| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইমন জুবায়ের
জীবন মানে শুধুই যদি প্রাণ রসায়ন/ জোছনা রাতে মুগ্ধ কেন আমার নয়ন। [email protected]
দান্তে। ইউরোপের মধ্যযুগের অনতম্য ইতালিয় কবি ও দার্শনিক। বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্মিলিত ভাবে যে অবদান রেখেছেন- ইতালিয় ভাষার ক্ষেত্রে দান্তে একাই অনুরূপ অবদান রেখেছিলেন। কেননা, দান্তের সময়কালে ইতালিতে ভাষাগত ঐক্য ছিল না। দেশটির নানা অঞ্চলের লোকে নানা ভাষায় কথা বলত। যাকে বলে vernacular ভাষা। অবশ্য এসব ভার্নাকুলার ভাষা লাতিন থেকেই উদ্ভূত হয়েছিল। দান্তে ফ্লোরেন্স অঞ্চলের ভার্নাকুলার ভাষায় সাহিত্য রচনা করায় ফ্লোরেন্স অঞ্চলের ভার্নাকুলার ভাষা হয়ে উঠেছিল আধুনিক ইতালিয় ভাষার ভিত্তি। যা হোক। সাহিত্য রচনা ছাড়াও সক্রিয় রাজনীতিতেও জড়িয়েছিলেন দান্তে । পরিণামে নির্বাসিত হতে হয়েছিল জন্ম নগর ফ্লোরেন্স থেকে । নির্বাচিত জীবনে রচনা করেছিলেন ধ্রুপদি কাব্য ‘ডিভাইন কমেডি’- যে কাব্যগ্রন্থে মৃত্যু পরবর্তী জীবন সম্বন্ধে কাল্পনিক ও রূপকধর্মী মধ্যযুগীয় দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশিত হয়েছে। ... তবে প্রেয়সী বিয়াত্রিচের প্রতি দান্তের গভীর আত্মিক প্রেম যুগে যুগে মানুষকে অভিভূত মুগ্ধ করে রেখেছে। দান্তে কাব্য রচনা করেছেন মধুরতম কাব্যিক ভাষায় । শুধু তাই নয় দান্তের জীবনবোধ মধ্যযুগকে অতিক্রম করে পরবর্তী কালেও বিস্তৃত হয়েছে। যে কারণে আধুনিক যুগের কবি এজরা পাউন্ড, টি এস এলিয়ট থেকে রুশ কবি আনা আখমাটোভা- এরা প্রত্যেকেই দান্তের কাছে তাদের কাব্যভাবনার অপরিসীম ঋন স্বীকার করেছেন ।
![]()
ইতালির মানচিত্রে ফ্লোরেন্স নগরের অবস্থান। দ্বাদশ শতকে নগরটি ছিল শিক্ষাসংস্কৃতির কেন্দ্র । এই নগরেই ১২৬৫ খ্রিস্টাব্দের জুন মাসে দান্তের জন্ম। এ নগরেই জীবনের ৩৮ বছর কাটিয়েছিলেন কবি, এ নগরেই লাভ করেছিলেন আধ্যাত্মিক প্রেমের অভিঘাত; রাজনৈতিক আর্বতে পড়ে নির্বাসিত হয়েছিলেন এ নগর থেকেই।
দান্তের পুরো নাম দান্তে আলিঘিয়েরি। পরিবারটি ছিল মোটামুটি অভিজাত। বাবা সুদখোর মহাজন, বিষয় সম্পত্তি ভাড়া খাটাতেন। যা হোক। পরিবারের অর্থ সম্পদ থাকায় দান্তের শিক্ষাদীক্ষা ভালোই হয়েছিল বলা যায়। শৈশবে ইউরোপীয় ধ্রুপদি সাহিত্য পাঠ করেছিলেন এবং পরবর্তীকালে খ্রিস্টীয় ধর্মসাহিত্যে আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন। ৭ বছর বয়েসে নেমে এসেছিল বিপর্যয়। দান্তের মা মারা যান। দান্তের বাবা আবার বিবাহ করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে ভদ্রলোক বেশি দিন বাঁচেননি; মারা যান ১২৮০ খ্রিস্টাব্দে । দান্তের বয়স তখন ১৫ বছর।
![]()
কিশোর বয়েসে ভাবনামগ্ন কবি
ব্রুনেটো লাতিনি নামে একজন রাজনীতিবিদ এবং পন্ডিত কে অভিভাবক হিসেবে পেলেন দান্তে । লাতিনি অবশ্য সমকামী ছিল। এতে দান্তের খ্রিস্টীয় আঁতে ঘা লেগেছিল। দান্তে সম্ভবত লাতিনি কে ঘৃনা করতেন। কেননা, দান্তের ‘ডিভাইন কমেডিতে’ লাতিনি-র স্থান হয়েছিল নরকে! মনে রাখতে হবে সময়টা মধ্যযুগ। দান্তের পক্ষে খ্রিস্টবিরোধী কিংবা সমকামের সমর্থক হওয়া সম্ভব ছিল না।
![]()
ফ্লোরেন্স। বর্তমান কালের ছবি। দান্তের কারণে এই নগরটির প্রতি বিশ্ববাসীর গভীর আগ্রহ।
১২৭৬ খ্রিস্টাব্দে একটি ঘটনা ঘটল। ১৬ বছর বয়েসি কিশোর দান্তে । ফ্লোরেন্স নগরের পথে একটি সুশ্রী বালিকাকে দেখে আমূল চমকে উঠল। খোঁজ নিয়ে জানা গেল বালিকার নাম বিয়াত্রিচে পর্টিনারি । বিশিষ্ট ব্যাংকার ফলকো পর্টিনারির কন্যা। (পরবর্তীকালে লা ভিটা নিউভা এবং ডিভাইন কমেডি নামে দুটি কাব্যের বিষয়বস্তু এই বালিকা। ) অভিজাত বালিকার বয়স ৯।
![]()
১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ চিত্রকর হেনরি হলিডের আঁকা এই ছবিটির নাম- Dante Alighieri Italian Writer Meeting His Beloved Beatrice Portinari on the Lung'Arno Florence
বালিকা বিয়াত্রিচেকে দেখে কবি কিশোর প্রবল প্রেমানুভূতি বোধ করে। বাবা এক বছর ধরে মৃত, ব্রুনেটো লাতিনির নষ্টামি দান্তেকে শোকার্ত এবং ক্ষুব্দ করে রেখেছিল। বালিকা বিয়াত্রিচের নিষ্পাপ মুখে স্বর্গে আভা। আহা, দেখে প্রাণ জুড়াল। পবিত্রা বালিকার সত্ত্বার গভীরে ডুবে যেতে থাকে কবি কিশোর। এবং এই প্রেম কেবলই যে দেহজ প্রেম নয়, আমুল ঐশ্বরিক, তা উপলব্দি করা যায়। স্বয়ং ঈশ্বর বিয়াত্রিচে রূপে বালিকারূপে দর্শন দিয়েছেন ভক্ত দান্তের কাছে । এ প্রসঙ্গে ইউরোপীয় লেখকদের ভাষ্য হল: ... The woman Dante loved, Beatrice, whom he regards as both a manifestation and an instrument of the divine will, is his guide through paradise. এ তত্ত্ব আর কেউ না বুঝুক- বাঙালি বোঝে । কেননা, আমাদের দেশের রাজধানীর মগবাজার মোড়ে সন্ধ্যাবেলায় লাউড স্পিকারে বাজে চন্দনা মজুমদারের গান-
আমার বন্ধু দয়াময়
তোমারে দেখিবার মনে লয় ...
