নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অন্ত্যজ বাঙালী, আতরাফ মুসলমান ...

বাংলার মাটি বাংলার জল, বাংলার বায়ু, বাংলার ফল, পুন্য হউক, পুন্য হউক, পুন্য হউক, হে ভগবান। বাংলার ঘর, বাংলার হাট, বাংলার বন, বাংলার মাঠ, পুর্ন হউক, পূর্ন হউক, পূর্ন হ্‌উক, হে ভগবান।রবীন্দ্রনাথ

ইমন জুবায়ের

জীবন মানে শুধুই যদি প্রাণ রসায়ন/ জোছনা রাতে মুগ্ধ কেন আমার নয়ন। [email protected]

ইমন জুবায়ের › বিস্তারিত পোস্টঃ

নিঃসঙ্গ মুসাফিরের জিন্দা গান

১৩ ই জুন, ২০১১ দুপুর ১:৫১

মন মানুষ আছে ঢাকা

খোঁজ করলে পাবে দেখা;

শক্ত কইরা তারে ধরো রে ...

মুর্শিদে দিলে ঠাঁই

মিলবে আকাশের চাঁদ

পাপ যন্ত্রণা যাবে ঘুচে রে ...



এই গানটি ফিরোজ শাঁইয়ের কন্ঠে সেই সত্তরের দশকের শেষে আশির দশকের শুরুতে শুনতাম। কথার মানে আর কি বুঝতাম-আমরা তখন ছোট ছেলে। স্কুলে পড়ি। ফিরোজ শাঁই আমাদের চামেলিবাগেই থাকতেন, তাঁকে অনেকবারই সামনাসামনি দেখেছিও; তবে তাঁকে সাদাকালো টিভিতেই দেখেছি বেশি। আজ তাকে কাছে পেলে গান সম্বন্ধে যে সব প্রশ্ন করতাম, সেসব প্রশ্নের উদয় তখনও আমার মাথায় হয়নি । ‘মন মানুষ আছে ঢাকা’ - বলতে ঢাকা শহরকেই বুঝতাম, ঢাকা মানে যে hidden; সেটি তখনও বুঝতাম না। ওই গানের আরও একটি শব্দও ভুল জানতাম। শব্দটি হল ‘দিল্লীশ্বরে’। ফিরোজ শাঁইয়ের গানটির প্রথম দুটো পঙতি এরকম:



মন তুই চিনলি না রে, দেখলি না রে

মন মানুষ বিরাজ করে আমার দিল্লীশ্বরে ...




ওই ‘দিল্লীশ্বরে’ শব্দটাকে আমি মনে করতাম ‘দিল্লী শহরে’। আমি এও ভাবতাম: এত জায়গা থাকতে ‘মনের মানুষ’ কেন দিল্লী শহরে বিরাজ করেন। ঢাকা শহরে বিরাজ করেন না কেন? ফিরোজ শাঁই তো ঢাকা শহরের চামেলীবাগে বাস করেন। তাহলে? পরবর্তীকালে ‘দেল-কোরান’, ‘হেরা-বৃন্দাবন’ ইত্যাদি শব্দের সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটেছে। এবং লালনের গানের মারফত জেনেছি-



হাতের কাছে হয় না খবর

কি দেখতে যাও দিল্লী লাহোর ...



তবে আজও যেন ‘মন মানুষ বিরাজ করে আমার দিল্লীশ্বরে’-এই বাক্যটির তাৎপর্য অনুধাবন করতে আমি সম্পূর্ন ব্যর্থ।

‘দিল্লীশ্বরে’ শব্দটি কি ‘দিল- ঈশ্বর’ হবে? ওই ‘দেল কোরানের’ মতোই?

