নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বিবেকিন্দ্রিয়লোচন

বিবেকিন্দ্রীয়লোচন

বিবেক নামক ইন্দ্রিয়ের চোখ (বিবেকিন্দ্রিয়লোচন) দিয়ে চারিদিক দেখার চেষ্টা করছি

বিবেকিন্দ্রীয়লোচন › বিস্তারিত পোস্টঃ

বির্তকের অবসান আর ঐক্যের বিজয় হোক

৩১ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ১০:০১

ভাল লাগল। তাই, কাট কপি পেস্ট করা পোস্টঃ



চাঁদ দেখার উপর ভিত্তি করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রোযা রাখা, ঈদ উজ্জাপন করার তারিখের ব্যাপক পার্থক্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। এক দেশ থেকে আর এক দেশে, ক্ষেত্র বিশেষে দুই/তিন দিন আগে পরে রোযা রাখা ও ঈদ উজ্জাপন করা হয়। এমনকি একই দেশেও বিভিন্ন তারিখে রোযা রাখা ও ঈদ উজ্জাপন করা হয়ে থাকে। এ নিয়ে কয়েক বছর ধরে আমাদের দেশেও ব্যাপক আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ক চলছে। প্রকৃতপক্ষে এ সকল বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত। কারণ এটা আমাদের ইবাদতের বিষয়। এখানে বিতর্ক চলতে দেয়া যায় না। আর এ বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত কুরআন, সুন্নাহর দলিলের ভিত্তিতে। অন্য কোন তাত্ত্বিক যুক্তি তর্কের ভিত্তিতে নয়। এ বিতর্কের অবসান করার জন্য আমি দেশের ধর্ম প্রাণ মানুষ, মসজিদের খতীব ও আলেম সমাজকে এগিয়ে এসে সত্যের পক্ষে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানাচ্ছি এবং আমি কিছু দালিলীক তথ্য ও যুক্তির অবতারণা করছি। আশা করছি এখান থেকে একটি সঠিক সিন্ধান্ত গ্রহণ করা সহায়ক হবে।



চাঁদ দেখার বিষয়ে কুরআনিক দলিলঃ



আল্লাহ তায়ালা ভৌগলিক অবস্থান নির্বিশেষে সকল মুসলমানদেরকে নিম্নোক্ত আদেশ করেছেন।

‘‘তোমাদের মধ্যে যে কেউ এ (রমযান) মাস পাবে সে যেন এ মাসে রোযা রাখে [২: ১৮৫]।



এ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদের রোযা পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং রমযান মাসের উপস্থিকে রোযা পালন করার শর্ত হিসেবে উল্লখে করেছেন। এখন দেখা যাক যে, মাসের উপস্থিতি বলতে কি বুঝায়। পৃথিবীর আকাশে কোথাও নতুন চাঁদের অস্থিত্ব প্রামানীত হলেই সারা বিশ্বময় চাঁদের উপস্থিতি প্রমানীত হবে এবং পৃথিবীতে মাস শুরু হবে। আর মাস শুরু হলেই রোযা পালন করতে হবে।



অপর এক আয়াতে আললাহ তায়ালা বলেন, ‘‘হে রসুল (সাঃ) মানুষ আপনাকে নতুন চাঁদসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। আপনি বলে দিন, এগুলো মানুষের জন্য সময় নির্ধারক।’’ [২:১৮৯]



এখানে লক্ষ্যনীয় যে, আয়াতে নতুন চাঁদ সম্পর্কে বলা হয়েছে। পূর্ববর্তী চন্দ্রমাস শেষ হওয়ার পরে, আবার নতুন করে পৃথিবীর আকাশে সর্বপ্রথম যে চাঁদ দেখা যায়, ঐ চাঁদই হচ্ছে নতুন চাঁদ [তাফসীরে কারীর ২য় খন্ড পৃঃ-২৫৫-২৫৬, তাফসীরে বায়জাবী] এবং প্রতি মাসে চাঁদ এক দিনই নতুন থাকে। পরবর্তী দিনগুলোর চাঁদ কখনোই নতুন নয়।



অতএব এ আয়াত থেকে প্রমানিত হয়, যখনই নতুন চাঁদের উপস্থিতি প্রমানীত হবে, তখনই মাস গনণা শুরু হবে, আর রমযান মাসের ক্ষেত্রে মাস শুরু হলেই রোযা পালন করতে হবে।



চাঁদ দেখার বিষয়ে কুরআনিক দলিলঃ



আল্লাহ তায়ালা ভৌগলিক অবস্থান নির্বিশেষে সকল মুসলমানদেরকে নিম্নোক্ত আদেশ করেছেন।

‘‘তোমাদের মধ্যে যে কেউ এ (রমযান) মাস পাবে সে যেন এ মাসে রোযা রাখে [২ঃ১৮৫]।



এ আয়াতে আল্লাহ সুবানাহু ওয়াতায়ালা মুসলমানদের রোযা পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং রমযান মাসের উপস্থিতিকে রোযা পালন করার শর্ত হিসেবে উলেলখ করেছেন। এখন দেখা যাক যে, মাসের উপস্থিতি বলতে কি বুঝায়। পৃথিবীর আকাশে কোথাও নতুন চাঁদের অস্থিত্ব প্রামানীত হলেই সারা বিশ্বময় চাঁদের উপস্থিতি প্রমানীত হবে এবং পৃথিবীতে মাস শুরু হবে। আর মাস শুরু হলেই রোযা পালন করতে হবে।

অপর এক আয়াতে আললাহ তায়ালা বলেন, ‘‘হে রসুল (সাঃ) মানুষ আপনাকে নতুন চাঁদসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। আপনি বলে দিন, এগুলো মানুষের জন্য সময় নির্ধারক।’’ [২:১৮৯]



এখানে লক্ষ্যনীয় যে, আয়াতে নতুন চাঁদ সম্পর্কে বলা হয়েছে। পূর্ববর্তী চন্দ্রমাস শেষ হওয়ার পরে, আবার নতুন করে পৃথিবীর আকাশে সর্বপ্রথম যে চাঁদ দেখা যায়, ঐ চাঁদই হচ্ছে নতুন চাঁদ [তাফসীরে কারীর ২য় খন্ড পৃঃ-২৫৫-২৫৬, তাফসীরে বায়জাবী] এবং প্রতি মাসে চাঁদ এক দিনই নতুন থাকে। পরবর্তী দিনগুলোর চাঁদ কখনোই নতুন নয়।



অতএব এ আয়াত থেকে প্রমানিত হয়, যখনই নতুন চাঁদের উপস্থিতি প্রমানীত হবে, তখনই মাস গনণা শুরু হবে, আর রমযান মাসের ক্ষেত্রে মাস শুরু হলেই রোযা পালন করতে হবে।



চাঁদ দেখার বিষয়ে হাদিস থেকে দলীলঃ



রাসুলুললাহ (সাঃ) বলেন, ‘‘তোমরা চাঁদ না দেখে রোযা রাখবে না এবং চাঁদ না দেখে রোযা ছাড়বেনা।’’-[বুখারী শরিফ]

এবং ‘‘চাঁদ দেখার ভিত্তিতে তোমরা রোযা রাখ এবং চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোযা ছাড় এবং ঈদ করো’’ [মুসলিম শরিফ]



চাঁদ দেখার ব্যাপারে যতগুলো হাদিস রয়েছে, তার মধ্যে সকলে নিজ নিজ বক্তেব্যের সমর্থনে উপরোক্ত দুটো হাদিস বেশি উল্লেখ করেন। যে সকল ফকীহ ও আলেমগণ সারা পৃথিবীতে একই দিনে রোযা পালন করার পক্ষ্যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তারা বলেছেন যে, হাদিসে ‘‘তোমরা’’ শব্দটি সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য ব্যাপক অর্থবোধক সম্বোধন। আর যারা বিভিন্ন দেশে আলাদা ভাবে আমলের যুক্তি দিয়েছেন তারা বলেছেন যে ‘‘তোমরা’’ শব্দটি এলাকা বা দেশের জন্য সীমিত অর্থে সম্বোধন। কাদের যুক্তি এখানে বেশি গ্রহণযোগ্য, আমরা এ বিতর্কে না গিয়ে, রাসুলুললাহ (সাঃ) কিভাবে আমল করেছেন, তা থেকে সিন্ধান্তে পৌছতে পারি। তিনি (সাঃ) দ্বিতীয় হিজরী থেকে দশম হিজরী পর্যন্ত মোট নয় বার পবিত্র রমযানের রোযা পালন করেছেন। তার রোযা পালন করার ক্ষেত্রে নিম্নের দুটি ঘটনা উল্লেখ করা যেতে পারে।



১) আববাস (রাঃ) থেকে বর্নীত, ‘‘একজন মরুচারী রাসুলুল্লাহ(সাঃ) এর নিকট এসে বললেন, আমি রমজানের চাঁদ দেখেছি। মহানবী (সাঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নাই’ এ কথা সাক্ষ্য দান করো, লোকটি বলল হ্যা। তিনি (সাঃ) আবার তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহ রাসুল’ তুমি কি এ কথা সাক্ষ্য দান করো, লোকটি বলল হ্যা। মহনবী (সাঃ) তখন বললেন, হে বেলাল মানুষের কাছে ঘোষনা করে দাও, তারা যেন আগামী দিন থেকে রোযা রাখে। (তিরমিযী পৃঃ-১৪৮, আবু দাউদ পৃঃ-৩২০, নাসায়ী পৃঃ-২৩১, ইবনু মাজাহ পৃঃ-১১৯, মিশকাত পৃঃ-১৭৪)



২) আর একটি ঘটনা, আনাস (রাঃ) থেকে বর্নীত, একদা মদিনার বাইরে থেকে একদল লোক রাসুলুল্লাহ(সাঃ) এর নিকট এসে বললেন, যে তারা গতকাল শাওয়ালের চাঁদ দেখেছেন। ফলে মহানবী (সাঃ) মানুষদেকে রোযা ছাড়ার নির্দেশ দিলেন এবং পরের দিন প্রাতঃকালে ঈদগাহে সমবেত হলেন। (আবু দাউদ, নাসায়ী, মিশকাত পৃঃ-১২৭)



এ হাদিস দুটি থেকে শরিয়াতের নির্দেশনা হচ্ছে-



১. প্রত্যেক লোকের জন্য আলাদা ভাবে চাঁদ দেখা জরুরী নয়, কোন ন্যায় পরায়ন মুসলিম চাঁদ দেখেছে প্রমানিত হলেই সকলের জন্য দলীল হিসেবে প্রতিয়মান হবে।