বালিকা বিয়াত্রিচে কে দেখে কবি কিশোরের শূন্য পৃথিবী ভরে উঠল । মনের ভিতরে সারাবেলা বালিকার ভাবনা। দান্তে যেন রবীন্দ্রনাথের মতো করে বলছেন-
ঘরেতে ভ্রমর এল গুন্গুনিয়ে ।
আমারে কার কথা সে যায় শুনিয়ে ।।
আলোতে কোন্ গগনে মাধবী জাগল বনে,
এল সেই ফুল-জাগানোর খবর নিয়ে ।
সারা দিন সেই কথা সে যায় শুনিয়ে ।।
কেমনে রহি ঘরে, মন যে কেমন করে,
কেমনে কাটে যে দিন দিন গুনিয়ে ।
কী মায়া দেয় বুলায়ে, দিল সব কাজ ভুলায়ে,
বেলা যায় গানের সুরে জাল বুনিয়ে ।
আমারে কার কথা সে যায় শুনিয়ে ।।
কিন্তু, হায়। এ জীবন এমন ছলনাময়। বিয়াত্রিচেকে দেখার আগেই যে সেই ১২ বছর বয়েসে জেমমা দোনাতি নামে একটি মেয়েকে বিবাহ করবেন বলে কথা দিয়েছিলেন দান্তে । কবি তো ওয়াদার খেলাফ করতে জানেন না। বিয়াত্রিচেকে দেখার ৯ বছর পর ১২৮৫ খ্রিস্টাব্দে জেমমা দোনাতি কে বিবাহ করেন দান্তে । কিন্তু কখনও কোনও কবিতায় স্ত্রী জেমমা দোনাতি-র কথা কখনও উল্লেখ করেননি দান্তে। দান্তের কাব্যজুড়ে কেবলি বিয়াত্রিচে আর বিয়াত্রিচে।
![]()
১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে ক্যানভাসের ওপর তেলরঙে আঁকা ইংরেজ চিত্রকর দান্তে গ্যাব্রিয়েল রসেটির Beata Beatrix ... । ছবিতে বিয়াত্রিচের মৃত্যুর আগেকার দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। গ্যাব্রিয়েল রসেটি ইতালিয় বংশোদ্ভূত শিল্পী। কবিকে সম্মান জানানোর জন্য নামের পূর্বে দান্তে শব্দটি লিখতে। Beata শব্দটি লাতিন ; এর অর্থ আর্শীবাদপুষ্ট । ( যেমন আমরা বলি: শ্রীরাধা)
১২৯০ খ্রিস্টাব্দের জুন মাস। দান্তে সংবাদ পেলেন বিয়াত্রিচে আর বেঁচে নেই ! দান্তের তখন ২৫ বছর বয়স। তরুণ কবিটি গভীর শোকে আচ্ছন্ন হলেন। জীবনজগৎ সম্বন্ধে নানা প্রশ্ন আর সংশয়ে আকূল হলেন। গ্রিক চিন্তাবিদ অ্যারিস্টটল, প্রাচীন রোমান কবি ভার্জিল, বোথিয়াস- এর ‘কনসোলশন অভ ফিলসফি’ এবং দার্শনিক টমাস অ্যাকুইনাস লেখাগুলি গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়তে লাগলেন । কবিতা লেখাও অব্যাহত ছিল। তাঁর ১২৯৫ খ্রিস্টাব্দে রচিত ‘লা ভিটা নিউভা’ (নতুন জীবন) কাব্যগ্রন্থে
দান্তে বিয়াত্রিচে কে অমর করে রাখলেন। কাব্যগ্রন্থ হলেও গ্রন্থটি গদ্য আর পদ্যের মিশেল। বিয়াত্রিচে কে দর্শন করে কবির মনে যে অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছিল সে সম্বন্ধে কবি ‘লা ভিটা নিউভা’ কাব্যগ্রন্থে যা লিখেছেন আমি তার ভাবানুবাদ করছি মাত্র। ...‘সেই প্রথম দর্শনের পর থেকে আমার স্বাভাবিক উদ্যম বাধাগ্রস্থ হতে থাকে। কারণ, আমার আত্মা সম্পূর্নভাবে সেই স্বর্গীয় মুখোশ্রীর ভাবনায় নিমজ্জ্বিত। সুতরাং আমি জড়োসরো শঙ্কচিত বোধ করি। বন্ধুরা উদ্বিগ্ন হল। যা আমি গোপন রাখতে চাই তা জানতে তারা জানতে নানা পন্থা অবলম্বন করল । আর আমি ওদের অভদ্র অজুহাত এড়িয়ে যাই প্রেমের উদ্দীপনার কথা ভেবে ... প্রেমের উদ্দীপনায় বিবেচনা বোধও ছিল। আমার মুখে প্রনয়ের চিহ্ন ছিল। যা লুকোন যায়নি। সুতরাং আমি প্রনয়ের বিষয়ে বলেছি। যখন তারা বলল, কার জন্য এত দহন? ওদের দিকে চেয়ে হেসে চুপ করে রইলাম।’ ( The effects of Love on him) ...এ যেন শ্রীরাধারই সুপ্ত অভিব্যাক্তি ... শ্রীরাধা ভালোবাসলেন একজনকে আর ঘর করলেন আরেক জনের সঙ্গে। দান্তের ক্ষেত্রে রাধাকৃষ্ণের তুলনাটি যথার্থ। কেননা, বিয়াত্রিচের অন্যত্র বিয়ে হয়েছিল। স্বামী বিশিষ্ট ব্যাংকার সাইমোন দেই বারদি। বিয়াত্রিচেকে জীবনে দুবারের বেশি দেখেননি দান্তে। প্রথম দেখার পরে আবার মাত্র একবার দেখা হয়েছিল-তাও ৯ বছর পর। তবুও অনুরাগের গভীরতার যেন কোনও শেষ নেই। কি এর ব্যাখ্যা? বহু বছর পর সে ব্যাখ্যা দিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ তাঁর একটি গানে ।
একটুকু ছোঁওয়া লাগে, একটুকু কথা শুনি,
তাই দিয়ে মনে মনে রচি মম ফাল্গুনী।।
কিছু পলাশের নেশা, কিছু বা চাঁপায় মেশা,
তাই দিয়ে সুরে সুরে রঙে রসে জাল বুনি।।
যেটুকু কাছেতে আসে ক্ষণিকের ফাঁকে ফাঁকে
চকিত মনের কোণে স্বপনের ছবি আঁকে।
যেটুকু যায় রে দূরে ভাবনা কাঁপায় সুরে,
তাই নিয়ে যায় বেলা নূপুরের তাল গুনি।।
বিয়াত্রিচে বেঁচে নেই। হৃদয়ে গভীর বিরহ। তরুণ কবি পঙতির পর পঙতি রচনা করে মূর্ত করে তুলছেন স্বর্গীয় প্রেয়সীকে।
