নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

খুবই সাধারন একজন মানুষ । পড়া যার নেশা । পড়ার এবং জানার আশায় ----

মোহামমদ কামরুজজামান

মোহামমদ কামরুজজামান › বিস্তারিত পোস্টঃ

ভালবাসা কি এবং এভাবেও কি ভালবাসি বলা যায় ?

১১ ই আগস্ট, ২০২১ দুপুর ১:১৫


ছবি - Ittefaq.com

ভালবাসা কি? ভালবাসা (চার অক্ষরের ছোট একটি বাক্য) যার আবেদন আমাদের মানব জীবনে সীমাহীন !!! এ এক অদৃশ্য কিন্তু অনুভবের বিষয় নিয়েই সারা দুনিয়া আবর্তিত এবং সারা দুনিয়া টিকেই আছে ভালবাসার কল্যাণে।আর তাইতো ভালবাসার রকম এবং সংজ্ঞা একেকজনের কাছে রকম। অনেকেই বলেন ভালোবাসার কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই।সাধারণতঃ ভালোবাসা হলো আবেগ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হৃদয়ের অভ্যন্তরীণ এমন একটা অনুভুতি, যা ভালোবাসার মানুষটির কাছে সহজে প্রকাশ করা যায় না। ভালবাসা হতে পারে প্রেমিকার সঙ্গে, প্রকৃতির সঙ্গে, কিংবা স্রষ্টার সঙ্গে। ভালোবাসা হৃদয়ের একটি অনুভূতি। ভালোবাসা মানে দূরে থেকেও কাছে থাকার অনুভব করা।ভালোবাসা মানে কমিটমেন্ট। ভালবাসা মানে হলো - একজনের কাছে আরেকজনের দায়বদ্ধতা।

ভালবাসা মানে হল - কখনও প্রিয় মানুষটির প্রতি অশুভ আচরণ না করা,তার ক্ষতি না চাওয়া। সুখে-দুঃখে সব সময় পাশে থাকা। সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেয়ার নামই ভালোবাসা।ভালোবাসা মনের একটি অনুভূতি। এ অনুভূতিটাও কেউ দেখতে পায় না, অনুভব করে বুঝে নিতে হয়। এ ভালোবাসা শুধু মানুষে মানুষে নয়। সব জীব ও জড়ের প্রতিও হতে পারে। ভালোবাসা হবে নিখুঁত, যেখানে থাকবে সম্মানবোধ।শ্রদ্ধা ও সম্মানবোধের নামই ভালোবাসা। মুখে মুখে বুলি আওড়িয়ে বলা যায় ভালোবাসি, ভালোবাসি। কিন্তু তা ঠিক তখনই প্রমাণিত হবে যখন সম্পর্কের মাঝে কমিটমেন্ট ঠিক থাকবে। কেউ কাউকে ছেড়ে যাবে না। মরে যাওয়া ভিন্ন কথা। কিন্তু সুখে-দুঃখে সব সময় পাশে থাকার নাম ভালোবাসা।

দেশের নন্দিত অভিনেতা-নির্মাতা ও লেখক আফজাল হোসেনের ৩০তম বিবাহবার্ষিকী পূর্ণ হয়েছে। স্ত্রী তাজীন হালিম মনা ও দুই সন্তানকে নিয়ে সুখেই কাটছে এই অভিনেতার দিনকাল। বিশেষ এই দিনে স্ত্রী ও সংসার জীবনের কথা এবং তার ভালবাসা ভক্ত-শুভাকাঙক্ষীদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন আফজাল হোসেন।সংসার জীবনের তিন দশক পূর্তি উপলক্ষে সামাজিক মাধ্যমে স্ত্রীকে বিবাহবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আফজাল হোসেন। সঙ্গে জানিয়েছেন দু’জনের দাম্পত্য জীবনের মধুর সম্পর্কের কথা।যদিও তার পুরো লেখার কোথাও একবারও ভালবাসার কথা নেই বা এভাবেও বলা হয়নি যে "আমি তোমাকে ভালবাসি" তারপরেও পুরো লেখায় জুড়ে রয়েছে অদৃশ্য-অব্যক্ত ভালবাসার ছোয়া,যা যে কারোরই মন ছুয়ে যাবে এবং ভাবতে বাধ্য করবে যে,দেখানোর-প্রচারের(show off) এই সময়ে-যুগে এই ভাবে কিছু না বলে না দেখিয়ে এইভাবে নিরবে নিভৃতে এভাবেও ভালবাসা যায়!!!! ভালবাসা আসলেই বলে বা দেখিয়ে হয়না বা প্রমাণ করা যায়না।তা শুধু অনুভবের জিনিষ।