২. নিজ দেশের আকাশে চাঁদ দেখতে হবে এমন কোন শর্ত প্রযোজ্য নয়।



৩. দূরবর্তী স্থানে চাঁদ দেখা গেলেও সকলের জন্য আমল বাধ্যতামূলক হবে।



অর্থাৎ পৃথিবীর কোথাও যদি চাঁদ দেখা যায় এবং তা যদি গ্রহণযোগ্য ভাবে প্রমানিত হয়, তাহলে সকল মুসলমানকে রোযা পালন করতে হবে এবং তা শাওয়ালের চাঁদ হলে সকল মুসলমানকে রোযা ভংগ করতে হবে। প্রত্যেক এলাকায় আলাদা-আলাদা ভাবে চাঁদ দেখার কেন বাধ্যবাদকতা নাই। এক রাষ্ট্রের মুসলমান চাঁদ দেখলে অন্য রাষ্ট্রে জন্য সেই একই দেখা কার্যকর হবে। পৃথিবীর কোথাও যদি চাঁদ দেখা যায় এবং অন্য রাষ্ট্রে যদি এ খবর অবহিত হয়, তাহলে অবশ্যই তাদের রমযান পালন করতে হবে। পরের দিন রোযা পালন না করলে তাদের গুনাহগার হতে হবে। কারন ইসলাম প্রতিটি ক্ষেত্রে মুসলমানদের ভ্রাতৃত্ববোধ আর ঐক্যের শিক্ষা দেয়।



চাঁদ দেখার বিষয়ে ফিক্হী দলীলঃ



অনেক বিশ্বমানের ফিক্হী কিতাবে চাঁদ দেখার ব্যাপারে যে সকল মতামত প্রদান করা হয়েছে সংক্ষেপে সূত্রসহ তার কয়েকটি এখানে উল্লেখ করা হলো।



ফাতওয়া-ই-আলমগিরী কিতাবে বলা হয়েছে, ‘‘যদি পাশ্চাত্যবাসী চাঁদ দেখে, তবে সে দেখার দ্বারা প্রচ্যবাসীর জন্য রোযা ওয়াজিব হবে’’ [১ম খন্ড, পৃঃ-১৯৮]।



ফিকহ আলা মাযাহিবিল আরাবায়া কিতাবে বলা হয়েছে,‘‘পৃথিবীর কোন এক প্রান্তে চাঁদ দেখা প্রমানিত হলে, সকল স্থানেই উক্ত দেখার দ্বারা রোযা ফরজ হবে। চাঁদ নিকটবর্তী দেশে বা দূরবর্তী দেশে দেখা যাক এতে কোন পার্থক্য নাই। তবে চাঁদ দেখার সংবাদ প্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে অন্যদের নিকট পৌঁছতে হবে। তিন ইমাম আবু হানিফা(রহঃ), ইমাম মালেক(রহঃ) এবং ইমাম হাম্বল(রহঃ)- এর মতে চাঁদের উদয় স্থলের বিভিন্নতা গ্রহণীয় নয়। অর্থাৎ প্রথম দিনের দেখার দ্বারাই সর্বত্র আমল ফরজ হবে’’ [১ম খন্ড,পৃঃ-৪৪৩]।



ফিকহুস সুন্নাহ কিতাবে বলা হয়েছে, ‘‘জমহুর ফুকাহাগণের সিন্ধান্ত হচ্ছে, চাঁদের উদয় স্থলের বিভিন্নতা গ্রহণীয় নয়। অতএব যখনই কোন দেশে চাঁদ দেখা প্রামনিত হবে, তখনই অন্য সকল দেশে রোযা রাখা ফরজ হবে’’ [১ম খন্ড, পৃঃ-৩০৭]।



আল-মুগনী কিতাবে বলা হয়েছে, ‘‘কোন এক দেশের মানুষ চাঁদ দেখলে সকল দেশের মানুষের জন্য রোযা রাখা ফরজ হবে’’ [৪র্থ খন্ড, পৃঃ-১২২]।



ফতহুল কাদীর কিতাবে বলা হয়েছে, ‘‘যখন কোন শহরে চাঁদ দেখা প্রমানিত হবে, তখন সকল মানুষের উপর রোযা রাখা ফরজ হবে। ফিক্হের প্রতিষ্ঠিত মাযহাব অনুযায়ী পাশ্চাত্যবাসীর চাঁদ দেখার দ্বারা প্রাচ্যবাসীর জন্য রোযা রাখা ফরজ হবে[২য় খন্ড,পৃঃ-৩১৮]



বাহরুর রায়েক কিতাবে বলা হয়েছে, ‘‘চাঁদের উদয় স্থলের বিভিন্নতা গ্রহণীয় নয়। অতএব যখন কোন এক দেশের মানুষ চাঁদ দেখবে, তখন অন্য দেশের মানুষের জন্য রোযা রাখা ফরজ হবে, যদিও তারা চাঁদ দেখেনি। যদি তাদের নিকট গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছে যায়[২য় খন্ড, পৃঃ-৪৭১]।



কাযীখান কিতাবে বলা হয়েছে, ‘‘ফিক্হের সুপ্রতিষ্ঠিত মতানুসারে চাঁদের উদয় স্থলের বিভিন্নতা গ্রহণীয় নয়’’ [১ম খন্ড, পৃঃ-১৯৫]।



এরুপ আরো অনেক কিতাবে একই রকম রায় প্রদান করা হয়েছে। বইয়ের কলেবর সীমিত রাখার জন্য কেবলমাত্র রেফারেন্স উল্লেখ করা হলো। যেমন ফাতওয়া-ই-হাশমী ২য় খন্ড পৃঃ-১০৫, তাবয়ীনুল হাকায়েক ২য় খন্ড পৃঃ-১৬৪-১৬৫, হাশিয়া-ই-তাহতাবী পৃঃ-৩৫৯, মায়ারিফুস সুনান ৫ম খন্ড পৃঃ-৩৩৫, মুনতাকা ফি শারহিল মুয়াত্তা ২য় খন্ড পৃঃ-৩৭, ফাতওয়া-ই-ইবনু তাইমিয়া ২৫তম খন্ড পৃঃ-১০৭ ইত্যাদি।



উপ মহাদেশের উলামায়ে কিরামের সিন্ধান্তঃ



উপ মহাদেশের অনেক প্রখ্যাত আলেম উলাময়ে কিরাম এ বিষয়ের উপর মতামত প্রদান করেছেন। এবারে এরকম কয়েকটি মতামাত দেখে নেয়া যাক।



উপমহাদেশের অন্যতম ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র দারুল উলুম দেওবন্দের গ্রান্ড মুফতী আযিযুর রহমান বলেছেন, ‘‘হানাফি মাযহাবের মতে উদয় স্থলে বিভিন্নতা গ্রহণযোগ্য নয়। যদি কোন স্থানে শাবান মাসের ২৯ তারিখে চাঁদ দেখা যায় এবং শরিয়ত ভাবে তা প্রমানিত হয়, তখন ঐ হিসেবেই সকল স্থানে রোযা রাখা অপরিহার্য হয়ে যাবে। যে স্থানের লোকেরা সংবাদ পরে পাওয়ার কারণে শাবান মাস ত্রিশ দিন পূর্ন করে রোযা শুরু করেছে তারাও প্রথমদের সাথে ঈদ করবে এবং একটি রোযা কাযা করবে’’ [ফতোয়া-ই- উলুম দেওবন্দ, ষষ্ঠ খন্ড, পৃঃ-৩৯৮]।



উপমহাদেশের প্রখ্যাত মুফতি আব্দুল বারি মূলতানী (রহ) বলেছেন, ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালেক, ইমাম হাম্বল, ইমাম লাইছ ইবনু সাদ আল মিশরী, অধিকাংশ ফকিহ্গণ এবং ইমাম শাফেয়ী তারা একসাথে রমযানের রোযা রাখার ক্ষেত্রে এ রায় দিয়েছেন যে, যখন কোন &&ক জনপদে চাঁদ দেখা প্রমানিত হবে তখন দুনিয়ার অন্য সকল জনপদে ঐ দেখা গ্রহণীয় হবে। [মিফতাহুন নাজজাহ ১ম খন্ড পৃঃ-৪৩২]



হাট হাজারী মাদ্রাসার শাইখুল হাদিস আললামা হফেজ আবুল হাসান বলেছেন, চাঁদের উদয় স্থলের বিভিন্নতা ইমাম আবু হানিফা (রহ)-এর নিকট গ্রহণীয় নয়। শামী কিতাবে এমনটাই আছে। এটাই আমাদের (হানাফিদের) রায়। মালেকি ও হাম্বলী মাযহাবের মতও এটা। অতএব যে কোন স্থানে চাঁদ দেখা প্রমানিত হলে সর্বই আমল অত্যাবশ্যকীয় হবে। [তানযীমুল আশতাত, ১ম খন্ড, পৃঃ-৪১]



উপ মহাদেশের আর একজন প্রখ্যাত আলেম আশরাফ আলী থানভী (রহ) বলেছেন, ‘‘এক শহরের চাদ দেখা অন্য সকল শহরবাসীদের জন্য গ্রহণীয় হবে। ঐ শহরগুলোর সাথে চাঁদ দেখা শহরের দুরত্ব যতই হোকনা কেন। এমকি সর্ব পশ্চিমের চাঁদ দেখার সংবাদ সর্ব পূর্বের মানুষের নিকট গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে পৌঁছলে ঐ দিনই তাদের উপর রোযা রাখা ফরজ হবে। [বেহেস্তি জেওর, ১১তম খন্ড, পৃঃ-৫১০]



এভাবে উপমহাদেশের আরো প্রায় শ’খানে প্রখ্যাত আলেম উলামা উপরোক্ত বিষয়ে একই ভাবে মতামত প্রদান করেছেন। লেখার কলেবর সংক্ষিপ্ত রাখার জন্য তা উলেলখ করা হলো না।



বিপক্ষে কিছু যুক্তি ও তার উত্তরঃ



১. হযরত শিবিবর আহমাদ উসমানী (রহ) ফতহুল মুলহিম কিতাবে নিজের অভিমত প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছেন যে, আরবী মাস ২৯ দিন বা ৩০ দিন হয়ে থাকে। কোন দেশে ২৮ রমযানের দিন যদি খবর আসে যে অন্য দেশে চাঁদ দেখা গিয়েছে, সে অনুযায়ী রোযা ভাংগ করলে তো তাদের রমযান মাস ২৮ দিন হয়ে যাবে। আবার ৩০ দিন রোযা রাখার পরেও যদি কোথাও চাঁদ দেখার খবর না আসে, তাহলে তো তাদের ৩১ টি রোযা রাখতে হবে। তাই যার যার দেশের চাঁদ দেখার উপর ভিত্তি করে রোযা পালন বা মাস গণনা করাই শ্রেয়।



এর সমাধান হচ্ছে, মাস গণনা শুরু করা এবং শেষ করা একই নিয়মে হতে হবে। অর্থাৎ চাঁদ দেখার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই মাস শুরু করতে হবে এবং চাঁদ দেখার সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে মাস শেষ করতে হবে। মাস শুরু করা এবং শেষ করার ক্ষেত্রে একই নিয়ম পালন করলে আর এরকম সমস্যা হবে না। আর যথাযথ ভাবে মাস শুরু করার ৩০ দিন পরেও চাঁদ দেখা না গেলে রোযা ভংগ করা যায়। অতএব উপরোক্ত অভিমত শরিয়তের বিচারে কিংবা যুক্তির বিচারে গ্রহণযোগ্য নয়।



২. এক শ্রেণীর মানুষ বলেন যে একই সময় রোযার কথা বলেন তাহলে একই সময় নামাযের কথা বলেন না কেন?

