নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সরল পথ

একটা সুন্দর পৃথিবী চাই.....

আসুন ভাল হই

আসুন ভাল হই › বিস্তারিত পোস্টঃ

চলমান সমস্যা সমাধানে নির্দলীয় সরকারের বিকল্প নেই

০১ লা নভেম্বর, ২০১৩ সকাল ১১:৫৭

আওয়ামীলীগ দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় থাকতে না পেরে ক্ষমতার জন্য মরিয়া হয়ে উঠল। এমন কোন হীন কাজ নেই যা তারা ক্ষমতা লাভের জন্য করতে পারে না- তা আমরা দীর্ঘ দিন ধরে দেখে আসছিলাম। আমাদের লজ্জা হয় যখন আওয়ামীলীগের মত একটি রাজনৈতিক দল নিজেদের স্বাধীনতার ধারক বাহক বলে দাবী করে প্রকৃত মুক্তি যোদ্ধাদের বার বার অপদস্ত করতে থাকে। শহীদ জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনাতা বিরোধী বলে প্রচার করে অথচ শহীদ জিয়াউর রহমানকে বাদ দিলে বাংলাদেশ বলতে কিছুই থাকেনা। মহান জাতীয় সংসদেও তারা এহেন কাজ করতে লজ্জাবোধ করে না। শিরাজ শিকদারকে হত্যার মধ্য দিয়ে তারা প্রকাশে হত্যার রাজনীতি শুরু করেছিল যা আজ বিশাল আকার ধারণ করেছে। দেশের প্রতিটি পান্তে আজ শুধু লাশ আর লাশ। মানুষের যেন কোন মূল্যই তাদের কাছে নেই। 2001 ক্ষমতা হারানোর ব্যাথা তাদেরকে ধারুন ভাবে ব্যথিত করল। কি ভাবে আবার ক্ষমতায় আসা যায় তা নিয়েই তাদের পন্ধিপিকিড়। দেশের মানুষের প্রতি তাদের কোন দয়া মায়ার লেশ মাত্র তাদের মধ্যে নেই। শুধু তাই নয় নিজেদের দলের নিরিহ নেতাকর্মীদের হত্যা করে হলেও তারা প্রতিপক্ষকে গায়েল করতে পটু। প্রথমে তারা তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকেই দেখতে পেল। কারণ বাংলাদেশে একমাত্র জামায়াতে ইসলামিই একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল। তারা বুঝতে পারল সুসংগঠিত কোন দল থাকলে তাদের আজীবন ক্ষমতায় থাকার আশা পূর্ণ হবে না। তাই জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে তাদের সকল চিন্তা। কিভাবে জামায়াতকে শেষ করা যায়। জামায়াতের প্রথম শারির সকল নেতাকে কোন অজুহাত দেখিয়ে ফাঁসি দিয়ে দিতে পারলে হয়ত রাস্তা ক্লিয়ার হয়ে যাবে। স্বাধীনতার সময় যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অপরাধের কোন জিডি পর্যন্ত নেই তাদেরকে যুদ্ধাপরাধী বানিয়ে আদালতের কাঁদে বন্ধুক রেখে যুদ্ধাপরাধীর শাস্তির জন্য কথিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল গঠন করে একটার পর একটা নাটক মঞ্চস্থ করেই চলেছে। মিডিয়াগুলোকে তাদের আয়ত্বে নিয়ে এর মাধ্য নানান মিথ্যা প্রচারনা চালাতে লাগল। যারা তাদের মর্জি মোতাবেক সংবাদ পরিবেশন করতে অপারগতা প্রকাশ করল বা সত্যিকারের সংবাদ প্রকাশ করতে চাইল সে সকল টেলিভিশন, খবরের কাগজ বন্ধ করে দিল। চেনেল ওয়ান, দিগন্ত ও ইসলামকি টিভি এবং আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদককে পর্যন্ত সত্য সংবাদ পরিবেশনের দায়ে কারাগারে বন্ধি করে পত্রিকাটিই বন্ধ করে দিল। স্কাইপি কেলেন্কারীই আইন বিভাগের অস্বচ্চতার একটি বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে। পৃথিবীর ইতিহাসে কোন গণতান্ত্রিক দেশে এরকম কোন নজির আছে বলে আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে আন্দাজ করতে পারছি না। সরকারের সমালোচনা কারীদের মুখ বন্ধ করে দিতে চাওয়া গণতন্ত্রের জন্য কোন সুভ ইজ্ঞিত বহন করেনা। বরং গণতান্ত্রিক দেশে সমালোচনাকারীদের মূল্যায়ন করা উচিৎ যে, তারা তাদের দেশকে সরকারের ভুল হতে রক্ষা করতে চাইছে। এক দৃষ্টিকোন থেকে কোন বিষয়কে ভাল মনে হলেও অন্য দৃষ্টিকোন থেকে তা ভুল। হতে পারে প্রকৃত বিষয়টিই ভুল। তাহলে সমালোচানাকারীদের মুখ বন্ধ করার মানে কি? অবশ্যই স্বদেশ প্রেম নয়। আমাদের প্রধানমন্ত্রী মাঝে মাঝে বলে থাকেন তার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। চাওয়া পাওয়ার কিছু যদি নাই থেকে থাকে তবে ক্ষমতার জন্য এত মরিয়া কেন? জনগণের প্রতি তার আস্তা থাকলে বিরোধী দলের কেউ সিটি করপোরেশনে বিজয়ী হলে জনগণকে কটুক্তি করে কথা বলার মানে কি? 