| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সুখ কি সুখের কারন হয়? হয়না। অনুরূপভাবে দুঃখ আসে সুখের বারতা নিয়ে। দুঃখ আছে বলেই সুখ প্রাপ্তির জন্য হাহাকার। আবার সুখ আছে বলেই দুঃখের চলে রমরমা ব্যবসা।
জীবন সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, রাগ-ভালবাসার কঙ্ক্রিটে নির্মিত একটি ছিমছাম অট্টালিকা। না...। বরং জীবন হলো ছনের চালা ও চাটাই নির্মিত এক গরীব ভিখারীর ঘর। সবসময় তার বাঁচার জন্য আপ্রান চেষ্টা। এ চেষ্টা চলতে থাকে অবিরত। গ্রীষ্মে তার চেষ্টা সুশীতল ছায়া খোঁজা, বর্ষায় উঁচু ভিটা, শীতে কোমল উষ্ণতা। তার নিরন্তর আপ্রাণ চেষ্টা শুধুমাত্র টিকে থাকার জন্য। সে যেন বানের স্রোতে পড়া একটি কচুরীপানা কখনও তা হারিয়ে যায় পানির পাকে, আবার জেগে ওঠে সূর্য্যের আলোয় স্নান করতে, কিন্তু ঢেউয়ের আছাড়ে আছাড়ে তার সর্বাংগ হয়ে যায় ক্ষতবিক্ষত। কিন্তু না... জীবন কচুরিপানার মত অত সবল নয় যে স্রোতের তরঙ্গের তালে তাল মিলিয়ে নৃত্য করতে পারে। জীবনকে বলা চলে কর্পূরের মত। কর্পূরকে যেমন পানিতে ছেড়ে দিলে কিছুক্ষন নাচানাচি করে করে অবশেষে বিলীন হয়ে যায়। অনুরূপভাবে জীবন অবলীলায় নাচানাচি করতে করতে করতে কোন সময় বিলীন হয়ে যায় সে নিজেও টের পায়না। কিন্তু এটাতো জীবনের স্বার্থকতা হতে পারেনা। জীবনের স্বার্থকতা তখনই হয় যখন সে তার অস্তিত্ব সম্পর্কে সচেতন হবে। ক্ষণিকের উম্মাদনায় উম্মাদ হওয়া যেমন জীবনের সাজে না, তেমনি জরজীর্ণ বার্ধক্য নিয়ে পড়ে থাকাও জীবনের জন্য বেমানান। জীবনকে একই সাথে হতে হবে চড়ুইয়ের মত চঞ্চল, মাছরাঙ্গার মত ধৈর্য্যশীল, ঈগলের মত তীব্র, হিমালয়ের মত স্থবির। জীবনকে একই সাথে হতে হবে বসন্তের মৃদু হাওয়া আবার মরু সাইমুমের দূর্বার ঝড়। সুখকে গ্রহণ করার জন্য যেমন তার থাকতে হবে আতিথিয়তার বিশাল হৃদয় তেমনি দুঃখের বিরূদ্ধে তাকে হতে হবে বজ্রের মত নির্ঘোষ। আর এ সকল কিছুর মাঝে খোঁজ করতে হবে তার অস্তিত্ব, জানতে হবে তার প্রকৃত উদ্দেশ্য। কি কারনে তার আগমন? কোথায় সে আছে? কতদিন থাকবে? কোথায় তার যবনিকা? সেখানে গিয়ে কি হবে? কি করলে সেখানে ভাল হবে? ইত্যাদি ইত্যাদি......।
সুখ যেমন জীবনের খাদ্য-পানীয়, তেমনি দুঃখের পরেই তা মেলে। কথায় বলে “কষ্ট না করলে কৃষ্ট না মেলে”। সুতরাং, কষ্টের জীবনের মাধ্যমেই তো সুখের জীবনের আশা করা যায়। শুধু আশা করলেই চলবে না। আশার পিদিমের জ্বালানী তেলও সংগ্রহ করতে হবে, আবার দিয়াশলাইও থাকতে হবে। তবেই তো আশার পিদিম উজ্জল করবে চারিদিক, তবেই তো বিদুরিত হবে নিরাশার অন্ধকার। আর এই আশার পিদিম দিয়েই জ্বালতে হবে সফলতার মশাল। সেই মশাল হাতে নিয়ে আলোকের বাহনে চড়ে রাজ কুমারের বেশে যেতে হবে অসীমের পথে। এই তো জীবনের সফলতা, যেখানে সুখ দুঃখ একই মায়ের পেটের দুই যময ভাই। আর তাইতো কবির কন্ঠে ধ্বনিত হয়-
কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন –
কমল তুলিতে,
দুঃখ বিনা সুখ লাভ
হয় কি মহিতে
©somewhere in net ltd.