মূলতঃ আমরা একই দিনে রোযা রাখার কথা বলি, একই সময় নয়। একই দিনে রোযা রাখার অর্থ হচ্ছে চাঁদ দেখার খবর নিশ্চিত হওয়ার পরে আমদের যখন সেহরীর সময় হবে আমরা তখন সেহরী খাব এবং অন্য দেশে যদি তার এক ঘন্টা পরে সেহরীর সময় হয় তাহলে তারা তাদের সময় অনুযায়ী সেহরী খাবে। সে আর নতুন করে চাঁদ দেখার জন্য এক দিন বা দুই দিন বসে থাকবে না। অর্থাৎ চাঁদ দেখার পর যার যখন সময় শুরু হবে, সে তখন রোযা রাখবে। নামাযের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। যেমন আমদের যখন ফজরের নামায শুরু হয় আমরা তখন নামায আদায় করি। পাকিস্থানে তার এক ঘন্টা পর ফজরের ওয়াক্ত হয়, তারা তখন নামায আদায় করে।



ইসলামে জাতীয়তাবাদ হারামঃ



কেউ কেউ যুক্তি দেখাতে গিয়ে বলেন যে আমাদের দেশে তো চাঁদ দেখা যায় নাই। এ কথা রাসুলুললাহ (সাঃ)-এর উপরোক্ত রোযা রাখার ঘটনার আলোকে টিকে না। মূলতঃ জাতীয়তাবদী চেতনা থেকে এ কথা বলা হয়ে থাকে। ইসলাম এ জাতীয়তাবাদ স্বীকার করে না। জাতীয়তাবাদ দ্বারা মুসলিম উম্মাহকে বিভক্ত করে ফেলা হয়েছে। ইসলাম ‘‘অখন্ড মুসলিম উম্মাহ’’র চেতনায় বিশ্বাস করে এবং জাতীয়তাবাদকে হারাম বিবেচনা করে। রাসুলুলস্নাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি জাতীয়তাবাদের (আসাবিয়্যার) প্রতি আহবান করে সে আমাদের অমত্মভূক্ত নয়।’’



অর্থাৎ জাতীয়তাবাদ দ্বারা মুসলমানদের কোন ভূখন্ড আলাদা করা যাবে না। তেমনি কোথাও চাঁদ দেখা যায, সে আকাশ সমগ্র পৃথিবীর আকাশ। তা কোন জাতীয়তাবাদী সীমানার দ্বারা ভাগ করা যায় না। আর মুসলমানরা হচ্ছে সমগ্র পৃথিবীতে একটি মাত্র জাতী বা একটি মাত্র উম্মাহ তাও কোন সীমানা দ্বারা বিভাজ্য নয়। ফলে পৃথিবীর আকাশে কোন চাঁদ দেখা গেলে সে চাঁদ সমগ্র মুসলিম উম্মাহর চাঁদ। আর সে চাঁদ দেখার সংবাদ কোন মুসলমান কর্তৃক নিশ্চিত হলেই তা সকলে জন্যই ‘‘দেখা গেছে’’ বলে বিবেচ্য হবে।



পাকিস্তান আমলের রোযা বনাম বাংলাদেশ আমলের রোযাঃ



পাকিস্তান যখন একত্রে ছিল, তখন পশ্চিম পাকিসত্মানে চাঁদ দেখা গেলে আমাদের দেশেও রোযা রাখা এবং ঈদ উজ্জাপন করা হতো। এখন আলাদা দিনে রোযা এবং ঈদ পালন করা হচ্ছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, দুটি দেশ আলাদা হয়ে যাওয়ার কারণে ইবাদতের সময় বা তারিখ কি আলাদা হয়ে যেতে পারে? তাহলে পাকিস্তান আমলে আমরা যে তারিখে রোযা রাখতাম সে তারিখ কি সঠিক ছিল না? তখনকার রোযা রাখার তারিখ যদি সঠিক হয়ে থাকে, তাহলে এখনকার তারিখ সাঠক নয়। আর এখনকার তারিখ যদি সঠিক হয়ে থাকে, তাহলে তখনকার তারিখ সঠিক ছিল না।

মূলতঃ অনৈসলামী শাসক কর্তৃক মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্য তৈরি করে রাখা হয়েছে। চাঁদ দেখা কিংবা মাস গনণার ক্ষেত্রে মানুষের তৈরি সীমানা কোন বিবেচ্য বিষয় হতে পারে না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে খিলাফতের সময়ও এ ভূখন্ডগুলো একত্রে ছিল। তখনো যতদুর সংবাদ পৌঁছানো যেত ততদুর একত্রে রোযা ও ঈদ উজ্জাপন করা হতো।



ইবাদত পালন হবে কার কথার উপর ভিত্তি করে?



মুসলমান ভূখন্ডে কোন অনৈসলামীক দালাল তাবেদার শাসক কর্তৃক রোযা রাখা এবং ঈদ উজ্জাপন করার ক্ষেত্রে রাসুলুলস্নাহ (সাঃ) হাদীসের বিপক্ষে কোন রায় প্রদান করলে বা অবস্থান গ্রহণ করলে তা মুসলমানদের অবশ্যই উপেক্ষা করতে হবে। আমরা রোযা এবং ঈদ পালন করব কোন অসৈলামী শাসকের কথার উপর ভিত্তি করে নয় কিংবা কোন অনৈসলামী শাসকের চাঁদ দেখা কমিটির উপর ভিত্তি করে নয়। কিংবা এমন কোন মুফতীদের কথার উপর ভিত্তি করেও নয়, যারা আলস্নাহ সুবানাহু তায়ালার সন্তুষ্টির চেয়ে অনৈসলামী শাসকদের সন্তুষ্টির জন্যই বেশি উগ্রীব থাকে। আমরা অবশ্যই রোযা পালন করব এবং রোযা ভংগ করব আলস্নাহ তায়ালার আয়াত এবং রাসুলস্নাহ (সাঃ) এ হাদীসের উপর ভিত্তি করে।



ঈদের দিন রোযা রাখা হারামঃ



চাঁদ দেখার সংবাদ পাওয়ার পরও দেরীতে রোযা শুরম্ন করলে প্রথম দিকের ফরজ রোযাগুলো ছুটে যাবে এবং শেষের দিকে যখন আমরা রোযা রাখব তখন রমযান মাস পার হয়ে যাবে। প্রতি বছর আমরা এভাবে প্রথম দিকের ফরজ রোযাগুলো রাখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি এবং দেরীতে রোযা শুরম্ন করার কারণে ঈদের দিন রোযা রাখতে হচ্ছে যা ষ্পষ্টই হারাম। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নীত রাসুলুললাহ (সাঃ) ঈদেও দিনে রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন। (বুখারী ও মুসলিম)। প্রতি বছর আমাদের জীবনে এ রকম কাজটি হয়তো আমাদের অজান্তেই এভাবে ঘটে যাচ্ছে। ইবাদাতের বিষয় কারো খেয়াল খুশির উপর ছেড়ে দেয়া যায় না। ঈদের দিনে রোযা রাখা হারাম, এ হারাম সংগঠিত হলে, আলস্নাহর কাছে জবাবদিহী করার জন্য তখন চাঁদ দেখা কমিটি খুজে পাওয়া যাবে না।



কি হবে আমাদের শবে কদরের রাত্রিরঃ



রোযা রাখার তারিখ যদি সঠিক না হয় তাহলে বেজোড় রাত্রি গণনাও সঠিক হবে না। শবে কদরের রাত্রি নির্ণয়ও সঠিক হবে না। ফলে এভাবে আমরা শবে কদরের রাত্রির ইবাদাত ও ফজিলত থেকেও কি বঞ্চিত হচ্ছি? তাই এ বিষয়গুলো গভীর ভাবে জেনে সঠিক সিন্ধান্তে অটল থাকা উচিত। তাই আসুন আমরা ভাল ভাবে জানি এবং সঠিক সিন্ধান্তে অটল থাকি।



বাংলাদেশের জন্য কি আলাদা জান্নাত জাহান্নাম আছে?



রাসুলুললাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘‘যখন পবিত্র রমযান মাস এসে যায় তখন আসমান তথা জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং এবং শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়’’- [বোখারী শরিফ পৃ-২৫৫]। এখন প্রত্যেক দেশের জন্য যদি আলাদা-আলাদা তারিখে রমযান মাস শুরু হয়, তাহলে যে দেশে যখন রমযান মাস আসবে, আললাহ তায়ালা তখন সে দেশের জান্নাতের দরজা খুলে দিবেন এবং জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দিবেন। তাহলে প্রত্যেক দেশের জন্য আলাদা-আলাদা জান্নাত জাহান্নাম থাকতে হবে। বাংলাদেশে যারা আলাদা তারিখে রমযান মাস শুরু করেন, তাদের কাছে জিজ্ঞাস্য, বাংলাদেশের জন্য কি আলাদা জান্নাত জাহান্নাম আছে? নইলে বাংলাদেশের পহেলা রমযানের দিন আললাহ তায়ালা কোন জান্নাতের দরজা খুলবেন, আর কোন জাহান্নামের দরজা বন্ধ করবেন?



বাংলাদেশে কি ২/৩ দিন পরে কিয়ামত হবে?