জানি না।

তবে জানতাম যে ফিরোজ শাঁই মাইজভান্ডারী গান করতেন। মাইজভান্ডার বলতে চট্টগ্রামের কোনও মাজার বুঝতাম। আমার ভুলও হতে পারে। অবশ্য তার চেয়ে বেশি কিছু বুঝতাম না। ওই দিল-কাঁপানো গানটি কে লিখল, কে সুর করল- সেসব নিয়েও আমার কখনও মাথা ব্যাথা ছিল না। তবে গানের সুরটা টানত খুব, খুব গভীরভাবেই টানত। আজও টানে, আজও উতলা করে; জিন্দা বলেই টানে, জিন্দা বলেই উতলা করে। কিছু কিছু গান কখনোই মরে যায় না। ‘মহাকাল তারে বাঁচায় রাখেন।’ ... তখনও আমি বুঝিনি যে - আমার মনের অজান্তেই আমার কৈশরেই আমার বাউলিয়ানায় কিংবা মারেফাতের দীক্ষা হয়ে যাচ্ছে । যে গান – নিঃসঙ্গ মুসাফিরের জিন্দা গান । যে গান একদিন মুসাফিরের দুরূহ সর্পিল পথে আলো ফেলবে। কাঁধে ঝুলি নিয়ে মুসাফির পথ চলতে চলতে গাইবে:



সুর্য্য যে ডুইবা যায়,

দিন যে তোর চইলা যায়

সময় থাকতে ডাকো আল্লার নামরে

মুর্শীদে দিলে ঠাঁই

মিলবে আকাশের চাঁন

পাপ-যন্ত্রনা যাবে মুছেরে !



গানটির লিঙ্ক

Click This Link



আমাদের শৈশবে ফিরোজ শাঁইয়ের আরেকটি মুসাফিরি গান শুনতাম:



স্কুল খুইলাছে রে মাওলা স্কুল খুইলাছে

গাউসুল আযম মাইজভান্ডারী স্কুল খুইলাছে।

সেই স্কুলের এমনি ধারা মায়না ছাড়া পড়ায় তারা

সিনায় সিনায় লেখাপড়া শিক্ষা দিতেছে

গাউসুল আযম মাইজভান্ডারী স্কুল খুইলাছে।



আমাদের কৈশরে ওই রকম বিস্ময়কর মাইজভান্ডারী গানের মধ্য দিয়ে আমাদের তাসাউফী (মারেফাত) দীক্ষা দিয়েছেন বলেই ফিরোজ শাঁই কে আজ আমার দীক্ষাগুরু বলেই মনে হয়। যে গানে বাংলার দার্শনিক ভাবজগৎটি সমুজ্জ্বল হয়ে রয়েছে । যে ভাবজগতের দীক্ষা বাঙালির সহজাত। মধ্যযুগ থেকেই একতারা হাতে বাঙালির দীক্ষাগুরুরা নানারূপে নানা পন্থায় বাঙালিকে মারেফাত আর বাউলিয়ানার দীক্ষা দিয়ে চলেছেন। আজম খানও সত্তরের দশকে ইলেকট্রিক গিটার বাজিয়ে ওই একই দীক্ষা দিলেন:



আমি যারে চাইরে সে থাকে মোরই অন্তরে



কিংবা ...



ভক্তিতে মুক্তি জেনেছি এ সত্যি

বাসনা পূর্ণ হবে সাধনে।




লালন একতারা হাতে উনিশ শতকে মরমী গানের দীক্ষা দিচ্ছেন :



আত্মতত্ত্ব যে জেনেছে

দিব্যজ্ঞানী সে হয়েছে

কুবৃক্ষে সুফল ফলেছে

আমার মনের ঘোর গেল না।



ছেলেবেলায় এ গানটি শুনলেও গানটির অর্ন্তনিহিত তাৎপর্যটি কখনোই বুঝে উঠতে পারিনি। আজও বুঝি কি না সে প্রশ্নও উঠতে পারে। তবে গানের একটা ছাপ যে মনের মধ্যে পড়েছিল, সে ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই । আমরা আমাদের ছেলেবেলায় বাংলার মরমী সাধকদের কাছ থেকে এভাবে মনের অজান্তেই বাউলিয়ানায় কিংবা মারেফাতের পাঠ নিচ্ছিলাম, গভীরোতর আত্বতত্ত্বের পাঠ নিচ্ছিলাম। আমরা একটি spiritual nation -এর অর্ন্তগত বলেই আমাদের অন্তরে মরমী দর্শনের অনিবার্য দীক্ষটি সম্পন্ন হয়ে যাচ্ছিল। বাঙালি জাতি আপাদমস্তক spiritual । বাঙালি জাত বাউলা; তা যুগে যুগে বাঙালি যতই রূপ ধরুক না কেন । অধ্যাত্ববাদ তার রক্তে মিশে আছে। এ সত্য কোনও ভাবেই অস্বীকার করার উপায় নেই। বাঙালির রক্তে যে অধ্যাত্ববাদ মিশে আছে তার কারণটি হল: বাউলতত্ত্ব কিংবা তাসাউফের শিক্ষা বাঙালির শৈশবের চারিপাশে ছড়িয়ে থাকে। গানে গানে। রবীন্দ্রবাউলও তাঁর গানে ওই তাসাউফের শিক্ষাই প্রচার করেছেন ।



আমার প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে

তাই হেরি তায় সকল খানে ...




