| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
গতরাতে হঠাৎ করেই ঈশ্বরের সাথে দেখা হয়ে গেল। কি, বিশ্বাস হচ্ছে না? তাহলে ঘটনাটা বিস্তারিত বলি।
আমি ল্যাব থেকে বাসায় ফিরছিলাম, পার্কিংলটে গিয়ে দেখি, একজন মানুষ হন্ত-দন্ত হয়ে কি যেন খুঁজছে, তার শরীর থেকে লাল রঙের আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে। আমি ভাবলাম, আরেব্বাস, লাইটিং সহ পোশাকও তাইলে আজকাল বাজারে বিক্রি হয়। আমি একটা সিগারেট ধরিয়ে, বেশ কৌতূহল নিয়ে তার কাছে গেলাম। ওমা! গায়ে তার একটা সুতাও নাই। আমি বেশ ভড়কে গেলাম, নিশ্চিত কোনও এলিয়েন হবে। আমি কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম-
-আপনি কে ভাই? এখানে কি করছেন?
ভদ্রলোক বেশ ধীর-স্থির ভাবে আমার দিকে তাকালেন। তারপর ভরাট কণ্ঠে জবাব দিলেন-
-আমি ঈশ্বর।
আমি কিছুটা হকচকায়ে গেলাম। আর যাই হোক এমন কিছু আমি কল্পনাও করিনি। ভাবলাম, এই বেটা নিশ্চিত কোনও ম্যাজিশিয়ান হবে, ভাব নিচ্ছে। কিন্তু যেহেতু সে নিজেকে ঈশ্বর বলে দাবি করছে, সেহেতু তাকে একটু বাজিয়ে দেখতে দোষ কি। আমি এইবার সিগারেটে দুইটা লম্বা টান দিয়ে, গলাটা পরিষ্কার করে নিয়ে তাকে প্রশ্ন করলাম-
- বুঝলাম আপনি ঈশ্বর, কিন্তু আপনার এই অবস্থা কেন?
ঈশ্বর মনে হয় রেগে ছিল, কেননা তার শরীর থেকে লাল আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছিল। তার রাগটা আরও পরিষ্কার ভাবে ফুটে উঠল তার কণ্ঠস্বরে। ঝাঁঝালো স্বরে ঈশ্বর জবাব দিলেন
- আর বলোনা, ফেসবুকে "আমিই ঈশ্বর" এই নামে একটা পেজ খুলার জন্য সাইবার ক্যাফের দিকে যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে একদল বাঁদরবাদি নাস্তিক জোর করে আমাকে বিবস্ত্র করে ছেড়ে দিল। এখন এই বিবস্ত্র অবস্থায়ত আর ওখানে যেতে পারিনা, আজকাল শুনলাম ছেলে-মেয়েরা সাইবার ক্যাফেতে নানা ধরনের আজে বাজে জিনিস দেখে, তা আমাকে এই অবস্থায় দেখলে আমার ইজ্জতের উপর হামলা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাই ভাবলাম আমার আরশেই ফিরে যাই, কিন্তু আমার বাহনটাকে খুঁজে পাচ্ছি না। এই গাছটার সাথেই বেধে রেখেছিলাম, গেল কই বেটা?
আমি প্রথমে ভাবলাম, ঈশ্বরের বাহন নিশ্চয়ই টাইম মেশিন টাইপ কোনও যন্ত্র হবে, যার আবার নিজস্ব বুদ্ধি আছে। কিন্তু খটকা লাগলো ঈশ্বরের বাহনকে গাছের সাথে বেধে রাখার কথায়। কৌতূহল বশত জিজ্ঞাসা করলাম
- হে ঈশ্বর, আপনি আপনার টাইম মেশিনকে গাছের সাথে বেধে রাখেন, এইটা কেমন অদ্ভুত ব্যাপার না?