যা হোক। বিয়াত্রিচের মৃত্যুর পর আমরা কবিকে রাজনীতি তে জড়াতে দেখি। সম্ভবত বিয়াত্রিচের শোক ভুলে যেতে কবি ভিড়ে মিশে যেতে চেয়েছিলেন। (এটি আমার নিজস্ব ব্যাখ্যা) নির্জনতা অসহ্য ঠেকছিল। । প্রখ্যাত বাঙালি সাধক শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনেও অনুরূপ পট পরিবর্তন লক্ষ করেছি। প্রিয়তমা স্ত্রী লক্ষ্মীদেবীর মৃত্যুর পর গানের দলে ভিড়ে মিশে গিয়েছিলেন শ্রীচৈতন্যদেবে । সংগীতের মাধ্যমে জাতপাত দূর করতে ব্রতী হয়েছিলেন মহামানব। গভীর শোকে দান্তে তেমনি রাজনৈতিক ডামাডোলে স্বেচ্ছায় নিক্ষিপ্ত করেছিলেন। যার পরিনতি মঙ্গলজনক হয়নি। কেননা, Enoch Powell একবার বলেছিলেন, All political careers end in failure ...
এবার সেই প্রসঙ্গ।
![]()
ইতালির মানচিত্র। একাদশ শতকের শেষার্ধে ইতালিতে পোপ এবং
সম্রাটের মধ্যকার দ্বন্দটি প্রবল থেকে প্রবলতর হয়ে উঠছিল। এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্ধের ফলে ইতালিতে রাজনৈতিক ঐক্য ছিল না। স্থানীয় প্রশাসন চলত টাউন কাউন্সিলের সদস্যদের নির্দেশে। তৎকালীন ইতালিতে দু’টি রাজনৈতিক দল ছিল। গুয়েলফি দল এবং ঘিবেললিনি দল । গুয়েলফি- রা ছিল পোপ- এর সমর্থক এবং ঘিবেললিনি-রা ছিল সম্রাটের অনুগত।
দান্তের সমকালীন সময়ে ফ্লোরেন্স নগরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত জটিল। ফ্লোরেন্সে ছিল গুয়েলফি দলের প্রভাব । তবে দলটি দু’ভাগে ভাগ হয়ে পড়েছিল। (ক) শ্বেত গুয়েলফি ( এরা ছিল সম্রাট-এর সমর্থক) এবং (খ) কৃষ্ণ গুয়েলফি ( এরা ছিল পোপ-এর সমর্থক) । আমাদের কবিটি শ্বেত গুয়েলফি দলের সমর্থক ছিলেন। অবশ্য কবির এই রাজনৈতিক কর্মকান্ড শাপে বর হয়েছিল। রাজনৈতিক জটিল আবর্তে পড়ে কবি নির্বাসিত হয়েছিলেন, নির্বাসিত জীবনে ‘বিশ্ব ডিভাইন কমেডি’ লিখেছিলেন।
![]()
| Dante Alighieri portrayed by Domenico Michelino holding The Divine Comedy against a backdrop of hell, purgatory and paradise
ইতালিতে তৎকালীন পোপ ছিলেন অস্টম বোনিফেস। পোপে
র সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসতে দান্তে কূটনৈতিক মিশনের সঙ্গে রোম গিয়েছিলেন । আলোচনার ফাঁকে পোপ সমর্থক কৃষ্ণ গুয়েলফি সৈন্যরা ফ্লোরেন্স নগরে প্রবেশ করে এবং নগরটি তছনছ করে। প্রাণহানির আশঙ্কায় দান্তে ফ্লোরেন্স নগরে ফেরার সুযোগ পেলেন না। ১৩০২ খ্রিষ্টাব্দে পোপ অস্টম বোনিফেস সমর্থিত কৃষ্ণ গুয়েলফি দল ফ্লোরেন্সে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত করে। এরপর ধূর্ত পোপ দান্তের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে। কর্তৃপক্ষ দান্তেকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়। কবি এড়িয়ে গেল। মামলার রায়ে বলা হল দান্তেকে গেরেফতার করে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হবে ।
এই মুহূর্তটিই ‘ডিভাইন কমেডি’-র সৃষ্টি মুহূর্ত।
হতবিহবল দান্তে মানুষের ক্ষনিক এবং শাশ্বত নিয়তি সম্বন্ধে ভেবে বিমূঢ় বোধ করেছিলেন।
বিনা অপরাধে এবং মিথ্যে মামলায় জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার করার দন্ডাদেশটি দান্তের মনে গভীর আলোরন তুলেছিল । ক্ষণিক জীবনের অসারতা উপলব্দি করেছিলেন। তখন তিনি বিভিন্ন ইতালিয় নগরে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। কয়েকটি ঘটনায় ফেরারী জীবনে দান্তের মানসিক অবস্থা আমূল বদলে গিয়েছিল। (ক) বিয়াত্রিচে। (খ) বিয়াত্রিচের মৃত্যু। (গ) পোপ সমর্থক কৃষ্ণ গুয়েলফি সৈন্যরা ফ্লোরেন্স তছনছ করা। (ঘ) বিনা অপরাধে মৃত্যুদন্ড ঘোষনা। এবং (ঙ) নির্বাসিত জীবনের অনিশ্চয়তা । এসব পর্যায়ক্রমিক দূর্ঘটনা দান্তের দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছিল। জীবন-মৃত্যু, ঈশ্বর, পরকাল প্রভৃতি বিষয়ে গভীরভাবে ভাবিত হয়ে পড়েছিলেন । ‘ডিভাইন কমেডি’ তে যেসব ভাবনা ফুটে উঠেছে।
![]()
দান্তের এই চমৎকার আত্মমগ্ন ছবিটি এঁকেছেন প্রখ্যাত ইতালিয় শিল্পী জিত্তো (১২৬৬/১৩৩৭)
