| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আমি আর অনির্বাণ হাটছিলাম সীন নদীর ধার ঘেসে , জনাকীর্ণ প্যারিসের রাস্তা হাটা আমাদের প্রবাস জীবনে "দেশে তিনবেলা ভাত খাওয়ার" মত ! অনেকক্ষন ধরে চুপচাপ হাটার পর আমার একটু খোচাতে ইচ্ছে হল । !
"ধুর শালা তুই একটা খ্যাত !"
অনির্বাণ অবাক চোখে তাকিয়ে বলল " কেন ! "
"শালা প্যারিসে থাকিস, আশেপাশে ফ্যাকাল্টিতে কত ফুরফুরে ফরাসি তন্বীরা ঘুরে বেরায় , তোকে কোন দিনই শুনলাম না কারো ওপর ক্রাশ খেয়েছিস ! তুই শালা একটা আস্ত বোর! তোরে দিয়ে কিছু হবেনা !"
"হু হু তুই যা ভাবিস , ভাব ! "
আমি খানিকটা হতাশ হয়ে বললাম," আরে শালা বল না ! কাকে ভাল্লাগে তোর ? ঐ যে অ্যাান্দ্রে মেরি ওই মেয়েটাকে না ? বল না বিশ্বাস কর আমি লাইন মারবোনা , বল শালা" ।
"ধুর ওসব ক্রাশটাশ আমায় দিয়ে হবেনা ! "
আমার তখন সন্দেহ হল , শালা তলে তলে দেশে প্রেমিকা রেখে আসেনিত ? ভুরু কুচকে ওকে জিজ্ঞাসা করলাম , " ভাই বলত তোর কাহিনী কী ! মানে দেশে কেউ আছে না ? বাহ আমার হাড়ির সব খবর জানিস আর আমাকে তোর প্রেমের সুবাসটাও
পেতে দিস না "
"আরে ভাই তুই আবার কি ভাবিস ধুর ! ওরকম কিছু না আসলে আমার কাউকে ভাল লাগে না , আমি কী করবো বল !"
"আসলেই ? তোর কখনই কাউকে ভাল ... ? "
"হু লেগেছিল একজনকে " সীনের শান্ত পরিষ্কার পানির দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল অনির্বাণ ।
" আমরা পাড়ার দক্ষিণ দিকের মাঠে খেলতে যেতাম , মাঠের পাশে বড় একটা দেয়ালঘেরা বাড়ি ছিল ! সম্ভবত মাঠটাও ওই বাড়ির মালিকের , প্রাচীরের ওপারে অনেক আম জাম পেয়ারার গাছ উকি দিত! কিন্তু আমাদের কখনো চুরি করে খেতে হয়নি ,
প্রাচীরের ওপার থেকে আমরা পেড়ে খেতাম কেউ কিছু বলত না! একদিন বিকেলে আমাদের খেলার বলটা প্রাচীর টপকে বাড়ির ভেতরে চলে গেল! সেই প্রথমবার ও বাড়িতে প্রথম ঢুকলাম। বাড়ির সদর দরজা পেরোয় লম্বা ইটের রাস্তা সামনে এগিয়ে দুটো বাক নিয়েছে ।
একটা ধরে এগোলে ঘরগুলো দেখা যাচ্ছে আর আরেকটা বাম পাশের বাগানের দিকে চলে গেছে ।
আমার মনে হল এ বাড়িতে অনুমতি না নিয়ে বল খোজা ঠিক হবেনা , ইটের রাস্তা ধরে এগোতে এগোতে আমার একজনের সাথে দেখা হয়ে গেল । তিনি বললেন , " খোকা তুমি কে ? কাকে খুজছ ? "
"আসলে মাসিমা, আমাদের খেলার বলটা প্রাচীর টপকে এপাশে পরে গেছে , তাই খুজতে এসেছিলাম" লজ্জিত আর ভীত আমি উত্তর দিলাম । উনি হেসে বললেন " ও তাই বল ! আচ্ছা সম্ভবত বাঁ পাশের বাগানে পড়েছে , তুমি বাগানে খুজে নাও , ওহ তা তোমার নামটা জানা হল না !"
