নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

হৃদয় জুড়ে শতেক ফুটো খড়-কুটোতে ঢাকা-- জীবন যেন গত্তে পড়া গরুর গাড়ির চাকা--- তরল জলে সরল পুঁটি মনমোহিনী আঁশ--- এক ঝিলিকেই কী সুখ দিলো, সুখ যেন সন্ত্রাস!

বন্ধু তুহিন প্রাঙ্গনেমোর

আসুক শুভ্র সকাল, আসুক আবার শুদ্ধ সময়..

বন্ধু তুহিন প্রাঙ্গনেমোর › বিস্তারিত পোস্টঃ

ইশারার ভিতর আগুন রেখে

২৪ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ২:৩৪

ইশারার ভিতর আগুন রেখে
সংযমের নামে লুকানো ছুরি—
বেইমানি নিজের বুকেই ঢোকে।

রাত জানে, কুহুক জানে,
দেয়ালও জানে সব কথা,
শুধু মানুষ শোনে না—
শা-ঝে-মাঝে নিজের শব্দেই বধির।

জীবনের ভিতর ফাগুন ছিল,
রক্তের মতো উষ্ণ।
তবু সারাদিন একা বসে থাকি—
গান আসে, কণ্ঠে ওঠে না,
ফাগুন থাকে, মানুষ থাকে না।

সাম্যের নামে কত মিছিল গেল,
সুসময়ের নামে কত প্রতারণা—
কানের ভিতর আজও বাজে অদৃশ্য রণভেরী,
যেন কেউ ডাকছে যুদ্ধেতে,
কিন্তু যুদ্ধ নেই, শুধু ভাঙা মানুষের সারি।

ভাসতে ভাসতে ক্লান্ত মন,
নিজেকেই বাধা দেয় নিজে—
জোনাকিরা একে একে চলে যায়,
অন্ধকার থাকে।
নিয়ম কি এটাই?
নাকি আমরা ভুল করে রাতকে ভেবেছিলাম ভোর?

বেপরোয়া জীবনের মানে খুঁজতে গিয়ে
শহরের পাঠশালায় শিখেছি শূন্যতা,
চেতনার নামে বিস্ফোরণ, ভিতরে শুধু ধোঁয়া।
নতুন রাত নেমেছে—কাশির শব্দও নেই কোথাও।
যক্ষের মতো জমে থাকা অভ্যাসে
হারিয়ে ফেলি মন—চেনা মন, নিজের মন।

জীবনে লেগে আছে বিষফোড়া,
চামড়ার নিচে পচে ওঠা সময়—
চারদিকে জঙ্গল,
মানুষেরা ট্রাকের মতো রঙচঙে,
ভেতরে লোহা, বাইরে পোস্টার।
একশো হাত দূরে থাকো—
দূরে থাকাই এখন সবচেয়ে নিরাপদ নৈকট্য।

রিকশার পেছনের ছবিগুলো মুছে গেছে
নব্বই দশকের বৃষ্টিতে।
এখন শুধু টিং টিং শব্দ, তার মাঝে আধা ভাঙা গান,
মাটির গন্ধ নেই,
তবু আমরা বলি—এটাই নতুন শহর, এটাই নতুন মানুষ।

ঈশ্বরও বুঝি ক্লান্ত হয়ে পড়ে
পাপের হিসাব রাখতে রাখতে,
অন্যায় এত বেশি যে ন্যায় লজ্জা পায়।

তবু কে যেন রাতের দিকে কান পেতে থাকে—
হয়তো আমিই, হয়তো তুমি,
হয়তো সেই কুহুক,
যে এখনও বিশ্বাস করে
মানুষ পুরোপুরি শেষ হয়নি।



হাতির ঝিলের পার.......মঙ্গলবার, ১০ই চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ


মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.