দান্তে ‘ডিভাইন কমেডি’ কাব্যটি ১৩০৮ থেকে ১৩২১ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে নির্বাসিত ফেরার জীবনে রচনা করেছেন । দান্তে কাব্যের নাম রেখেছিলেন La commedia (The Comedy) কারণ স্বর্গে ঈশ্বর দর্শনের মাধ্যমে তাঁর যাত্রা শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হয়েছিল। ১৫৫ খ্রিস্টাব্দের সংস্করণে divina (divine) শব্দটি যুক্ত করা হয়েছিল। কাব্যটি তিনটি ভাগে বিভক্ত। ইনফার্নো (নরক), পার্গেটেরিও (শুদ্ধিস্থান ) এবং পারাডিসো (স্বর্গ)। দান্তে ইনফার্নো, পার্গেটেরিও এবং পারাডিসো ভ্রমন করছেন । উপকথা, ঐতিহাসিক এবং সমকালীন ব্যাক্তিত্বের সঙ্গে দান্তের দেখা হচ্ছে। প্রতিটি চরিত্রই রাজনৈতিক কিংবা ধর্মীয়ভাবে ক্রটিপূর্ণ কিংবা পূণ্যের প্রতীক। মনে থাকার কথা ... ব্রুনেটো লাতিনি নামে একজন রাজনীতিবিদ এবং পন্ডিত কে অভিভাবক হিসেবে পেলেন দান্তে । লাতিনি অবশ্য সমকামী ছিল। এতে দান্তের খ্রিস্টীয় আঁতে ঘা লেগেছিল। দান্তে সম্ভবত লাতিনি কে ঘৃনা করতেন। কেননা, দান্তের ‘ডিভাইন কমেডিতে’ লাতিনি-র স্থান হয়েছিল নরকে! ... ডিভাইন কমেডিতে কারও শাস্তি কিংবা পুরস্কার এদের কৃতকর্মের পিছনে বিশ্বজনীন ইঙ্গিত হিসেবে দেখানো হয়েছে । নরক এবং শুদ্ধিস্থানে দান্তেকে পথ দেখাচ্ছেন রোমান কবি ভার্জিল। দান্তের চোখে ভার্জিল ছিলেন যুক্তিবোধের প্রতীক।
আর বিয়াত্রিচে?
বিয়াত্রিচে স্বর্গের প্রতীক। বিয়াত্রিচে স্বর্গে পথ দেখায়।
তবে দান্তের এই পরলোক ভ্রমন গভীর অর্থে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে আত্মার যাত্রা। এ নিবন্ধের প্রারম্ভে বলেছি যে ‘ডিভাইন কমেডি’ তে মৃত্যু পরবর্তী জীবন সম্বন্ধে কাল্পনিক ও রূপকধর্মী মধ্যযুগীয় দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশিত হয়েছে।
![]()
ভার্জিল। ( ৭০-১৯ খ্রিস্টপূর্ব) রোমান লাতিন কবি । ভার্জিল ‘এনেইদ’ মহাকাব্যের রচয়িতা। ট্রয়যুদ্ধের পর ট্রয় থেকে এনেইস পালিয়ে এসেছিল ইতালিতে, রোমান সভ্যতার ভিত গড়েছিল। ৬ষ্ট পর্বে রেেয়ছে এনেইস- এর নরক ভ্রমন। সেখানে এনেইস- এর বাবার সঙ্গে দেখা। এভাবে ভার্জিল দান্তের ডিভাইন কমেডির উৎস হয়ে উঠেছিলেন।
দান্তের অধ্যাত্মভাবনায় আরেকজন খ্রিস্টান দার্শনিকের গভীর প্রভাব পড়েছিল । ইনি টমাস অ্যাকুইনাস।
![]()
টমাস অ্যাকুইনাস। (১২২৫/১২৭৪ খ্রিস্টাব্দ ) মধ্যযুগের বিশিষ্ট দার্শনিক এবং ধর্মতাত্ত্বিক। ইনি খ্রিস্টীয় ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে গ্রিক দার্শনিক আরিস্টটলের পদ্ধতির সমন্বয় সাধন করতে চেয়েছিলেন। দান্তের ওপর টমাস অ্যাকুইনাস-এর দার্শনিক ভাবনার প্রভাব পড়েছিল ।
ইতালির বিভিন্ন নগরে নির্বাসিত অবস্থায় কবির জীবনের শেষ দিনগুলি কেটেছিল । ১৩১৬ সালে ফ্লোরেন্স নগরের কর্তৃপক্ষ শর্তাধীনে কবিকে ফ্লোরেন্স নগরে প্রত্যাবর্তনের অনুরোধ করেন । কবি শর্ত মেনে নেন নি। ১৩২১ খ্রিস্টাব্দ। ইতালির রাভেন্না শহরে মৃত্যুবরণ করেন।
![]()
রাভেন্না নগরে কবির কবর।
ছবি। ইন্টারনেট।
তথ্যসূত্র:
http://www.greatdante.net/
http://www.kirjasto.sci.fi/dante.htm
Click This Link
Click This Link
http://dante.ilt.columbia.edu/comedy/
উৎসর্গ: দন্ডিত পুরুষ। এই লেখাটির জন্য ফেইসবুকে অনুরোধ করেছিলেন।
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ সকাল ১১:২৬
ইমন জুবায়ের বলেছেন: বিয়াত্রিচেকে দেখে ‘লা ভিটা নিউভা’ (নতুন জীবন) কাব্যগ্রন্থে এই কথাগুলি লিখেছিলেন ...At that moment I say truly that the vital spirit, that which lives in the most secret chamber of the heart began to tremble so violently that I felt it fiercely in the least pulsation, and, trembling, it uttered these words: ‘Ecce deus fortior me, qui veniens dominabitur michi: Behold a god more powerful than I, who, coming, will rule over me.’ At that moment the animal spirit, that which lives in the high chamber to which all the spirits of the senses carry their perceptions, began to wonder deeply at it, and, speaking especially to the spirit of sight, spoke these words: ‘Apparuit iam beatitudo vestra: Now your blessedness appears.’ At that moment the natural spirit, that which lives in the part where our food is delivered, began to weep, and weeping said these words: ‘Heu miser, quia frequenter impeditus ero deinceps!: Oh misery, since I will often be troubled from now on!’