ঈশ্বর এইবার খেঁকিয়ে উঠলেন-
-টাইম মেশিন, তোমারে কে বলছে? আরে, এইটা একটা ডানাওয়ালা পক্ষিরাজ ঘোড়া। আমি এইটাতে করেই সারা বিশ্ব ব্রক্ষ্মান্ড ঘুরে বেড়াই।
ঈশ্বরের জবাব শুনে আমার হঠাৎ মনে পড়ে গেল, কোথায় যেন এমন এক বাহনের কথা শুনেছিলাম, যাতে করে ঈশ্বরের বিশেষ বন্ধু নিমেষেই বিশ্বভ্রমান্ড ভ্রমণ করেছিলেন। আমি ঈশ্বরকে আশ্বস্ত করার জন্য বললাম-
- আপনার বাহনটি হয়তো ছাড়া পেয়ে সাত আসমান ঘুরে বেড়াচ্ছে। তা, আপনি যেহেতু ঈশ্বর, সেহেতু আরেকটা বানিয়ে ফেলুন না।
আমার কথা শুনে ঈশ্বর মনে হয় কিছুটা মিইয়ে গেলেন। গলার স্বর কিছুটা খাট করে জবাব দিলেন-
- এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করার পর, আমি সৃষ্টি করা বন্ধ করে দিয়েছি। আমি মহাবিশ্ব সৃষ্টি করে, কিছু গাণিতিক নিয়ম ঠিক করে দিয়েছি যাতে করে সব কিছু সেই নিয়ম অনুযায়ী চলতে পারে। আর প্রায় ২০ হাজার কোটি বছর ধরে সবকিছু চলছিলও ঠিক সেইভাবেই, সমস্যাটা শুরু হয় গত আট দশ হাজার বছর আগে থেকে, যখন মানুষ আমারে আবিষ্কার করে ফেলে। তখন থেকেই মানুষ আমারে ভাগাভাগি করে নিছে যার যার মত করে। আমারে নিয়ে তাদের মধ্যে হানা-হানি, মারা-মারি লেগেই আছে। সমস্যাটা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে, ব্লগ, ফেসবুক এইসব জিনিস উদ্ভাবন হওয়ার পর থেকে। এখানে দেখি, একদল আমার অস্তিত্বই স্বীকার করে না, আর অন্যরা নিজেদের মত করে ঈশ্বর তৈরি করে নিয়েছে, আর তারা যার যার নিজস্ব ঈশ্বরের মহিমা প্রচার করে যাচ্ছে তাদের স্ট্যাটাস, ছবি, ও নোটে। তারা প্রত্যেকেই তাদের ঈশ্বরই শ্রেষ্ঠ এইটা প্রমাণ করার জন্য ব্যস্ত। আরও অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে, এই লোকগুলা তাদের ঈশ্বরের থেকেও তাদের ঈশ্বরের আবিষ্কারককে বেশী পূজা/ভক্তি করে। তুমি ঈশ্বরকে নিয়ে কার্টুন বানাও, মূর্তি বানাও, সিনেমা বানাও বা গালি দাও কোনও সমস্যা নেই; কিন্তু ভুলেও ঐসকল ঈশ্বরের আবিষ্কারকদেরকে নিয়ে কিছু বানানো যাবে না। এই ভদ্রলোকদের নিয়ে কিছু বললে, তোমার ঘাড়ে মাথা থাকবেনা। তাই ভাবলাম, যাই পৃথিবীতে গিয়ে আমি নিজেই আমার নামে একটা ফেসবুক পেজ খুলে সবার ভুল ধারনা গুলো দূর করে দিই। কিন্তু, এখন দেখি পুরাই মাইনকা চিপা, সাইবার ক্যাফেতেও যাইতে পারতেছিনা, আবার আমার আরশেও ফিরে যাইতে পারতেছিনা।
ঈশ্বরের কথা শুনে শরীরে প্রচণ্ড একটা ঝাঁকুনি খেলাম। হঠাৎ দেখি ঈশ্বর উধাও, আমিও পার্কিংলটে নই, আমার ল্যাবে চেয়ারে বসা আর আমার ল্যাব-মেট সেইটা ধরে ঝাঁকাচ্ছে।
২০ শে জানুয়ারি, ২০১৩ ভোর ৪:২৫
বিভ্রান্ত নাগরিক বলেছেন: আগ্রহ নিয়ে পড়ার জন্য ধন্যবাদ। সবার সব কিছু ভালো লাগবে এমন দুরাশা করিনা, আর সত্যি যদি ঈশ্বরের সাথে দেখা হয়ে যায় তখন না হয় ক্ষমা চেয়ে নিব। উনি কি ক্ষমা করবেন না?