একটু চিমত্মা করে দেখুন, আমরা যেদিন শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করি, মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলোতও একই দিন জুমার নামায আদায় করে। অথচ রোযা রাখার ক্ষেত্রে দুই/তিন দিন তারতম্য করা হচ্ছে। আমরা জানি যে ১০ মহরম পৃথিবী ধ্বংশ হয়ে যাবে। তাহলে সৌদি আরবে যেদিন ১০ মহরম হবে আমাদের দেশে কি তার ২/৩ দিন পরে ১০ মহররম হবে? তাহলে সৌদি আরবে কিয়ামত হওয়ার পর, আমরা পত্র-পত্রিকায় ও টেলিভিশনের মাধ্যমে জানতে পারব যে সৌদি আরবে কিয়ামত হয়ে গেছে এবং আমাদের দেশে তখনো ১০ মহরম তারিখ অসেনি, তাই আমরা কি আরো ২/৩ দিন ধরে কিয়ামতের প্রস্ত্ততি নেয়ার সময় পাব? ব্যাপারটি মোটেও এরকম নয়। একই দিন কিয়ামত হবে, আর ১০ই মহরম ও একই দিন হবে। তাই পহেলা রমযান ও একই দিন।



পূর্ব ও পশ্চিম এক হয়েছে, আমরা থাকি চাঁদ দেখা কমিটির অপেক্ষায়ঃ



পৃথিবীর কোথাও চাঁদ দেখা গেলে তার সাথে মিল রেখে আমাদের পূর্বে ইন্দোনেশিয়াতে রোযা পালন করা হয়। আর আমাদের পশ্চিম দিকে মধ্যপ্রাচ্যেও রোযা শুরু হয়। মাঝখান দিয়ে আমরা বসে থাকি ‘‘আমাদের সরকারী চাদ দেখা কমিটি কি বলে তার অপেক্ষায়’’। মূলত মুসলিম দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেখানেই পশ্চিমাদের অনুগত দালালরা বসে আছে, সে সব দেশেই উম্মাহর ঐক্যের ব্যাপারে ও সঠিক ভাবে ইসলাম পালনে তত বেশি অন্তরায়। এ সকল অন্তরায়গুলো মুছে ফেলে সঠিক ভাবে ইসলাম পালনে এগিয়ে আসতে হবে।।



আসুন আমরা হকের পক্ষ্যে কথা বলিঃ



আলেম সমাজ ও আম জনতাকে আহবান জানাচ্ছি, আসুন আমরা সকল অসত্যের জাল ছিন্ন করে বেড়িয়ে আসি. সঠিক দ্বিনী চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে এসকল সমস্যার সমাধান করি। আজকের মুসলমানদের ফরজ দায়িত্ব হচ্ছে, মানুষের তৈরি সীমানা উপরে ফেলে মরোক্ক থেকে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত ইসলামী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার, যারা জীবনের সকল ক্ষেত্রে সঠিক ভাবে ইসলাম বাস্তবায়ন করবে এবং ইসলাম অনুযায়ী সমাধান প্রদান করবে, সকল মুসলমানকে একই তারিখে রোযা রাখা এবং ঈদ উজ্জাপন করার ঘোষনা প্রদান করবে এবং সকল উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ করবে। মূলতঃ একমাত্র ইসলামী খিলাফত রাষ্ট্রের পক্ষেই তা সম্ভব। আমিন।

মন্তব্য ৩০ টি রেটিং +৫/-০

মন্তব্য (৩০) মন্তব্য লিখুন

১| ৩১ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ১০:২০

বিডি আইডল বলেছেন: এই বিষয়টা নিয়ে এত সহজে মতৈক্য হবে না....সারা বিশ্বের সব দেশের মুসলিমরাই দুটোই ফলো করে....সৌদিপন্হী এবং উপমহাদেশ পন্হীদের এই বিভেদ থাকবেই

২| ৩১ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ১০:২১

মোঃ আরিফ রায়হান মাহি বলেছেন: অসাধারন লাগল আপনার লেখাটি, বিতর্কের অবসান হোক। আমি গত বছত একটি লেখা দিয়েছিলাম, সেটাও একটু কপি পেস্ট করছি। পোস্টের কমেন্টগুলোও দেখতে পারেন।

আর ভাল কথা, আগামীকাল থেকে গোটা মুসলিম বিশ্বে মাহে রমাদান শুরু হচ্ছে, সে হিসেব অনুযায়ী আজ ভোর রাতে সেহরী খেতে হবে।