২|
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ সকাল ১১:২১
পটল বলেছেন: বিয়াত্রি কি তার পঙতি রচনায় মূল প্রেরণা ছিলেন!
ভালোলাগলো ইমন ভাই।
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ সকাল ১১:২৯
ইমন জুবায়ের বলেছেন: হ্যাঁ। জীবনের শেষ কাব্য গ্রন্থ (ডিভাইন কমেডি) লেখা অবধি মনে রেখেছিলেন বিয়াত্রিচেকে। এমন স্বর্গীয় প্রেম পৃথিবীতে বিরল।
ধন্যবাদ।
৩|
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ সকাল ১১:৩৮
বৃষ্টিধারা বলেছেন: দান্তের কাব্যজুড়ে কেবলি বিয়াত্রিচে আর বিয়াত্রিচে।
ইষসসসসসসসসসসসসসসসসসসসসসসসসসসসসসসস
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ সকাল ১১:৪৩
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ১২৯০ খ্রিস্টাব্দের জুন মাস। দান্তে সংবাদ পেলেন বিয়াত্রিচে আর বেঁচে নেই ! ...Beatrice died in June 1290, at the age of 24.
৪|
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ সকাল ১১:৩৮
সোহরাব সুমন বলেছেন: দান্তের লেখা আমার খুবই ভালো লাগে ! তার লেখার মাঝে আছে সুক্ষ আধ্যাত্নিক তত্ত্ব, বিয়াত্রিসের সঙ্গে বিচ্ছেদ আর সর্গেগিয়ে তার সাথে সাক্ষাতের মধ্যদিয়ে তিনি খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন এমন আধ্যাত্নিকতা !
অনেক ধন্যবাদ ইমনভাই !
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ সকাল ১১:৪৩
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ সুমন।
৫|
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ সকাল ১১:৫৭
ফাইরুজ বলেছেন: আমি উনার কোন লেখা পড়ি নাই।চাকুরির পরীক্ষার জন্য দু একটা বই এর নাম মুখস্ত করেছিলাম ।ঐ পর্যন্তই ।উনার সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পেরে ভাল লাগলো।
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১২:১২
ইমন জুবায়ের বলেছেন: কবি দান্তে মধ্যযুগের অন্ধকার সময়ে নারীকে ঈশ্বরতূল্য সম্মান দিয়েছিলেন -যা বিরল একটি ঘটনা। পৃথিবীর সচেতন শিক্ষিত নারীর উচিত দান্তে সম্বন্ধে গভীরভাবে জানা।
ধন্যবাদ।
৬|
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ সকাল ১১:৫৭
বৃষ্টিধারা বলেছেন: প্রথম ভালো লাগা টা কিন্তু আমার ....
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১২:০০
ইমন জুবায়ের বলেছেন: লোকে ভাববে প্রথম ভালো লাগাটা পটলের
৭|
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১২:০৫
বৃষ্টিধারা বলেছেন: সে জন্য ই তো বলে গেলাম ...ভালো লাগা দিয়ে পরে কমেন্ট করছি তো তাই লেইট হইল ।
ধন্যবাদ সবুজ মগের জন্য । মগের ভেতরে এগুলি কি ???
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১২:১০
ইমন জুবায়ের বলেছেন: তবে পটল ভাই অন্য দাবি করতে পারে।
তবে আমি কাইজার মধ্যে থাকব না।
সবুজ মগ না কাপ
। কাপের মধ্যে এক ধরনের পাতার গুঁড়ো। সে পাতা সিলেটে জন্মে। আর অল্প চিনি থাকলেও থাকতে পারে। আর, হ্যাঁ। দু-ফোঁটা লেবুর রসও আছে
৮|
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১২:১৪
সাইফ হিমু বেস্ট বলেছেন: ভাল লাগলো পড়ে।।
ধন্যবাদ।
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১২:২৪
ইমন জুবায়ের বলেছেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ পড়ার জন্য।
৯|
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১২:১৯
বৃষ্টিধারা বলেছেন: তার মানে আপনি আমাকে চা দিয়েছেন খাইতে ???
আমি চা খাই না .....
থাক,কাপের জিনিস গুলা পটল ভাই কে দিয়ে দেন ....কাপ টা আমার । একসেট হইল বেশি ভালো হইত আর কি ...
