নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বায়োবাংলা

বায়োবাংলা › বিস্তারিত পোস্টঃ

বায়োটেক বাংলাদেশ (পার্ট -১) : টেক্সটাইল এনজাইম

০৮ ই এপ্রিল, ২০১৩ রাত ২:৫৮

এনজাইম উৎপাদন বাংলাদেশে এখোনো জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি, কিন্তু এনজাইমের ব্যবহার বাংলাদেশে বহুগুনে বৃদ্ধি পেয়েছে । আমি কিছুদিন টেক্সটাইল এনজাইমের উপরে কাজ করেছিলাম । তারই অভিজ্ঞতা থেকে এই লেখা ।



মূলত ছয়টি এনজাইম টেক্সটাইলে ব্যবহার করা হয়ে থাকে । এগুলো হল : (1) Cellulase, (2) Protease, (3) Lipase, (4) Amylase, (5) Catalase, (6) Xylanase । বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় Cellulase ও Catalase এনজাইম ।



২৫০ টির ও বেশি টেক্সটাইল মিল থাকলেও এনজাইমের দাম চড়া হওয়ায় অনেক ফ্যাক্টরিতে এখানো খুব বেশি এনজাইম ব্যবহার করা হয়না । এই এনজাইম গুলো উৎপাদন করা খুব একটা ঝামেলা নয়, ঝামেলা হল এদের পিউরিফিকেশন এ । পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি Cellulase এর শিল্পোৎপাদন করা হয় একধরনের রিকম্বিন্যান্ট ছত্রাক থেকে । যখন আমি এ বিষয় নিয়ে কাজ করেছিলাম তখন দেখেছিলাম বাংলাদেশে প্রচুর এজাইম ইমর্পোট করা হয়ে থাকে । কিন্তু দেশে কোন উৎপাদনের আগ্রহ নেই । এর কারণ মূলত দুটি ।

এক, বায়োটেক দেশী প্রোটাক্ট এ কোম্পনীগুলোর কোন ভরসা নেই তাই তারা বাইরের আমদনীকৃত এনজাইমই ব্যবহার করে ।

দুই, যারা এনজাইম উৎপাদন করবে তাদের সাথে ইমর্পোটারদের কোন লিঁয়াজো নেই ফলে দেশী বায়োটেক প্রোডাক্ট মার্কেটিং করার সম্ভাবনা শূণ্য ।



একটা বিষয় এখানে পরিস্কার করে রাখা ভাল, এনজাইম বিক্রি ইমপোর্টারদের সহাজ্য ছাড়া করা অসম্ভব কারণ টেক্সটাইল রি-এজেন্ট গুলি বিক্রি হয় মূলত ব্যাক্তিগত সম্পর্কের জোরে । এখানে বিভিন্ন্ কোম্পানীর জিএম বা এমডি রাই শেষ কথা । সুতরাং গতানগুতিক মার্কেটিং পদ্ধতি এখানে খাটবেনা । আমার মতে টেক্সটাইল এনজাইম যারা দেশীভাবে উৎপাদন করতে চান তাদের সুনির্দিষ্ট কিছু পথ ধরে এগুতে হবে ।



প্রথমেই এনজাইম উৎপাদনের সাথে যুক্ত কেরতে হবে ইউনিভর্সিটি অব টেক্সটাইলের শিক্ষকবৃন্দকে যাদের সম্মতি ছাড়া এই সেক্টরের উৎপাদন ব্যবস্থা সার্টিফাইড হবেনা । এরপর মাইক্রোবায়োলজী ও বায়োকেমিষ্ট্র ডিপার্টমেন্ট : যাদের সাহাজ্য ছাড়া এ উৎপাদনই সম্ভব নয় । অ্যাপ্লাইড কেমিষ্ট্রি : শিল্পোৎপাদন বা কেমিক্যাল ফ্যাক্টরিগুলোর সাথে এই ডিপার্টমেন্টের সম্পর্ক সবচেয়ে জোরালো । সম্পূর্ন হল উৎপাদন ব্যাবস্থা : ডিজাইন্ড, সার্টিফাইড ও ভ্যালিডেটেড ।



দ্বিতীয়ত, এই উৎপাদন ব্যাবস্থাকে এবার যেতে হবে কোন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে জয়েন্ট ভেঞ্চারে । অখবা সরকারি উদ্দোগ সহ ইমপোর্টারদের সাথে লিঁয়াজোতে । যদি মান নিয়ন্ত্রন ও সল্প মূল্যে সরবরাহের প্রতিশুতি দেয়া হয় তাহলে হইতো ইমর্পোটারা একটি সমঝোতায় আসবেন । তবে সরকারী ভূমিকা এখানে সবচেয়ে জোরালো । বিশেষ করে যদি প্রর্যাপ্ত পণ্যের সরবরাহ শিশ্চিত করা হয় তবে বিদেশী পণ্যের(এনজাইম) আমদানীতে সরকার চাইলে কিছুটা রেসট্রিকশন আরোপ করতে পারে । এত করে বাংলাদেশে উৎপাদন আরো জোরালো হবে এবং এই খাতে বিনিয়োগ বাড়বে ।