----------------
আহলান-সাহলান-মাহে রামাদান, প্রিয় ব্লগারবৃন্দ আসসালামুআলাইকুম। রমাদানুল মুবারাক। সবাই ভাবছেন রমজান শুরু না হতেই এত ঘটা করে শুভেচ্ছা কেন জানাচ্ছি? হ্যাঁ, আপনাদেরকে আজ কিছু বিষয়ে অবগত করার জন্যেই এই লিখা।
গত দু’তিন যাবত সমগ্র বাংলাদেশে একটি প্রশ্ন সবার মূখে “রোজ়া কবে থেকে শুরু?” নিদৃষ্ট সদুত্তর কারো জানা নাই ।তাই কেউ বলছে ১২ তারিখ, কেউ বলছে ১৩। কিন্তু আসলেই কি কোন উত্তর নাই?রমজান মাসের কি কোন নিদৃষ্টতা নাই? বিধান কি বলে? এ প্রশ্নগুলির জবাব খুজেছি আমি এবং খুঁজতে গিয়ে বিস্ময়ের সাথে কিছু তথ্য-যুক্তি-উপাত্ত আবিষ্কার করলাম,যা আপনাদের সাথে শেয়ার না করে পারলাম না।
মিডিয়ার কল্যাণে আপনারা সবাই জানেন যে, বাংলাদেশের এক শ্রেণীর লোক জাতীয় ঈদ-রোযার এক-দু দিন আগ থেকে রোযা রাখে ও সে অনুযায়ী ঈদ পালন করে।মূলত তাদের এই ভিন্নধর্মী পালনের খোঁজ করতে গিয়েই বিষাল এক সত্যের মুখোমুখি হই।
ঈদ-চাঁদ-রোযা এ শব্দগুলো আমাদের সামনে আসলেই একটি সহীহ হাদীসের কথা সবার-ই মনে পড়ে,আর সেটি হল “তোমরা চাঁদ দেখে রোযা রাখ এবং চাঁদ দেখে রোযা ভাঙ্গো”। একেবারে সহীহ হাদিস এবং এর উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ সকল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়,কিন্তু হাদিসটি একটু গভীর মনযোগ দিয়ে লক্ষ্য করুন, প্রথম শব্দটি “তোমরা”,এই “তোমরা” দ্বারা রাসূলে করীম (সাঃ) এর সকল উম্মতকে বুঝানো হয়েছে।এখানে কোন জাতিগত বা স্থানগত পার্থক্যের উল্লেখ নেই এবং আমরা সবাই জানি রাসুলে করীম (সাঃ) এর সকল কথা সমগ্র মুস্লিম উম্মাহের জন্যে একিভাবে প্রযোজ্য।তারপরেও অনেকে বলবেন,চাঁদ তো একেক এলাকায় একেক দিনে উদিত হয়।তাহলে জেনে রাখুন আল্লাহ-পাক পবিত্র কোরান শরীফের সূরাহ আল-বক্বারাহ এর ১৮৯ নঃ আয়াতে ঘোষনা দিয়েছেন “তাহার আপনাকে(নবী করীম সঃ) জিজ্ঞাসা করে চন্দ্রের(প্রাকৃতিক) অবস্থা সম্পর্কে,আপনি বলিয়া দিন এই চন্দ্র সময় নির্ধারক যন্ত্র বিশেষ,মানুষের(বিভিন্ন বিষয়ের)জন্য এবং হজ্বের জন্য”। লক্ষ্য করুন এখানে আল্লাহ-পাক সমগ্র মানিব জাতির জন্য এক ও একক দিন পনজির কথা বলেছেন। এটিই লুনার ক্যালেন্ডার। আল্লাহ-পাক যেটিকে সার্বজনীন করেছেন সেটাই আমরা এত দিন আঞ্চলিকভাবে ব্যবহার করছি।এখন কথা হচ্ছে আঞ্চলিকভাবে ব্যবহার করলে ক্ষতি কি?কেউ কি জানেন ঈদ-রোযার মূল উদ্দেশ্য কি? এগুলোর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মুস্লিম বিশ্বে ঐক্য সৃষ্টি করা এবং ভাতৃত্ববোধ আরো প্রগাঢ় করা।লুনার ক্যালেন্ডারকে আঞ্চলিকভাবে তথা নিজের মঙ্গড়াভাবে ব্যবহার করলে এর উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়।
এবার আসুন দেখি বাংলাদেশে কিভাবে এই দিন-তারিখ নির্ধারিত হয়? বাংলাদেশে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি “জাতীয় চাঁদ দেখা কমটি” রয়েছে।এরা প্রতিটি ধর্মীয় দিবসের কয়েকদিন আগে নিদৃষ্ট দিনের ঘোষনা দেয়।কিভাবে তারা দিন ঠিক করে-জানেন?ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একটি এয়ার-কন্ডিশন্ড রুমে সবাই বিকেলে বসেন যেখান থেকে রাতের আকাশের চাঁদ তো থাক দূরের কথা আবহাওয়া ভবনের উপরের গ্লোবটিই দেখা যায় না।সবাই এ রুমেই বসে টিভি-রেডিওতে একটি ঘোষণা দেন “বাংলাদেশের আকাশে কোথাও চাঁদ দেখা গেলে ………… ……… নাম্বারে জানাতে অনুরোধ করা হল” তারপর কোন কোন বছর চট্টগ্রাম,নোয়াখালি প্রভৃতি জায়গা থেকে খবর আসে নতুবা খবর না আসলে মাস/দিন ঘোষনা করা হয় কোন প্রকার পর্যালোচনাই ছাড়াই। বেশিরভাগ বছরগুলোতেই আকাশ মেঘ ঢাকা থাকে বলে উনারা চাঁদ দেখতে পান না। যেবার দেখা যায় সেবার খবর আসে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে,এখন কথা হচ্ছে ঢাকায় বসে আপনি যিদি চট্টগ্রামে দেখা চাঁদের খবর শুনে রোযা রাখতে পারেন তাহলে সৌদি-আরবে(*) দেখা চাঁদের খবর শুনে রোযা রাখতে সমস্যা কোথায়? এবার নিশয়ই চিতকার দিয়ে বলে উঠলেন “আরে সোউদি-আরবের সাথে বাংলাদেশের সময়ের পার্থক্য অনেক”। আমি বলি কত? জানেন? মাত্র তিন ঘন্টা পৃথিবীতে দেশভেদে সর্বোচ্চ সময়ের পার্থক্য মাত্র সাড়ে বার ঘন্টা যার ফলে একদিনের বা বারের পার্থক্য হওয়ার কোথাও সম্ভাবনা নেই এবং এ কারনেই অন্যান্য ধর্মালম্বীরা তাদের সকল ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান একই দিন যেমন- ঈস্টার সান্ডে,বড়দিন ইত্যাদি বিশ্বব্যাপী পালন করতে পারে।আর এক্তু জ্ঞানী হয়ে লক্ষ্য করুন, চাঁদ পৃথিবীর একটি উপগ্রহ এবং পৃথিবীকে কেন্দ্র করে সৃষ্টির পর থেকে আদ্যবধি নিদ্রিষ্ট অক্ষ রেখায় ঘুরে।ফলে ঘুরতে ঘুরতে নতুন চাঁদ যদি সৌদি-আরবে প্রথম দেখা যায় তাহলে তার অল্প কিছুদূর ঘুরলেই বাংলাদেশে দেখা জাওয়ার কথা।এবার পাতাল থেকে চিন্তা করুন, কোন দুজন মানুষ একই গোলীয় সমতলে ভিন্ন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে-ধরুন একজন বাংলাদেশে এবং আর একজন সৌদি-আরবে। এখন সৌদি আরবে দাঁড়ানো লোকটি চাঁদ দেখল নিদৃষ্ট কৌণিক দূরত্বে,সে একই চাঁদটি আর এক বা দুই ডিগ্রী বাড়ালেই তো বাংলাদেশের মানুষটিএ চাঁদ দেখতে পাওয়ার কথা।তাহলে কথা হচ্ছে আমরা কেন দেখি না,কারন বেশিরভাগ সময়ই আমাদের দেশে ঐ চাঁদটি ঐ দিনই হাল্কাভাবে অতি অল্প সময়ের জন্য গোধূলিলগ্নে দেখা যায়।কিন্তু মেঘ-ঘনত্বের কারনে এবং সময়-স্বল্পতা এবং দিবালোকের কারনে ঐ চাঁদটি খুব বেশি সুস্পষ্টভাবে দেখা যায় না যা এক-দুই দিন পর সুস্পষ্ট হয় এবং এটি দেখেই হেলাল কমিটি ঘোষনা দেয়(লক্ষ্য করবেন প্রতিবার ঈদের চাঁদটিকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মোটা দেখা যায়)।খুব সহজেই বলি যে পদ্ধতিতে হেলাল কমিটি দিন ঘোষনা করে সে পদ্ধতিটী খুবই ঠিক কিন্তু নিয়মে ভুল।এই একই পদ্ধতিতে বিশ্বব্যাপী খোঁজ নিয়ে(বিজ্ঞানের কল্যানে এটা এখন এক সেকেন্ডের বিষয়) চাঁদের ঘোষনা দেয়া বেশি যুক্তি-যুক্ত। এবং এভাবে ঘোষণা দিলে বিশ্বের সাথে ভাতৃত্ববোধ গড়ে উঠা সম্ভব এবং তাতেই এই ধর্মীয় চর্চাগুলোর প্রকৃত উদ্দেশ্য সাধন হবে।লক্ষ্য করুন বিষয়টি একই সময়ে পালনের জন্যে না বরং একই দিনে পালনের জন্যে। অনেকে গোঁড়া এবং মুর্খের মত এত কিছুর পরেও সময়ের পার্থক্য,দেশ-সীমা ইত্যাদি খোঁড়া যুক্তি নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন,তাদের জন্য কিছু প্রশ্ন- “সারা বিশ্বে জুম্মার নামায কবে হয়? কখন?” “পাকিস্থান একসাথে থাকার সময় তো একই দিনে সব হত, দেশ ভাগ হওয়াতে চাঁদ এবং আকাশ-সীমাও কি ভাগ হয়ে গেল নাকি?” “সৌদি আরবে কেউ ঈদ করে এসে বাংলাদেশে দেখল এখনও দুই রোযা বাকি,উনি তখন কি করবেন?” এসব প্রশ্নের উত্তর আপনারাই দেন। আরো গভীরভাবে এবার তত্ত্ব দেখি। ঈদুল-আধা সম্পর্কে সবাই জানেন যে হজ্ব তথা আরাফার পরের দিন মীনায় হাজীদের সাথে একাত্ম হয়ে সারা বিশ্বের মানুসষ পশু কুরবানি দেয়,কিন্তু এই পরের দিনটা কোন দিন? বাংলাদেশে তো পরের দিন নয় মাঝে মাঝে পরের তিন দিন পরেও ঈদ হওয়ার রেকর্ড আছে। প্রকৃত পক্ষে এটি ঐ হজ্বের পরের দিনই হবে।এখন কথা হচ্ছে এই বিষয়টা কেন এত গুরুত্বপূর্ন? এই বিষয়টা মুসলঅমানদের জন্য খুব খুব বেশি গুরুত্বপূর্ন, কারন যদি ভুল নিয়মে রোযা শুরু হয় তাহলে-
১।গোটা চন্দ্র মাস গননাতেই ভুল হয়
২।শবে-বরাত।শবে-ক্বদর,শবে-মিরাজ ইত্যাদি মহিমান্বিত রজনির ভুল নিদৃষ্টতা হয়
৩।ঈদের দিন রোযা রাখতে হয়,যা সম্পুর্ন হারাম
৪।কুরবানির ঈদে তাকবিরে-তাশরিক দেরিতে পড়া শুরু হয়
আর এসবের গুরুত্ব সম্পর্কে নিশ্চয়ই নতুন কিছু বলার নেই।এত যুক্তিপ্রমানের পরেও অনেক মুসলমান এক কথায় বলবে “এসবের কোন ভিত্তি নেই”।তাদের জন্য বলি, হানাফি মাযহাবে স্পষ্ট বলা আছে “ চাঁদ উদয়ের খবর দুজন বিশ্বস্ত লোক দ্বারা যতদূর প্রচারিত হবে ততদূর পর্যন্ত পরের দিন ঈদ-রোযা ফরয”।এটির পরেও যদি কেউ না মানেন তার জন্য এবার আসল কথা বলি-১৯৯১ সালে ও।আই।সি তে বিশ্বের বেশিরভাগ মুস্লিম দেশের ধর্মীয় আলেমদের উপস্থিতিতে “সারা বিশ্বে একই দিনে ঈদ-রোযা” পালনের জন্য ইজমাহ(*) হয়।আর তো কোন সন্দেহ থাকার কথা না।এ বিষয়টা নিয়ে আমেরিকান মুসলমান্দের মধ্যেও বিতর্ক এবং দু-ভাগ ছিল চার বছর আগ পর্যন্ত কিন্তু এখন তারাও একই দিনে(সারা বিশ্বের সাথে) ঈদ-রোযা পালন করে।তাছাড়া বিশ্বের ৯৬%(উল্লেখযোগ্য দেশগুলোর মধ্যে ইরাক,ইরান,পাকিস্থান,ভারত মাঝে মাঝে এই ৯৬% থেকে বাদ যায়) মুস্লিম দেশ একই দিনে সকল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে।আপ্নার জ্ঞান এবং মেধা কম হলে বুঝে নিন যে নিশয়ই ইসলামের ঐতিহাসিক প্রসিদ্ধ এবং নবী-রাসূলদের দেশে বাংলাদেশের আলেমদের (যাদের বেশিরভাগই ওহাবী *) চেয়ে অনেক বেশি জ্ঞানী-মুমিন-সুন্নী আলেম আছেন।বাংলাদেশেও কিছু সুন্নী প্রখ্যাত আলেম তথা ড. আব্দুল্লাহ-আল-মা’রুফ,মোঃ হারুন-অর-রশিদ, ড.এনামুল হক,ড. শমশের আলি এবং আরো বহু আলেম এর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন এবং এর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন। তারা সবাই এক সাথে নিশ্চয়ই এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভুল করছেন না।
যে কথাটি বলার জন্য এত কিছু বললাম তা হল আজ দিবাগত রাত হতে মাহে-রমজান শুরু হচ্ছে।গোটা পৃথিবীর বেশিরভাগ মুসলিম আজ রাতে সাহরি খাবেন।রহমতের একদিন কাল হতে গননা করা হবে।আপ্নার বিচার বুদ্ধি দিয়ে এখনি সঠিক সিদ্ধান্তটি নিয়ে নিন।
ধন্যবাদ।
আসসালামু-আলাইকুম।
[
**সৌদি-আরবঃ
বার বার সৌদি আরবের কথা বলেছি কারন, পৃথিবীর নাভি বা কেন্দ্র হচ্ছে সৌদি-আরব। বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমানিত বেশিরভাগ সময়েই প্রথম চাঁদ ওখানেই দেখা যাওয়ার কথা তবে ভিন্ন দেশেও দেখা যেতে পারে।
**ইজমাহঃ
ইসলামের আহকাম সংক্রান্ত চারটি ধাপ বিদ্যমান।যথাঃ ১।কুরাআন ২.হাদীস ৩.ইজমাহ ৪.কিয়াস।কুরআন-হাদীস দ্বারা কোন বিষয়ে সংশুয়ের সৃষ্টি হলে তা ইজমাহ দ্বারা নিষ্পত্তি করা হয় এবং ইজমাহ এর সিদ্ধান্ত সকল মুসল্মানের জন্য পালন করা ফরয।
**ওহাবী:
আরবের নজদ প্রদেশের আব্দুল ওহাব নজদী নামক এক ব্যক্তি নতুন করে ইসলাম তৈরি করেন এবং ইসলাম থেকে শবে-বরাত,শবে-মিরাজ,মিলাদ প্রভৃতি চর্চাসহ নবী করীম (সঃ) এর মর্জাদা হানি করার চেস্টা করে।বাংলাদেশে জামাত এই দলের ইসলাম প্রচার করে এবং এরা ওহাবীদের মদদপুষ্ট।

৩| ৩১ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ১০:২২

িরেজায়ান আহেমদ তুিহন বলেছেন: Eki saosoker odhin vukhonder j kono sthan theke chad dekha gele oi sasoker odhin pura elakai roja suru hobe.....pokkhantore vinno sasoker khtre ta projojjo noi.....orthat prithibir ek prante chad dekha gele onno sasoker odhin onno prante roja foroz noi...

৪| ৩১ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ১০:২৪

মোঃ আরিফ রায়হান মাহি বলেছেন: বিডি আইডলকে বলছি, দয়া করে চুল তথ্য দিবেন না, সারা বিশ্বের ৯০ ভাগ মুসলমান ইতিমধ্যে মতৈক্যে পোঁছে গেছে।
১৯৯১ সালের ও আই সি এর ১৮ নম্বর রেজুলেশনের মাধ্যমে ইজমাহ হয়েছে।

আমাদের উপমহাদেশে ভারত,বাংলাদেশ আর পাকিস্তান সেটা মানে না, তাও এ তিনটি দেশেও এক দিনের ফারাকে রমজান শুরু হতে দেখা যায়।

বেশ কয়েক বছর আগে, আমেরিকাতে এই বিষয়টি নিয়ে মারামারি পর্যন্ত হত, কিন্তু তার পরে তারাও একই দিনের বিষয়ে মতৈক্যে পোঁছেছে।

৫| ৩১ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ১০:৩৬

মোঃ আরিফ রায়হান মাহি বলেছেন: লেখক ভাইকে বলছি, কোথা থেকে কপি করলেন তা বললে বেশি ভাল হত।

৩১ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ১০:৫৬

বিবেকিন্দ্রীয়লোচন বলেছেন: ইমেইলে একটা পিডিএফ ফাইল থেকে। উৎস জানা নাই।

৬| ৩১ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ১০:৩৯

রমিত বলেছেন: ঈদ-রমজান নানা দেশে নানা ভাবে হচ্ছে। রাশিয়ার তাতাররা সবসময়ই ত্রিশ রোযা করে। এই বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত।
আপনি অনেক খেটেখুটে লিখছেন, আপনাকে ধন্যবাদ।

৭| ৩১ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ১০:৪১

বিডি আইডল বলেছেন: আপনে কোন দেশে থাকেন মাহি ভাই??