এ রকম অসংখ্য উদাসী সংগীত রচনার কারণে রবীন্দ্রনাথকে সুফিসাধক বলা যেতেই পারে। আমার প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে /তাই হেরি তায় সকল খানে ...এই বক্তব্যই তো, যতটুকু বুঝতে পারি, সুফিতত্ত্ব বা ইসমে আযম- এর সারকথা: যা একজন সঙ্গহীন মুসাফিরের পাথেয়। আমরা কি প্রত্যেকেই নিঃসঙ্গ মুসাফির নই? সবাই আমরা তো ক্ষণিক সফরেই রয়েছি। সে সফর অনন্তকালের হলেও মানবজীবনে তার খন্ডিত রূপই তো প্রকাশ পায়।

নজরুল কেও তাঁর গানে সুফিসাধকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখি।



হেরা হতে হেলেদুলে নুরানী তনু ঐ কে আসে যায়

সারা দুনিয়ার বেহেস্তের পর্দা খুলে খুলে যায়

সে যে আমার কামলিওয়ালা কামলিওয়ালা ...




নজরুল ইসলাম ইসলামের নবীকে ‘কামলিওয়ালা’ (কম্বল পরিহিত সুফি) বলেছেন। এতে করে যেন ইসলামের নবীর যথার্থ স্বরূপ উদঘাটিত হল। আমাদের দেশে আরেকটি মারফতি গানে হযরত আলীকে মুর্শিদের সম্মান দেওয়া হয়েছে। আর তাতে করে গানটি যেন জিন্দা হয়ে গিয়েছে।



দয়াল বাবা কেবলা-কাবা আয়নার কারিগর।

আয়না বসায়া দে মোর কলবের ভিতর।

আমার বাবা আলহাছ (আলহাজ) আলী

যের (যার) কাছে মারফতের কলি

কলব হইয়া যায় নুরানী চাইলে এক নজর।




এ রকম সুগভীর আধ্যাত্বিক উপলব্দি অনেক বিখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদের ভাবনায় হয়তো অনুপস্থিত, যা বাংলার একজন শিক্ষাবঞ্চিত (অথচ প্রকৃত অর্থে শিক্ষিত) গীতিকারের কাছে আমরা পেয়েছি। যা হোক। এই গানটি অবশ্য আমরা ছেলেবেলায় শুনিনি। শুনেছি, আরও পরে- নব্বুয়ের দশকে। তবে বলার কথা হল এইটাই যে, নজরুল তাঁর গানে ইসলামের নবীকে ‘ কামলিওয়ালা’ অবহিত করায় এবং এই গানে হযরত আলী কে পিতার মর্যাদা দেওয়ায় বাংলার মরমী ভাবজগতে চমৎকার একটি ভারসাম্য সৃষ্টি হয়েছে ।

আমাদের ছেলেবেলায় ফকির আলমগীর-এর একটি রূপকধর্মী মাইজভান্ডারী গান তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল।



কামেলিরা কাম করিয়া কোথায় জানি লুকাইছে

দুই পাহাড়ের মাঝে মওলায় মসজিদ বানাইছে।




গানটির অর্ন্তগত অর্থ বোঝা ছিল আমাদের সাধ্যির বাইরে । তবে বন্ধুদের সঙ্গে গিটার বাজিয়ে গাইতে অনাবিল আনন্দের কখনও কমতি হয়নি । আমরা চিৎকার করে গাইতাম:



নদীতে জোয়ার হয় যখন

তিন প্রকারের পানি আছে

লাল কালা সাদা বরণ ...




