| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার কেন যেন মনে হচ্ছে এইবার হাসান হোসেন দুইজনেই আপনাকে কোলে করে গদি থেকে নামিয়ে দিবে। দুদকের তদন্ত থেকে আবুল হোসেনের নাম বাদ দিয়ে দেওয়া একটা জঘন্য নোংরামি বলেই আমার মনে হয়। আপনার এই মেয়াদের গোটা সময়টা ধরে বিশ্বব্যাংক এর সাথে শুধু ইঁদুর-বিড়াল খেলাই খেলে গেলেন, কাজের কাজতো কিছুই হল না (আই মিন, পদ্মা সেতু)। বাংলাদেশে দুর্নীতির ইতিহাসে পদ্মা সেতু ও হোসেন-হাসানের নাম চিরদিনের জন্য লিখা হয়ে গেছে। তবে আফসোসের ব্যাপার এই যে, এর সাথে আপনার ও আপনার দলের নামটাও জড়িত। যেমন তারেক-মামুনের খাম্বা দুর্নীতির সাথে বেগম জিয়ার নামটাও ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে। বেগম জিয়া তবুও তার নিজের সন্তান কে বাঁচাতে চেষ্টা করেছেন, আপনি কি কারণে হাসান-হোসেন কে পাখনা আড়াল দিয়ে রেখেছেন? অনেক দিন থেকেই মনে একটা প্রশ্ন আছে- কারা এই হাসান-হোসেন? আওয়ামী রাজনীতিতে তারা কি অপরিহার্য? যদি তা না হয়, তবে তাদেরকে রাস্তায় ছুঁড়ে মারতে এত দ্বিধা কেন? আর যদি তারা আওয়ামী লীগের কাছে অপরিহার্যই হয়ে থাকে, তবে এ কথা বলতে বাধ্য হচ্ছি যে আওয়ামী লীগ একটি দুর্নীতিগ্রস্থ নোংরা রাজনৈতিক দল। আওয়ামীলীগের সাথে বিএনপি-জামাতের মৌলিক কোনও পার্থক্য নেই।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি না গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন? আপনি না বিশ্বাস করেন জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস? তাহলে এমনটি কেন হচ্ছে? আমারতো মনে হয়, আবুলরাই সকল ক্ষমতার উৎস; জনগণ ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা। যদি তাই না হবে, তবে জনগণের দাবি উপেক্ষা করে আপনি কেন হোসেন-হাসানকে রক্ষা করছেন? আমি একজন ক্ষুদ্র মানুষ হয়েও স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি যে এই পদ্মা সেতু দুর্নীতির কাছে আপনার সরকারের সকল সফলতা ম্লান হয়ে গেছে। আগামী নির্বাচনে এর প্রতিফলন ঠিকই ঘটবে। আর আমার মত অনেক ক্ষুদ্র মানুষের সমস্যা সেখানেই। জনগণ আপনার এবং দলের উপর বিরক্ত হয়ে যদি বিএনপি-জামাতকে নির্বাচিত করে, তবে আমার সোনার বাংলা আর আমার সোনার বাংলা থাকবে না বরং পাকিস্তান বা আফগানিস্তানের মত মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়ে যেতে পারে। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হিসেবে আপনি বা আপনার দল এর দায়ভার কোনওমতেই এড়াতে পারেন না।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি না জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা, এমন পিতার সন্তান হয়ে আপনি এগুলো কি করছেন? আপনি কি জনগণের চিৎকার শুনতে পান না? চোখ থেকে ক্ষমতার রঙ্গিন চশমাটা খুলে ফেলুন, সব কিছু পরিষ্কার দেখতে পাবেন। নিজের বিবেককে জাগ্রত করুন, প্লিজ। চাটুকারদের কথায় উঠা বসা বন্ধ করুন। এরা যেমন দেশের শত্রু ঠিক তেমনি আপনারও শত্রু, এরা দেশকে বা আপনাকে কিছুই দিতে পারবেনা শুধু লজ্জা ব্যতীত। প্রমাণ দেখতে চান? গত দুইদিন আগে ওয়াশিংটন টাইমস এ লেখা বেগম জিয়ার প্রবন্ধটি দেখুন। ঐ লেখাটি উনার মাথা থেকে আসেনি, সেটি পড়লেই বোঝা যায় তার পালিত কোনও বুদ্ধি বেশ্যা সেটি রচনা করে বেগম জিয়ার নামে চালিয়ে দিয়েছে। প্রবন্ধটিতে শুধুমাত্র ক্ষমতার লোভে ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশকে বহির্বিশ্বের কাছে নোংরা ভাবে হেয় করা হয়েছে, শুধু কি তাই সেই সাথে বেগম জিয়াও কি নিজের ব্যক্তিত্বকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেন নি?