নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সরল পথ

একটা সুন্দর পৃথিবী চাই.....

আসুন ভাল হই

আসুন ভাল হই › বিস্তারিত পোস্টঃ

ভেঙ্গে পড়ছে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা

০১ লা নভেম্বর, ২০১৩ সকাল ১১:৫৬

মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসেছে আজ প্রায় পাঁচ বছর। লোক ভুলানো চিত্যাকর্ষক নানান ইশতিহার দিয়ে ছিল তারা নির্বাচনের পূর্বে। আমরা আশা করছিলাম এ ইশতিহারের আলোকে তারা আমাদের দেশটাকে পরিচালনা করবে। পাঁচ বছর পূর্তিতে এসে দেখা গেল তারা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তার উল্টোটা করে চরম ধৃষ্টতার পরিচয় দিয়েছে।সারাদেশের আলেম ওলামা, জামায়াত-শিবির, টুপি-দাড়িধারী নামাজী সবাইকে এখন আওয়ামী লীগ জঙ্গির কাতারে নিয়ে দাঁড় করিয়েছে। বর্তমান সরকার দেশের উন্নয়নের দিকে লক্ষ না করে বিরোধী দল দমনে উঠেপরে লেগেছে। সরকারের মন্ত্রী এমপিরে মুখে সুধু বিরোধী দলের সমালোচনা এবং লাগামহীন মিত্যাচার। যুদ্ধাপরাধী, যুদ্ধাপরধী বলে চিৎকার করতে করতেই তাদের সময় শেষ।

ক্ষমতার শেষ দিকে এসে নিজেদের চোখে কোন সফলতা দেখতে নাপেয়ে বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্ধোধন করলেন এবং জনসভা করে আবারো নৌকায় ভোট চাইলেন। তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের পরিচয় আমরা খুব সহজেই তাদের কাছ থেকে পাই। গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারটির ভুলে যাওয়া তথ্য হচ্ছে এটি বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলের একটি প্রকল্প। ২০০৫ সালের ১৯ মার্চ ৬৬৭ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে এই প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়। এর মেয়াদ ছিল তিন বছর। প্রকল্পের জন্য ৮০ কাঠা জমি অধিগ্রহণের নানা জটিলতার সমাধান করে ২০০৬ সালের ৪ জুন বেগম জিয়া এর কাজ উদ্বোধন করেন। আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘ দিন কাজ বন্ধ রেখে ২০১০ সালে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি করে ঐ বছরেরই জুন মাসে পুনরায় কাজ শুরু করেন। প্রকল্পটির এখন ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৪০০ কোটি টাকা। এর ৩০% কাজ এখনও অসমাপ্ত। কাজ সমাপ্ত না করে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক এর উদ্বোধন নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অসমাপ্ত কাজ কখন সমাপ্ত হবে এবং আরও ব্যয় বৃদ্ধি করতে হবে কিনা এ নিয়েও কথাবার্তা চলছে। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ প্রমাণ করেছে যে, তাদের মূল টার্গেট প্রকল্প বা উন্নয়ন নয়, অর্থ। প্রশ্ন উঠেছে সারা দুনিয়ার যেখানে কিলোমিটার প্রতি ফ্লাইওভার নির্মাণ ব্যয় প্রকৃতি ও ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী এবং নির্মাণশৈলী ভেদে বাংলাদেশী টাকায় ৪৪ কোটি টাকা থেকে ৯০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিস্তৃত, সেখানে হানিফ ফ্লাইওভারে ব্যয় হয়েছে কি.মি. প্রতি ২১১ কোটি টাকা। বিশ্বের তাবত্ বড় বড় তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার আমদানিকারকগণ ২০১২ সালের নভেম্বরে ঢাকায় এসে বলে গেছেন যে, গণচীনে শ্রমিকের সংখ্যাস্বল্পতা (ভ্রান্ত জনসংখ্যানীতির ফল) এবং উচ্চ মজুরির ফলে দেশটি ক্রমেই তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে এবং বাংলাদেশ তাদের সবচেয়ে পছন্দের ক্রয়সূত্র। এ ছাড়া গোপন চুক্তি বা চুক্তি ছাড়াই ভারতকে ট্রানজিট/করিডোর প্রদান, সিলেটসহ বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশ ভূখ-ের জন্য ক্ষতিকর টিপাইমুখ বাঁধের পক্ষে নির্লজ্জ ওকালতি, পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতি ও মানুষের সাথে প্রতারণা, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারী এবং ৩৫ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীকে পথের ভিখারীতে পরিণত করা এবং এই বাজার থেকে লক্ষ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও সামষ্টিক অর্থনীতিতে ধস, দেশী-বিদেশী বিনিয়োগে স্থবিরতা ও কর্মসংস্থানের ওপর তার বিরূপ প্রভাব, মধ্যপ্রাচ্যসহ মুসলিম দেশগুলোতে জনশক্তি রফতানি ব্যাপকভাবে হ্রাস। রাষ্ট্রীয় অর্থের ব্যাপক অপচয় করে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সীমাহীন অকার্যকর বিদেশ সফর, হলমার্ক, ডেসটিনি, ইউনিপেটুইউ, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, আইটিসিএলসহ ব্যাংকিং খাতের ব্যাপক কেলেঙ্কারী ও তার সাথে সরকারের শীর্ষ মহলের সম্পৃক্তি, রেলওয়ের কালো বিড়াল কেলেঙ্কারী, রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি, তাজরীন ফ্যাশনস্ ট্র্যাজেডি, শিল্প প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকান্ডের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি সুবিধা স্থগিত হওয়ায় বাংলাদেশে অর্থনৈতিক ভাববে অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। প্রবাসিরা অব্যাহতভাবে তাদের অতি কষ্টের অর্জিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাতৃভূমির অর্থনীতি চাঙ্গা রাখছেন। তবে স্মরণে রাখা দরকার, বিশ্বব্যাপী মন্দা এবং বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে ব্যর্থতার কারণে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ আশঙ্কাজনক হারে কমেগেছে। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীনের জামানায় বাংলাদেশে খাদ্যসামগ্রীর মূল্যস্ফীতি সর্বশেষ দুই অঙ্ক অতিক্রম করেছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী জানুয়ারি ২০১০-এ খাদ্যপণ্য খাতে মূল্যস্ফীতি ১০.৫৬ শতাংশ। একই সাথে সরকারি গুদামে রক্ষিত খাদ্যের মজুদও প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে।

আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ও গৌরবউদীপ্ত মুক্তিযুদ্ধের রক্তস্নাত ফসল স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জন্ম। প্রায় দু'শ' বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শোষণ ও তত্পরবর্তী তেইশ বছরের ধর্মভিত্তিক পশ্চাত্মুখি দখলদার পাকিস্তানি শোষকদের অর্থনৈতিক লুণ্ঠন ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের টুঁটি চেপে ধরা থেকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে স্বাধীন হলো বাংলাদেশ। স্বাধীনতার 46 বছরেও আমরা আমাদের অপার সম্ভাবনার বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধ করতে পারিনি সুধু ক্ষমতাসীনদের লাগামহীন দুর্নীতির কারনে। সময় এসেছে এই দুর্নীতিবাজদের রুখে দাড়ানোর। খুব শিঘ্রই হয়ত ক্ষমতার হাত বদল হবে আমরা নতুন ক্ষমতাসীনদের কাছে প্রত্যাশা করব দুর্নীতিকে না বলে দেশ প্রেমে উজ্জিবিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করার।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.