সবশেষে, এবার মার্কেটিং । বিভিন্ন সভা-সেমিনার করে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিবর্গকে বোঝাতে হবে । পত্রিকায় নিয়মিত আর্টিকেল প্রকাশ করে সরকারের দৃস্টি আকর্ষন করতে হবে । সবচেয়ে বড় কথা জনমত সৃষ্টি করতে হবে । বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সাথে দেখা করে, সংশ্লিষ্ট সরকারী কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করে তাদের বোঝাতে হবে । ইমর্পোটারদের বোঝাতে হবে, প্রায়োজনে তাদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়ে হলেও । বাইরের বায়াদের লবি ধরতে হবে সবচেয়ে বেশি । কারণ তারাই হলো মূল কাস্টমার । আমরা যদি তাদের দিয়ে বলাতে পারি, অফকোর্স তাদের কনভিন্স করতে হবে সবার আগে; তাহলে বাংলাদেশে টেক্সটাইল এনজাইমের উৎপাদর ব্যবস্থায় রীতিমত জাগরণ আসবে ।



কয়েকটি নোট



নোট-১ : টেক্সটাইল থেকে পাশ করে যারা বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে কাজ করছেন তারা অনেকেই এনজাইম এর সম্পর্কে ভাল ধারণা রাখেন না । ফলে কোথায় কোথায় এনজাইমের বিকল্প ব্যবহার হতে পারে তারা ভাল জানেননা । এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ন পদক্ষেপ হতে পারে তাদের বিনামূল্যে সর্পমেয়াদী টেইনিং এর ব্যাবস্থা করা । বা টেক্টাইল বিশ্ব্যবিদ্যালয়ে এতদ সংক্রান্ত কোর্সের ব্যাবস্থা করার বিষয়ে সংশ্লিস্টদের সাথে দেখা করে উদ্দোগ নেয়া ।



নোট-২ : বাংলাদেশে একটা ধারণা আছে যে, এনজাইম থেকে কেমিক্যাল রি-এজেন্ট বেশি সল্পমূল্যের; এটি একদমই ভূল ধারণা । বাইরে থেকে ইমপোর্ট করার ফলেই এনজাইমের দাম বেশি পড়ে ।



নোট-৩ : এনজাইম খুবই সেনসিটিভ হওয়ায় ফ্যাক্টরিতে অনেক সময় ভূল কনসেনট্রেশন ব্যবহার করে অনেক দূর্ঘটনা ঘটে । যেমন, সেলুলেজ এনজাইম একটু বেশি ব্যবহার করলেই পুরো কাপড়টাই গলে যাবার সম্ভাবনা থাকে । তাই যারা এনজাইম প্রস্তুত করবে + যারা এর মার্কেটিং করবে তাদের ১০০% লক্ষ্য রাখতে হবে যেন এর ব্যবহারকারীরা Well trained এবং এনজাইম ব্যবহারের ম্যানুয়ালটি অত্যন্ত পরিস্কার ও সহজবোধ্য । অন্যথায় এনজাইম ব্যবহাকরীদের ট্রেইনিং এর ব্যাবস্থা করতে হবে । তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট ও পরিস্কার ভাবে উর্লেখকৃত ম্যানুয়াল সরবরাহ করতে হবে । শুধু এনজাইম ব্যবহারে এক্সিডেন্টের ভয়ে অনেকে এনজাইম ব্যবহার করতে চায়না ।



নোট-৪ : বাংলাদেশে এনজাইমের মানদন্ড পরিমাপ বা নিয়ন্ত্রন করার জন্য অবশ্যই একটি কমিশন থাকা উচিত



নোট-৫ : বাংলাদেশে কি পরিমান এনজাইমের চহিদা তা নিচের লিংকটিতে গেলেই বুঝতে পারবেন :

Click This Link



নোট-৬ : বাংলাদেশে কি পরিমান এবং কোথায় কত টেক্টটাইল মিল আছে তা দেখতে চাইলে নিচের লিংকটিতে একবার ঘুরে আসুন :

Click This Link





যদি কেও মনে করেন আপনার আরো কিছু বলার আছে তবে কমেন্ট এর ঘরতো রইলই !

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.