৮| ৩১ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ১০:৪৯

মোঃ আরিফ রায়হান মাহি বলেছেন: আমি বাংলাদেশে থাকি।

আপনার "সৌদিপন্থী" শব্দটির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

আপনি কি পুরো পোস্টটি পড়েছেন?

৯| ৩১ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ১০:৫৪

বিডি আইডল বলেছেন: ভাইজান আমি পোষ্ট পড়েছি এবং ৪ বছরের উপর কানাডাতে আছি....এই দুই পন্হীর সমস্যা প্রত্যক্ষ দেখেছি এবং দেখছি বলেই বলেছি এর কোন সমাধান নেই...এই টরেন্টো শহর সহ সব শহরেই এই দুইপন্হীদের আলাদা মসজিদ আছে

১০| ৩১ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ১১:০০

মোঃ আরিফ রায়হান মাহি বলেছেন: আহা, আপনি বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকায় আছেন, কানাডার বিষয়টিও জানা আছে। তবে লক্ষ্য করে দেখবেন, বিষয়টির সুরাহা বহু আগেই হয়েছে, গোঁড়ারা আলাদ হয়ে গিয়েছে।

সৌদি পন্থী বলে কিছু নেই, সেটা একটা মিসকন্সেপ্ট।

১১| ৩১ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ১১:১৮

এস এইচ খান বলেছেন:

সুন্দর লিখেছেন। ধন্যবাদ জানাচ্ছি আপনার এ পরিশ্রমের জন্য।


মোবারক হো মাহে রামাদান। মনে হয় আমাদের আজ রাতেই সেহরী ক্ষেতে হবে।

৩১ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ১১:৫৮

বিবেকিন্দ্রীয়লোচন বলেছেন: জি আজ রাতেই সেহেরী খেতে হবে

১২| ৩১ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ১১:২১

বিডি আইডল বলেছেন: আমি বাংলাদেশ অধুষিত এলাকার কথা বলছি না...নীচের লিংকের মসজিদগুলো হিলাল কমিটির...বাকী সব মসজিদ ইসনা ফলো করে

http://www.hilalcommittee.com/members.html

১৩| ৩১ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ১১:৪৫

Abdullah Arif Muslim বলেছেন: একেবারে ১০০% সত্য কথা বলছেন। বিভ্রান্তি দূর হওয়া প্রয়োজন। আর আমি এ ব্যাপারটা জানতাম তবে দলিল ছিল না তাই মানতে একটু দ্বিধান্তিত ছিলাম। যাক আজ একেবারে ভালোমতো জানলাম। আল্লাহ আপনাকে এবং আমাদের সকল মুসলিম ভাইদের জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন। আমীন।

জাজাকাল্লাহ।

৩১ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ১১:৫৮

বিবেকিন্দ্রীয়লোচন বলেছেন: ভাই আজ রাতেই সেহেরী খেতে হবে

১৪| ৩১ শে জুলাই, ২০১১ দুপুর ১২:৪৫

মোঃ আরিফ রায়হান মাহি বলেছেন: ইসনা তো সেভাবে ইউনিফিকেশন নিয়ে কাজ করে না, যারা পালন করে বাহাজ এর পর থেকে নিজের গরজেই পালন করে।

১৫| ০২ রা আগস্ট, ২০১১ বিকাল ৫:৪৭

রিফাত হোসেন বলেছেন: সাহেব আপনার যুক্তি ঠিকাছে কিন্তু ...............

‘‘তোমাদের মধ্যে যে কেউ এ (রমযান) মাস পাবে সে যেন এ মাসে রোযা রাখে [২: ১৮৫]।

এ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদের রোযা পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং রমযান মাসের উপস্থিকে রোযা পালন করার শর্ত হিসেবে উল্লখে করেছেন। এখন দেখা যাক যে, মাসের উপস্থিতি বলতে কি বুঝায়। পৃথিবীর আকাশে কোথাও নতুন চাঁদের অস্থিত্ব প্রামানীত হলেই সারা বিশ্বময় চাঁদের উপস্থিতি প্রমানীত হবে এবং পৃথিবীতে মাস শুরু হবে। আর মাস শুরু হলেই রোযা পালন করতে হবে।

>

>>>>>> সারা বিশ্বের ক্যাপচার করতে আধুনিক প্রযুক্তি লাগবে । আর কোরআন শরীফ যখনই নাজীল হয় তখন নিশ্চিত ভাবে আধুনিক প্রযুক্তি ছিল না । এখনও চাইলে আধুনিক প্রযুক্তিতে সবার কাছে বার্তা পৌছবেনে । কারণ এখনও অনেক জনপদ প্রযুক্তি বাহিরে আছে ।

সুতরাং কুরআনের উক্তিটি জনপদ ভিত্তিক করা হয়েছে ।


তেমনি ভাবে নূহ আ: এর প্লাবন সারা পৃথিবী জুড়ে হয় নাই । হলে অনেক জীব বেচে থাকত না । মানে মানে জোড়ায় জোড়ায় জীব উঠাতে গেলে অসম্ভব বিশাল নৌকা বানাতে হত । আর যতটুকু উঠানো হয়েছে আর যেখানেই বন্যা হয়েছে সেটা জনপদ ভিত্তিক ।

------------
কি হবে আমাদের শবে কদরের রাত্রিরঃ

> আপনার কদর ব্যাপারে ব্যাখ্যা কিছুটা হলেও ভুল । যেহেতু আমরা জানি না কদরের রাত্রি সঠিক কোনটা । সুতরাং এটা নি বাক বিতন্ডা করা না উচিত । যার যার ইচ্ছাতেই ছেড়ে দেওয়া শ্রেয় ।

----------
বাংলাদেশের জন্য কি আলাদা জান্নাত জাহান্নাম আছে?

> প্রশ্নটা অবান্তর । জান্নাত , জাহান্নাম দরকার হলে নতুন করে খুলবে বা খুলবে না । সেটা তো আপনার জানার কথা না । খুলার কথা খুলবে । খাস নিয়তে রোজা রাখলে আপনার কথার মূল্য থাকবে না । খুলতে বাধ্য থাকবে । সেটা আমার মন বলে ।

-----------------------

বাংলাদেশে কি ২/৩ দিন পরে কিয়ামত হবে?

> আপনার ব্যাখ্যাটাও মনগড়া । আল্লাহ আপনাকে হেদায়াত করুক । কেয়ামত কি সেকেন্ডের মধ্যে সংগঠিত হবে ?

অবশ্যই না । এমনও হতে পারে কেয়ামত ধীরে ধীরে সংগঠিত হচ্ছে । অঞ্চল ভিত্তিক । আপনি যেহেতু জানেন না সুতরাং সেটা নিয়ে তর্ক করা উচিত না । যে আমিও জানি না ।


০৩ রা আগস্ট, ২০১১ দুপুর ২:১২

বিবেকিন্দ্রীয়লোচন বলেছেন: "সুতরাং কুরআনের উক্তিটি জনপদ ভিত্তিক করা হয়েছে ।"

-- খুব বেশী দিন আগের কথা নয়। উমাইয়া খেলাফতের সময়ও একই সাথে রোজা রাখা হত। জনপদ ভিত্তিক আর কোন আমল ইসলাম বলে দিয়েছে, জানালে উপকৃত হব। ইসলামের যাবতীয় আমলই ঐক্যের শিক্ষা দেয়। নূহ নবীর প্লাবন কতদূর পর্যন্ত হয়েছিল তার বর্ণনা সবার অনুমান মাত্র। প্রমাণিত সত্য নয়।

"আপনার কদর ব্যাপারে ব্যাখ্যা কিছুটা হলেও ভুল । যেহেতু আমরা জানি না কদরের রাত্রি সঠিক কোনটা । সুতরাং এটা নি বাক বিতন্ডা করা না উচিত । যার যার ইচ্ছাতেই ছেড়ে দেওয়া শ্রেয় । "

-- ভাই আপনি বুঝতেই পারিননি ব্যাপারটি। একদিন পরে যদি আপনি রোজা শুরু করেন তবে যে দিন বেজোর রাত্রি হবে, সেদিন আপনার হিসেবে হবে জোড় রাত্রি। অর্থ্যাৎ, কদরের সম্ভাব্য সকল রাতই আপনি মিস করবেন।

"প্রশ্নটা অবান্তর । জান্নাত , জাহান্নাম দরকার হলে নতুন করে খুলবে বা খুলবে না । সেটা তো আপনার জানার কথা না । খুলার কথা খুলবে । খাস নিয়তে রোজা রাখলে আপনার কথার মূল্য থাকবে না । খুলতে বাধ্য থাকবে । সেটা আমার মন বলে ।"

---দয়া করে আবার পড়ুন।


"আপনার ব্যাখ্যাটাও মনগড়া । আল্লাহ আপনাকে হেদায়াত করুক । কেয়ামত কি সেকেন্ডের মধ্যে সংগঠিত হবে ?

