নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অন্যদের সেভাবেই দেখি, নিজেকে যেভাবে দেখতে চাই। যারা জীবনকে উপভোগ করতে চান, আমি তাঁদের একজন। সহজ-সরল চিন্তা-ভাবনা করার চেষ্টা করি। আর, খুব ভালো আইডিয়া দিতে পারি।

সত্যপথিক শাইয়্যান

আমার কাছে অনেক আইডিয়া আছে এবং আমি তা ব্লগে এপ্লাই করি! জানেনই তো, পৃথিবীর সব কিছুর মূলে রয়েছে আইডিয়া!

সত্যপথিক শাইয়্যান › বিস্তারিত পোস্টঃ

১১ দলীয় জোট থেকে ইসলামী আন্দোলনের প্রস্থান: এন,সি,পি থেকে বেরিয়ে যাওয়া জেনজি-দের কাছে টানার সুযোগ সৃষ্টি করেছে

১৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:০৫



আজ শুক্রবার জুমা’র পর অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে এসেছে। এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি জোট ছাড়ার ঘটনা নয়; বরং এটি বাংলাদেশের ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের রাজনৈতিক মানচিত্রে একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। জোট ছাড়ার পর দলটি ঘোষণা দিয়েছে—তারা আগামী নির্বাচনে ২৬৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এই আত্মবিশ্বাসী অবস্থানই বলে দিচ্ছে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নিজেকে আর প্রান্তিক শক্তি হিসেবে দেখছে না।

এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হচ্ছে—জেনজি (Gen Z) ভোটারদের সেই অংশটি, যারা এনসিপি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল জামায়াতের সঙ্গে জোট করার সিদ্ধান্তে হতাশ হয়ে, তারা যদি এখন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে কী হতে পারে?

জেনজি ভোটাররা মূলত তিনটি বিষয়ের প্রতি সংবেদনশীল—নৈতিকতা, স্বচ্ছতা এবং ভবিষ্যৎমুখী রাজনীতি। জামায়াতের সঙ্গে ঐতিহাসিক বিতর্ক, রাজনৈতিক অতীত এবং আন্তর্জাতিক ইমেজের কারণে এই তরুণদের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে দূরে সরে গেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সেই জায়গাটিতেই একটি বিকল্প নৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে হাজির হতে পারে। দলটির তুলনামূলকভাবে দুর্নীতিমুক্ত ভাবমূর্তি, সহিংসতাবিমুখ রাজনীতি এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের ভাষা তরুণদের আকর্ষণ করার সক্ষমতা রাখে।

যদি এই জেনজি অংশটি সাংগঠনিকভাবে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়—তাহলে তার প্রভাব হবে বহুমাত্রিক।
প্রথমত, দলটি শহুরে ও শিক্ষিত তরুণ ভোটব্যাংকে শক্ত অবস্থান তৈরি করবে।
দ্বিতীয়ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল ক্যাম্পেইনে ইসলামী আন্দোলনের উপস্থিতি বহুগুণ বাড়বে।
তৃতীয়ত, দলটির রাজনৈতিক ভাষ্য আরও আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রজন্মবান্ধব হয়ে উঠবে।

এই সমন্বয় যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তাহলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শুধু ইসলামী ভোটারদের দল হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি একটি বিস্তৃত জাতীয় রাজনৈতিক জোটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে। এতে মধ্যমপন্থী ভোটার, কিছু আওয়ামী সমর্থক, সেক্যুলার কিন্তু নৈতিক শাসন প্রত্যাশী জনগোষ্ঠী—সবার জন্যই দলটি গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।

এই বাস্তবতায় আমার ধারণা যে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠন করতে পারে, তা আর নিছক কল্পনা নয়। অবশ্যই এর জন্য প্রয়োজন হবে দক্ষ নেতৃত্ব, বাস্তবসম্মত ইশতেহার, তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নির্বাচনপূর্ব কৌশলগত ঐক্য। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে এসে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এখন এমন এক পথে হাঁটছে, যেখানে তারা কেবল প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং ক্ষমতার সম্ভাব্য দাবিদার।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে হয়তো আমরা একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি।

মন্তব্য ১১ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১১) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:১১

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ ২০১৮ সাল থেকেই আমার প্রিয় দল

১৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:২৭

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:



আমি আওয়ামী আমলেও তাঁদেরকে ভোট দিয়েছি।
আর, এখন তো দেবোই, ইনশাআল্লাহ।

ধন্যবাদ নিরন্তর।

২| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:১৩

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: ২০১৮ সালে তাদেরকে হেনস্থা করা হয়েছে,ভোটকেন্দ্র থেকে সাধারন ভোটারদেরকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিলো।চরম অপমান বোধ করেছিলো সেদিন জাতি

১৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:২৮

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:



তাঁরা বাংলাদেশের আসল বিপ্লবী দল। সব সময়ে স্রোতের উল্টো দিকে হেঁটেছেন।
এরজন্যে, আওয়ামী সময়ে কম হেনস্থার শিকার হতে হয়নি দলটিকে।
নায়েবে আমিরকে পর্যন্ত আওয়ামী সন্ত্রাসীরা মেরেছে।

শুভেচ্ছা নিরন্তর।

৩| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৩৬

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: চরমোনাই জামাতের ক্ষতি করতে জোটে গিয়েছে । এদের ভাবনা হলো জামাত কে ডিঙিয়ে ১ম ইসলামিক পলিটিকাল দল হবে । হাবো না কাদবো এদের এসব নটানকি দেখে । ;)



১৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৪২

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:




আপনার ধারণা ভুল।
জোট ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গঠন করেছিলো। অন্য কোন দল নয়।

শুভেচ্ছা।

৪| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:৪৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




ইসলামপন্থি ভোটারদের মাঝে বিভাজনের ফলে
আখেরে বি এন পি লাভবান হবে বলে মনে হয়।

১৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:




ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট ছেড়ে দেওয়াই এক দিক দিয়ে ভালোই হয়েছে।
আমাদের দেশের মুসলমানরা আর বিভ্রান্ত হবেন না।
রাজনীতির জন্যে মুসলমানদের ঈমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করা উচিৎ হচ্ছিলো না।
জামায়াত ঘোষণা দিয়েছিলো তাঁরা ক্ষমতায় গেলে- ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা করবে না। এরকম একটি ঘোষনা দেওয়ার পরে, সেখানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মতো একটি ইসলামী দল থাকতে পারে না।

সেটাই ঘটেছে এখানে।

ধন্যবাদ নিরন্তর।

৫| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১০

রাজীব নুর বলেছেন: পড়লাম।
সময় সব ঠিক করে দিবে।

১৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:



ঠিক হলেই হয়।
ধন্যবাদ নিরন্তর।

৬| ১৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৪৪

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: জেনজি ভোটাররা মূলত তিনটি বিষয়ের প্রতি সংবেদনশীল—
নৈতিকতা, স্বচ্ছতা এবং ভবিষ্যৎমুখী রাজনীতি।

.........................................................................................
এর প্রধান মুখপাত্র ছিল এন.সি.পি,
যারা নিজেদের অসীম সম্ভামনাময় শক্তিকে অনুধাবন করতে
না পেরে জামায়তে বিলীন হলো ।
সে কারনে শামান্তা, জারার ক্ষোভ দু:খের শেষ নাই ।
সেখানে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ, ভালো কিছু করতে পারবে
বলে আমি বিশ্বাস করতে পারছিনা ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.