নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়

জ্ঞান সৃষ্টি এবং বিতরণই লক্ষ্য

প্রফেসর আশরাফ বিশ্বাস

অধ্যাপনা গবেষণা

প্রফেসর আশরাফ বিশ্বাস › বিস্তারিত পোস্টঃ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্কের অবসান হউক

০৬ ই মার্চ, ২০১৩ সকাল ১১:২২

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্কের অবসান হউক





রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকল্পে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে-এজন্য সরকারকে সাদুবাদ জানাই। জাতির জনক বঙ্গঁবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান- এর লালিত স্বপ্ন ছিল শিলাইদহের কুটিবাড়িতে হবে শান্তি নিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়। এই শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথ একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেখানে রবীন্দ্রনাথ নিজে পড়াতেন বাংলা। রবীন্দ্রনাথ তার সাহিত্য ভান্ডারে যা কিছু সঞ্চিত করেছেন তাঁর অনেকাংশ ঘিরে রয়েছে শিলাইদহ। কুষ্টিয়ার শিলাইদহকে ঘিরে তাঁর সাহিত্যকর্ম দাবী রাখে কুষ্টিয়ার শিলাইদহে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস হওয়ার। গত ২৪ শে ফেব্র“য়ারী প্রথম আলো পত্রিকার উপসম্পাদকীয়তে প্রফেসর ড. সাইফুদ্দিন চৌধুরী- এর লেখা থেকে জানা যায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস হবে পাবনার শাহজাদপুরে। সত্যিই যদি তাই হই তবে সেটি হবে জাতির জন্য একটি দূর্ভাগ্য। জাতির পিতার লালিত স্বপ্ন ভেঙ্গেঁ চুরমার হয়ে যাবে। স্বাধীনতা পরবর্তী কলকাতায় দেওয়া তার ভাষণের প্রতিশ্র“তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় জাতির পিতা যেন স্বর্গে বসে কাঁদছে। ১৯৭২ইং এ কুষ্টিয়ার দেওয়া ভাষণে কুষ্টিয়াবাসীর কাছে যে প্রতিশ্র“তি জাতির পিতা দিয়েছিলেন তাতে কুষ্টিয়াবাসী আশা করেছিলেন জাতির পিতার সুযোগ্য কণ্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর পিতার প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী শিলাইদহে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করবেন। কিন্তু শিলাইদহে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তুর ফলক উম্মোচন না করে যখন শাহজাদপুরে ফলক উম্মোচন করা হয়েছে তখন কুষ্টিয়াবাসীর হৃদপিন্ডের মাংসাপেশী ছিড়ে গেছে। ভেঙ্গেঁ গেছে কুষ্টিয়াবাসীর পাজরের হাড়। এ যেন কুষ্টিয়াবাসীর পাজরের হাড় খুলে লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে শাহজাদপুরবাসীকে। সরকারের কর্তাব্যক্তিদের শুভবুদ্ধির উদয় হউক, সাংস্কৃতিক রাজধানী কুষ্টিয়ার শিলাইদহকে ঘিরে রচিত হউক শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি বিষয়ক শিক্ষা ও গবেষনা। বঙ্গবন্ধুর লালিত স্বপ্ন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পূর্ববর্তী ঘোষণা অনুযায়ী শিলাইদহে শান্তি নিকেতনের আদলে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে তা হবে দ্বিতীয় বিশ্বভারতী, এটা শুধু এলাকার নই, বাংলা ভাষাভাষী মানুষের নয়, এটা গোটা বিশ্বের আন্তজার্তিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রাপ্ত বাংলা সংস্কৃতিতে গবেষণায় আগ্রহী ব্যক্তিদের বিদ্যাপিঠে পরিণত হবে। সেখানে ক্ষুদ্র এলাকাপ্রীতিকে টেনে জমাজমির অজুহাত তুলে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে খাটো করে রবীন্দ্রনাথ এবং বঙ্গঁবন্ধুর লালিত স্বপ্নকে আঘাত করা হবে বিশ্ববাসীর বাংলা সংস্কৃতি চর্চার উপর আঘাত।



শাহ্জাদপুর এর বাথান এলাকায় রবীন্দ্রনাথের কৃষি তথা পশুপালন কার্যক্রম এখনো চলমান মিল্ক ভিটার মাধ্যমে। সেখানে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি তথা এনিমেল সাইন্স বিষয়ক শিক্ষা ও গবেষণা প্রাণ পাবে। তাতে কবিগুরুর আত্মাও শান্তি পাবে এভেবে যে সঠিক জায়গায় নির্ধারণ করা হয়েছে ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্স শিক্ষা ও গবেষনার জন্য। শাহ্জাদপুরের বি¯তৃর্ণ বড়াল নদীর চর এলাকায় গো খাদ্য হিসাবে কাঁচা ঘাসের চাষ ও গবেষণা অধিক ফলপ্রসু হবে। ঐ এলাকার মানুষের বংশ পরস্মরায় অধিক দুধ উৎপাদনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।



নওগার পতিসরের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস হতে পারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের সঠিক স্থান।



সর্বপরি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে বাংলা ভাষাভাষি মানুষের যে প্রত্যাশা তা বাস্তবায়িত হউক শিলাইদহে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের মধ্য দিয়ে-উম্মোচিত হউক শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্যের নূতন দিগন্ত এটিই প্রত্যাশা।









প্রফেসর আশরাফ আলী বিশ্বাস

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়

চট্টগ্রাম।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.