আমি নাম বলে বাগানের দিকে হাঁটতে লাগলাম।
ঘাসের দিকে তাকাতে তাকাতে বল খুজতে খুজতে আমি যখন সামনে আগাচ্ছিলাম , পেয়ারা গাছটা পেরোতেই আমি স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম !
যেখানে ঘাস একদম সবুজ আর অনেকগুলো আমের গাছ ঠিক তাঁর মাঝে একটা পাটি বেছানো আর তাতে সরস্বতী ঠাকুর বসে আছেন ! আমি চোখ কচলে আবার তাকালাম হু ঠিক দেখছি ! সাদা শাড়ি, কোমড় পর্যন্ত লম্বা চুল , সামনে একটা মোটা বই নিয়ে উবু হয়ে পাটিতে শুয়ে বই পড়ছেন !
কিন্তু বীণা দেখতে পাচ্ছিনা তো কোথাও ! অবিকল সরস্বতির মত কোমল মুখ , কী গভীর মনোযোগ দিয়ে বই পড়ছেন । কী একটা শান্তি ভাব তাঁর চোখে মুখে আমি যে এসে দাড়িয়েছি উনি বোধয় বুঝতেই পারেনি ! আমি ভাবলাম আমি বোধয় স্বর্গে চলে এসেছি ভুল করে ।
হটাত উনি বোধয় আমাকে দেখতে পেলেন , আমার অবাক ভাবটা কেটে গেল যখন উনি বললেন , " কে ভাই তুই?"
তুই ?
আরে হা উনি তো দেবী নন ! উনিশ কুড়ি বছরের কেউ ! আমি ক্লাস সেভেনে পড়ি উনি আমাকে তুইই ডাকবেন ! আমি মাথা চুল্কে বললাম , আমার নাম অনু , আমাদের খেলাম বলটা এপাশে হারিয়ে গেছে "
উনি অবাক চোখে বললেন , " ও তাই ? আমি কোন শব্দ পাইনি তো ! আচ্ছা খুজে দেখ !"
এই বলে তিনি পড়ায় ফিরে গেলেন ।
আমি কোন রকমে বলটা খুজে নিয়ে ঝড়ের বেগে বেড়িয়ে এলাম বাইরে ! ওদিন আর খেলতে পারিনি ।
তারপর থেকে আমার আর ভাল লাগেনা কিছুই , আমি যেদিকেই যাই যাই করি আমার শুধু মনে পড়ে একজন সাদা শড়িতে খোলা চুলে বই পড়ছে ঘাসে উবু হয়ে শুয়ে !
আমার মাঠে যাওয়া কোনদিনই বাদ যায় না , বাদলা দিনেও আমি সবাইকে টেনে মাঠে চলে যেতাম আর বল আমার চেয়ে বেশি ও বাড়িতে পাঠানোর চেষ্টা আর কেউই করেনি বোধয় !
দুএকবার যে বল আর যায়নি তা না ! কিন্তু তাকে আমি আর দেখিনি ...
বুঝলি, সেই শুভ্র শাড়ি , সেই কালো চুল আর উবু হয়ে বসে বই পড়া ....... "

২|
২১ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১২:২৯
শেয়াল বলেছেন: অণু গল্পটা চখাম হইছে ! মনে ধরছে বড়ো ।
২২ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১২:১৭
বিন্দুভর বলেছেন: ধন্যবাদ !
৩|
২১ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১২:৫৪
মোটা ফ্রেমের চশমা বলেছেন: ভাল্লাগসে!
২২ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১২:০৯
বিন্দুভর বলেছেন: ধন্যবাদ !
©somewhere in net ltd.
১|
২১ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১২:২৫
শেয়াল বলেছেন: বন্ধু কিমুন আছত ?