বিবাহবার্ষিকীতে স্ত্রীকে নিয়ে লেখা আফজাল হোসেনের পুরো লেখাটি তুলে ধরা হলো-


ছবি - Ittefaq.com

"তিরিশ বছর হয়ে গেল একসাথে আছি। যথার্থ শোনায় - তার সংসারে তার সাথে বাস করি বললে"। তিরিশ বছর কেটেছে একসাথে। আমাদের সন্তানদের জন্মতারিখ বলতে পারবো - কার কত বয়স হলো বলতে গেলে হিসাবে বসতে হবে। তার চেয়ে সহজ মনাকে জিজ্ঞাসা করে জেনে নেয়া। আরাফ ও বউ দেশের বাইরে থাকে - মনা তাদের প্রায় রোজকার খবর বলতে পারবে। ঈমানের স্কুলের বেতন কতো, আমার জানা নেই। আমি জানি না মাসের বাজার খরচ, চালের দাম, লবণ কত টাকা কেজি। জানা নেই রান্নাঘরের চুলো জ্বলছে না, বেসিনে পানি আটকে গেছে বা ঘরে বৈদ্যুতিক কোনো সমস্যা হলে কোনটার জন্য কাকে ফোন করতে হবে।এখন আমার ব্লাডপ্রেসার কত থাকে। সকালে কী কী ওষুধ খেতে হয় বা রাতে কী কী খাই, সবই জানে সে। আমি জানি না, আম্মাকেও এখন প্রতিদিন কতগুলো ওষুধ খেতে হয়, ডাক্তার কোনটা নতুন যোগ করেছে। কোন কোনটা শেষ হওয়ার পথে। মাসে গ্যাস, বিদ্যুৎ বিল কত আসে, গাড়ির সার্ভিসিং কবে, কবে আজিমপুর গোরস্থানে পাপা, মায়ের কবরের দেখভাল করার মানুষটাকে টাকা পাঠাতে হবে, সবই তার মনে-মাথায় সাজানো।


ছবি - Ittefaq.com

আব্বার মৃত্যুবার্ষিকী অমুক তারিখে, পারুলিয়ায় কিছু করা হবে নাকি মিরপুরের এতিমখানায়- মাথায় থাকে। শিশুকালে আরাফকে কোলে নিয়ে ঘুরতো বা তার সাথে খেলতো যে মেয়েটা, তার এখন দুটো বাচ্চা, থাকে সিলেটে। একদিন হয়তো তার সংসারের এক অসুবিধার কথা বলেছিল- মনার মাথায় আছে। সমস্যা আছে না গেছে খোঁজ নেয়। যা করতে পারে করে। অবাক হই, এত কিছু একটা মাথায় থাকে কীভাবে! দুপুরে ঈমান খেতে চেয়েছে কাও পাট খাই, তার রেসিপি পড়তে পড়তে মনার মনে হয়ে যায় আরিমা, পরিবারের সবচেয়ে ছোটজন (বোনের মেয়ে) খানিক আগে একটা ছবি এঁকে পাঠিয়েছে- মামনা দিস ইজ ফর ইউ। কেমন হয়েছে বা খুশি হয়েছি, জানানো হয়নি তাকে। নির্ভানা, আমাদের আম্মু (ছোটো ভাইয়ের মেয়ে) ইদানিং খুব আগ্রহে উৎসাহে কেক পেস্ট্রি বানায়, তার এক দুশ্চিন্তা- কেকের ভিতরটা কেন তত নরম থাকছে না। তা নিয়ে আম্মুর সঙ্গে কথা হওয়া দরকার। শীলা, ছোটো ভাইয়ের স্ত্রীর শরীর ভালো নেই। এটাও জানে, একজনও সাহায্যকারী নেই রুমার বাসায়। এ রকম অজস্র দুশ্চিন্তা, সমস্যা ও সমাধানের চেষ্টা মগজে বয়ে সে হাসিমুখে ঠাণ্ডা মাথায় চলতে ফিরতে পারে।


