নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

রঙ্গে ভরা বঙ্গ

বিদূষক

বাকী রাখা খাজনা, মোটে ভালো কাজ না

বিদূষক › বিস্তারিত পোস্টঃ

শূন্যস্থান - ছোট গপ্পো

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ১১:০৭

প্রকৃতি শূন্যস্থান পছন্দ করেনা।



ঘটনাটা ঘটেছে আজ বিকেলে; বড় মসজিদে আছরের আজান দেয়ার সাথে সাথে। মসজিদের সামনে গোলচত্বরে ভিখেরিটা বসেনি আজ; বৃষ্টির জন্য হয়তোবা। বৃষ্টির জন্য হয়তো পোস্টম্যানটাও আসেনি। অবশ্য পোস্টম্যানটা আজকাল বড্ড বেশী ফাঁকি দিচ্ছে; বুড়ো হলে যা হয় আর কি! পোস্টম্যান যার চিঠি নিয়ে আসতো প্রতিদিন, সেই মালতী নামের ডাগর চোখের মেয়েটির বিয়ে হয়ে গেলো গতো রাতে। শ্বশুরবাড়ি যাবার সময় সে কী কান্না মেয়েটির! কাঁদতে কাদঁতে বেহুশ হয়ে পড়ে গিয়েছিলো মেয়েটি। পরে নতুন বর মেয়েটিকে পাঁজাকোলো করে গাড়িতে উঠিয়ে নেয়। মালতীর বরকে অবশ্য এলাকার সবাই কমবেশী চেনে। সরু গোফ, কানে সিগারেট গোঁজা, পরিপাটি করে চুল আঁচড়ানো লোকটি যার হয়ে কাজ করে, সেই সেলাই সুমনের নামে বাঘে হরিণে এক ঘাটে জল না খেলেও এই এলাকার মানুষ খায়। গেলো মাসের প্রথম শুক্রবার চাঁন মিয়াকে বস্তায় ভরে মুখ সেলাই করে আঁড়িয়াল নদীতে ফেলে দিয়েছিলো কে! সেলাই সুমন। এলাকার সবাই এই খবর রাখে। সেলাই সুমন যেদিন এলাকার বড় রাস্তা দিয়ে হাঁটে, সেদিন তৈয়ব মাস্টারের বাড়ির কুকুরটাও ঘেউ ঘেউ করা বন্ধ করে দেয়। তৈয়ব মাস্টার অবশ্য এসব ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামায় না; সবসময় নিজের মনে থাকে কিনা! মাস্টারকে দেখে সবাই আড়ালে হাসে। হাসবে নাই বা কেনো! সবসময় বিড়বিড় করে মুখে মুখেই অংক কষে লোকটা। আর অন্যদিকে দেখুন, এই অংক পরীক্ষায় ফেল করায় হিন্দুবাড়ির প্রদীপকে তার বাবা পিটিয়ে জ্বর বাঁধিয়ে দিয়েছিলো গতো মাসে। প্রদীপ অবশ্য এম্নিতে অনেক ভালো ছাত্র। শুধু অংকেই ডাব্বা মারে। অবশ্য সেটা সে পুষিয়ে দেয় দৌড় খেলায়। যা দৌড়ুয় না ছোঁড়াটা! গতো বছর তো পাশের এলাকার সবুজের সাথে টেক্কা দিয়ে দৌড়ে জিতে গিয়েছিলো। সে কী দৌড় দিয়েছিলো ছেলেটি! দৌড়ুবে না! এলাকার সম্মান বলে কথা! সবুজ অবশ্য দু’একবার ল্যাং মেরে ফেলে দিতে চেয়েছিলো প্রদীপকে; কিন্তু সুবিধা করতে পারেনি। সবুজের এম্নিতে ওদের এলাকায় বেশ নাম ডাক আছে। সবুজের নানা ছিলেন মস্ত দৌড়বিদ; সেকালের চ্যাম্পিওন। এখন অবশ্য একটা বারোয়ারি দোকানে বসে বসে হাতপাখা