নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বাসন্ত বিষুব

এখানে দিন-রাত্রি সমান

বাসন্ত বিষুব

বাসন্ত বিষুব › বিস্তারিত পোস্টঃ

শাহবাগ আন্দোলন: ব্লগারদের উত্থান-পর্ব

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১১:২৮

বাংলা ভাষায় ব্লগিং আন্দোলন এখন একটি পাকাপোক্ত অবস্থানে পৌঁছেছে। ‘কাজকর্মহীন ছেলেপুলেদের কান্ড’ থেকে ব্লগিং এখন হয়ে উঠেছে তারুণ্যের জয়গান ও শক্তির স্ফুরণ। শাহবাগ আন্দোলন নিয়ে অনেক সমালোচনা আছে। পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে অনেকেই হয়তো সেই সমালোচনার বাক্যগুলো প্রকাশ করতে পারছেন না। কিন্তু ঘড়োয়া আলোচনায় সমালোচনার প্রচন্ডতা উপলব্ধি করা যায় খুব সহজেই। যারা আওয়ামী লীগ ঘরাণার নন, তারা বেশ জোড়ে-সোরেই শাহবাগে তরুণ ব্লগারদের জাগরণকে আখ্যা দিচ্ছেন আওয়ামীপন্থিদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত জমায়েত হিসেবে। তারা দৃঢ় চিত্তেই দাবি করছেন, এ আন্দোলনের কোন সফলতা নেই এবং খুব দ্রুতই এ আন্দোলন পুরোপুরি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। শাহবাগ আন্দোলন নিয়ে এই অভিযোগ এই মুহুর্তে আমি খন্ডন করবো না কারণ এটা বিভাজনের রাজনীতির একটি অংশ। তাছাড়া একজন ব্লগার হিসেবে আমারো কিছু মতদ্বৈধতা আছে। তাই ব্যাপারটি পরের কোন পোস্টের জন্য রেখে দিলাম। আর নিহত ব্লগার রাজীবের ধর্মবিরোধী বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরে দৈনিক ইনকিলাব ও আমার দেশ পত্রিকায় যে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে তা নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন এক বিতর্ক। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, পত্রিকায় ছাপা হওয়া রাজীবের বক্তব্য সুস্থ্যচিন্তাপ্রসূত নয়। কিন্তু তারপরও এ বক্তব্য রাজীবের ছিল কিনা তা নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত।



তবে এই সব সমালোচনা থেকে শাহবাগ আন্দোলন সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি ইতিবাচক দিক আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে। যারা তরুণ ব্লগারদের সমালোচনায় মুখর তাদের বড় অংশের বয়স পঞ্চাশ এর উপর। অর্থাৎ বয়সে তারা প্রবীন। ব্লগারদের চলমান এই আন্দোলনের আগে তারা জানতেনই না ব্লগ বা ব্লগার কী। কিন্তু এই আন্দোলনের ফলে তারা এই শব্দ দুটির সাথে পরিচিত হয়েছেন এবং আমার মত অনেকের কাছেই ব্লগিং সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন। গত কয়েক দিনে বিশেষ করে ব্লগার রাজীবের হত্যাকান্ডের পর এ বিষয়ে তারা আরো আগ্রহী হয়েছেন। অর্থাৎ প্রবীনদের কাছে অজানা ও অবহেলিত একটি বিষয় এখন অনেকটা বিপ্লবের রঙে আবির্ভুত হয়েছে। তারা বুঝতে পারছেন, ব্লগার নামে আধুনিকতা মনস্ক সচেতন একটি শ্রেণি আমাদের সমাজে গড়ে উঠেছে এবং হালে যুদ্ধাপরাধী ইস্যুকে কেন্দ্র করে তাদের সরব আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। তাদের দৃষ্টিতে ব্লগারদের এই উত্থান আজ হয়তো অনেকটা আওয়ামী ঘেষা তবে আমি মনে করি ভবিষ্যতে এই আন্দোলন যে কোন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুকে কেন্দ্র করে আবারো দানা বেধে উঠবে। হতে পারে সেই উত্থান সময়ের প্রেক্ষিতে বিএনপিরও পক্ষে যাবে। হতে পারে ওয়ান এলিভেনের মত কোন ভবিষ্যত জাতীয় সংকটে ব্লগাররা গণতন্ত্রের স্বার্থে আবারো মাঠে নামবে এবং তখন সেই জাগরণ শুধু আওয়ামী লীগ নয় বিএনপিরও আকাক্সিক্ষত হবে।