ছবি - Ittefaq.com

এমন বলেই সাহায্যকর্মী সরবরাহকারী, ইন্টারনেট ও পেস্টকন্ট্রোল কর্মী, ট্রেডমিল মেকানিক, দরজি, মাংস বিক্রেতা, মুদি দোকানি, সোফা মিস্ত্রি, রং মিস্ত্রি ইত্যাদি নানা পরিচয়ের মানুষেরা পছন্দ করে ম্যাডাম, আপাকে। এতকিছু বলার পর মনে হতেই পারে, আমি তাহলে একটা অযথা লোক। যুক্তি খাটালে অন্য মানেও পাওয়া যেতে পারে। জীবনে ভালো কিছু করেছি। মনা, সেই পুণ্যেরই ফল।

অনেক বছর ছবি আঁকিনি। আঁকাআঁকিতে আবার ফিরতে পারবো, মনে হতো না। মনার বিশ্বাস অটুট ছিল, পারবো। বছরের পর বছর আমাদের পুরো বাড়ির সব ঘরের দেয়াল সে ফাঁকা রেখে দেয়। বলেছিল, ফাঁকাই থাকুক। নিজের আঁকা ছবি ঝোলানোর আগে কারও ছবি দিয়ে ঘর সাজানো যাবে না। সেই নিঃশব্দ জোর খাটানোর ফলাফল, এখন ঘরের দেয়াল ফাঁকা নেই।

জগৎ ও জীবন শেখার জন্য। রোজ আমি তার কাছ থেকে শিখি। ঘরের ধুলো পরিষ্কার আর জলরঙে ছবি আঁকা- দুটোতেই নিবেদন লাগে। একইরকম মনোযোগ, নিষ্ঠা লাগে। একশ রকম ঘটনার মধ্যে থেকেও নিজের জলরংয়ের ছবি কীভাবে আরও ভালো করা যায়- সে জন্য মনা যখন ইউটিউবে বিশ্বখ্যাত জলরং শিল্পীদের অনুশীলন দেখে, যেভাবে দেখে অবাক হই। ভাবি, নিজে শিল্পী হতে চেয়েছি, তবে এতটা মনোযোগী কি কখনো হতে পেরেছি?

সৃষ্টিকর্তা আমাদের ভালো রেখেছেন, রাখবেন- এই আশা। আরও আশা, আমরা উভয়ের জন্য উভয়েই যেন আরও কিছুকাল সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকতে পারি। শুভ বিবাহবার্ষিকী মনা।

যেখানে বর্তমানে মানুষ খোলামনে কেউ কারো প্রশংসা করতেই চায়না , চায়না কারো সাথে দীর্ঘ দিন সুখ-দুখের ভাগাভাগী করে জীবন অতিবাহিত করতে তা সে স্বামী- স্ত্রী কিংবা যে কোন সম্পর্কই হোক।আর ভালবাসা নিয়ে,ভালবাসাকে দেখানোর জন্য মানুষ কত কিছুই করে সেখানে ভালবাসা নিয়ে একটি কথা না বলে,এমন সহজ-সরল ও অনাড়ম্ভর ভাবে ও যে কারো প্রতি এত ভালবাসা প্রকাশ করা যায় তা এ লেখা না পড়লে বুঝাই যেতনা। আর এই লেখা আমারও এতটা ভাললেগেছে যে,পড়ার পর অনেকটা সময় ভাল লাগায় বুদ হয়ে থেকেছি।আর এই ভাললাগাই সামুতে সবার সাথে শেয়ার করার জন্যই এই পোস্ট।