(বহুকাল বাদে স্মৃতি থেকে উদ্বৃত করছি। পঙতিবিন্যাসে গরমিল থাকা স্বাভাবিক)



এসব গানের শরীরে কোন্ কামেল পীর আল্লাহ্র নামে তাঁর রূহানী-ফুঁক দিয়ে দিয়েছিলেন কে জানে । তারপর থেকে যেন গান নিজেই জিন্দা (কালজয়ী?) হয়ে উঠেছে। কেবল শোনার ইচ্ছে হলেই হয়, গানটি আপনি থেকেই যেন বেজে উঠবে। এ বড় আশ্চর্যের কথা। আমাদের শৈশবজুড়ে এরকম অনেক আশ্চর্যজনক জিন্দা গান ছিল। যে গান হয়ে উঠছিল ভবিষ্যতের নিঃসঙ্গ মুসাফিরের পথচলার অন্যতম অবলম্বন।



ছেলেবেলার আরেকটি প্রাণস্পর্শী গানের কথা মনে পড়ে:



ভালোবাস মানুষেরে

যদি চাও তুমি তারে

ও আমি কি পাবো তারে ...



আমরা এ ধরনের বহু জীবন্ত গানের ভিতর ছেলেবেলায় আকন্ঠ ডুবে ছিলাম। সচেতন ভাবে নয়, অসচেতন ভাবে। তখনও জানতাম না যে এরকম গান পৃথিবীর আর কোনও দেশেই বাজে না। কেবল বাংলায় বাজে, কেবল বাংলাদেশে বাজে। তখনও জানতাম না যে এই জীবন্ত গানই অন্যান্য জাতি থেকে বাঙালিকে স্বতন্ত্র করে রেখেছে । তখনও জানতাম না যে এই গানই বাংলাকে বিশ্বসভ্যতায় বাংলাকে বাংলাদেশকে ধনী ও জ্ঞানী করে রেখেছে। আজকাল এই ভেবে শিউড়ে উঠি যে -কার ইশারায় এমন ধনী মরমী গানে দেশে জন্ম হল আমার ? বিগত জন্মে আমি কি এমন পূণি করেছিলাম যে মানবজন্ম লাভ করে চন্দনা মজুমদারের কন্ঠে রাধারমের গান শুনলাম, ‘আমার বন্ধু দয়াময়/ তোমারে দেখিবার মনে লয়।’ কিংবা শুনলাম বিজয় সরকারের, ‘জানিতে চাই দয়াল তোমার আসল নামটা কি।’-এই চরম agnostic গান? ... আমরা ভাগ্যবান বলেই শৈশব থেকেই এসব ঐশ্বর্যশালী জীবন্ত গান শুনে বেড়ে উঠেছি। আর মনের অজান্তেই শিখে নিয়েছি জীবন ও জগতের অর্ন্তলীন তত্ত্বকথাটি। জীবনের নিহিত সারকথাটি যেন আমাদের চেতনায় ক্রমশ স্পস্ট হয়ে উঠছিল। জীবনের সে সব গূঢ় তত্ত্বকথা সুরে আর বাণীর মধ্য দিয়ে জানিয়ে দিচ্ছিলেন বাংলার মহৎ সংগীতগুরুরা। লালন, রবীন্দ্রনাথ, ফিরোজ শাঁই কিংবা ‘দয়াল বাবা কেবলা কাবা আয়নার কারিগর’- এর মহান রচয়িতাগন। এতকাল পরে জীবনের জরাজীর্ণ তোরঙ্গটি উলটে-পালটে দেখি কৈশরের ওই জীবন্ত গান এবং ওই জীবন্ত গানের সারমর্ম-যা আমার হৃদয়ে মিশে আছে- ওইটুকুনই জীবনের পরম প্রাপ্তি বলে মনে হয় । আর বাদবাকী সবই যেন আবছা কুয়াশার ভিতর দূর থেকে দেখা অস্পষ্ট বায়োস্কোপ ... এতকাল পথ চলার পর জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতার পর, ঝুরঝুরে মানবিক সর্ম্পকের অসারতা বুঝে আমাদের কারও কারও তো নিজেদের মুসাফির বলেই মনে হতেই পারে । পথ চলতে চলতে চারধারে যেন অচেনা ভাষায় বায়োস্কোপ দেখছে একজন বিমূঢ় মুসাফির। তার কেবলি মনে হয়: কৈশরের ওই সমৃদ্ধশালী মরমী জিন্দা গান মুসাফিরের দীর্ঘ পথপরিক্রমার অবলম্বন ছিল বলেই এতটা পথ আসা গেল! আজও ওই উদাসী ফকিরের জিন্দা গানই মুসাফিরকে জাগিয়ে রেখেছে । তার কারণ। সবাই ঘুমিয়ে গেলেও মুসাফিরকে তো জেগে থাকতেই হয়!