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমরা বড় অভাগা দেশের অভাগা মানুষ। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নুন আনতে পান্তা ফুরায়। আমরা অক্ষমের মত চারপাশে ঘটে যাওয়া খুন-ধর্ষণ-দুর্নীতি দেখি আর মনে মনে ফুসতে থাকি। দিনকে দিন বেড়েই চলেছে আমাদের নিষ্ফল আক্রোশ, অপেক্ষায় আছি কবে হাতে একটা সিল আর ব্যালট পেপার পাব। সেদিন সকল আক্রোশ এর প্রতিফলন ঘটবে ব্যালট পেপারে। ১৬ কোটি মানুষের এই দেশে একটা পদ্মা সেতু হয়তো জনগণের টাকাতেই শেষ পর্যন্ত করা যাবে, কিন্তু সেই সেতু নির্মাণ নিয়ে এতদিন ধরে যে নাটক চললো তা কি জনগণ আদৌ ভুলতে পারবে? পারবেনা, বরং এই নাটকের শেষ অঙ্ক, যেখানে আবুল হোসেনকে বাঁচাতে আপনার সরকার মরিয়া হয়ে উঠেছিল, সেটি জনগণের আক্রোশে আগুণ জ্বালিয়ে দিবে। নীতিগত কারণেই হয়ত অনেকে বিএনপি-জামাত কে ভোট দিবে না, কিন্তু তারা আপনার দলকেও আর ভোট দিবে বলে আমার মনে হয় না। যেহেতু আমাদের দেশে শক্তিশালী কোনও তৃতীয় পক্ষ নেই কাজেই এর ফলাফল হবে বিএনপি-জামাতের নিরঙ্কুশ বিজয়। আপনার হয়তো কিছুই হবেনা, আপনি পাঁচ বছর মাঠ গরম করবেন পরবর্তী নির্বাচনে জেতার জন্য, কিন্তু দেশের বারোটা বেজে যাবে। এমন নয় যে আপনার সরকার ইতোমধ্যেই দেশের বারোটা বাজায় নি, কিন্তু এই বারোটা আর ঐ বারোটার মধ্যে বিস্তর তফাৎ আছে। জনাব মাহমুদ মজুমদারদের মত এমআইটি গ্রাজুয়েটরা আপনার আমলেও যেমন আমাদের সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকুরী পাচ্ছেন না, তখনও ঠিক তাই হবে। দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি, পদ্মা সেতু কেলেঙ্কারি, রেলমন্ত্রীর কালো বিড়াল সবই থাকবে শুধু থাকবেনা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আর যোগ হবে মৌলবাদ-জঙ্গিবাদ, তৈরি হবে বাংলা ভাই, রুদ্ধ হয়ে যাবে বাক স্বাধীনতা, এই যা।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশে এখনও বাক স্বাধীনতা রুদ্ধ হয়ে যায়নি এই বিশ্বাস নিয়েই সাধারণ জনগণের একজন হিসেবে আপনার কাছে এই খোলা চিঠি লিখলাম। আপনাকে হেয় প্রতিপন্ন করার কোনও উদ্দেশ্য নিয়ে নয় বরং নিজের ভেতরে ফুসতে থাকা আক্রোশ কে স্তিমিত করতেই এটি লিখলাম, যাতে করে আগামী নির্বাচনে মনের ভেতর জলতে থাকা ক্ষোভ ব্যালট পেপারে না প্রকাশ পায়। আপনার দীর্ঘায়ু কামনা করছি।
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:৫০
বিভ্রান্ত নাগরিক বলেছেন: এই তথ্যটি আমার জানা নেই, আমি যা জানি তাই লিখেছি মাত্র। আপনি তথ্য প্রমান সহ এই বিষয়ে একটা লেখা পোস্ট করলে বোধ হয় ব্যপারটা জানা যেত।
২|
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১১:০০
টয় বয় বলেছেন: হ, সুরন্জিত যে রাইতের বেলা টেকার বস্তা লইয়া ধরা খাইছে, সেইটার তথ্যও প্রমানও দেশ বাসীর কাছে নাই ![]()
![]()
![]()
তয় প্রমান দেওয়া হইবো ভোটের বাক্সে ![]()
![]()
৩|
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১১:০৩
শোয়েব হাসান বলেছেন: Vai, pm k ato vlo katha likheshen. Eto vlo kathar joggota unar nai .
৪|
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:৫১
জিনিয়াস_মাহ্ফুজ বলেছেন: ভাই বোকার রাজ্জে বাস করছেন। এত ভদ্র কথা?
©somewhere in net ltd.
১|
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:৩০
টয় বয় বলেছেন: পদ্মা সেতুটা খাইছে হাসিনা আর রেহানা, আবুল হইলো বলির পাঠা মাত্র!!