আফজাল স্যার - তাজীন হালিম মনা ম্যাডামের সুখী-সুন্দর ও সাফল্যময় দাম্পত্য জীবনের পাশাপাশি তাদের সু-স্বাস্থ্য ও দীৃর্ঘায়ুর জন্য প্রার্থনার সাথে সাথে দুনিয়ার সকল স্বামী- স্ত্রী'র জীবন যেন এরকম সহজ-সরল ও অনাড়ম্ভর ও ভালবাসায় ভরে উঠে এটাই চাওয়া।আর এই চাওয়া পূরণ খুব কঠিন কিছু বলে মনে হয়না। শুধুমাত্র একটু ত্যাগ-সহযোগীতা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধই আমাদের সকলের পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবনকে সুখ-সাফল্য ও ভালবাসায় ভরিয়ে তোলার জন্য যথেষ্ট ।এভাবেই হয়ত আমাদেরও অন্তর থেকে বেরিয়ে আসবে এমন আকুতি,"হে দয়াময় আমরাও যেন উভয়ের জন্য উভয়েই আরও কিছুকাল বেঁচে থাকতে পারি"।

তথ্যসূত্র - ইত্তেফাক (১১/০৮/২০২১)

মন্তব্য ১২ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (১২) মন্তব্য লিখুন

১| ১১ ই আগস্ট, ২০২১ দুপুর ১:২৪

রানার ব্লগ বলেছেন: গুনি অভিনেতা আফজাল সাহেবের বিবাহ বার্ষিকিতে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।


ভালোবাসার কোন সংজ্ঞা নাই এবং নিদৃষ্ট রঙ গন্ধ নাই, যে রঙ্গে আপনি রাঙ্গাতে চান যে সুবাসে আপনি সুবাসিত করতে চান ভালোবাসা সেই রকম আচরন করবে।

১১ ই আগস্ট, ২০২১ দুপুর ১:৪০

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: বলেছেন: ধন্যবাদ রানার ব্লগ ভাই , আপনার মন্তব্যের জন্য।

আসলেই ভাই, ভালবাসার নির্দিষ্ট্ কোন সংজ্ঞা-রুপ-রস নেই তবে যে যেভাবেই তাকে রুপ-রস-গন্ধে রাংগাতে চায় - ভালবাসা তার কাছে সেভাবেই ধরা দেয়।আর তাইতো কবি বলেছেন, "ভালবাসা মোরে ভিখারী করেছে ,তোমারে করেছে রাণী"।

২| ১১ ই আগস্ট, ২০২১ দুপুর ১:৫৮

হাবিব বলেছেন: লেখাটি শেয়ার করার জন্য অশেষ ধন্যবাদ

১১ ই আগস্ট, ২০২১ দুপুর ২:২৬

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: আপনার মন্তব্যের জন্য এবং পড়ার জন্য ,আপনাকেও ধন্যবাদ হাবিব ভাই ।

৩| ১১ ই আগস্ট, ২০২১ বিকাল ৩:০১

শায়মা বলেছেন: এটা কি ভালোবাসা? হ্যাঁ এটাও ভালোবাসা।

ভালোবাসা আসলে অনেক রকম হয়।

মেয়েরা যত করবে তার বাড়ি ঘর সংসারের জন্য আর হাসব্যান্ডকে কিচ্ছু চিন্তাই করতে দেবেনা সংসার নিয়ে ঝামেলা নিয়ে সে তত ভালোবাসা পাবে মানে কৃতজ্ঞতা পাবে আর কি। সেই হাসব্যান্ডও কৃতজ্ঞতা পাবার যোগ্য কারণ কোনো কোনো মেয়ে হাজার করেও মন পাবে না কারোরই।:(


আর যেই হাসব্যান্ড অর্থনৈতিকভাবে যত সচ্ছল সে তত ভালোবাসা বা কৃতজ্ঞতা পাবে আর কি। :-/

তবে প্রেম আর ভালোবাসা আবার ভালোবাসা আর প্রেম আবার দুইটা একই সাথে মাথায় ঘুরায় যাবে ভাবতে গেলে।


তবে হ্যাঁ সব ভালোবাসার সবচেয়ে বড় ব্যাপারটাই শ্রদ্ধাবোধ, এই শ্রদ্ধা আবার পায়ে ধরে সালাম টাইপ না। একে অন্যের প্রতি সন্মান বজিয়ে রাখা। একে অন্যের পছন্দ অপছন্দকে মূল্যায়ন করা। সুখে দুখে পাশে থাকা।


ঝগড়াঝাটি নাকি সংসারের অংশ কিন্তু আমি মনে করি ঝগড়াঝাটি মানুষ মেনে নেয় মাফ করে দেয় কিন্তু একেকবারের এই ছোটলোকিগুলো নিজেদের কাছে নিজেদেরকে ছোট করে দেয়।