আমি যে সমালোচদের কথা বলছি, তারা আরো একটি বিষয়কে বড় করে দেখছেন। সেটা ব্লগারদের সংখ্যা। তাদের ধারণা এত অল্প সংখ্যক ব্লগার ভোটের রাজনীতিতে বড় কোন প্রভাব ফেলতে পারবে না। আমার দৃষ্টিতে তাদের এমন ধারণার পেছনেও সেই একই অজ্ঞতা কাজ করছে। তারা আসলে জানেন না ব্লগের শক্তিটা কোথায় এবং ব্লগিং এর প্রভাব কতদূর বিস্তৃত হতে পারে। শাহবাগে যারা জমায়েত হয়েছেন তাদের মধ্যে ব্লগারের সংখ্যা হয়তো খুব বেশি নয় কিন্তু এই অল্পসংখ্যক ব্লগারই হাজার হাজার সচেতন দেশপ্রেমিক জনতাকে যেমন একত্রিত করতে পেরেছে তেমনি সারা দেশেও উদ্দিপনা ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। ভোটের রাজনীতির প্রসঙ্গটি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো সচেতনতার বিস্তৃতি। একজন আন্না হাজারে বা মালালা যা পারেন তার সাথে মেকি ভোটের হিসেবের কোন সম্পর্ক নয়। ব্লগাররা ভোটযুদ্ধে নামেননি নেমেছেন একটি সার্বজনীন দাবিকে জোড়ালো করার আন্দোলনে।



সুতরাং আমার দৃষ্টিতে ব্লগারদের এই অভূতপূর্ব আন্দোলন শুধু একটি আন্দোলনই নয়, এটি ব্লগার নামক একটি শক্তির আত্মপ্রকাশ। এই আত্মপ্রকাশ এখন যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। জাতির বুড়ো প্রজন্ম এখন সেই গুরুত্ব টের পেলেই হলো।

মন্তব্য ২০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২০) মন্তব্য লিখুন

১| ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১১:৩২

বোকামন বলেছেন: এটি ব্লগার নামক একটি শক্তির আত্মপ্রকাশ

যথার্থ

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:০৪

বাসন্ত বিষুব বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।

২| ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১১:৩৭

Palol বলেছেন: আন্দোলনের নতুন ফর্ম,

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:০৫

বাসন্ত বিষুব বলেছেন: নিঃসন্দেহে।

৩| ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১১:৪৮

জানা বলেছেন:

আপনার পর্যবেক্ষণ পড়ে ভাল লাগলো।
ধন্যবাদ পোস্টের জন্য।

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:০৬

বাসন্ত বিষুব বলেছেন: আমার শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ রইলো জানা আপা।

৪| ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১১:৫৬

অথৈ সাগর বলেছেন: একমত । তারা অন্তত ব্লগ শব্দটার পরিচিতি হয়েছে । :|

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:০৭

বাসন্ত বিষুব বলেছেন: এই পরিচিতিটার প্রয়োজন ছিল।

৫| ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:০৪

মামুন রশিদ বলেছেন: চমৎকার বিশ্লেষন ।

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:০৮

বাসন্ত বিষুব বলেছেন: আন্তরিক ধন্যবাদ।

৬| ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:০৬

রকসটারডিমটিবি বলেছেন: We all shouting every day for the highest death penalties for few bastards but We don't shout at all for the death penalties of War criminals, Pakistani military forces who killed and raped more Bengali's than these little bastards. We need to gather more and more crowd to force these Pakistanis to say SORRY for their sins and all alive Pakistanis(Military and Civil who were actively involved with genocide) need to be punished for their crimes.

If you can say Yes with me than spread the word 'We Want All to be hanged'.