2008 সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা ক্ষমতায় এসেই কিভাবে আজীবন ক্ষমতায় থাকা যায় তা নিয়ে মহা ব্যস্ত হয়ে পরলেন। আদলতকেই বানাতে চাইলেন তার প্রধান হাতিয়ার। ক্ষমতায় বসেই আজীবন ক্ষমতায় থাকার জন্য তত্বাবধায় সরকার ব্যবস্থাকে সংবিধান হতে উঠিয়ে দেয়। অথচ এই আওয়ামীলীগই একসময় তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার জন্য রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করেছিল। এবং ফখরুদ্দীন সরকারকে তাদের আন্দোলনের ফসল বলে ঘোষনা করল। গণতান্ত্রিক দেশে জনগণই নির্ধারণ করবে তাদের সংবিধান কিরূপ হবে। কিন্তু সেই সংবিধানকে আদালতের মাধ্যমে নাটক সাজিয়ে নিজেদের আজীবন ক্ষমতার পথ প্রশস্ত করা হলো। কথায় কথায় সংবিধানের দোহায় দিতে তারা অভস্ত হয়ে পড়েছে। তাদের নিয়ন্ত্রিত মিডিয়াগুলোর মাধ্যমে প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার প্রচার করে গণতন্ত্রের টুটি চেপে ধরেছে। আদালতের মাধ্যমে তত্বাবধায়ক সরকারের ধারা বাদ দিয়ে নিজেদের অধিনে নির্বাচন করার ঘোষনা দিল। জনমতকে উপেক্ষা করে নির্বাচিত সরকারের অধিনেই নির্বাচন করার সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। বিরোধী দলের নেতা-কির্মী, নারী-পুরুষ শিশু কেহই আজ নিরাপদ নয়। অবশেষে বিরোধী দলীয় নেত্রী গত 25 অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দাবি আদায়ে তিন দিনের হরতাল ঘোষনা করেণ। প্রধানমন্ত্রী নতুন কৌশল হিসেবে শুধু হরতাল প্রত্যাহার করার জন্য দায়সাড়া ফোন করেন। বেগম জিয়ার প্রস্তাবকে উপেক্ষা করে তার অধিনে নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য আহবান জানান। হরতাল প্রত্যাহার হয়নি। ফলে তিন দিনের হরতালে 15 জন নিরিহ মানুষের প্রাণ গেল, আহত হল শত শত, ক্ষয় ক্ষতির পরিমান কয়ক কোটি ছাড়িয়ে যাবে। এর দারয়বার প্রধান মন্ত্রীকেই নিতে হবে। কারণ তার কারনেই বিরোধী দল হরতাল দিতে বাধ্য হয়েছে। বিরোধী দলীয় নেত্রী দেশবাসীকে ঘোর অন্ধকারে ফেলে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবে রাজী হওয়ার প্রশ্নই উঠেনা। আর অপরদিকে বাড়ীতে বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের ঠিকমত ঘুমাতেও দিচ্ছেনা। আওয়ামী ঘরানায় কথিত শুশিল সমাজ প্রধান মন্ত্রীকে বিপদগামী করছে এতে সন্দেহ নেই। বিরোধী দল কোন যুক্তিতে তাদের অধিনে নির্বাচনে অংশ নিবে? গণতন্ত্রের সত্যিকারের কোন পরিবেশ তারা তৈরী করতে পারে নি; কাজেই তাদের অধিনে বিরোধী দলের নির্বাচন বর্জনের ঘোষনা শুধু যুক্তি যুক্তই নয় আবশ্যকও বটে। যেখানে দেশের প্রায় 85 ভাগ মানুষ তত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে মত ব্যক্ত করেছে সেখানে সরকারের একগুয়েমির কারণ ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। চরম ক্ষমতা লিপ্সু না হলে এমনটি হতে পারে না। যদি তারা জনগণের মত উপেক্ষা করে জোরপূর্বক ক্ষমতায় থাকতে চায় তা হলে হয়ত তাদেরকে এজন্য কঠিন মূল্য দিতে হবে। যখন তরুণ, যুবক, বৃদ্ধ ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে জেগেছে তখন নির্দলিয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধিনেই নির্বাচন দিতে হবে। নির্দলিয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধিনে নির্বাচন ব্যতিত সমাধান আসবেনা। দেশের পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রুপ লাভ করবে।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.