২|
২০ শে জানুয়ারি, ২০১৩ ভোর ৪:১৩
রায়হান হোসেন রানা বলেছেন: আরে মিয়া ঈশ্বর দেখতে পাকিংলটে যাইতে হয় নাকি , ঈশ্বর তো আমার আপনার সবার মাজেই বিরাজমান ।
২০ শে জানুয়ারি, ২০১৩ ভোর ৪:২৭
বিভ্রান্ত নাগরিক বলেছেন: আমারও তাই মনে হয়, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে সবার মাঝে কি একই ঈশ্বর বিদ্যমান নাকি ভিন্ন ভিন্ন ঈশ্বর। যদি একই ঈশ্বর বর্তমান হয় তবে হিন্দুদের দূর্গা পূজার সময় কিছু মানুষ ঈশ্বরের নামে মূর্তি ভাংচুর করে কেন, কিংবা হিন্দুরা তাদের ঈশ্বরের নামে মসজিদ ভাংগে কেন?
৩|
২০ শে জানুয়ারি, ২০১৩ ভোর ৪:৪১
jisan khan বলেছেন: ধর্ম নিয়ে তর্ক শুনতে আর ভাল লাগে নারে ভাই, তাই চুপ চাপ নিজের ধর্ম পালন করুন, নিজের কাজ করুন।
৪|
২০ শে জানুয়ারি, ২০১৩ ভোর ৫:১২
নয়ামুখ বলেছেন: আপনার নিকটা যথার্থ হয়েছে। আপনার বিভ্রান্তি দুর হোক এই কামনা করি।
৫|
২০ শে জানুয়ারি, ২০১৩ ভোর ৫:৪৬
দিকভ্রান্ত*পথিক বলেছেন: আপনি নাস্তিক, আমি বলছিনা আপনি ভুল, আমার তা বলার অধিকার নেই। তবে একটা কথা বলি? অনুগ্রহ করে নাস্তিকতা প্রচার করবেন না, কারণ সেটা কোনো ধর্ম নয়.... ধর্মের প্রচার হতে পারে, নাস্তিকতা একটি বিশ্বাস মাত্র, আর অধিকাংশের কথা যদি বলেন, আপনার এধরনের লেখা অনেককেই মানসিকভাবে আঘাত দিতে পারে।
তাই অনুরোধ করে বলব, নাস্তিকতা পালন করুন, ধার্মিকদের শান্তিতে থাকতে দিন। আপনার ধারনাটি আমি জানি, সবাইকে অন্ধ মনে হচ্ছে কিন্তু আপনাকেও ধার্মিকদের তাইই মনে হবে...
ভালো থাকবেন ।।
৬|
২০ শে জানুয়ারি, ২০১৩ সকাল ৭:১০
মোহাম্মেদ তারেক হোসাইন বলেছেন: বাল্পোস্টে মাইনাস দিয়ে গেলাম।। এইডা ব্লগ সাইট।। মাল খেয়ে টাল হয়ে বাল ফালানোর জায়গা না।। নিজের যোগ্যতায় কিছু লিখতে পারলে লেইখান।। এইসব বাল ছাল লিখে আর কয়দিন??.।।
©somewhere in net ltd.
১|
২০ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ৩:৫১
সত্য নয় মিথ্যা বলেছেন: আগ্রহ নিয়ে পড়ে কোন লাভ হয় নাই, ভালো লাগে নাই! আমি চাইব সত্যিই আপনি ইশ্বরের দেখা যেন পান, তখন বুঝবেন কেমন লাগে