নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বেশি বুঝে

বেশি বুঝে

চাইল্ড লেবার

পচা ছেলে

চাইল্ড লেবার › বিস্তারিত পোস্টঃ

রমজান

২৬ শে জুলাই, ২০১৩ বিকাল ৫:৫৭

বর্তমান বিশ্বে প্রায় ১.৫ বিলিওন মুস্লিম টোটাল ফাস্ট (সকাল সন্ধ্যা) বা রজা রাখছে। ওজন কমানোর বা অন্য কোনো কারনে না। তারা রোজা রাখছে পবিত্র কোরানের আয়াতের মধ্যে একাত্বতা জানাতে “হে ঈমানদাগণ! তোমাদের ওপর রোযা ফরয করে দেয়া হয়েছে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তী নবীদের অনুসারীদের ওপর ফরয করা হয়েছিল ৷ এ থেকে আশা করা যায়, তোমাদের মধ্যে তাকওয়ার গুণাবলী সৃষ্টি হয়ে যাবে ৷(Quran 2:183)”

ইসলামিক আইন অনুযায়ী ১২ বছরের কম শিশু, দুর্বল রোগি, প্রাকৃতিক নিয়মের অধীন নারী, গর্ভধারিনী নারী, শিশুর যত্নকারী নারী এরা রোজার আইন এর আওতা হতে বাহিরে। খাদ্য পানীয় হতে দূরে থাকার পাশাপাশি সারাদিনের নির্দিষ্ট কিছু সময়-শারিরিক চাহিদা, ধূমপান, অশালীন কথাবার্তা, অফলদায়ক কথা ও কাজ, বকাবকি, গালমন্দ ইত্যাদি থেকে দূরে থাকার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়াও দুয়া করা, কোরআন অধ্যয়ন, বেশি উদার হওয়া, জাকাত প্রদান, ইত্যাদির প্রতি জোর দেয়া হয়েছে।

শরিরে খাদ্যের প্রয়োজন আছে, যা আমাদের শক্তির যোগান দেয়। কার্বহাইড্রেট বিশ্লিষ্ট করে আমাদের শক্তির যোগান দেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেমন-সুগার, অতিরিক্ত কার্বহাইড্রেট যা কাজে লাগে না তা চর্বি টিসুতে পরিণত হয়ে মাসেলে পরিণত হয়ে যায় আর লিভারে গ্লাইকোজেনে পরিণত হয়ে যায় ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য।ইনসুলিন, একটি হরমন যা অগ্নাশয় হতে নির্গত য়ে ব্লাড সুগার কমিয়ে দেয় আর এটাকে ডাইভার্ট করে দেয় শক্তি সঞ্চয়ের অন্য আর এক রুপে ,যা হল গ্লাইকোজেন ।

যখন কেউ রোজা রাখে বা কার্হাইড্রেট গ্রহন কমায়, এটা তার ব্লাড গ্লুকজ ও ইনসুলিন লেভেল কমায়। তখন লিভার থেকে অতিরিক্ত গ্লুকজ এবং চর্বিযুক্ত টিসু থেকে অতিরিক্ত চর্বি দেহে বিশ্লিষ্ট হয়ে শক্তি প্রদান করে।



মানুষের শারিরিক অবস্থার উপরে ভিত্তি করে সেমি-স্টারভেশন (ketogenic diets ,I -5) করার উপদেশ দেয়া হয় কার্যকরি ভাবে ওজন নিয়ন্ত্রনের জন্য। এই ketogenic diets ,I -5 বিভিন্ন ডোজে হিশাব করা প্রোটিন সরবরাহ করে যা মাল্টি ভিটামিন ও প্রচুর পরিমানে পানির সাথে গ্রহন করতে হয়। এটাও শরিরের ওজন কমায়, ব্লাড সুগার কমায়, কিন্তু এর পার্শপ্রতিক্রিয়ার জন্য কেবল মাত্র ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী এটা ব্যবহার করা হয়।

টোটাল ফ্যাস্টিং ক্ষুধা কমায় এবং দ্রুত ওজন হ্রাস করে। ১৯৭৫ সালে আলান কট তার “Fasting as a Way of life” বইতে লিখেন যে, রোজা হজম প্রণালী ও কেন্দ্রীয় নার্ভাস সিস্টেমকে প্রদান করে শরিরের জন্য উপকারি বিশ্রাম। আর metabolism কে করে স্বাভাবিক। এটাও মাথায় রাখতে হবে যে, না খেয়ে থাকার কারনে অনেক রোগ হতে পারে, যেমন- hypokalemia, arrythmia, এবং এর কারনে আল্লাহ বলেছেন যে অসুস্থ লোকের রোজা না রাখলেও চলবে এবং পড়ে সুস্থ হয়ে রোজা পুরন করে নিলেই হবে (০২/১৮৪)। এর পরেও যারা অসুস্থ হয়ে রোজা রাখতে চান তারা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন এটাই হল বিচক্ষণতার দাবী।

