| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ব্যক্তিগত জানলার পর্দার আড়ালে বৃন্দাবন, দুঃখ মুছার ন্যাকড়া, সুখের মাঝে গুঁজে রাখা ন্যাপথালিন। পর্দার সাথে ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে থাকা আকাশ বহুদিন ধরে অপেক্ষমান জানলার পর্দা সরার, কপাট খোলার। কিন্তু দুর্বাঘাসের হৃদয়ে আঁকা শিশিরের স্বাদ ভুলে গ্যাছে যে আকাশ বাতাসের টেলিফোনে তার কি ঘুম ভাঙ্গে, জানলার পর্দা সরে, কপাট খোলে? তাই এ আকাশের কথা চিত্রগুপ্তের জানা নাই। এ আকাশ রোদ্দুরহীন মেঘের দূরগামী, গোপন তারায় নির্বাসিত।
একবার এক বান্ধবীর প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম। তাকে ছাড়া সবকিছু ফ্যাকাসে মনে হতো। কেমন জানি খালি খালি লাগতো। যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে কোন এক বিকেলে তাকে বলেই ফেললাম মনের কথা। আমার কথা শুনে সে হাসলো । যেহেতু তার হাসিটা প্রেমের 'হ্যা সূচক' ছিলো না, তাই আমি কেদেই ফেললাম।
আমার কষ্ট সে বুঝতে পারলো।
সে বললো, "তুই আমার জন্য ২ বছর ওয়েট কর। আমি স্কুলে থাকতে প্রেম করবো না। কলেজে উঠেই তোর সাথে প্রেম করবো।"
সেদিন ভীষণ খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু আমি ২ বছর অপেক্ষা করতে পারি নাই। ১ বছরের মাথায় অন্য এক মেয়ের প্রেমে পড়ে যাই, মেয়েটির সম্মতি থাকায় প্রেমও হয়। প্রেম হওয়ার পর কিভাবে যেন জানাজানি হয়ে যায়। আমি তো আমার বান্ধবীর ( যার প্রেমে পড়েছিলাম) সামনে যেতে পারতাম না, অজানা এক সংকোচ হতো।
একদিন সে বান্ধবী আমাকে বললো, ' তুই প্রেম করায় আমি খুশি হইছি। তোরে যদি বলতাম যে, আমি প্রেম করবো না তাহলে তুই কষ্ট পাইতি। আমি জানতাম, আমার প্রতি তোর এ মোহ কেটে যাবে। তাই আমি ২ বছর সময় চাইছিলাম।'
আমার সেই বান্ধবী এখন নেদারল্যান্ড থাকে। এক বাচ্চার জননী। তার সেদিনের বুদ্ধিমত্তা আমাকে এখনও মুগ্ধ করে।
এবার মূল প্রসঙ্গে আসি। এই ঘটনাটি বলার বিশেষ একটি কারণ আছে। এ ঘটনার সাথে আমি আর একটি ঘটনার মিল খুজে পেলাম। আমার বান্ধবী বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য যে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছিলো, সরকার ক্ষমতার লোভে গোলাম আযমের রায় নিয়ে ঠিক সেরকম এক চালাকি ( এটাকে বুদ্ধিমত্তা বলা ঠিক হবে না) করলো।
আমার সাথে আমার বান্ধবীর সম্পর্ক টিকে আছে, সরকারের সাথে জনগনের সম্পর্ক টিকে থাকবে তো?
©somewhere in net ltd.