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১২:২৭
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ১ নম্বর কথা হল আমি তো তথাকথিত দুধ চা দিইনি, দিয়েছি র চা। দুধ চা খাওয়া ভালো না। র চা খাওয়া যায়
(আপনার আব্বা কিংবা আম্মুকে জিগ্যেস করে দেখতে পারেন।)
আচ্ছা, পটল ভাইকে কাপের জিনিসগুলো দিয়ে দিব যদি উনি নেন তো। আর সেট খুঁজে পেলে অবশ্যই দিব।
১০|
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১২:২১
শহিদুল ইসলাম বলেছেন: তৃতীয় ভালো লাগা কিন্ত আমার
কবি দান্তে সম্পর্কে জেনে ভালো লাগল । কবিতাগুলা সত্যিই সুন্দর।
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১২:২৯
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ভালো লাগার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
১১|
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১২:৩৩
ব্যাক্তি বলেছেন: সুন্দর
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১২:৩৫
ইমন জুবায়ের বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
১২|
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১২:৪৫
বৃষ্টিধারা বলেছেন: কষ্ট করে সেট খুঁজে দেইখেন তো ... খুব ই সুন্দর কাপ
হুম,গ্রীন টি খায় আব্বু-আম্মু ....আমি খাই না হাবিজাবি ... আমি তো খাই নোসিলা ...
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১২:৫৪
ইমন জুবায়ের বলেছেন:
১৩|
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১২:৫৬
পটল বলেছেন: কবি , ইগুলা কিন্তুক ঠিক না!
পারশিয়ালিটি ডাজ মেটার! বাইরে যে রোদ, এর মাঝে বিশটি বলতাচে, সে নাহি আগে আইচে!! এমুন ডাহা মিচা কতা কয় ক্যামনে!!
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:০৩
ইমন জুবায়ের বলেছেন: আমি কিছু বলব না। তবে ড্রিংস খাওয়াতে পারি
১৪|
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:০৪
বৃষ্টিধারা বলেছেন: পটল ভাই,
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:০৬
ইমন জুবায়ের বলেছেন: আমি কিছু বলব না।
১৫|
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:০৮
পটল বলেছেন:
কবিরে ধইন্যা।
বুকটা জুড়াইলু।
@বিশটি
কাপের সেট কি দুহানে নাই! এইহানে কি দুহান দিচে নাহি কবি ইমন!
পড়ালেহা করু, ভালো কইরা আরো দান্তে সম্পুর্কে জানু! বলা যায় না ! নিজেও কিচু একটা হৈতে পারু!
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:১০
ইমন জুবায়ের বলেছেন:
১৬|
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:১২
বৃষ্টিধারা বলেছেন: আমি ইমন ভাইর কাছে চাইছি একটা মাত্র কাপের সেট,সেটা উনি দিলে দিবেন,না দিলে জোর কইরা আদায় করুম ....
পটল ভাই,শুভ কামনার জন্য ধইন্যা ...
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:১৯
ইমন জুবায়ের বলেছেন:
১৭|
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:১৪
বৃষ্টি ভেজা সকাল ১১ বলেছেন: অনেক আগেই নাম শোনা মানুষটির সম্পর্কে আজ নতুন করে অনেক কিছু্ই জানলাম।
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:২০
ইমন জুবায়ের বলেছেন: আমারও মানুষটিকে মনে পড়ল কদিন আগে। সে জন্যই এই পোষ্ট। আর একটা অনুরোধও ছিল।
ধন্যবাদ।
১৮|
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:১৮
বৃষ্টি ভেজা সকাল ১১ বলেছেন: সবাইকে দেখছি রঙচা, জুস কতো কিছু দেয়, আমি কি দুষ কুরছি ??
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:২৪
ইমন জুবায়ের বলেছেন:
১৯|
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:২৩
ফাইরুজ বলেছেন: আমি দান্তে পড়ি নাই বলে কি আমার কপালে চা জুটল না?ইমন ভাই খুব দুঃখ পেলাম।
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:৩৬
ইমন জুবায়ের বলেছেন: সর্বনাশ! এখন সবাইকে চা-টা খাওয়াতে গেলে
আচ্ছা, আপনার কি মনে হয় এরা (পটল ভাই+২০টি ধারা + বৃষ্টিভেজা ) সবাই দান্তের উপর পিএইচডি করছে? সেই জন্য চা/টা খাওয়াচ্ছি?
২০|
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:৩০
বৃষ্টি ভেজা সকাল ১১ বলেছেন: ফাইরুজাপা দুক্কু কইরোনা, ইমন ভাইয়া অনেক দিল দরিয়াওয়ালা। আপনাকে না দিলে আমার ভাগেরটা খেয়ে নেন।
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:৩৮
ইমন জুবায়ের বলেছেন: গিভেন
২১|
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:৩৭
গানচিল বলেছেন: দান্তের ব্যক্তিগত জীবনের অনেক জানা হল।ধন্যবাদ।
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:৪২
ইমন জুবায়ের বলেছেন: আসলে আমার মনে হয় যে কোনও কবির কবিতা পাঠের পাশাপাশি কবির জীবনের পাঠও অনিবার্য। বিশেষ করে কবি দান্তের কবিতা তাঁর জীবন থেকে আলাদা করা যায় না।
পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
২২|
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:৪২
বৃষ্টিধারা বলেছেন: হা হা হা
আমি পি এইচ ডি করতাম চাঈঈঈঈ
আমার থিসিস লিখবো ইমন ভাই,লেইখা দিবেন না ???? ভাইয়া
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:৪৪
ইমন জুবায়ের বলেছেন: আচ্ছা, লিখে দেব। তবে দেরি হবে। আর থিসিস শেষ করতে করতে ২০১৪ সাল পেরিয়ে যেতে পারে ...তখন থিসিস-এর কথা মনে থাকলে হয়
২৩|
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:৪৪
মাইনাস এইটিন_পন্ডিত বলেছেন: দান্তে আর ডিভাইন কমেডি নিয়ে লেখা দেখে আমি ভেবেছিলাম ডিভাইন কমেডিতে মুসলিমদের নবী মুহাম্মদ, আলী আর ইসলামের প্রতি বিদ্বেষের প্রসঙ্গটি আসবে। আপনাকে কেমন যেন এ ব্যাপারে আগ্রহী মনে হলো না। এজন্য আমি কিছুটা হতাশ।
যাই হোক, লেখা ভালো লেগেছে।
A cask by losing centre-piece or cant
Was never shattered so, as I saw one
Rent from the chin to where one breaketh wind.