অবশ্যই না । এমনও হতে পারে কেয়ামত ধীরে ধীরে সংগঠিত হচ্ছে । অঞ্চল ভিত্তিক । আপনি যেহেতু জানেন না সুতরাং সেটা নিয়ে তর্ক করা উচিত না । যে আমিও জানি না "

---আবারও আপনি লেখার মিনিং ধরতে পারেননি। কদরের ক্ষেত্রে আমি যে ব্যাখ্যা দিলাম তা ভাল করে পড়ুন।

শুধু 'আমাকে' নয়.........আল্লাহ 'আমাদের' সবাইকে হেদায়াত দান করুন। আমীন।

১৬| ০৩ রা আগস্ট, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:২৫

রিফাত হোসেন বলেছেন: - আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা শবে ক্বদর তালাশ কর। রমযানের শেষ দশকের বে-জোড় রাত্রিতে। (বুখারী)
((রাসুল সাঃ বলেছেন تحروا ليلة القدر في العشر الأواخر من رمضان. رواه البخاري তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাত্রি গুলোতে লাইলাতুল কদর তালাশ কর ))

বেজোড় কথাটা মাত্র একটি হাদীসের । সুতরাং এর গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে ।

তবে কয়েকজন বিশিষ্ট সাহাবি ও পরবর্তীকালের অনেক মনীষী রমজানের ছাব্বিশ তারিখের রাতকে লাইলাতুল কদর হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তারা এ ব্যাপারে আল্লাহর রাসূলের বর্ণিত কিছু আলামত প্রত্যক্ষ করার দাবি করেন। নইলে সাধারণভাবে রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অনুসìধানের তাগিদ এসেছে হাদিস শরিফে।

-------------------

ي الْمَنَامِ فِي السَّبْعِ الْأَوَاخِرِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ‏ ‏صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ‏ ‏أَرَى رُؤْيَاكُمْ قَدْ ‏ ‏تَوَاطَأَتْ ‏ ‏فِي السَّبْعِ الْأَوَاخِرِ فَمَنْ كَانَ ‏ ‏مُتَحَرِّيهَا ‏ ‏فَلْيَتَحَرَّهَا فِي السَّبْعِ الْأَوَاخِرِ- ‏ صحيح بخاري / ‏كِتَاب ‏صَلَاةِ التَّرَاوِيحِ ‏- بَاب ‏ ‏الْتِمَاسِ لَيْلَةِ الْقَدْرِ ‏ ‏فِي السَّبْعِ الْأَوَاخِرِ

সাহাবীদের মধ্যে অনেকেই স্বপ্ন দেখান হল, শবে ক্বদর (রমযানের) শেষ সাত রাতের মধ্যে। নবী স. বললেন " আমি দেখছি, তোমাদের সবার স্বপ্ন একি রকম- শেষ ৭ রাতেই সীমাবদ্ধ। তাই যে তা অনুসন্ধান করে, সে যেন শেষ ৭ রাতে তা খোঁজ করে দেখে।
___________________________________________
হযরত ইবনে উমার থেকে বর্ণিত, মুত্তাফাকুন আলাইহ, বুখারী ও মুসলীম, কিতাব- সালাতুত্তারাবী

------------


‏‏ أَنَّ النَّبِيَّ ‏ ‏صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ‏ ‏قَالَ ‏ ‏الْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي تَاسِعَةٍ تَبْقَى فِي سَابِعَةٍ تَبْقَى فِي خَامِسَةٍ تَبْقَى ‏- صحيح بخاري / ‏كِتَاب ‏صَلَاةِ التَّرَاوِيحِ-‏بَاب ‏ ‏تَحَرِّي لَيْلَةِ الْقَدْرِ ‏ ‏فِي الْوِتْرِ مِنْ الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ ‏ ‏فِيهِ ‏ ‏عَنْ ‏ ‏عُبَادَةَ

নবী স. বলেছেন " তোমরা তালাশ করবে তাকে (ক্বদর এর রাতকে) রমযানের শেষ দশে- মাসের নয়দিন বাকি থাকতে, সাতদিন বাকি থাকতে, পাঁচ দিন বাকি থাকতে।
___________________________
ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, বুখারী, কিতাব সালাতুত্তারাবী


----------------------------------



رَسُولَ اللَّهِ ‏ ‏صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ‏ ‏كَانَ يَعْتَكِفُ فِي الْعَشْرِ الْأَوْسَطِ مِنْ رَمَضَانَ فَاعْتَكَفَ عَامًا حَتَّى إِذَا كَانَ لَيْلَةَ إِحْدَى وَعِشْرِينَ وَهِيَ اللَّيْلَةُ الَّتِي يَخْرُجُ مِنْ صَبِيحَتِهَا مِنْ اعْتِكَافِهِ قَالَ ‏ ‏مَنْ كَانَ اعْتَكَفَ مَعِي فَلْيَعْتَكِفْ الْعَشْرَ الْأَوَاخِرَ وَقَدْ أُرِيتُ هَذِهِ اللَّيْلَةَ ثُمَّ أُنْسِيتُهَا وَقَدْ رَأَيْتُنِي أَسْجُدُ فِي مَاءٍ وَطِينٍ مِنْ صَبِيحَتِهَا فَالْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ وَالْتَمِسُوهَا فِي كُلِّ وِتْرٍ فَمَطَرَتْ السَّمَاءُ تِلْكَ اللَّيْلَةَ وَكَانَ الْمَسْجِدُ عَلَى ‏ ‏عَرِيشٍ ‏ ‏فَوَكَفَ ‏ ‏الْمَسْجِدُ فَبَصُرَتْ عَيْنَايَ رَسُولَ اللَّهِ ‏ ‏صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ‏ ‏عَلَى جَبْهَتِهِ أَثَرُ الْمَاءِ وَالطِّينِ مِنْ صُبْحِ إِحْدَى وَعِشْرِينَ ‏ صحيح بخاري / كِتَاب ‏ ‏الِاعْتِكَافِ ‏ بَاب ‏ ‏الِاعْتِكَافِ ‏ ‏فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ ‏ ‏وَالِاعْتِكَافِ ‏ ‏فِي الْمَسَاجِدِ كُلِّهَا ‏ ‏لِقَوْلِهِ تَعَالَى ‏ ‏وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنْتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فلَا تَقْرَبُوهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ

একবার রাসূল স. রমযানের প্রথম দশকে ইতিকাফ করলেন, তারপর মধ্যম দশকে (অর্থাৎ মাঝাখানের দশদিন) করলেন একটি তুর্কি তাবুতে। এ সময় একবার তাবু থেকে মাথা বের করে বললেনঃ আমি এ রাতের খোজ করতে যেয়ে প্রথম দশদিন ইতিকাফ করেছি, তারপর মাঝের দশদিনও ইতিকাফ করেছি, এরপর স্বপ্নে আমার কাছে কেউ এসে বলল, এটি (লাইলাতুল ক্বদর) শেষ দশ দিনের মধ্যে আছে। অতএব যে লোক আমার সাথে প্রথমে ইতিকাফ করেছে, সে যেন শেষ দশ দিনও ইতিকাফ করে। নিশ্চয় তা (শবে ক্বদর এর রাত) আমাকে স্বপ্নে দেখান হয়েছিল কিন্তু পরে তা থেকে আমাকে বিস্মৃত করা হয়েছে। তবে মনে পড়ে (স্বপ্নে আমি দেখেছিলাম) আমি সে রাতের ফযরে নিজেকে পানি আর কাদার মধ্যে সিজদাহ করতে দেখেছি। অতএব, তোমরা তা (শবে ক্বদর) শেষ দশ রাতের মধ্যেই খুঁজে দেখবে এবং বে-জোর রাতগুলোতেই অনুসন্ধান করবে। অতঃপর ( হাদিসটি বর্ণনাকারী) আবু সাইদ বলেন, সে রাতে আকাশ থেকে বৃষ্টি আসল, মসজিদ তখন ছাপরা (অরক্ষিত ছাদ) ছিল, তাই ছাদ থেকে পানি পড়ল। তখন আমার দুই চোখ রাসূল স.কে দেখল তাঁর কপালে পানি ও কাদার দাগ লেগেছে আর তা ছিল একুশ তারিখের (অর্থাৎ একুশে রমযানের) সকাল।
_______________________________________
আবু সাইদ খুদরী হতে। মুসলিম/ বুখারী, কিতাব- ইতিকাফ, অধ্যায় শেষ দশ রাতে ইতিকাফ


---------------------

আর যে কারনে সবাই ২৭ ধরে নেয় ।


‏سَأَلْتُ ‏ ‏أُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ ‏ ‏رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ‏ ‏فَقُلْتُ إِنَّ أَخَاكَ ‏ ‏ابْنَ مَسْعُودٍ ‏ ‏يَقُولُ مَنْ يَقُمْ ‏ ‏الْحَوْلَ ‏ ‏يُصِبْ لَيْلَةَ الْقَدْرِ فَقَالَ رَحِمَهُ اللَّهُ أَرَادَ أَنْ لَا يَتَّكِلَ النَّاسُ أَمَا إِنَّهُ قَدْ عَلِمَ أَنَّهَا فِي رَمَضَانَ وَأَنَّهَا فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ وَأَنَّهَا لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ ثُمَّ حَلَفَ لَا ‏ ‏يَسْتَثْنِي أَنَّهَا لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ فَقُلْتُ بِأَيِّ شَيْءٍ تَقُولُ ذَلِكَ يَا ‏ ‏أَبَا الْمُنْذِرِ ‏ ‏قَالَ بِالْعَلَامَةِ أَوْ بِالْآيَةِ الَّتِي أَخْبَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ ‏ ‏صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ‏ ‏أَنَّهَا تَطْلُعُ يَوْمَئِذٍ لَا شُعَاعَ لَهَا صحيح مسلم / ‏كِتَاب ‏ ‏الصِّيَامِ ‏‏ بَاب ‏ ‏فَضْلِ لَيْلَةِ الْقَدْرِ وَالْحَثِّ عَلَى طَلَبِهَا وَبَيَانِ مَحَلِّهَا وَأَرْجَى أَوْقَاتِ طَلَبِهَا


একবার আমি উবাই ইবনে কাবকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার ভাই হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেন, যে সারা বছর রাত জেগে ইবাদত করে, সে শবে ক্বদর লাভ করবে। হযরত উবাই বললেনঃ আল্লাহ তাকে (মাসউদকে) রহম করুক! তিনি এই কথা এ জন্য বলেছেন যে, লোকরা যেন তার উপর ভরসা করে নিশ্চেষ্ট না থাকে। নয়ত তিনি অবশ্যই জানেন যে , তা রমযানে এবং রমযানের শেষ দশ রাতগুলোর মধ্যেই এবং তা সাতাইশের রাতেই। যির (বর্ণনাকারী) বলেন, আমি বললাম, হে আবু মুনযির! আপনি কোন তথ্যসূত্রে এটা বললেন? তিনি (ইবনে কাব) বললেন: রাসূল স. আমাদের যে চিহ্ন বাতলে দিয়েছেন সে সূত্রে। তিনি বাতলেছেন, কদরের রাতের পর সকালে সূর্য উঠবে অথচ তার কিরণ থাকবে না।হাদিস গ্রন্থ মিশকাত শরীফের এ হাদিসটির ব্যাখ্যা: "কিরণ থাকবে না" সম্ভবতঃ সেই বছরের শবে ক্বদরের চিহ্ন এটা বলেছিলেন। সেই বছর শবে ক্বদর সাতাশ রাতেই হয়েছিল।
_____________________
তাবেয়ী যির ইবনে হুবাইশ র. থেকে বর্ণিত; মুসলিম: কিতাবুস্সিয়াম। অধ্যায়, ফাযলিল লাইলাতিল ক্বাদরী
--------------------------

মাত্র একটি হাদিসে বেজোর রাতের উপর গুরুত্ব আরোপিত হয়েছে। তবে কোথাও সুনির্দিষ্ট তারিখ ব্যক্ত করা হয়নি।


--------------------------------------
সহীহ হাদীস-এ লাইলাতুল কদর সম্পর্কে শেষ ১০ দিন-এর যে-কোন-ও বি-জোড় রাত্রির কথা বলা আছে... নির্দিষ্ট করে বলা নেই...

