যাডোলফো ভেলোসোর চিত্রগ্রহণ আর ব্রাইস ডেসনারের সুর যেন আরেকটি চরিত্র হয়ে উঠেছে, যা আইডাহোর অরণ্য ও রেললাইনের নির্মল সৌন্দর্যকে অমর করে রাখে।

৫. এটি একটি দাম্পত্য সম্পর্ক ও করুণ ট্র্যাজেডির গল্প—দাবানলে পরিবার হারানোর পর রবার্টের নিঃসঙ্গ পথচলা শুরু হয়, যা তাকে এক আশ্চর্য, আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করে।

৬. ফেলিসিটি জোন্স, উইলিয়াম এইচ ম্যাসি ও কেরি কনডনের মতো শিল্পীরা ছোট ছোট চরিত্রেও প্রাণবন্ত উপস্থিতি রেখেছেন।

৭. রটেন টম্যাটোস-এ ৯৫% স্কোর ও সমালোচকদের বিপুল প্রশংসা পেলেও সাধারণ দর্শকদের কাছে ছবিটি কিছুটা "ধীরগতির" ও "বিরক্তিকর" বলে মনে হয়েছে।

৮. মূল উপন্যাসের কিছু জটিল ও নৈতিক দ্বিধাপূর্ণ দৃশ্য সহজ করে উপস্থাপন করায় বইপ্রেমীরা কিছুটা হতাশ হতে পারেন।

৯. এটি সবার জন্য নয়—যারা ধৈর্য ধরে নির্মাণ করা চাক্ষুষ কবিতা ও নীরব অভিনয়ের আবেদন বুঝতে পারেন, কেবল তারাই ছবিটির প্রকৃত মর্ম উপলব্ধি করবেন।

১০. পরিশেষে, "ট্রেন ড্রিমস" একটি হারিয়ে যাওয়া আমেরিকার উদ্দেশ্যে লেখা এক মর্মস্পর্শী প্রেমপত্র, যা দেখার পরেও অনেকদিন মনে দাগ কেটে থাকে।

২৭/ফেব্রুয়ারী/২০২৬ এ দেখলাম ঢাকায় বসে রাত তখন ১২টা...


মন্তব্য ০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.