উৎসর্গ: রাইসুল জুহালা

মন্তব্য ৩৬ টি রেটিং +৮/-০

মন্তব্য (৩৬) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই জুন, ২০১১ দুপুর ২:০৬

নষ্ট কবি বলেছেন: চরম-

সেই ছোটবেলা থেকে কেন জানি আমি ও খানিকটা বাউল স্বভাবের

তাই হয়ত আপনার পোষ্ট গুলা অনেক আপন মনে হয়

১৩ ই জুন, ২০১১ বিকাল ৩:৩২

ইমন জুবায়ের বলেছেন: কয়েকদিন আগে এক টিভি চ্যানেলে আশিক এর গাওয়া রাধারমনের গান শুনে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। গানগুলি নিয়ে আশাবাদী হওয়াই যায়।
ধন্যবাদ।

২| ১৩ ই জুন, ২০১১ দুপুর ২:২৯

১১স্টার বলেছেন: বাউল গান এখনও গ্রাম ও শহরের মানুষ কে সমান তালে টানে। কিন্তু ক'জনেই মানে জানে। আপানার পোস্টটিতে অনেক গানের কথা আছে যা আমার ছোটবেলায় শোনা গ্রামের এক বাউলকে মনে করিয়ে দিলো যে কিছুদিন আগে মারা গেছে।

ইমন জুবায়ের এর সভাব শুলব লেখা খুব ভালো লেগেছে।

১৩ ই জুন, ২০১১ বিকাল ৩:৩৫

ইমন জুবায়ের বলেছেন: আমার তো মনে হয়, শহরে কি গ্রামে যারা বাউল গান বোঝে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি কিছু হলেও অন্যদের চেয়ে আলাদা। ছোটবেলায় আপনি বাউলের কাছে গান শুনেছেন এত সৌভাগ্যের ব্যাপার।
অনেক ধন্যবাদ।

৩| ১৩ ই জুন, ২০১১ বিকাল ৩:৩১

শ্রাবনসন্ধ্যা বলেছেন: ভাল লাগল. :)
অনেক দিন পর পড়লাম, এভাবে বুঝছেন বলেই হয়তো মুসাফির হতে পেরেছেন....

১৩ ই জুন, ২০১১ বিকাল ৩:৩৬

ইমন জুবায়ের বলেছেন: আসলে উদাসী গানের দেশে আমরা সবাই মুসাফির।
ধন্যবাদ।

৪| ১৩ ই জুন, ২০১১ বিকাল ৫:২৯

শিরীষ বলেছেন:
যে ক'টা গান এসেছে প্রত্যেকটিই প্রাণের গান। ঠিক যেভাবে আপনি বুঝতেন বিশেষ করে ফিরোজ শাঁই-এর গানটি, আমিও ওভাবেই বুঝতাম। এখন অবশ্য বুঝি বা বোঝার চেষ্টা করি। এবারের বই মেলায় বাউল-দের গানের কথার মানে ভিত্তিক একটি বই সংগ্রহ করেছি। অনেক কথা স্পষ্ট হয়েছে বইটি পাঠ করে।

অসাধারণ পোস্ট, যথারীতি।

১৩ ই জুন, ২০১১ বিকাল ৫:৩৯

ইমন জুবায়ের বলেছেন: ... এবারের বই মেলায় বাউল-দের গানের কথার মানে ভিত্তিক একটি বই সংগ্রহ করেছি।
বইটির নাম সম্বন্ধে কৌতূহল হচ্ছে।
ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা।

