| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বুধবার, অফিসে গিয়ে হাজিরা খাতাতে নাম লিখেই বেড়িয়ে পড়ি চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব এর দিকে। গিয়ে পেলাম ছাত্র ফেডারেশনের একদল বন্ধুদের। আমার বন্ধু তুলি, দীপু দা সহ আরও অনেকে। একা বসে এতো দীর্ঘ সময় থাকতে পারব না; আর সবার স্লোগান যখন একি তখন যেই ব্যনারেই বসি এখানে আমি বাঙালী। বসে গেলাম। সবাই চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটির কিংবা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এর। কিন্তু একটা ১৩ থেকে ১৪ বছরের কিশোরকে দেখলাম ওই দলের সাথে, স্লোগানে স্লোগানে প্রদীপ্ত এই কিশোর এর নাম নাফিস। প্রথমে তেমন একটা ব্যতিক্রম লাগেনি ব্যাপারটা। তারপর দিন আবার দেখলাম ছেলেটাকে, একি পোষাকে। কিছু একটা ব্যাপার আছে, খোঁজ নিলাম ব্যপার কি? যা শুনলাম পুরোটা হতবাক করার মতো। চট্টগ্রামের মুরাদপুর এর নর্দান পাবলিক স্কুল এর ছাত্র এই কিশোর, স্কুল হোস্টেল থেকে পালিয়ে এসেছে। তার হোস্টেল সুপার একজন জামায়াত সমর্থক। তাকে আন্দোলনে আসতে দিবে না,এটা জেনেই সে পালিয়েছে। তার মা থাকে গ্রামে, আর বাবা প্রবাসী। শহরে একমাত্র আত্মীয় তার ফুফুর কাছে তাকে দিয়ে আসতে গেলেও, তিনি বাসায় ঢুকতে দিলেন না।এরপর দীপুদা ওকে নিয়ে গেল বাসায়। সকাল হতেই আবার হাজির হল নাফিস। গায়ে তিন দিনের পুরোনো পোষাক।কিন্তু হাসি হাসি আদুরে চেহারাতে কোনো ক্লান্তি নেই, দুঃশ্চিন্তা নেই। বরং প্রতিবাদের উৎসবে মাতোয়ার এই কিশোর। গতকাল কেমন ছিল জিজ্ঞাসা করতেই, দীপু দা ওকে থামিয়ে দিয়ে ভাঙ্গা গলাতেই বলল, “আরে আমারে জিজ্ঞাসা কর আমি কেমন ছিলাম,গতরাতে ঘুমের মাঝেই স্লোগান দিছে, ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই। আর আমার ঘুমের ফাঁসি হয়ে গেছে।“ শাহবাগের বন্ধুদের জানাতে চাই, নাফিস সত্যি সত্যি ঘরে ফিরবেনা, যতদিন আন্দোলন চলবে, যতদিন ফাঁসি হবে না এই জানোয়ারদের। ও ব্লগ পড়তে জানে না, হয়ত দেখবে না এই লেখা। দরকার নেই, ও জেগে আছে। যাদের ঘুম এখনও ভাঙ্গেনি, কিংবা এখনো আড়মোড়া ভাঙ্গছেন,তারা এই লেখাটা পড়বেন। আর যারা ছাগলদের মদদ দিচ্ছেন তাদের কে বলছি, এই বার বাংলা জেগেছে, নাফিসরা জেগেছে, এইবার বাংলা ছাড়ো; না হয় পুড়ে মরবে। এই দাবানল সব রাজাকার আর তার দোসরদের গ্রাস করবে।
©somewhere in net ltd.
১|
১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ২:৫৮
সাদা রং- বলেছেন: নাসিফকে ধন্যবাদ।