| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
৫ বছরের ঈশান ।এই বয়সের বাচ্চারা ঠিক যতটা চঞ্চল হয় তার ছিটেফোঁটাও তার মাঝে নেই ।ঠিক যতটা শান্ত তার চেয়েও বেশী ফুটফুটে । তার জগত সীমাবদ্ধ স্কুল , ছবি আঁকা আর কমিক্সের বইয়ে । স্কুলে টিফিন পিরিয়ডে যখন অন্য বাচ্চারা মাঠ ময় দাপাদাপি করে বেড়ায় তখনকার সময়টা ঈশানের কাটে ক্লাসরুমে বসে রং তুলির আঁচড়ে বা চাচা চৌধুরী কিংবা টিনটিন পড়ে । স্কুল শেষে যখন বাড়ি ফেরা হয় তখন শুরু হয় আবার সেই রুটিন জীবন । অথচ এতেও মুখে “ রা” শব্দটা নেই । ঠিকমত খাওয়া- ঘুম- হোম ওয়ার্ক সব কিছুই চলছে নেই শুধু বাচ্চা সুলভ চঞ্চলতা আর দুষ্টুমি ।ঈশানের এই অতিরিক্ত শান্ত স্বভাবে মাঝে মধ্যে চিন্তিত হয়ে পরে তার মা সামিয়া ।কিন্তু চিন্তা করেও লাভ নেই । যাদের কপাল পোড়া চিন্তাটা শুধু বাড়তি বোঝা ছাড়া আর কিছু দিতে পারে না। এই চিন্তাগুলো শুধু সামিয়ার চোখের জলই বাড়ায় , কোন স্বস্তি দেয় না । কিন্তু এমনতো হওয়ার কথা ছিল না ।আর পাঁচটা স্বাভাবিক সুখী পরিবারের মতই ছিল সামিয়া- রায়হানের দিনগুলো । বিশ্ব বিদ্যালয়ের ক্লাসমেট ছিল তারা । অতঃপর পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে । রায়হান চাকরী করত একটি বিদেশী মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানীতে । পরিবারের একমাত্র ছেলে হওয়ার সুবাদে সামিয়াকে আসতে হয় রায়হানের বাড়ীতে । রায়হানের বৃদ্ধ বাবা- মায়ের দেখভালের কাজটাও সামিয়া বেছে নেয় স্বেচ্ছায় । নিজের ক্যারিয়ারের দিকে না তাকিয়ে ঘর কন্যার কাজটাতেই আনন্দ খুঁজে নেয় । খুব ভালো গান গাইত সামিয়া । সময়ের অভাবে ছেড়ে দিতে হয় গানের প্র্যাকটিসও । সামিয়াকে রায়হানের বাবা- মাও গ্রহণ করে কন্যাসুলভ ভাবেই ।বিয়ের এক বছর পরেই ঈশানের জন্ম । পুরো পরিবার জুড়েই তখন খুশির বন্যা । রায়হান তার শত ব্যাস্ততার মাঝেও ভুলত না তার পরিবারকে সময় দিতে । কিন্তু এতটা খুশি হয়ত সামিয়া – রায়হান অথবা ঈশান কারো জন্যই বরাদ্দ ছিল না । সেদিনও সকালে আর দিনের মতই অফিসের উদ্দ্যেশে বেড়িয়ে যায় রায়হান । কিন্তু কে জানত এটাই তার শেষ যাওয়া হবে । বাড়ির রাস্তার মোড়টা না ঘুরতেই ট্রাকটা এসে পিষে দেয় রায়হানের কারটাকে । ঈশানদের পরিবারে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার । একদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তির অনুপস্থিতি অন্যদিকে তাদের নতুন এপার্টমেন্ট আর গাড়ির লোনের বোঝা । রায়হানের বাবার পেনশনের গুটিকয়েক টাকা আর রায়হানের ফেলে রেখে যাওয়া সঞ্চয় দিয়ে সমস্ত খরচ চালানো ছিল একরকম দুঃসাধ্য । তাই সংসারের হাল ধরতে হয় সামিয়াকেই । একে তো চাকরীর কোন অভিজ্ঞতা নেই অন্য দিকে একটা চাকরীর প্রচণ্ড প্রয়োজন হওয়ায় অল্প বেতনেই তাকে চাকরী শুরু করতে হয় । তারপরও সব কিছু মিলে টানাটানির সংসার । অফিস , সংসার আর নিজের মন মত ছেলে মানুষকরা সামিয়াকে নিয়ে যায় এক অন্য যান্ত্রিকতায় । এত ব্যাস্ততার পরেও সামিয়া ঈশানের জগতের একমাত্র মানুষ । মায়ের এত ব্যাস্ততার পরেও মায়ের সাথেই চলত ঈশানের সব হাসি- কান্না । অথচ কোন চাহিদা ছিল না তার । মায়ের সাথে কাটানো সময়ের মধ্যে তার সবচেয়ে প্রিয় ছিল প্রতি সপ্তাহের ছুটির দিনে পার্কে বেড়াতে যাওয়া । সপ্তাহ ধরে এই সময়টার জন্য অপেক্ষা ছিল তার । এরকমই এক বিকেলে মায়ের সাথে পার্কে ঘুরছিল ঈশান । হঠাৎই চোখে পরে নীল রঙয়ের একটা বেবী সাইকেল । সে তার মায়ের কাছে আবদার করে বসে তার জন্মদিনে ঐ রকম একটা সাইকেলের জন্য । সামিয়া ভাবতে থাকে তার টানাপোড়ন আর রায়হানের বেচেঁথকাকালীন ঈশানের জন্মদিনগুলোর কথা । অনেক ঘটা করে না হলেও প্রতিটা জন্মদিনে আয়োজনের কমতি থাকত না । সবাই মিলে বাড়িতে কেক কাটা , গিফট ! কত খেলনা , বাইরে সবাই মিলে খেতে যাওয়া । ভাবতেই চোখ পানিতে ভরে যায় সামিয়ার । রায়হানের অনুপস্থিতিতে এই বারই ঈশানের প্রথম জন্মদিন । সামিয়া জানেনা ছেলের করা প্রথম আব্দার সে পূরণ করতে পারবে কিনা । দিন চলে যেতে থাকে , দেখতে দেখতে চলে আসে ঈশানের জন্মদিন ।কিন্তু সাইকেল কেনার সামান্য কটা টাকার জোগাড় আর হয়না । ছেলের আব্দার পূরণ করতে না পারার কষ্ট আর লজ্জা কুঁড়ে খেতে থাকে সামিয়াকে । তার পরেও বাড়িতে সে জন্মদিনের আয়োজন করে । ছেলেকে উপহার হিসেবে দেয় তার অতি পরিচিত রংতুলি । এত সীমাবদ্ধতার কথা ভাবতেই কান্না সামলাতে পারে না সামিয়া । ছোট্ট ঈশান বুঝে নেয় মাকে । এই প্রথম মায়ের গলায় গান শোনে ঈশান – " কিছু নেই যা দিয়ে যাই
আজ তাই গান গেয়ে
ভরে দেব মন
তোমার এই জন্মদিনে
গান আছে সাধ্য যে নেই
এ দীনতা আজ কেন যে
যেটুকু রয়েছে তা উজার করে দিতে চাই
আমার এই গানে গানে ।।"
ঈশানের এটাই ছিল অদ্বিতীয় উপহার আগে যা সে কল্পনাও করে নি ।
©somewhere in net ltd.
১|
১৬ ই জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৫:৪৫
রমাকান্তকামার১১০১১৪৫ বলেছেন: ভালো লাগা জানিয়ে গেলাম...