৫| ১৩ ই জুন, ২০১১ বিকাল ৫:৫৮

শিরীষ বলেছেন:
বাসায় গিয়ে দেখে ডিটেইলস জানাচ্ছি ইমন ভাই।

১৩ ই জুন, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:০০

ইমন জুবায়ের বলেছেন: ওকে।

৬| ১৩ ই জুন, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৫১

শিরীষ বলেছেন:
হ্যাঁ, বইটির নাম - 'বাউল-লালন পরিভাষা'। ড. মোঃ আবদুল করিম মিঞার লেখা বইটি প্রকাশ করেছে নবযুগ প্রকাশনী।

১৪ ই জুন, ২০১১ ভোর ৬:৫১

ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ, কবি।

৭| ১৩ ই জুন, ২০১১ রাত ৮:৩৭

নাজিম উদদীন বলেছেন: ফিরোজ সাঁই নাকি 'এক সেকেন্ডের নাই ভরসা' গান গেয়ে স্টেজ থেকে নামার পর মারা গেছেন। এটা কি সত্য?

১৪ ই জুন, ২০১১ ভোর ৬:৫৩

ইমন জুবায়ের বলেছেন: আমিও এরকমই কিছু শুনেছি, সত্যমিথ্যা জানি না।
ধন্যবাদ।

৮| ১৪ ই জুন, ২০১১ রাত ২:৩২

এন.আই.পি বলেছেন: ধন্যবাদ লিখার জন্য। আপনি কি ফিরোজ সাঁই সম্পর্কে কোন পোস্ট করতে পারবেন ? আমি ছোট থাকতে তিনি মারা যান, তার কিছু কিছু গান শুনেছিলাম।

১৪ ই জুন, ২০১১ ভোর ৬:৫৪

ইমন জুবায়ের বলেছেন: ফিরোজ সাঁই সম্পর্কে লেখার চেষ্টা করব।
ধন্যবাদ।

৯| ১৪ ই জুন, ২০১১ ভোর ৪:১০

নস্টালজিক বলেছেন: অসাধারণ পোস্ট, ইমন ভাই!

হ্যাটস অফ!

১৪ ই জুন, ২০১১ ভোর ৬:৫৬

ইমন জুবায়ের বলেছেন: ধন্যবাদ :)

১০| ১৪ ই জুন, ২০১১ ভোর ৫:১২

কামরুল হাসান শািহ বলেছেন: এখন আর কেউ জিন্দা গান লেখে না


পোস্ট ভাল লেগেছে

১৪ ই জুন, ২০১১ সকাল ৭:০২

ইমন জুবায়ের বলেছেন: এখন আর কেউ জিন্দা গান লেখে না ঠিকই তবে স্টকে জিন্দা গান যা আছে তা আমাদের মন ভরাতে যথেষ্ট বলে মনে করি।
অনেক ধন্যবাদ।

১১| ১৪ ই জুন, ২০১১ ভোর ৬:১৯

গানচিল বলেছেন: পুরাতন মারফতি বেশীরভাগ গানগুলো ভবঘুরে বাউলরা নিজেরাই রচনা করে এবং সুর দিয়ে এখানে সেখানে গেয়ে গেয়ে ঘুরে বেড়াত।যুগেযুগে লোকমুখে ফিরে ফিরে এসব গানের কথার ও অদল বদল হয় ক্ষনে ক্ষনে। তারপর যখন প্রতিষ্টিত কোন শিল্পীর দ্বারা ক্যাসেট বা সিডিতে স্হায়ীভাবে সংরক্ষিত হয়,তখন সেখানে উল্লেখ করা হয় "কথা ও সুর সংগৃহীত"।যার ফলে আমরা মূল বাউলের নামটা জানতে পারিনা। অনেকক্ষেত্রে উক্ত বাউলের জীবদ্দশাতেই তার নিজের গানটি অন্যরা "হাইজ্যাক" করে কথার অদলবদল করে সংগৃহীত, কখনো বা নিজের নামেই চালিয়ে দেয়। এটা আমি দেখেছি। সৌভাগ্যক্রমে আমি সেই এলাকারই লোক,যার চারপাশে, হাসনরাজা, রাধারমন, দুরবীন শাহ, আব্দুল করিম, বাউল ক্বারী আমির উদ্দীন আহমেদ প্রমুখদের জন্ম।ছোটবেলা থেকেই এদের কতগান কতজনে চুরি করেছে এবং একই গান এ পর্য্যন্ত কতভাবে শুনেছি তার হিসেব নাই।এবার মূল প্রসঙ্গে আসি।"মন তুই দেখলিনারে"-সত্তর দশকের খুবই জনপ্রিয় একটা গান।(আমার ধারনা, ফিরোজ সাঁইয়ের আগেও আব্দুল জব্বার এবং সাবিনা ইয়াসমিন স্বাধীনতা পরবর্তী "আগুনের আলো" নামক একটা ঢাকাইয়া ফিল্মে গেয়েছিলেন)। আপনি যে শব্দ দিল্লী শহর বলে জানতেন আর এখন দিল্লীশ্বরে বলে জানেন। একই শব্দকে আমি মনে করতাম "দিল ঈশ্বরে"-অর্থাৎ 'মন ঈশ্বরে'।

