| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বিঃদ্রঃ- লেখাটি প্রথমে প্রকাশিত হয়েছে ফেসবুকে নিছক একটি রম্য গল্প
চট্টগ্রাম
সেপ্টেম্বর ১৯৬৭, শনিবার
আমার বাবা পুলিশে চাকরি করে।
প্রতি বছর আমরা এক এক জেলায় যাই।
এই বছর আমরা চট্টগ্রামে এসেছি।
আমি ক্লাস ওয়ানে পড়ি।
আমাদের বাসার সামনে একটা রাস্তা আছে।
রাস্তার পাশে বড় একটা তালগাছ আছে।
রাস্তায় একটা দোকান আছে।
দোকানে চা পাওয়া যায়।
আমি চা তে বিস্কুট ডুবিয়ে খেতে পছন্দ করি।
বিস্কুট ডুবালেই ওটা পরে যায়।
আমি চামচ দিয়ে বিস্কুটটা তুলে খাই।
খুলনা
আগস্ট ১৯৭০, রবিবার
আমরা যে বাসাতে থাকি তার গেটের বাইরে একটা রাস্তা আছে।রাস্তার কাছে একটা তালগাছও আছে। রাস্তার পরে একটা দোকান আছে। দোকানে সিঙ্গারা আর কিমা পুড়ি পাওয়া যায়। জিজ্ঞেস করলাম,চাও পাওয়া যায়। চা তে আমি বিস্কুট ডুবিয়ে খাই।
ঢাকা
জুলাই ১৯৮০, সোমবার
প্রায়ই বাসার বাইরে যাওয়া হয়। আমাদের বাসার প্রধান ফটকের বাইরে অনেকগুলো তালগাছ।সামনের রাস্তা দিয়ে কিছুদুর যেতেই মন্টু ভাইয়ের চায়ের দোকান। বিকেলে চা আর সিগারেট বেশ জমে।
বরিশাল
জুন ১৯৯৩, মঙ্গলবার
বরিশালে যে বাসাটাতে থাকি তার সামনে আর পিছনে দুটো তালগাছ। একটা বড় আর একটা একটু ছোট।পাশেই সমুদ্র আর তার হাওয়ায় গাছদুটো দুলছে। আশেপাশে কোন রাস্তা নেই, আছে শুধু একটা বৃটিশ আমলের চায়ের দোকান। দোকানে চলে আড্ডা আর তার সাথে চা, বিস্কুট আর সিগারেট।
সিলেট
মে ১৯৯৭, বুধবার
অনেকগুলো তালগাছের ছায়ায় ঘেরা আমাদের ভাড়া বাসাটা। বাসাটা বেশ পুরনো কিন্তু দুপাশের রাস্তা দুটো নতুন।ডানের রাস্তা ধরে কিছুদুর যেতেই আমার প্রিয় চায়ের দোকান।কড়া এক কাপ চায়ে চুমুক দিতে দিতে খবরের কাগজে চোখ বুলাই আর বেনসন সিগারেটে টান দেই।
রাজশাহী
এপ্রিল ২০০৫, বৃহস্পতিবার
সরকারি বাসাতে থাকি চারতলার উপর।এখানে কোন তালগাছ নেই, আছে শুধুই পিচঢালা পথ।পথ ধরে কিছুদূর এগোতেই কাশেমের চায়ের দোকান। কাশেম জানে যে আমি চিনি ছাড়া চা খাই, সাথে একটা নোনতা বিস্কুট।আমার ছেলেটা চায়ে বিস্কুট ডুবিয়ে খেতে খুব পছন্দ করে।কাল ওকে দেখলাম চায়ে বিস্কুট ডুবাচ্ছে কিন্তু বিস্কুটটা খাওয়ার আগেই ভিতরে পড়ে গেল।ডাক্তার আমাকে সিগারেট খেতে মানা করেছেন কিন্তু আমি তাও খাই,কি আর হবে? একদিনতো সবারই মরতে হবে।
রংপুর
মার্চ ২০১২, শুক্রবার
এখন আমার শুধুই বিশ্রাম।আমার কবরের মাথায় বড় একটা তালগাছ আছে, পাশে আবার একটা রাস্তা।রাস্তার ওপরের দোকান থেকে আমার ছেলে চা আর সিগারেট নিয়ে আসছে।ছেলের বয়স হবে সাড়ে সতেরো কি পৌনে আঠারো।সে সিগারেটটা ধরাল আর পকেট থেকে আগরবাতি বের করে সেটাও ধরাল।এখন সে চায়ে চুমুক দিচ্ছে আর একটা বিস্কুট ডুবিয়ে খাচ্ছে। কিছু বিস্কুটের গুড়ো আমার কবরের উপর পড়ছে, কিন্তু তাতে আমার কি?
©somewhere in net ltd.