নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সৃজনশীল সৌন্দর্যের সাথে চলুন সবাই এক সাথে

শেখ বিবি কাউছার

আমি শেখ বিবি কাউছার, চট্টগ্রাম কলেজ থেকে অনার্স এবং ঢাকা তেজগাঁও কলেজ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করি।বর্তমানে নোয়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে(রাউজান, চট্টগ্রাম) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছি।

শেখ বিবি কাউছার › বিস্তারিত পোস্টঃ

মাস্টারদা ছিলেন সেই অভ্যুত্থানের অবিসংবাদী নেতা;

২৩ শে মার্চ, ২০২১ রাত ১:০৯

সুপারম্যান,ব্যাটম্যান কিংবা স্পাইডারম্যানের চেয়েও যিনি আমাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ একজন । সত্যিকারের হিরো। যিনি নিজের মাতৃভূমির জন্য, মা-মাটি-মানুষের জন্য জীবন বিসর্জন দিয়েছিলেন। সূর্য সেন বা সূর্য কুমার সেন, ডাকনাম কালু, যিনি ‘মাস্টারদা’ নামে সমধিক পরিচিত। স্কুল শিক্ষক ছিলেন। তাই সবাই মাস্টার দা বলে ডাকতেন। ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল চট্টগ্রামে সশস্ত্র অভ্যুত্থান ঘটেছিল। মাস্টারদা ছিলেন সেই অভ্যুত্থানের অবিসংবাদী নেতা।
অতি সাধারণ চেহারার এই অসাধারণ মানুষটি একদল অসামান্য দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বিপ্লবী তৈরি করেছিলেন। নির্মল সেন, রামকৃষ্ণ বিশ্বাস, অপূর্ব, অনন্ত সিংহ, প্রীতিলতা, কল্পনা দত্তের মতো অসংখ্য মানব বারুদ তাঁর হাতে গড়া। ভারত উপমহাদেশে যে মানুষটি প্রথম ব্রিটিশদের রাজত্বের দাম্ভিকতায় প্রচন্ডভাবে ধাক্কা দিয়েছিলেন তিনি মাস্টারদা সূর্য সেন। পরাধীন ভারতে চট্টগ্রাম সশস্ত্র অভ্যুত্থান, স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন, ভারতের স্বাধীনতা ঘোষণা এবং ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মির সর্বাধিনায়ক মাস্টারদা সূর্য সেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে এক বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগীর নাম।
১৮৯৪ সালের ২২ মার্চ আজকের এই দিনে চট্টগ্রামে আমাদের রাউজান থানার নোয়াপাড়ায় এক নিম্নবিত্ত পরিবারে সূর্য কুমার সেনের জন্ম। তাঁর পিতার নাম রাজমনি সেন এবং মাতার নাম শশী বালা সেন।
সূর্য সেনের শেষ বার্তা
কনডেম্‌ড সেলে সূর্য সেনকে কড়া পাহারায় নির্জন কুঠুরীতে রাখা হত। একজন কয়েদি মেথর সূর্য সেনের লেখা চিঠি ময়লার টুকরিতে নিয়ে জেলের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বন্দী বিপ্লবীদের দিয়ে আসতো। মৃত্যুর আগে জেলে আটক বিপ্লবী কালীকিঙ্কর দে’র কাছে সূর্য সেন পেন্সিলে লেখা একটি বার্তা পাঠান। সে বার্তায় তিনি লেখেন “আমার শেষ বাণী-আদর্শ ও একতা”। তিনি স্মরণ করেন তাঁর স্বপ্নের কথা--স্বাধীন ভারতের স্বপ্ন যার জন্য জীবনভর উৎসাহ ভরে ও অক্লান্তভাবে পাগলের মত তিনি ছুটেছেন। তাঁর ভাষায় “ভারতের স্বাধীনতার বেদীমূলে যে সব দেশপ্রেমিক জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের নাম রক্তাক্ষরে অন্তরের অন্তরতম প্রদেশে লিখে রেখো”। তিনি সংগঠনে বিভেদ না আসার জন্য একান্তভাবে আবেদন করেন । শেষ দিনগুলোতে জেলে থাকার সময় তাঁর একদিন গান শোনার খুব ইচ্ছা হল। সেই সময় জেলের অন্য এক সেলে ছিলেন বিপ্লবী বিনোদ বিহারী চৌধুরী। রাত ১১টা/১২টার দিকে কল্পনা দত্ত তাঁকে চিৎকার করে বলেন “এই বিনোদ, এই বিনোদ, দরজার কাছে আয়। মাষ্টারদা গান শুনতে চেয়েছেন”। বিনোদ বিহারী গান জানতেন না। তবুও সূর্য সেনের জন্য রবিঠাকুরের “যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে” গানটা গেয়ে শোনালেন। ১৯৩৪ সালের ১২ই জানুয়ারী মধ্যরাতে সূর্য সেন ও তারকেশ্বর দস্তিদারের ফাঁসী কার্যকর হবার কথা উল্লেখ করা হয়। সূর্য সেন কে এবং তারকেশ্বর দস্তিদারকে ব্রিটিশ সেনারা নির্মম ভাবে অত্যাচার করে। ব্রিটিশরা হাতুরী দিয়ে তাঁর দাঁত ভেঙ্গে দেয় এবং তাঁর হাড় ও ভেঙ্গে দেয়। হাতুরী দিয়ে নির্মম ভাবে পিটিয়ে অত্যাচার করা হয়। এরপর তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। সূর্য সেন ও তারকেশ্বর দস্তিদারের লাশ আত্মীয়দের হাতে হস্তান্তর করা হয়নি এবং হিন্দু সংস্কার অনুযায়ী পোড়ানো হয়নি। ফাঁসীর পর লাশদুটো জেলখানা থেকে ট্রাকে করে ৪ নম্বর স্টীমার ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর মৃতদেহ দুটোকে ব্রিটিশ ক্রুজার “The Renown” এ তুলে নিয়ে বুকে লোহার টুকরা বেঁধে বঙ্গোপসাগর আর ভারত মহাসাগরের সংলগ্ন একটা জায়গায় ফেলে দেয়া হয়।বাংলার মাটিতে কোথাও যেন তাঁর চিহ্ন না থাকে। কিন্তু বিপ্লবী আত্মার যে মৃত্যু নেই। সূর্য সেন এ দেশের নির্যাতিত মানুষের হূদয়ে তাই আজও অমর। তাঁর দেখানো পথে বছরের পর বছর অত্যাচারীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে এ দেশের মানুষ।
মাস্টারদা সূর্যসেনের স্বপ্ন ও সাধনার কথা আমরা যেন ভুলে না যাই।
শেখ বিবি কাউছার
প্রভাষক
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ
নোয়াপাড়া ডিগ্রি কলেজ
রাউজান, চট্টগ্রাম।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.