মন তুই দেখলিনারে,চিনলিনারে
মন মানুষ বিরাজ করে ঐ দিল-ঈশ্বরে!!

মনের মানুষ আছে ঢাকা
সাধন করলে পাবে দেখা
শক্ত কইরা তারে ধরোরে
মুর্শীদে দিলে ঠাঁই মিলবে আকাশের চাঁন
পাপ-যন্ত্রনা যাবে মুছেরে !!

সুর্য্য যে ডুইবা যায়,
দিন যে তোর চইলা যায়
সময় থাকতে ডাকো আল্লার নামরে
মুর্শীদে দিলে ঠাঁই
মিলবে আকাশের চাঁন
পাপ-যন্ত্রনা যাবে মুছেরে !!
http://www.esnips.com/doc/463ba694-a315-43e2-a6bd-d141e3a8a389/Mo-tui-dekhlina-re

এখন আপনার আর্টিক্যাল পড়ে শব্দটা নিয়ে একটু ধান্ধায় পড়ে গেলাম।

যাই হোক,আপনার সুবিধার জন্য ফকির আলমগীরের গানের কথাগুলো উল্লেখ করলাম।

কামেলিরা কাম করিয়া
কোথায় জানি লুকাইছে
দুই পাহাড়ের মাঝে মৌলায়
মসজিদ বানাইছে !!

নদীতে জোয়ার হয় যখন
তিন প্রকারের পানি আসে
লাল কালা সাদা বরণ ...
সেই নদীতে মরা কূমীর
হাজার ডিম্ব পাড়তাছে !!

মসজিদের তিনটি দরজা
ছয়টি খিড়কী তার
আবহায়াতে রাখছে পানি
ওজু করিবার
সেই মসজিদে দীনের নবী
সদা নামাজ পড়তাছে !!


ধন্যবাদ সুন্দর একটা আর্টিক্যালের জন্য।

১৪ ই জুন, ২০১১ সকাল ৭:০৪

ইমন জুবায়ের বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ। বিশেষ করে গানের লিঙ্কের জন্য।

১২| ১৪ ই জুন, ২০১১ ভোর ৬:২৮

রিয়েল ডেমোন বলেছেন: :) :)

১৪ ই জুন, ২০১১ সকাল ৭:০৪

ইমন জুবায়ের বলেছেন: !:#P

১৩| ১৪ ই জুন, ২০১১ সকাল ৭:০৯

রাইসুল জুহালা বলেছেন: অসাধারন একটা লেখা। লেখক ইমন জুবায়েরকে প্রতিদিন নতুন নতুনভাবে আবিষ্কার করছি।

মারফতি, দেহতত্ত্বের গান শুনি আর মাথা খারাপ হয়ে যায়। সবিনয় শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, বেশিরভাগ বাউলের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তো প্রায় শুন্য। তারপরও কথার এই মারপ্যাঁচ, মেটাফর এগুলি তাদের মধ্যে আসে কিভাবে! কে ভাবতে পারে যে মনকে ঘড়ির সাথে তুলনা দেয়া যায়? কিংবা জীবনসংসারকে স্কুলের সাথে? সুরের কারুকার্যের কথা বাদই দিলাম।

লেখাটা প্রথম থেকেই মুগ্ধতা নিয়ে পড়ছিলাম। যতই পড়ছিলাম, মুগ্ধতা বাড়ছিল। শেষে এসে মুগ্ধতার সাথে যোগ হল বিষ্ময় আর কৃতজ্ঞতাও। অনেক ধন্যবাদ।

১৪ ই জুন, ২০১১ সকাল ৭:২৪

ইমন জুবায়ের বলেছেন: আমিও ভাবি ...বেশিরভাগ বাউলের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তো প্রায় শুন্য। তারপরও কথার এই মারপ্যাঁচ, মেটাফর এগুলি তাদের মধ্যে আসে কিভাবে!