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:১০

বাসন্ত বিষুব বলেছেন: পাকিস্তান সেনাবাহিনীর যুদ্ধাপরাধীদের একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। তবে আমি আপনার সাথে একমত যে, আমাদের উচিত পাকিস্তানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা।

৭| ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:২৮

স্বপনবাজ বলেছেন: বোকামন বলেছেন: এটি ব্লগার নামক একটি শক্তির আত্মপ্রকাশ

যথার্থ

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:৪৭

বাসন্ত বিষুব বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকেও।

৮| ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৩:৪৯

সভ্য সৌরভ বলেছেন: সুন্দর লিখেছেন

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:৪৩

বাসন্ত বিষুব বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।

৯| ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৩:১১

নুর ফ্য়জুর রেজা বলেছেন: একজন ছোট্ট ব্লগার হিসেবে আমি গর্বিত। ++++

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:৪২

বাসন্ত বিষুব বলেছেন: শাহবাগের তরুণ ব্লগাররা পুরো ব্লগ কমিউনিটিকে গর্বিত করেছেন।

১০| ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৯:৫৯

Palol বলেছেন: অকুপাই শাহবাগ, সময়টা এখন জনগণের

যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে আর্ন্তজাতিক ট্রাইব্যুনালে ঘোষিত রায়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে তরুণ প্রজন্ম সহ ব্যাপক সাধারণ মানুষ। এই রায় প্রত্যাখ্যান করে কসাই কাদের মোল্লার ফাসির দাবিতে ফুসে উঠেছে মানুষ। গত ৫ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার রায় ঘোষণার দিন থেকেই বিক্ষুব্ধ মানুষ জড়ো হতে শুরু করে শাহবাগে। প্রথমে কিছু কিছু মানুষ, পরে শত শত মানুষ যোগ দেয় সেখানে। এ সংখ্যা হাজারের অংক ছাপিয়ে এখন লাখ লাখ মানুষের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি সেখানে। ক্রমান্বয়ে শাহবাগের চত্বর চলে যায় আন্দোলনকারীদের দখলে। লেখাটি যখন তৈরি করা হয়, তখন শাহবাগের প্রজন্মচত্বরের আন্দোলন ৯ দিন পেরিয়ে গেছে। দিনরাত অষ্টপ্রহর কোনো ধরণের বিরতি ছাড়াই চলছে আন্দোলন, তিন মিনিট স্তব্ধতার কর্মসূচী ছাড়া এক মিনিটের জন্যও স্লোগান থামেনি সেখানে। মানুষজন যেন তাদের ঘরবাড়ি ভুলে গেছে।
অকুপাই ওয়াল ষ্ট্রিটের মত অকুপাই শাহবাগ যেন আন্দোলনের নতুন ফর্ম, যা ইতোপুর্বে কেউ দেখেনি। কোনো রাজনৈতিক দলের ডাকে এত লোক সমাগম সম্ভব নয়। এই সমাবেশ কী বার্তা দিচ্ছে।

১. মুক্তিযুদ্ধের চেতনাই দেশের মূল রাজনৈতিক শ্রোত। ভারত বিরোধীতার সঠিক কিন্তু ভারত বিরোধীতার নামে কিংবা মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের নামে সাম্প্রদায়িক চেতনা ভিত্তিক রাজনীতি তরুণ প্রজন্মের কাছে গ্রহণীয় নয়।
২. মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করা জন্য আওয়ামী লীগ আর নির্ভরযোগ্য দল নয়, দলটির কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর নিরাপদ নয়। জামাত যেমন ধর্ম ব্যবসায়ী, তেমনি আওয়ামী লীগও তেমনি স্বাধীনতা ব্যবসায়ী।
৩. রাজনৈতিক দলগুলো শুধু জনগণকে জিম্মি করে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করে না, জনগণও মাঝে মাঝে রাজনৈতিক দলগুলোকে পাঠ দেয়। প্রজন্মচত্বরের গণজাগরণ রাজনীতিকদের প্রতি জনগণের সেই রকম একটি পাঠ। এ ধরণের ঘটনার পরে দেশের রাজনীতির কাঠামোগত একটা পরিবর্তন অত্যবশ্যক হয়ে দাড়ায়। সঠিক দিশা পেলে এধরণের ঘটনা থেকে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের শর্ত তৈরি হয়।


তারিখ : ১৩.০২.১৩

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:৪০

বাসন্ত বিষুব বলেছেন: আপনার কথাগুলো যথার্থ। আপনার সাথে আমি একমত, সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে এর থেকে নতুন রাজনৈতিক শক্তির সৃষ্টি হওয়া সম্ভব। ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.