কাজেই ঝগড়া পর্যায়ে যাবার আগেই সামলে নিতে হবে। বা নো চান্স টু ঝগড়া ঝাঁটি।

আসলে আত্ম নিয়ন্ত্রন ও ঠান্ডা মাথার ব্যপারটা ভালোবাসাতেও বড় জরুরী।



১১ ই আগস্ট, ২০২১ বিকাল ৫:০৪

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ শায়মা বনি , আপনার মন্তব্যের জন্য এবং খুব ভাল লাগল আপনাকে ( মন্তব্যে) দেখে।

হ্যা, এহিয়ে পেয়ার মেরা বহিন। এটাই ভালবাসা (যদিও এর নানা রকম ফের রয়েছে)।

****মেয়েরা যত করবে তার বাড়ি ঘর সংসারের জন্য আর হাসব্যান্ডকে কিচ্ছু চিন্তাই করতে দেবেনা সংসার নিয়ে ঝামেলা নিয়ে সে তত ভালোবাসা পাবে মানে কৃতজ্ঞতা পাবে আর কি। সেই হাসব্যান্ডও কৃতজ্ঞতা পাবার যোগ্য কারণ কোনো কোনো মেয়ে হাজার করেও মন পাবে না কারোরই।:(

--- যে সংসারে আমি বা তুমি থাকে সেই সংসার সং সার হয়ে যায়। আর যেই সংসারে আমরা বিরাজমান ,সেখানেই
স্বর্গসুখ (চরম ভাললাগা) বিরাজ করে। কারন, স্বামী- স্ত্রী'র মাঝে আমি তুমি বলে কিছু থাকেনা ।একে অন্যের ছায়া ও কায়া মাত্র যাদের আলাদা আলাদা বলে কিছু নেই বা আলাদা কোন সত্তাও নেই।দুয়ে মিলেই এক দেহ এক আত্মা যা পরমাত্মার বাধনে বাঁধা।
ভালবাসার ক্ষেত্রে বা ভালবাসার প্রাথমিক উপাদান হিসাবে অর্থনীতি থেকে ভাল মনের বেশী দরকার তবে ভালবাসার সফলতার জন্য তথা সুখী জীবনের জন্য অর্থনৈতিক সচ্ছলতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় (যদিও অর্থনৈতিক সচ্ছলতা গুরুত্বপূর্ণ তারপরেও তা যদি এত গুরুত্বপূর্ণ হত তাহলে ব্র্যাডপিট-অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, বিলগেটস-মেলিন্ডা গেটস কিংবা জেফ বেজোস-জেফ বেজোস- ম্যাকেঞ্জি বেজোস কিংবা হৃতিক রোশান-সুজানা র তালাক হতনা) তবে ভালবাসা তথা সংসারের জন্য পারস্পরিক ত্যাগ-সহযোগীতা, সহমর্মিতা এবং শ্রদ্ধাবোধই পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবনকে সুখ-সাফল্য ও ভালবাসায় ভরিয়ে তোলার মূলমন্ত্র বলে মনে হয়।

আর ঝগড়া-ঝাটি যদিও ভাল নয় তথাপি মাঝে মাঝে (পরিমিত ও নিয়ন্ত্রিত) তা স্বামী- স্ত্রী তথা পরিবারের মাঝে মসলার মত কাজ করতে পারে যা নিজেদের মাঝের সম্পর্ককে আরও টক-ঝাল-মিষ্টি করতে সাহায্য করতে পারে তবে আত্মনিয়ন্ত্রন ও মাথাঠান্ডা রাখা অতীব জরুরী সংসারের সফলতার জন্য।

৪| ১১ ই আগস্ট, ২০২১ বিকাল ৪:১৩

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: অভিনেতা আফজাল খুব সুন্দর ভাবে স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। আরও আগেই স্ত্রীর সম্পর্কে এই সুন্দর কথাগুলি বলা উচিত ছিল। ত্রিশ বছর কেন লাগলো। ভালোবাসা বুঝতে ৩০ বছর লাগার কথা না।

১১ ই আগস্ট, ২০২১ বিকাল ৫:১৩

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ সাড়ে চুয়াত্তর ভাই , আপনার মন্তব্যের জন্য।