দিয়ে নিজের শরীরে বাতাস দিয়ে দিয়ে সময় পার করে। তা করবে নাই বা কেনো! সবুজের বাবা-ই সমস্তকিছু দেখাশোনা করে যে! দোকানের আগে সেখানে একটা পুরোনো কুড়েঘর ছিলো। সবুজের নানা সেটা পুরো সাফ করে বেশ বড় করে দোকান দিয়েছিলেন। দোকান দেয়ার সময় অবশ্য ঐ এলাকার বড় হুজুর বলেছিলেন যে ব্যবসা ভালো হবেনা, অনেক ক্ষতি হবে। কূড়েঘরে নাকি জ্বীনরা আসা যাওয়া করতো, সবুজের নানা সেটা ভেঙ্গে দেয়ায় তারা খুব রেগে গিয়েছে। সবুজের নানা সেটা হেসে উড়িয়ে দিয়ে দিব্বি দোকান ফেঁদে বসে আছেন তাও তো কম করে হলে ৩৫ বছর হবে। এতোদিনে দূর্ঘটনা বলতে শুধু ঐ যে মালেক কাঠমিস্ত্রি দোকানে কাজ করেছিলো না! সে পা ফসকে মই থেকে পড়ে গিয়ে পঙ্গু হয়ে গিয়েছিলো। আরে বাবা অসাবধানে কাজ করলে তো এমন হবেই! তার জন্য তো আর জ্বীনকে দোষারোপ করা যায়না, নাকি! আর মালেকেরও স্বভাব যে খুব একটা ভালো তা কিন্তু নয়। সব সময় তাড়ি খেয়ে পড়ে থাকবে, সপ্তাহে একদিন দুইদিন কাজ করবে, কিছু পয়সা কামাবে, আবার তাড়ি খেয়ে পড়ে থাকবে। এই জন্যতো তার বউটাও টিকলো না; পাশের এলাকার নবীনের সাথে ভেগে গেলো। নবীনের অবশ্য বউটার থেকে বয়স কম। তাই বলেতো আর প্রেম বসে থাকেনা! প্রেম যে বয়স মানে না, নবীন তার জ্বলজ্যান্ত উদাহরন। নবীনের বাবা অবশ্য সেটা মেনে নেয়নি। নবীনকে তিনি ত্যাজ্যপুত্র করেছিলেন। নবীন বিয়ের দিনই নতুন বউ নিয়ে ঘটি জঙ্গলে চলে গিয়েছিলো। লোকমুখে শোনা যায় ডাকাতরা সেই রাতেই নবীনকে মেরে রেখে নবীনের বউকে উঠিয়ে নিয়ে চলে যায়। ডোবার ধারে পড়ে থাকা নবীনের লাশ পেলেও নবীনের নতুন বউ এর কোনো হদিস মেলেনি আজো।



প্রকৃতি শূন্যস্থান পছন্দ করেনা।



তাই, আজ বিকেল ৫টায়, বড় মসজিদে আজান দেয়ার সাথে সাথে নবীন আবার জন্মগ্রহন করে।



মন্তব্য ৪ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ১১:১২

মফিজ বলেছেন: ভালো।বানান বিরবির/বিড়বিড়?

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ১১:১৫

বিদূষক বলেছেন: ধন্যবাদ।

বানান ঠিক করে দিয়েছি।

২| ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ১১:২২

মফিজ বলেছেন: নবীন জন্ম নিল কোন ঘরে?

৩| ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ১১:৫০

অপূর্ণ রায়হান বলেছেন: ছোট গল্পের জন্য অনেক বেশী চরিত্র আর ফাস্ট হয়ে গেলো না ! শেষ লাইনে দ্বিধায় পরে গেলাম ।

ভালো থাকুন ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.