Between his legs were hanging down his entrails;
His heart was visible, and the dismal sack
That maketh excrement of what is eaten.
While I was all absorbed in seeing him,
He looked at me, and opened with his hands
His bosom, saying: "See now how I rend me;
How mutilated, see, is Mahomet;
In front of me doth Ali weeping go,
Cleft in the face from forelock unto chin;
And all the others whom thou here beholdest,
Disseminators of scandal and of schism
While living were, and therefore are cleft thus.
A devil is behind here, who doth cleave us
Thus cruelly, unto the falchion's edge
Putting again each one of all this ream,
When we have gone around the doleful road;
By reason that our wounds are closed again
Ere any one in front of him repass.
- Dante's Inferno, Canto 28
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:৪৯
ইমন জুবায়ের বলেছেন: আপনার বক্তব্য আমি বুঝতে পেরেছি। আসলে এত ছোট স্পেসে এত কিছু লেখা সম্ভব না। তবে ভবিষ্যতে প্রসঙ্গটি আসতে পারে। আপনি যে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন সে বিষয়ে বিশিষ্ট পন্ডিতের লেখা আমার কাছে কিছু তথ্য আছে (উইকিপিডিয়ার না) ...
এখানে লিঙ্ক
http://www.mediafire.com/?31p9xxjdjgju1gy
কাইন্ডলি ডাউনলোড করে নেবেন
আবারও বলছি ভবিষ্যতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।
ধন্যবাদ।
২৪|
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:৪৭
মাইনাস এইটিন_পন্ডিত বলেছেন: আমার কেন জানি দান্তেকে কিছুটা খ্রিস্টীয় মৌলবাদী মনে হয়। অবশ্য এটা আমার মনের সংকীর্ণতাও হতে পারে।
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ১:৫২
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ।
পরে এ ব্যাপারে বিস্তারিত লিখব।
আপনাকে একটা গুরুত্বপূর্ন থিসিস পেপার দিয়েছি। কাইন্ডলি লেখাটা দেখবেন।
এই লেখাটা দান্তে সম্বন্ধে ইনট্রো বলে সব বিষয় আসেনি। তবে জগতের কেউই সমালোচনার উর্ধে নন। ওনার দৃষ্টিভঙ্গি সংকীর্ণ হলে তীব্র সমালোচনাও হবে- এই আমি বিশ্বাস করি।
আবারও ধন্যবাদ।
২৫|
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ২:০৪
মাইনাস এইটিন_পন্ডিত বলেছেন: ডাউনলোড হচ্ছেনা- অসাধারণ ইন্টারনেট স্পীডের কারণে! তারপরও ধন্যবাদ। পরে আবার চেষ্টা করবো। মেইলে এটাচ করা কি সম্ভব? mshjewel at gmail dot com
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ২:০৯
ইমন জুবায়ের বলেছেন: আশা করি হবে। মাত্র ৬৭ কিলোবাইট। পিডিএফ।
আচ্ছা মেইল করছি।
ধন্যবাদ।
২৬|
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ২:০৬
কথক পলাশ বলেছেন: ভাইয়া, আপনার ব্লগটা হচ্ছে আমার এনসাইক্লোপিডিয়া। যথারীতি মুগ্ধ হয়ে পড়লাম আপনার লিখা। সময় পেলে আমার ব্লগে যাবেন।
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ২:০৯
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ পলাশ। অবশ্যই যাব আপনার ব্লগে।
২৭|
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ২:২৮
অর্ক হাসনাত কুয়েটিয়ান বলেছেন: ধন্যবাদ।
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ২:৩১
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ
২৮|
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৩:০৬
সাকিন উল আলম ইভান বলেছেন: ৫ ম ভালো লাগাটা জানিয়ে গেলাম ভাইয়া......
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৩:১৩
ইমন জুবায়ের বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
২৯|
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৩:৩৪
ভুত. বলেছেন: দান্তের কোন লেখা আমি পড়ি নি। তবে ওনার "ডিভাইন কমেডি" বইটার কথা শুনেছি। পড়ারও ইচ্ছা আছে। তবে কবে পড়ব তা এখনও জানি না।
পোস্টে ভাল লাগা রইল
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৩:৪৮
ইমন জুবায়ের বলেছেন: দান্তের লেখা পড়ার জন্য এখনও অনেক অনেক সময় আছে। আশা করি একদিন দান্তের লেখা পড়া হয়ে যাবে।
অনেক ধন্যবাদ।
৩০|
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৩:৪১
খানসামা বলেছেন: অসামান্য বিশ্লেষণ!! বর্ণনা এতইহৃদয়গ্রাহী যে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আঁকড়ে ধরে রাখে।
ডিভাইন কমেডি নিয়ে একটা লেখা পড়েছিলাম যেখানে ছিল এটা নাকি কবির মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়েছিল। এটার পাণ্ডুলিপি নাকি কবি কোথাও লুকিয়ে লেখেছিলেন। যা পরবর্তীতে তার ছেলে স্বপ্নে দেখে তার বাবা তাকে ওই পাণ্ডুলিপির বিষয়ে বলছেন। তারপর সেটা ঘরের ঘুলঘুলির মধ্যে পাওয়া যায়। ভাগ্যিস স্বপ্নে দেখেছিলেন না হলে বিশ্বসাহিত্যের এই অমূল্য মাস্টারপিস হয়তো হারিয়ে যেত।
পরিশ্রম করে লেখাটার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৩:৫৭
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ডিভাইন কমেডি কবির মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়েছিল ঠিকই কিন্তু বইটি সম্পর্কে যে বিচিত্র তথ্য আপনি জানালেন আমার সেটি জানা ছিল না।
আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
৩১|
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৩:৪৩
সৈয়দা আমিনা ফারহিন বলেছেন: আপনার লেখার স্টাইলটাও খুব ভাল লাগছিল...!!
আর নতুন নতুন কিছু তো আপনার ব্লগে এসেই পাই... সেটা আর নাই বা বললাম ...
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৪:০০
ইমন জুবায়ের বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
৩২|
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৫:৫৮
পারভেজ রবিন বলেছেন: প্রেমেই পড়তে পারলাম না, কবিতা লিখব কবে, আর কাব্য তো বহুদুর!