আপনাকে একটি লেখা উৎসর্গ করব ভাবছিলাম। কেন যেন মনে হল এই লেখাই হয়তো উপযুক্ত হবে।
অনেক ধন্যবাদ আর কৃতজ্ঞতা।

১৪| ১৪ ই জুন, ২০১১ বিকাল ৪:৫৮

রেজোওয়ানা বলেছেন: চমৎকার পোস্ট........চমৎকার উৎসর্গ !

"দিল্লীশ্বর" শব্দটার ব্যাখ্যাটা ভাল লাগলো।
নবী কামলিওয়ালা যে কম্বল পরিহিত সুফি বোঝানো হচ্ছে এই বিযয়টাও অজানা ছিল।

সত্যিই দূর্দান্ত পোষ্ট.....

১৪ ই জুন, ২০১১ বিকাল ৫:২৭

ইমন জুবায়ের বলেছেন: দূর্দান্ত কমেন্ট :)

১৫| ১৪ ই জুন, ২০১১ বিকাল ৪:৫৯

রেজোওয়ানা বলেছেন: ১০ বা ট্রাই করে এই কমেন্টটা করতে পারলাম। ভুলে একবার আগের পোস্টে দিয়া ফেলছি :(

১৪ ই জুন, ২০১১ বিকাল ৫:৩০

ইমন জুবায়ের বলেছেন: X(( X(( X(( X(

কবে থেকে বলতেছি কম্পু পালটান X( X( X(
আপনার জন্য ইহা রেকমেন্ড করা হইল:

১৬| ১৪ ই জুন, ২০১১ বিকাল ৫:১৬

তারার হাসি বলেছেন:
আগে বাউল গান শুনতাম কিছু না বুঝেই। শুধু সুর ও কিছু অন্যরকম কথার কারণে, হয়তো ভাল লাগত গায়কী ভঙ্গি।
এখনো তেমন কিছু বুঝি না কিন্তু শুনি গভীর ভালবাসা নিয়ে।

১৪ ই জুন, ২০১১ বিকাল ৫:৩৫

ইমন জুবায়ের বলেছেন: বাউলগানের সবটা যে আমিও বুঝি, তা কিন্তু নয়; তবে ঐ প্রাণের টানেই শুনি।
অনেক ধন্যবাদ।

১৭| ১৬ ই জুন, ২০১১ সকাল ১০:০৫

রাইসুল জুহালা বলেছেন: ফিরোজ সাঁইয়ের একটা গানের কথা মনে পড়ল। এককালে খুব শুনতাম, অনেক বছর আর শুনি নাই -

ইঞ্জিন যদি না থাকে তো ডাব্বা দিয়া কি হইব
মাটির দেহ মাটি হইয়া মাটির মাঝে যাইব।

*কম করে হলেও ২০ বছর আগে শেষ শুনেছি। লিরিক পুরোপুরি মনে করতে পেরেছি বলে মনে হয় না। একটু এদিক সেদিক হতে পারে।

১৬ ই জুন, ২০১১ সকাল ১১:০৪

ইমন জুবায়ের বলেছেন: আবছা মনে পড়ে যেন ...

১৮| ২৭ শে জুন, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৩১

রুখসানা তাজীন বলেছেন: প্রধানত ইতিহাস এবং আরো অনেক বিচিত্র বিষয় জানতে আপনার ব্লগ পড়া আমার অন্যতম প্রায়-প্রাত্যহিক অভ্যাস। সবসময় সেটা করে থাকি লগইন না করে। এই লেখা পড়ে আজ শ্রদ্ধাটুকু জানাতেই হলো। এমন অসাধারণ উপলব্ধি নিকট অতীতে কোথাও দেখেছি বলে মনে পড়েনা।

২৭ শে জুন, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৪৪

ইমন জুবায়ের বলেছেন: নিরন্তর শুভেচ্ছা রইল।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.