নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

Bangladesh my home

বীরেনদ্র

Nothing much to say about

বীরেনদ্র › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাইওফিডব্যাক(Biofeedback)

০৮ ই মার্চ, ২০১১ ভোর ৬:০৬

বায়োফিডব্যাক

বায়োফিডব্যাক এক নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি।প্রচলিত চিকিৎসা থেকে কিছুটা ভিন্ন।এই পদ্ধতিতে রোগী তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গের নিয়ন্ত্রন করার ক্ষমতা অর্জন করে রোগ বালাই থেকে মুক্ত হন। আমাদের শরীরের কাজ করার ক্ষমতা নিয়ন্ত্রিত হয় নার্ভাস সিস্টেম বা স্নায়ুতন্ত্র দিয়ে। স্নায়ুর এক অংশকে আমার ইচ্ছে মাফিক নিয়ন্ত্রন করতে পারি যেমন হাটা, খাওয়া ইত্যাদি। আরো এক অংশ আছে যা স্নায়ু নিয়ন্ত্রিত হলেও ইচ্ছার অধিন নয়। যেমন হৃৎপিন্ডের গতি প্রকৃতি বা রক্তচাপের নিয়ন্ত্রন।।আমরা স্নায়ুর যে অংশকে নিয়ন্ত্রন করতে পারি সেটা হল “ভোলান্টারি নার্ভাস সিস্টেম” আর যে কাজ স্নায়ু নিজেই নিয়ন্ত্রন করে সেটা হল “অ্টোনমিক বা সায়ত্বশাসিত নার্ভাস সিস্টেম ।এই অটোনমিক কাজ গুলোকে ঔষধ দিয়ে নিয়ন্ত্রন করা যায় যেমন উচ্চ রক্ত চাপের চিকিৎসা।আবার এই অটনমিক কাজ গুলোকে সরাসরি নিয়ন্ত্রন না করতে পারলেও আমরা পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রন করতে পারি।উদাহরনস্বরুপ বলা যায় নিয়মিত বায়াম করে ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রন করতে পারি। অনেক স্বায়ত্বশাসিত বা অটোনমিক কাজকে উপযুক্ত ট্রেনিং দিয়ে নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব আর এটাই হল বায়োফিডব্যাক।আমাদের শরীরের কাজগুলো বা বাইওলজিক্যাল একটিভিটিগুলো সম্পর্কে আমাদের মস্তিষ্ককে অবহিত করা হলে বা ফিডব্যাক দেওয়া হলে মস্তিষ্ক ঐ কাজ কে নিয়ন্ত্রন করার ক্ষমতা অর্জন করতে পারে আর এটাই বাইওফিডব্যাক।



বাইওফিডব্যাকের ইতিহাসঃ-ডোনাল্ড শিয়ার্ন ১৯৬২ সালে, ডি কারা এবং নেইল মিলার ১৯৬৮ সালে শরিরের সায়ত্বশাসিত বা অটোনমিক কাজ গূলোকে ইচ্ছা শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব এই মর্মে কিছু পরিক্ষা প্রমান সহ সিদ্ধান্ত উপস্থাপন করেন।এর পর ডাঃ বারবারা ব্রাউন মাইগ্রেন এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে বাইওফিডব্যাক পদ্ধতির কার্যকারিতা প্রমান করেন।শরির ও মনের সমন্বয়ের মাধ্যমে রোগের চিকিৎসাই হল বাইওফিডব্যাক।



পদ্ধতিঃ-

বায়োফিডব্যাক পদ্ধতিতে বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গএর কাজ পর্যবেক্ষনের জন্য বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতির সাহায্য নেওয়া হয়। এই যন্ত্রপাতিগুলো গূলোকে বলা হয় সেন্সর।বিভিন্ন ধরনের সঙ্কেত যেমন আলো শব্দ ইত্যাদির মাধ্যমে সেন্সর যন্ত্র গুলো আমাদের মস্তিস্ককে জানিয়ে দেয় কোন অঙ্গ কেমন কাজ করছে। মস্তিস্ক তখন কাজগুলো নিয়ন্ত্রন করার ক্ষমতা অর্জন করতে পারে এবং কতটুকু ক্ষমতা অর্জন করল তা ও সেন্সর গূলোর মাধ্যমে মস্তিস্ক বুঝতে পারে।এই পদ্ধতিতে একজন থেরাপিস্ট এই সেন্সরগূলো শরিরের বিভিন জায়গায় স্থাপন করেন। মস্তিস্কের কাজ দেখার জন্য রয়েছে ইলেক্ট্রোএনকেফালোগ্রাম, হৃৎপিন্ডের কাজ দেখার জন্য রয়েছে ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম, মাংশপেশীর জন্য ইলেক্ট্রোমায়োগ্রাম, ইত্যাদি।