আর... কোরআন-এ কেবল-মাত্র সুরা আছে... কদর সম্পর্কে... কিন্তু নির্দিষ্ট করে বলা নেই কিছু... এমন-কি... এটা প্রকৃত-পক্ষে-ই রমজান মাস-এর শেষ ১০ দিন-এর মধ্যে কি-না তা-ও বলা নেই...







আমার হিসেবে জোড় বা বেজোড় কিছুই হবে না । হিসাবটা আমার না । হিসাবটা তৈরী করা আছে আগেই । যেহেতু আমরা জানি সঠিক কোনটি । তাই শবে কদরের যে কোন শেষ ১০ রাত্রি হতে পারে । এটা জোড় বা বেজোড় যে কোন হতে পারে । এমনকি রমজান মাস বাদে অন্য মাসেও হতে পারে । ধন্যবাদ ।


তাই শবে কদরের উপর নিজস্ব মতামতকে প্রেসার করা উচিত না । এতে ভান্ত্র ধারনা সৃষ্টি করা হচ্ছে ।

০৪ ঠা আগস্ট, ২০১১ সকাল ৯:১৮

বিবেকিন্দ্রীয়লোচন বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ। অনেক কিছুই জানলাম ক্বদরের ব্যাপারে। এই বিষয়গুলো নিয়ে মতভেদ অনেক আগে থেকেই আছে। মতভেদ থাকার কারনেই আলোচনা হচ্ছে। জানা হচ্ছে। মতভেদ দূরীকরণের একমাত্র উপায় হল খলীফার হুকুমত। ইতিহাস এই সাক্ষ্যই দেয়।

১৭| ০৬ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ৮:৩৪

রিফাত হোসেন বলেছেন: লেখক বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ। অনেক কিছুই জানলাম ক্বদরের ব্যাপারে। এই বিষয়গুলো নিয়ে মতভেদ অনেক আগে থেকেই আছে। মতভেদ থাকার কারনেই আলোচনা হচ্ছে। জানা হচ্ছে। মতভেদ দূরীকরণের একমাত্র উপায় হল খলীফার হুকুমত। ইতিহাস এই সাক্ষ্যই দেয়।
----------

আপনার কথার সাথে একমত ।

তবে ইসলাম জাহানে তো আর খলিফায় হুকুমাত নেই (বর্তমানে) !

সুতরাং....

আমার ব্যক্তি চিন্তা বলে, খাস দিলে নিয়ত করলে/ইবাদত করলে যে কোন রাত্রিই কদরের রাত্রিতে রূপান্তর সম্ভব ।

যেহেতু তিনি (সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ) সময়,কাল ও পাত্রের আগে !


১৮| ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ১১:০৮

মধুমিতা বলেছেন: আপনাদের যুক্তি গুলি যথেষ্ট বিভ্রান্তিকর। এই লেখাটি পড়ে কিছু বলবেন কি? আপনার উত্তরের আশায় রইলাম। Click This Link

"পৃথিবীতে এমন অনেক স্থান আছে যেখানে সন্ধ্যায় রমাদ্বান শরীফ-এর চাঁদ দেখা গেলে অন্যস্থানে সকাল গড়িয়ে প্রায় দুপুর। যে অঞ্চলে সকাল সে অঞ্চলের অধিবাসীরা পূর্বে তারাবীহ পড়েননি, সাহরীও খাননি বরং সকালের নাস্তা শেষ করেছেন। তাহলে অন্য অঞ্চলের সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা গেলে সেই চাঁদ দেখে কিভাবে তারা রোযা পালন করবেন? তাহলে দেখা যাচ্ছে, সারা বিশ্বে একদিনে ঈদ এবং রোযা পালনকারীদের শরীয়তের ইলমের যেমনি অভাব রয়েছে তেমনি রয়েছে ভৌগোলিক জ্ঞানের অভাব।
"

০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ৯:৩৯

বিবেকিন্দ্রীয়লোচন বলেছেন: একটি সহজ বিষয় কেন যে আপনাদের কাছে এত কঠিন মনে হয়! একদিন বলতে ভাই যুগপৎ ভাবে একই সময়কে বুঝায় না। যে দেশের লোকেরা আপনার কথা মত দুপুরের অবস্থানে আছে, তারা যদি খবর শুনে যায় যে অমুক দেশে চাঁদ দেখা গিয়েছে তবেই কেবল তাদের উপর তাদের সময় অনুযায়ী রাতে সাহারী খেয়ে সওম শুরু করা ওয়াজিব হবে। অন্যথায় নয়। শর্ত হচ্ছে খবর পৌছাতে হবে। আরও বিস্তারিত জানতেঃ http://www.unifiedmoonsight.com/

১৯| ১১ ই আগস্ট, ২০১২ দুপুর ১২:৪১

আজিজ বাংলাদেশী বলেছেন: বিষয়টি নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। একটি ঐ্ক্যমত হওয়া প্রয়োজন। তানা হলে মুসলমানরা সমগ্র বিশ্বে একটা হাস্যকর অবস্থার মধ্যে পরবে।

২০| ১১ ই আগস্ট, ২০১২ দুপুর ২:৩৭

এস আর সজল বলেছেন: ধরুন, আমেরিকায় রাতে চাঁদ দেখা গেল সৌদিতে তখন দুপুর। তখন সৌদিতে লোকজন কি করবে? কিংবা ইন্দোনেশিয়ার লোকজন? কিংবা যে লোকটা কোন এক মেরুপ্রান্তে আছে?

আর খিলাফাত বলতে কি আপনি সৌদির ****বাচ্চাদের মত পারিবারিক শাসন চাচ্ছেন????

২১| ১১ ই আগস্ট, ২০১২ দুপুর ২:৫৭

নিষ্‌কর্মা বলেছেন:

চাঁদ দেখা নিয়ে, পশ্চিমের দেশগুলোতে যে সব মুসলমানরা বাস করেন তাদের ভেতরেই, সমস্যা দেখা যাচ্ছে। ওখানে সৌদিপন্থী, মরক্কো পন্থি আর উপমহাদেশপন্থীদের ভেতরে গন্ডোগোল হচ্ছে। আমার জানা মনে ঐ সব নর্থ আমেরিকান দেশগুলোতে দুইদিন ঈদ হয়!

আমাদের এই অঞ্চলে শুধু না, বেশীর ভাগ দেশেই ২৭ রমজানকে শবে কদর হিসাবে মেনে নেওয়া হয়েছে।

লেখক যেমন বলেছেন, পাকিস্তান আমলে, আমার জানা মতে, দুই পাকিস্তানে আলাদা করেই ঈদ হোত।

আর খলিফার হুকুমত লাগবে বলছেন যে, প্রশ্ন হচ্ছেঃ

১। খেলাফত বলতে কি বোঝেন -- বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র না প্রথম চার খলিফার মত খেলাফত?

২। ওসমানি খেলাফত শেষ হবার পর দুনিয়াতে কি আর কোথায় খলিফা-সিস্টেম চালু আছে?

২২| ২২ শে অক্টোবর, ২০১২ বিকাল ৩:৫৩

বিবেকিন্দ্রীয়লোচন বলেছেন: 'খেলাফত' একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থার নাম। আর 'খলিফা' হলেন তার প্রধান। খেলাফত সোদি আরবের রাজতন্ত্র নয়। বায়াতের মাধ্যমেই খলিফা নির্বাচিত হন। তবে তা গনতন্ত্রও নয়। ওসমানি খেলাফতের পরে পৃথিবীর বুকে আর কোন খেলাফত নাই।

২৩| ১১ ই জুলাই, ২০১৩ দুপুর ১২:৫৮

বান্দা যাকারিয়া বলেছেন: নিচের হাদিসটি মনোযোগ দিয়ে পড়লে এর উত্তর পাওয়া যাবে।



কুরাইব (রা) থেকে বর্ণিত। হারিসের কন্যা উম্মুল ফজল তাকে সিরিয়ায় মু’আবিয়ার (রা) নিকট পাঠালেন। কুরাইব বলেন, অতঃপর আমি সিরিয়া পৌছে তাঁর প্রয়োজনীয় কাজ সমাপন করলাম। আমি সিরিয়া থাকতেই রামাদান মাস এসে গেল। আমি জুমু’আর রাতে রামাদানের চাঁদ দেখতে পেলাম। অতঃপর মাসের শেষদিকে মদীনায় ফিরে এলাম। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) রোজা সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কখন চাঁদ দেখেছ ? আমি বললাম, আমি তো জুমু’আর রাতেই চাঁদ দেখেছি। তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি নিজেই কি তা দেখেছ ? আমি বললাম, হ্যাঁ, অন্য লোকেরাও দেখেছে তারাও রোজা রেখেছে। এমনকি মু’আবিয়াও (রা) রোজা রেখেছেন। তিনি বললেন, আমরা তো শনিবার রাতে চাঁদ দেখেছি, আমরা পূর্ণ ত্রিশটি রোজা রাখব অথবা এর আগে যদি চাঁদ দেখতে পাই তবে তখন ইফতার (সাওম শেষ) করবো। আমি বললাম, আপনি কি মু’আবিয়ার (রা) চাঁদ দেখা ও রোজা রাখাকে (রোজার মাস শুরু হবার জন্য) যথেষ্ট মনে করেননা ? তিনি বললেন, না, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের এভাবেই (চাঁদ দেখে রোজা রাখা ও ইফতার করার) জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।



[মুসলিম, ২৩৯৬]

১৪ ই জুলাই, ২০১৩ দুপুর ১২:৩৩

বিবেকিন্দ্রীয়লোচন বলেছেন: উপরের হাদিসটি মনযোগ দিয়ে পড়লাম। ধন্যবাদ। ইখতিলাফ থাকতেই পারে। ইখতিলাফ থাকা স্বাভাবিক। যে কথা উপরে বল্লাম খলিফার হুকুমত ই সার্বজনীন ভাবে এই সমস্যার সমাধান করতে পারে। কিন্তু যেহেতু খলিফা বর্তমানে নেই তার মানে তো এই নয় যে আমি ঈদের দিনও রোজা রাখবো। যেদিনকে শবে ক্বদর ভাববো না আসলেই ঐ দিনই শবে ক্বদর! সাধারন অনুসন্ধিৎসু মনের উত্তর হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর একতার প্রতিফলনও কিন্তু চাঁদ দেকে রোজা রাখার উপর ভিত্তি করে হয় না। 'আমার মুসলিম ভাই পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে চাঁদ দেখেছে আর আমি সেই সংবাদ শোনা মাত্র রোজা আমার উপর ফরজ'--এই চিন্তাই বাস্তবিক এবং প্রাসঙ্গিক। ৩ ঘন্টার সময়ের ব্যবধান যেভাবে এক দিনে পরিনত হয় তা নিতান্তই অবিবেচক প্রসুত কাজ। ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.