Studies on Islamic Fasting

ইসলামিক রোজা নিয়ে গবেষণাঃ

ডা। সুলাইমান, University Hospital, Amman, Jordan, তিনি রিপোর্ট করেছেন যে, ১৪০৪ হিজরিতে (June-July, 1984 AD) রমজান মাসে স্বাস্থবান ৪২ জন পুরুষ ও ২৬ জন মহিলা যাদের বয়ষ ছিল যথাক্রমে ১৫-৬৪ এবং ১৬-২৮ বছর। তাদের ওজন, blood levels of cortisol, testosterone, Na, K, urea, glucose, total cholestero, high density lipoprotein (HDL) , এগুলো রমজানের আগে ও পরে পরিমাপ করা হয়েছিল। উচ্চ হারে সেখানে শরিরের ওজন কমে যেতে দেখা গেছে। পুরুষদের জন্য গড়ে ৭৩.৮ কেজিতে +- 6.2 কেজি, এবং 72.0 কেজিতে +- 7.1 kg আর নারিদের জন্য গড়ে, 55.2 +- 4.8 to 54.6 +- 4.2 kg হারে ওজন কমে যায়।

ব্লাড গ্লুকজ লেভেল পুরুষদের জন্য 77.7 +- 23.6 mg/dl থেকে 90.2 mg/dl (P less than 0.05)। এবং মহিলার জন্য 76.0 +- 7 mg/dl থেকে 84.5 +- I 1.1 mg/dl (P less than 0.002)চলে আসে। এছাড়া অন্যান্য কোন প্যারামিটারে বড় কোন পরিবর্তন দেখা যায় না।

Dr. F. Azizi (University of Medical sciences, Tehran, Iran) ও তার সহকর্মীগন রিপোর্ট করেছেন যে, ৯ জন স্বাস্থবান ব্যক্তির উপরে পরিক্ষণ চালানো হয়েছিল, রমজানের পুর্বে, ১০ তম রোজায়, ২০তম রোজায় ও রোজার ২৯তম দিনে।

রেজাল্ট ছিলঃ শরিরের গড় ওজন কমে ২৯ তম দিনে দাঁড়ায় ৬৫.৪ +- ৯.৪ কেজি থেকে ৬১.৬+-৯.০ কেজিতে। সিরাম গ্লুকোজ ১০ম দিনে কমে ৮২+-৪ mg/dl এ দাড়ায়। পরবর্তিতে আবার বেড়ে ২০তম দিনে ৭৬+-৩ mg/dl এবং ২৯তম দিনে ৮৫+-৫ mg/dl এ দাড়ায়। আর এ সকল পরিবর্তন রোজা শেষ হবার ৪ সপ্তাহের মধ্যেই আবার মুল পয়ন্টে ফিরে আসে।

Ca, P, protein, albumin সিরাম লেভেলের কোন বড় ধরনের পরিবর্তন পাওয়া যায়না। হরমন Prolactin , TSH এবং TRH এর মধ্যে কার্যকলাপেরও কোন পরিবর্তন হয় না। তিনি আরো রিপোর্ট করেন যে, ২৯ দিনে ১৭ ঘন্টার মত খাদ্য ও পানীয় থেকে বিরত থাকা পুরুষদের reproductive hormones, hypothalainic-pituitary-thyroid axis ইত্যাদিতে কোন পরিবর্তন আনে না। যে সকল ডাক্তার অসুস্থ রোজাদার রোগিদের দায়ীত্বে আছেন, তাদের উচিত নিয়মিত গ্লুকোজ এবং বিলিরুবিন পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন হওয়া।

Dr. F. Azizi ও তার সহকর্মীগন University of Medical sciences, Tehran, Iran রিপোর্ট করেছেন যে, গ্লুকজের সিরাম লেভেল, bilirubin, calcium, phosphorous, protein, albumin, FSH, LH, testosterone, prolactin, TSH, TI, TI এবং T

.

এই গবেষণা দ্বারা প্রমান হয় যে, ইসলামিক ফ্যাস্টিং স্বাস্থের জন্য কোন নেগেটিভ প্রভাব ফেলে না বরং এর মাধ্যমে শরিরের কিছু উপকার হয়, যেমন ওজন নিয়ন্ত্রণ, শরিরের গুরুত্বপুর্ণ রাসায়নিক বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি।

কেন ইসলামিক ফ্যাস্টিং অন্যান্য সব ফ্যাস্টিং থেকে ভিন্ন??