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:০৮
ইমন জুবায়ের বলেছেন: হাঃ হাঃ হাঃ ...আমার তো মনে হয় কবিতা লেখার জন্য ভাষাপ্রেমই যথেষ্ট ...ধন্যবাদ পড়ার জন্য।
৩৩|
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:০২
সাহাদাত উদরাজী বলেছেন: ও পোস্ট কখন পার হয়ে গেল। আজ আমিতো সারা সময় সামুতে পার করলাম!
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:২৪
ইমন জুবায়ের বলেছেন: তাহলে এখন পড়েন।
ধন্যবাদ।
৩৪|
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:০৮
এ্যরন বলেছেন: পুরোটা না পড়ে চোখ সরানো গেলনা ... ধন্যবাদ ইমন ভাই
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:২৬
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ। এ্যরন।
৩৫|
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১০:১২
রিয়েল ডেমোন বলেছেন: বিয়াত্রিচে কি জানতো যে দান্তে তাকে ভালোবাসতো?
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১০:২৩
ইমন জুবায়ের বলেছেন: প্রশ্নটি জটিল। মাত্র দু-বার বিয়াত্রিচেকে দেখেছিলেন কবি। মাঝখানে ৯ বছরের ব্যবধান। কাজেই আপনার প্রশ্নটির উত্তর দেওয়া বেশ কঠিন। দান্তে তো কবিতায় বিয়াত্রিচের কথা লিখতেন। ফ্লোরেন্স নগরের কেউ কি সে কথা বিয়াত্রিচে জানিয়ে দেয়নি? কে বলতে পারে ...
৩৬|
২৩ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ২:৫৬
বহুলুল পাগল বলেছেন: ব্যাফুক তথ্যবহুল পুস্ট । আপ্নাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই
২৩ শে এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৩:০০
ইমন জুবায়ের বলেছেন:
৩৭|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:২৯
এ্যরন বলেছেন:
ইমন জুবায়ের
জীবন মানে শুধুই যদি প্রাণ রসায়ন/
জোছনা রাতে মুগ্ধ কেন আমার নয়ন।
[email protected]
আর এস এস ফিড
ব্লগার পরিসংখ্যান
পোস্ট করেছেন: ১১৩০টি
মন্তব্য করেছেন: ১৭৬২৪টি
মন্তব্য পেয়েছেন: ২৭৪৬১টি
ব্লগ লিখেছেন: ২ বছর ৬ মাস
ব্লগটি মোট ৪৪৯৪৪৯ বার দেখা হয়েছে
ইমন ভাই আমি আপনার ব্লগের ৪৪৯৪৪৯ তম ভিজিটর
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ ভোর ৫:৫০
ইমন জুবায়ের বলেছেন:
৩৮|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৪:৩৩
রেজোওয়ানা বলেছেন:
রাভেন্না নগরে কবির কবরটা খুব চমৎকার ![]()
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৫:২০
ইমন জুবায়ের বলেছেন: Click This Link
৩৯|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ৮:১৩
anisa বলেছেন: ইমন একেই বোধ হয় বলে ভালবাসা প্রেম জীবন এ দুবার দেখা তার প্রেমিকাকে অথচ
সারাজীবন অমর করে রেখে গেছেন তার কর্মে
মাত্র ১৬ বছর কিন্তূ ৯ বছরে কি করে সম্ভব......
প্রত্যেক শিল্পীর জীবনী ঘটলেই এমন দেখা যায়.............
খুব ভালো লাগলো
শুভেচ্ছা রইলো অনেক অনেক................
২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ৮:৩১
ইমন জুবায়ের বলেছেন: ১৬ বছর বয়েসি কিশোর দান্তে প্রথম ৯ বছর বয়েসি বালিকা বিয়াত্রিচে দেখেছিল। ১৬ বছর বোধহয় ঠিকই আছে আলোড়িত হওয়ার জন্য। আর প্রেমভালোবাসার ব্যাপারটা দান্তের দিক থেকেই প্রবল ছিল। এ ব্যাপারে বিয়াত্রিচের মতমত সম্ভবত জানা যায়নি।
অনেক ধন্যবাদ।
৪০|
২৬ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১২:৩২
তারার হাসি বলেছেন:
এমন একজন কোমল মানুষকে যেতে হয়েছিল অনেক মানসিক কষ্টের মাঝে, যেতে হয়েছিল জটিলতার মাঝে।
২৬ শে এপ্রিল, ২০১১ ভোর ৫:৪৮
ইমন জুবায়ের বলেছেন: যেতে হয় ...
৪১|
২৬ শে এপ্রিল, ২০১১ সকাল ১১:৪২
রেজোওয়ানা বলেছেন:
ষোল বছর বয়সী কিশোর দান্তে ইচরে পাকা ছিলেন
২৬ শে এপ্রিল, ২০১১ সকাল ১১:৫৮
ইমন জুবায়ের বলেছেন: হুমম। ইতালির ভিসা জন্মেও আর কপালে জুটবে না
৪২|
০২ রা মে, ২০১১ বিকাল ৪:০০
শাহেদ খান বলেছেন: বরাবরের মতই অসাধারণ !
++++++++
তবে, একটা কথা। শুরুতে লিখেছিলেন, "বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্মিলিত ভাবে যে অবদান রেখেছেন- ইতালিয় ভাষার ক্ষেত্রে দান্তে একাই অনুরূপ অবদান রেখেছিলেন।"
পুরো লেখার কোথাও তেমন অবদানের বিস্তারিত দেখলাম না ! তাঁর ব্যক্তিগত জীবনটাকে 'ফোকাস' করেছেন বলেই হয়তো সেই অংশটা সেভাবে লিখেন নি... তবু, যেটুকু লিখেছেন, তার জন্যও অনেক অনেক ধন্যবাদ![]()
©somewhere in net ltd.
১|
২২ শে এপ্রিল, ২০১১ সকাল ১১:১৯
পটল বলেছেন:
বিয়াত্রিচে বেঁচে নেই। হৃদয়ে গভীর বিরহ। তরুণ কবি পঙতির পর পঙতি রচনা করে মূর্ত করে তুলছেন স্বর্গীয় প্রেয়সীকে।