| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
১. উপক্রমনিকা: বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে নেমে আসা প্রায় সকল নদী বাংলাদেশের বুক চিরে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণের বঙ্গপোসাগরে পতিত হয়েছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে সকল নদী টইটুম্বুর হয়ে অথবা উজানের বাধগুলোতে অতিরিক্ত পানির চাপ রুখতে না পেরে সকল জলকপাট হঠাৎ করে ছেড়ে দেওয়ার কারনে বাংলাদেশে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ বন্যা ও নদী ভাঙ্গন। আজকে এ প্রসঙ্গ ও প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করা হবে।
২. বাংলাদেশের প্রধান নদী সমুহের উৎস: তিব্বতের কৈলাস শৃঙ্গ হতে উৎপত্তি হয়ে ভারতের ভুখন্ড পার হয়ে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী থানা হয়ে বাংলাদেশে পতিত হয় ব্রহ্মপুত্র নদ নামে প্রবাহিত হয়ে পরে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে তিস্তার সাথে মিলিত হয়ে যমুনা নদী নামে ব্যপক প্রসারিত নদী হিসাবে প্রবাহিত হয়ে গোয়ালন্দে পদ্মার সাথে মিলিত হয়ে পদ্মা নদী নামে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরে মেঘনার সাথে মিলিত হয়ে মেঘনা নদী নামে প্রবাহিত হয়ে ব্যপক পানি ও পলি নিয়ে বঙ্গপোসাগরে পতিত হয়।
৩. ভারতের পানি আগ্রাসন ও আকষ্মিক বন্যার কারণ: ভারত বর্ষা মৌসুমের ব্যাপক বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল সহ্য করতে না পেরে তাদের তৈরিকৃত সকল বাধের জল কপাট খুলে দেওয়ার কারনে বাংলাদেশে ব্যাপক বন্যা ও নদী ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়। যার ফলে মাইলের পর মাইল কৃষি জমি, বাড়ি-ঘর, মসজিদ, মন্দির, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ রাস্তা ঘাট নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায়। প্রায় প্রতি বছরের চিত্র এটি। আকষ্মিক বন্যার ফলে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমির ফসল নস্ট হয়ে কৃষকের সর্বনাষ হয় এবং হাজার হাজার কোটি টাকার লোকসানে পড়ে।
৪. সমন্বিত নদীর বাঁধ ও অর্থনেতিক অঞ্চল গঠন:
(ক) তিস্তা নদীর প্রবেশ মুখস্থল নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার কালিগঞ্জ ও লালমনির হাট জেলার দহগ্রাম এলাকা থেকে শুরু করে তিস্তা ব্যারেজ হয়ে চিলমারী পর্যন্ত নদীর দুই ধারে আট লেনের রাস্তাসহ টেকসই বাধ নির্মান করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা।
(খ) কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী ও রৌমারী জেলা দিয়ে প্রবেশকৃত ব্রহ্মপুত্র নদের দুই পার থেকে শুরু করে যমুনা নদী হয়ে যমুনা সেতু হয়ে গোয়ালন্দ পর্যন্ত নদীর দুই ধার পরিকল্পিত প্রসস্থতা রেখে টেকসই বাধ নির্মান ও আট লেনের রাস্তা নির্মান করে নদীর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নদী ভাঙ্গন রোধে টেকসই বাধ নির্মান করা।
(গ) রাজশাহী ও চাপাইনবাগঞ্জের পদ্মা নদীর প্রবেশ মুখ থেকে শুরু করে গোয়ালন্দ পর্যন্ত নদীর দুই ধারে আট লেনের রাস্তা নির্মান ও টেকসই বাঁধ নির্মান করা।
(ঘ) গোয়ালন্দ থেকে শুরু করে চাঁদপুর পর্যন্ত পর্যন্ত নদীর দুই ধারে আট লেনের রাস্তা নির্মান ও টেকসই বাঁধ নির্মান করা।
৫. সমন্বিত বাঁধ ও রাস্তা নির্মান হলে ফলাফল সমূহ:
উপরোক্ত সকল অঞ্চলের সমন্বিত বাঁধ ও রাস্তা হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার যেমন উন্নতি হবে সেই সাথে সেকল এলাকার কৃষিজ পন্য পরিবহন ও নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান হবে কল কারখানা হবে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হবে।
৬. ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীতে দুইটি ডবল ডেকার সেতু নির্মান:
(ক) এই সকল নদী সমুহের সমন্বিত বাঁধ ও রাস্তা নির্মানের পর যমুন নদীতে বাহাদুরাবাদ ও বালাসী ঘাট অভিমুখে একটি রেল ও বাই রোড সেতু নির্মান করা হলে ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের মধ্যে যোগাযোগ উন্নয়ন হবে।
(খ) আরিচা-গোয়ালন্দ ও আরিচা-কাজিরহাট ত্রিমুখী রেল ও সড়ক সেতু নির্মান করা হলে ঢাকা-ফরিদপুর, ঢাকা-পাবনার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে। সেই সাথে মানিকগঞ্জ নতুন রেল লিংকে সংযুক্ত হবে। সড়ক ও রেল পথে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া যাতায়াত সহজ হবে এবং ঢাকা থেকে পাবনা, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ নিকটে হবে।
৭. উপসংহার: উপরোক্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশের সার্বিক অবস্থার পরিবর্তন হবে এবং বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার যথেষ্ট উন্নয়ন সাধিত হবে উত্তর বঙ্গ ও দক্ষিণ পশ্চির বঙ্গের সাথে সকল ব্যবসা বানিজ্য ও কৃষিজ পন্যের সরবরাহ বাড়বে। আশাকরি সরকার এই বিষয়ে দ্রুত দৃষ্টি দিবেন।
পরিকল্পনাকারী ও লেখক
সামসউদ্দীন হাওলাদার
গুঠাইল, ইসলামপুর, জামালপুর
ই-মেইল: [email protected]
©somewhere in net ltd.
১|
০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:৫১
রাজীব নুর বলেছেন: স্থায়ী বাঁধ কোনো সরকার'ই করে না। ফলাফল প্রতি বছর নদী ভাঙ্গে। গ্রামের পর গ্রাম তলিয়ে যায়। অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়। প্রতি বছর একই ঘটনা।