একটা সুন্দর মন তথা সুন্দর মনের মানুষই মানুষের প্রশংসা করতে পারে।আর বর্তমানে জীবনের জটিতায় কোন স্বামীই মন খুলে স্ত্রীর প্রশংসা করেনা বা করতে চায়না আবার কোন স্ত্রীও মন খুলে স্বামীর প্রশংসা করেনা বললেই চলে। বেশীর ভাগেরই দিন কেটে যায় একে অন্যের দোষ খুজতে খুজতে।আর এত সব কিছু করতে একসময় নিজেদের মাঝ থেকে হারিয়ে যায় সহযোগীতা-সহমর্মিতার মনোভাব এবং শ্রদ্ধাবোধ।

আফজাল স্যার হয়ত আগে থেকেই তা অনুভব করেছেন এবং বলেছেন যা হয়ত আমাদের জানা নেই।আর ভালবাসা-ভাললাগা দিন-কাল-সময় হিসাব করে হয়না বা প্রকাশ করাও যায়না ।এ হয়ত শুধু অনুভবের বিষয়।

৫| ১২ ই আগস্ট, ২০২১ রাত ১২:২৯

সেলিম আনোয়ার বলেছেন: হুমায়ূণ ফরীদির সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং বিটিভির অপ্রতিদন্ডি জনপ্রিয় রোমান্টিক নায়ক পরবর্তীতে এডভার্টাইজিং এ বলতে গেলে নতুন মাত্রা যোগ করা ব্যক্তি। তিনি সব সময়ই তার স্ত্রীর সংসারি গুণে মুগ্ধ । অভিনেতা আফজাল ভাগ্যবান যোগ্য ধর্মীনি তিনি পেয়েছেন। জেনে ভাল লাগলো । সুন্দর শেয়ারে ধন্যবাদ।

১২ ই আগস্ট, ২০২১ দুপুর ১২:০৬

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ সেলিম আনোয়ার ভাই , আপনার মন্তব্যের জন্য।

আপনাকে দেখলে (আপনার কভার ছবি দেখলে ভালবাসার এক অন্যরূপ তথা এক বিয়োগান্তক ভালবাসা পাগলের কথা মনে পড়ে যায় যিনি প্রেমিক হিসাবে সফলতার উদাহরন কিন্তু জীবনের জন্য যে শুধু ভালবাসাই যথেষ্ট না ,সংসার জীবনের সফলতার জন্য ভালবাসার সাথে আত্মনিয়ন্ত্রন ,পারস্পরিক ত্যাগ-সহযোগীতা, সহমর্মিতা এবং শ্রদ্ধাবোধ ও যে জরুরী এটাও তার থেকেই দেখা এবং তিনি তার বাস্তব উদাহরন) ভালবাসার ভাল-খারাপ দুই দিকই বড় করুণ ভাবে চোখের সামনে ভেসে উঠে।

তবে এটা ঠিক কিছু মানুষ আছে তা সে যতবড়ই হোক না কেন পরিবার তথা আপনজনদের জন্য তারা যে কোন ত্যাগ করতে পারে এবং পরিবারকে সকলকিছুর উপর স্থান দেয় স্ত্রীর গুণে সর্বদা মুগ্ধ থাকে। আফজাল স্যার।তৌকির,আবুল হায়াত এমনই সব একেকজন।আবার এর বিপরীত ও আমরা আশে পাশেই দেখি যারা পরিবারকে তাদের চলার পথের বাঁধা বলে মনে করে।যেমন ঢাকাই ছবি জগতের স্বঘোষিত (সুপার স্টার) ছাকিব খান।

আসলে ভাই, এই জন্যই কবি বলেছেন,"স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন।" যে কেউ যে কারো ভালবাসা পেতে পারে তবে তা সফল করার জন্য সাধনা তথা সহমর্মিতা এবং শ্রদ্ধাবোধ ও জরুরী।

৬| ১৩ ই আগস্ট, ২০২১ রাত ১২:৩৪

রাজীব নুর বলেছেন: খুব সুন্দর লিখেছেন।

১৩ ই আগস্ট, ২০২১ রাত ১:০২

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: ধন্যবাদ রাজিব নুর ভাই, আপনার মন্তব্য এর জন্য এবং পড়ার জন্য।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.