আলোচিত "Diet Plans" থেকে ইসলামিক ফ্যাস্টিং সম্পুর্ণ ভিন্ন। এর রয়েছে বহুবিধ উপকার।

1. অন্যান্য ডায়েট প্লানের সাথে তুলনা করে বলা যায়, রমজানে ফ্যাস্টিং করার সময়, অপুষ্টি জনিত সমস্যা বা অপর্যাপ্ত ক্যালোরি হবার কোন সম্ভাবনাই নেই, কেননা, ইফতারের পরে খাবারের কোন বিশেষ বাধা ধরা নিয়ম নেই। আবার ইফতারের এবং সেহেরির সময়েও তৃপ্তি মিটিয়ে পুষ্টিকর খাবার গ্রহন করা যায়।সুস্বাদু ফলমূল, ঠান্ডা শরবত দিয়ে মন মিটিয়ে ইফতার করা যায়।



৩. রমজানে ফ্যাস্টিং স্বেচ্ছায় পালন করা হয়। এটা কোন ডাক্তারের প্রেস্ক্রিবশন দ্বারা বিধিবদ্ধ নয়। আমাদের মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশে একটি কেন্দ্র রয়েছে যাকে বলা হয় “lipostat”। এর কাজ হচ্ছে শরিরের ভার নিয়ন্ত্রণ করা। স্টারভেসন ডায়েটের কারণে যখন মারাত্বক ওজন হ্রাস দেখা দেয়, তখন এই কেন্দ্রটি এটাকে সমস্যা হিসাবে বিবেচনা করে। ফলাফল হল যখন কোন ব্যক্তি স্টারভেসন ডায়েট বন্ধ করে দেয়, তার পরে lipostat দ্রুত ওজন বর্ধন করার জন্য আবার রিপ্রোগ্রাম হয়। সুতরাং ধিরে ধিরে অতিরিক্ত ওজন কমানোর একমাত্র কার্যকরি পদক্ষেপ হতে পারে আচরণ বদলানোর মাধ্যমে, দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর মাধ্যমে,সাধনার মাধ্যমে। রমজান হল আত্ম সংযমের মাস। নিজেকে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাস। স্বেচ্ছায় খাদ্যগ্রহনের উপর আধ্যাতিক শক্তি বলে নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করার মাস।স্বেচ্ছায় খাদ্য গ্রহনের উপরে নিয়ন্ত্রণ আনার জন্য lipostat রিডিং এর উপরে স্থায়ী পরিবর্তন আসে। এতে আবার ওজন বেড়ে যাবার সম্ভাবনা কম থাকে।





৪. ইসলামিক ফ্যাস্টিং এ আমরা কেবল মাত্র কিছু বাছা গোছা খাবারের উপর ডায়েট কন্ট্রোল করি না (যেমন মাংশ, ফল) আমরা শুধু ফজরের একটু আগে ব্রেকফাস্ট করি। আর পরবর্তিতে সন্ধ্যায় ইফতার করি। এক্ষেত্রে খেজুর, ফলমূল বেশি প্রাধান্য পায়। জামে আত তিরমিজি ২য় খন্ড হাদিস নং ৬৯৬ তে বর্ণনা করা হয়েছে যে, রাসুলআল্লাহ খেজুর ও পানি দ্বারা ইফতার করতেন। এছাড়াও আরো অনেক স্থানে রয়েছে।





৫. রমজানে কিয়ামুল লাইল করা হয়। এতে খাদ্য মেটাবলাইজড হতে সাহায্য করে। প্রায় ২০০ ক্যালোরির মত ক্যালোরি বার্ণ হয়।নামেজের মাধ্যমে পরবর্তিতে মাসেল, জয়েন্ট ইত্যাদির উপকার সাধন হয়। কালরিক আউটপুট হসেবে এটি ভালই কাজ করে।



৬. রমজান মাস হল সত্যিকার অর্থেই একটি সেলফ ডিসিপ্লিনের মাস। বিশেষ করে চেইন স্মোকারদের জন্য, সাড়া দিন যারা চিবুতে থাকে , ঘন্টায় ঘন্টায় যারা কফি পান করে তাদের জন্য। আশা করা যায় রমজানের এই অভ্যাস কে কাজে লাগিয়ে রমজানের পড়েও তারা বদ অভ্যাস ত্যাগ করতে পারবে।





৭. মনস্তাত্মিক প্রশান্তি আনয়নে রমজানের ভুমিকা অনেক। সত্যিকার অর্থে সব রোজাদাররাই বলে থাকেন যে, রমজান মাসে তাদের মনে থাকে প্রশান্তি, নিরবতা। প্রিয় নবি এরকম বলেছেন যে, রোজা রাখা অবস্থায় ঝগড়া বিবাদ করতে আসলে রজাদার ব্যাক্তি বলবে যে, “আমি রোজাদার”।

বিস্তারিত জানার জন্য দেখুনঃ

Click This Link

Click This Link

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.