একটা উদাহরন হল ইলেক্ট্রোমায়োগ্রাফিক বাইওফিডব্যাক।মাংশপেশীর সংকুচিত হয়ে থাকা মাইগ্রেনের মাথাব্যাথার জন্য দায়ী।মাংশপেশীর সংকুচিত অবস্থা একজন রোগী ইলেক্ট্রোমায়োগ্রাম মেসিনের পর্দায় দেখতে পারেন এবং ঐ মাংশপেশী প্রসারন করতে পারছেন বা কতটুকু পারছেন তা ও মেসিনের পর্দায় দেখতে পারেন।উপযুক্ত ট্রেনিং পেয়ে একজন সহজেই মাংশপেশী নিয়ন্ত্রন ক্ষমতা অর্জন করেন।পরবর্তিতে মেসিনের সাহায্য ছাড়াই রপ্তকৃত ক্ষমতা দিয়ে রোগ নিয়ন্ত্রন করে থাকেন।

বাইওফিডব্যাকে এক একটা সেশান ৩০মিনিট থেকে ১ ঘন্টা পর্যন্ত হোয়ে থাকে। এবং নিয়ন্ত্রন ক্ষমতা আর্জন করতে ১০ থেকে ৫০ টা পর্যন্ত সেশানের দরকার পড়ে।

প্রকারভেদঃ- বিভিন্ন ধরনের বায়োফিডব্যাক টেকনিক রয়েছে।



• ইলেক্ট্রোমায়োগ্রাফিক বায়োফিডব্যাকঃ-Electromyography (EMG) biofeedback.



• তাপমাত্রা নির্নয়ক বাইওফীডব্যাকঃ-Temperature (thermal) biofeedback. উদ্বিগ্ন হলে বা দুশ্চিন্তা গ্রস্থহলে হাত পায়ের তাপমাত্রা কমে যায় যেমন অনেক রোগীই হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করে থাকেন।তখন রোগী রিল্যাক্স করা শুরু করতে পারেন।



• গ্যাল্ভানিক স্কিন রেসপন্স ট্রেনিং(Galvanic skin response training. ) এটিতে চামড়ার ঘামের পরিমান দিয়ে উদবেগ বোঝা হয় এবং তা কমানোর ব্যাবস্থা গ্রহন করা হতে থাকে।

• হৃৎপিন্ডের গতি নিয়ন্ত্রন বাইওফিডব্যাক(Heart rate variability biofeedback.) উচ্চ রক্তচাপ, হৃৎপিন্ডের গতিপ্রকৃতি ইত্যাদি নিয়ন্ত্রন করা হয়ে থাকে ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম মেসিনের সাহায্যে।



যে সমস্ত রোগে বাইয়োফিডব্যাক পদ্ধতি কাজ করেঃ-

মাইগ্রেন

দুশ্চিন্তা

এজমা

কৌষ্ঠকাঠিন্য

কোমর ব্যাথা

উচ্চ রক্ত চাপ

ফাইব্রোমায়ালজিয়া

পেটের পীড়া(

পায়খানা বা প্রস্রাব নিয়ন্ত্রনহীনতা

হৃৎপিন্ডের সমস্যা।













সুবিধাঃ-

ঔষধবিহিন

পার্শপ্রতিক্রিয়াবিহিন

ঔষধ সহ্য না করতে পারলে

ঔষধে কাজ না হলে।

গর্ভাবস্থায় ব্যাবহার করা যায়।



উপসঙ্ঘারঃ- বাইওফিডব্যাক সব সময় কার্যকর না ও হতে পারে। ডাক্তারদের মধ্যেও দ্বিমত আছে। তবে উপরের সুবিধা গূলোর জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।



মন্তব্য ৩ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ০৮ ই মার্চ, ২০১১ সকাল ৮:২৭

নষ্ট কবি বলেছেন: ভাল লাগলো

২| ০৮ ই মার্চ, ২০১১ দুপুর ২:৩৭

ফ্যাট পান্ডা বলেছেন: Valo.

৩| ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:৪২

মাধুকরী মৃণ্ময় বলেছেন: ভালো

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.